শাওয়াল মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ১০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

          মাহে রমাদ্বান শরীফের পরবর্তী মাস মাহে শাওয়াল । এ মাসের পহেলা তারিখ দ্বিপ্রহরের পূর্বে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদুল ফিত্রের দু’রাকয়াত নামায আদায় করা ওয়াজিব । এবং যারা মালেকে নেছাব তাদের প্রতি উক্ত নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করাও ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত ।    অতঃপর পহেলা দিনটি বাদ দিয়ে মাসটির বাকি দিনগুলোতে ছয়টি রোযা রাখা সুন্নত-নফল ও অশেষ ফযীলতের কারণ। এ রোযার ফযীলত সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেন,

من صام رمضان ثم اتبعه ستا من شوا ال كان كصيام الدهر.

অর্থ : “যে ব্যক্তি রমাদ্বানের রোযা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোযা রাখলো সে পূর্ণ বছরই রোযা রাখলো ।” (মুসলিম শরীফ)

বস্তুতঃ    বিশেষ  নামায, রোযা ও ছদক্বা- খয়রাতের দ্বারা যদিও এ মাসটি সুশোভিত ও বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। কিন্তু এ মাসটির খাছ যে বৈশিষ্ট্য তা হচ্ছে, এ মাসে দ্বীন ইসলামের অন্যতম রোকন হজ্ব তার ছাহিবগণের উপর ফরয হয়। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا ومن كفر فان الله غنى عن العلمين.

অর্থ : “যে ব্যক্তির বাইতুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত যাতায়াত করার সামর্থ আছে তার উপর আল্লাহ পাক উনার আদেশ পালনার্থে বাইতুল্লাহ্ শরীফে হজ্ব করা ফরয । সামর্থ থাকা সত্বেও যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক উনার এ আদেশকে অবমাননা করে সে নিজেরই ক্ষতিসাধন করে, তাতে আল্লাহ্ পাক উনার কোন ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ্ পাক সমস্ত মাখলুক থেকে বে-নিয়াজ ।” (সূরা আলে ইমরান/৯৭)      হজ্বের ফযীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

من حج لله فلم يرفث ولم يفسق رجع كيوم ولدته امه.

 অর্থ : “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক- এর সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে হজ্ব করে এবং হজ্ব পালন কালে কোন রকম অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা কাজ না করে, সে এমন নিস্পাপ হয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন করে যেন আজকেই  সে ভূমিষ্ট হয়েছে।” (বুখারী ও মুসলিম)  হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “এক দিব্য দৃষ্টি সম্পন্ন কামিল ওলীআল্লাহ্ আরাফার দিনে শয়তানকে দেখতে পেলেন যে, সে ক্ষীণতনু হয়ে পড়েছে, তার চেহারায় বিষাদের ছায়া বিদ্যমান, চক্ষু থেকে পানি ঝরছে, আর কোমর এতই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সোজাভাবে দাঁড়াবার সাধ্য তার হচ্ছেনা। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কি হে! তুমি কেন কাঁদছো?” সে উত্তর করলো, “আমি কামনা করেছিলাম যে, লোকেরা দেশ-দেশান্তর থেকে এখানে হজ্বের নামে আসবে কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য থাকবে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোন পার্থিব সুযোগ-সুবিধা লাভ  করা, অথচ দেখছি তারা পার্থিব মকছূদ বাদ দিয়ে একমাত্র আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের নিয়তেই হজ্ব পালনে এসেছে। কাজেই আমার ভয় হয় যে, আল্লাহ্ পাক তাদের মকছূদ পূর্ণ করবেন। আর এ দুঃখেই আমি কাঁদছি।” (ফাযায়েলে হজ্ব)         আর হজ্বের সামর্থ থাকা সত্বেও যে ব্যক্তি হজ্ব না করে তার সম্পর্কে হাদীস শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

من ملك زادا وراحلة تبلغه الى بيت الله ولم يحج فلا عليه ان يموت يهوديا اونصر انيا.

অর্থ :“যে ব্যক্তি এ পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক যে, তা দ্বারা বাইতুল্লাহ্ শরীফ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, সে যদি হজ্ব না করে, তবে তার ইহুদী কিংবা খৃষ্টান হয়ে মরার ক্ষেত্রে বাধা থাকেনা।” (তিরমিযী শরীফ)   অন্য হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি শারীরিক শক্তি ও আর্থিক সঙ্গতির অধিকারী হওয়া সত্বেও হজ্ব না করে মারা যায় ক্বিয়ামতের দিন তার কপালে ‘কাফির’ শব্দটি লিখিত থাকবে।” (দুররে মনছুর)

সুতরাং যাদের উপর হজ্ব ফরয হয়েছে তাদের উচিত এ মাসে প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক যথা সময়ে হজ্ব পালন করা। 

রজব মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাসের ফযীলত

রমাদ্বান মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

যিলক্বদ-যিলহজ্ব মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

যিলহজ্জ মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা