সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি অসীম কুদরতময়। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বেশুমার দরুদ ও সালাম যিনি সে কুদরত প্রকাশের কেন্দ্রবিন্দু।
হাদীছ শরীফ-এ কুদরী থেকে জানা যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি একটি গুপ্তভা-ার ছিলেন। স্বীয় প্রকাশ নিমিত্তে, তিনি হুব্বুল আউওয়ালিন ওয়াল আখিরীন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি করেন।
জীবন সম্পর্কে আত্মোপলব্ধি, প্রকৃতি ও পরিবেশ, সমাজ ও সভ্যতা ইতিহাস ও ঐতিহ্য ইত্যাদির পেছনে নিগৃঢ় তত্ত্ব লাভ মূলতঃ আনুপূর্বিকভাবে, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত সম্পর্কীয় রহস্য উপলব্ধির সাথে সম্পৃক্ত।
ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বাশার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে উনার প্রতি ওহী নাযিলের বিষয়। কিন্তু এই ওহী দ্বারা উনার গোটা জীবনের সবদিকই সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রিত তা অন্য আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। মুহাক্কিকগণ ওহী শব্দের মাঝেই সাইয়্যিদুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুছুছিয়ত, শান, মর্তবার প্রস্ফুটন দেখতে পান। কারণ ওহী এমন একটি বিষয় যা সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থই হচ্ছে রিছালতের খুছুছিয়ত দ্বারা সমৃদ্ধ হওয়া। যা কিনা সাধারণ মানবীয় প্রবৃত্তির সম্পূর্ণই উর্ধ্বে। যদিও মুর্দা অন্তর বিশিষ্ট লোকেরা, তা বরাবরই অনুভব করতে অক্ষম। কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ওদের প্রশ্নটি এসেছে এভাবে, “উনি কেমন রসূল? যিনি বাজারে যান, খাদ্য খান।”
সাধারণেরা তার বাজারে যাওয়ার, খাদ্য খাওয়ার দৃশ্যই দেখেছে। একটু জ্ঞানীরা বাজারে যাওয়ার অপূর্ব ভঙ্গি, খাদ্য খাওয়ার অনন্য তরতীব অনুভব করেছে। আরেকটু সমঝদাররা, ডানদিক দিয়ে হেটে যাওয়ার, মোহময়ী চরিত্র প্রকাশের আদর্শ রূপায়নের বিষয় উপলব্ধি করেছে। আরেকটু তত্ত্ব জ্ঞানীরা আফজালুল কায়েনাত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে খাবার নূর হয়ে প্রবেশ করে এবং হজম ক্রিয়া শেষে নূর হয়ে বের হয় তা বুঝতে সমর্থ হয়েছে। তার চেয়েও অগ্রবর্তীরা এ বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমের পাশাপাশি রসূলীয় সত্ত্বার বিকাশ ও বিস্তৃতির মর্ম বুঝতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হাক্বীক্বত তার চেয়েও অনেক বেশি গভীরে নিহিত।
বলা প্রয়োজন, উল্লিখিত কাফির গোষ্ঠীর ভাবশিষ্যরা বর্তমানেও হায়াতুন নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনকে নবী জীবন এবং ব্যক্তি জীবন এ দু’ভাবে বিভাক্তির অপপ্রয়াস পায়। কিন্তু এটা মূলতঃ পূর্বাপর কুফরী খাছলত। কুরআন শরীফ উনার বর্ণনায় জানা যায়, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম, হযরত হারুণ আলাইহিস সালাম, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনাকেও কাফিররা ব্যক্তি মানুষ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছিল এবং এ কারনে তাদের রিছালতকেও অস্বীকার করেছিল।
ছহীবুল ফুরকান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রেও তারা একই মন্তব্য প্রচার করেছে। যা কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “কুরআন শরীফ আসার পর মানুষদের ঈমান আনার পথে তাদের একমাত্র প্রশ্ন, মহান আল্লাহ পাক কি একজন বাশারকে রসূলরূপে পাঠিয়েছেন? মূলতঃ এগুলো বোবা, বধির ও মুর্দা দিলের কথা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “যখন আপনি কুরআন শরীফ পাঠ করেন তখন আমি আপনার এবং অবিশ্বাসীদের মাঝে পর্দা ফেরে দেই, তখন তারা শুধু আপনার বাশারিয়ত ছাড়া আর কিছু দেখতে পায়না।”
উল্লেখ্য, “যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি রূহ ও শরীর মুবারক উনার মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন তখনও আমি নবী ছিলাম” এই মশহুর হাদীছ শরীফ ছাড়াও সমূহতাফসীর এবং আরো অনেক গ্রহণযোগ্য দলীল রয়েছে, “আছলুল কাযেনাত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরু হতেই নবী।” আরবীতে প্রবাদ রয়েছে, “নবী নবীই, যদিও তিনি শিশু হয়ে থাকুননা কেন?”
বলা প্রয়োজন হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে বাঞ্ছিত ও কাঙ্খিত আক্বীদা ও বিশ্বাস, ইলম ও প্রজ্ঞা এবং মুহব্বত ও শ্রদ্ধাবোধের প্রকট ঘাটতি রয়েছে তথাকথিত এক শ্রেণীর আলিমদের মাঝেও। এরা ইসলামের কথা বলতে চায়, মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করতে চায়, বস্তুতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে পাল্লা দিয়ে ইসলামী চেতনা সমুন্নত রাখতে চায়, সমