সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ৯৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীন উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বেগুমার দরূদ ও সালাম।

কুরআন শরীফ উনার শরীফ উনার অন্যান্য মহিলা এই যে, এতে বিগত দিনের বিরাজমান সময়ের এবং অনাগত কালের মানবীয় চরিত্র, মানব উপলব্ধির ও প্রবৃত্তির সবদিক সম্পর্কে অপূর্ব প্রজ্ঞাপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে মানবীয় চরিত্রের চিত্র ভিন্ন হতে পারে কিন্তু প্রকৃতি ও ধরণের দিক থেকে সব যুগের মানবীয় প্রবৃত্তি একই রকমের।

সমাজের চলমান প্রবাহে সাধারণ মানুষ অধিকাংশ সময় অযৌক্তিকভাবে ঘুরপাক খায় পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, “যখন তাদেরকে বলা হয় যে, ইত্তিবা (অনুসরণ) কর মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন। তারা বলে- কখনো না, বরং আমরা ঐ বিষয়ের (হুকুমের) উপর আমল করবো যার উপরে আমাদের বাপ-দাদা (মুরুব্বীদের)কে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ-দাদা তথা মুরুব্বীরা আক্বলমন্দ, জ্ঞানী ও হিদায়েতেপ্রাপ্ত ছিলনা।” (সূরা বাক্বারাহ/১৭০) একই বক্তব্য একটু ভিন্ন আঙ্গিকে কুরআন শরীফ উনার ৮/৯ স্থানে এসেছে।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এই যে, মানুষ মনে করে, বাপ-দাদার অনুসৃত চলমান সামাজিক, রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই অনিবার্য। এর বাইরে চললে বিপত্তি। অথচ চলমান সামাজিক, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝে যে বিপর্যয় বিদ্যমান তাতে বিপর্যস্থ হলেও চলমান প্রথা ও প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে তারা অদ্ভুত রকমের অনাগ্রহ প্রকাশ করে।

এদেশের রাজনৈতিক পট ও প্রক্রিয়ার সংস্পর্শে মানুষের কাঙ্খিত স্বস্তিবোধ মোটেই আসেনি। বিশেষতঃ কথিত গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব সরকার এসেছে সেগুলোর ব্যর্থতা ও  বিভিষিকা সম্পর্কে মানুষর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া এখন তুঙ্গে।

সাধারণ মানুষ এ যাবত গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে ধারা লক্ষ্য করেছে তাতে একাংশের অভিব্যক্তি গণতান্ত্রিক রাজনীতি নোংরা জিনিস, সাধারণভাবে এ রাজনীতিতে ভাল, সৎ, শিক্ষিত লোক টিকতে পারেনা। এেেত কোন নীতি নেই। আজকে এ স্বার্থের প্রয়োজনে ওকে নিচ্ছে, স্বার্থ ফুরালে কালকে ত্যাগ করছে। প্রয়োজনে আবার বরণ করছে কিন্তু নতুন স্বার্থের কারণে তারপরেও তাকে ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেনা। অবস্থার প্রেক্ষিত্রে কথিত গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতীয়মান হয়েছে ধূর্ততার রাজনীতিরূপে। যে যত বেশি ধূর্ত সেই এখানে বেশি টেক্কা দিতে পারে।

পাশাপাশি সব আমলে সরকার দলীয় লোকেদের সীমালঙ্ঘন, নিন্দনীয় দৌরাত্ম ও দাপট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আত্মসাৎ, বিরোধীদলীয় লোকদের ঢালাওভাবে জেল-জুলূম, নিপীড়ন, আর সন্ত্রাস-দূর্নীতিরোধে ব্যর্ততা, দায়িত্ব পালনে নিদারুণ গাফলতি ও অবহেলা সাপেক্ষে দাবিকৃত সব গণতান্ত্রিক সরকার সম্পর্কে জনগণ গভীর তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।

এত কিছুর পরও সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়াকে অবলম্বন করে আছে তা নির্বাচন। অথচ এ কথা আজ বহুল পরীক্ষিত যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে ইংরেজী ভাষায় তিনটি এম অধ্যাক্ষর বিশিষ্ট শব্দ; মানি, মাসলম্যান, মিডিয়া। যার সরল ব্যাখ্যা দাঁড়ায়, কালো টাকা, ক্যাডার আর অসৎ-প্রচারণা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে, দেশের বৃহৎ দু’টি রাজনৈতিক দল থেকে প্রায় শতাধিক ধনাঢ্য শিল্পপতিকে মনোনয়ন দেবার প্রক্রিয়া চলছে। এদের মনোনয়নের বিনিময় মূল্য নির্ধারিত হয়েছে দশ/বিশ কোটি টাকার অংকে। এদিকে নির্বাচনী নীতিমালায় ব্যক্ত হয়েছে, কোন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার উর্ধ্বে যেতে পারবেনা। অথচ রাজনানী ঢাকার ঢাকার একজন প্রার্থীর সর্বনি¤œ ব্যয় নয়/দশ কোটি টাকা হবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। তারা ধারণা করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বলাবাহুল্য, এক্ষেত্রে সাদা নয় বরং পুরোটা কালো টাকাই ব্যয়িত হবে। এর পাশাপাশি সারা বিশ্বে অস্ত্রের ঝনঝনানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ পরিবেশিত তথ্যে জানা যায় যে, বিশ্বে ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৫৫ কোটি। যার মধ্যে ৪৫ শতাংশেরও কম হলো পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। গড়ে প্রতি বারো জনের হাতে এখন একটি আগ্নেয়াস্ত্র। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা এখন এতই রমরমা যে, মাত্র হাজার টাকার কমেও পাওয়া যায় একে-৪৭ রাইফেল।

অভিজ্ঞমহল তাই মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্ত্ব ও তালাশ যতই ভারিক্কী হোক, যতই নির্বাচনী বিধি সংস্কার করা হোক, দেশি-বিদেশী পর্যবেক্ষক আনা হোক, হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হোক, সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হোক কিন্তু চলমান যে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রবাহ ও প্রেক্ষাপট বিরাজমান তার প্রেক্ষিতে কোনদিনই ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে কথিত সুস্থ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং এ নির্বাচনের ফলাফলও স্বচ্ছ নয়। আর এরূপ গঠিত ও চালিত অস্বচ্ছ সরকার, গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে অদ্যাবধি সার্বজনীন, সুস্থ, সুন্দর নাগরিক জীবন উপহার দিতে পারেনি এবং কস্মিনকালেও পারবেনা বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

সাধারণ মানুষের অসঙ্গতি এই যে, প্রথাগত নির্বাচনী অনাচারে ধুঁকে ধুঁকে কুকঁড়ে গেলেও, “ইসলামের নামে ভোটদানের নির্বাচন হারাম” বলেই এ ব্যবস্থায় আদৌ কোন বরকত নেই, রহমত নেই, স্বচ্ছতা নেই।” এ কথা তাদেরকে আলোড়িত করলেও, তারা অসহায়ভাবে বিজ্ঞাসু হয়, “তাহলে দেশ চলবে কি করে? সরকার গঠিত হবে কিভাবে?”

সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি সাধারর্ণে এই অজ্ঞতা তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিক তথা দাবীদার আলিম সমাজের ব্যর্থতা। কারণ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে “সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ” এই নীতিই প্রতিফলিত হয়। আর ঈমানের সাথে সংঘাতপূর্ণ এ নির্বাচন তাই কোন মতেই ইসলামে জায়েয হতে পারেনা। এ নাজায়েয প্রথার কুফল সম্পর্কে জনমত তৈরি করে শরয়ী পদ্ধতিতে “খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ” গঠনের রূপরেখা আদৌ শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন; ফজলু গং দিতে পারেনি। পক্ষান্তরে দাজ্জালে কাজ্জাবের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে তারা কেবল হারাম-বিদয়াতী লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, ছবি, নারী নেতৃত্ব গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং ইসলামের নামে ভোট ও নির্বাচনের রাজনীতিতে নেমে স্পষ্ট শিরকী, কুফরী ও বিদয়াতী কাজে লিপ্ত হয়েছে।

কাজেই সাধারণ মানুষকে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারীতার ধারাবাহিকতায় ভোট ও নির্বাচনী প্রথার অনাচার, অস্বচ্ছতার প্রেক্ষিতে ক্রমাগত নতজানু ও পর্যুদস্ত হতে থাকলে চলবেনা বরং বাপ-দাদার রেওয়াজ, চলমান প্রবাহ তথা প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে, “ইসলামের নামে নির্বাচন হারাম” এই আদর্শের ব্যপকতায় ও গভীরে কাঙ্ঘিত সমাধান খুঁজতে প্রচেষ্ট হতে হবে। স্মর্তব্য, এ মূল্যবোধের প্রস্ফুটনই বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ উনার অন্যতম তাজদীদ।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়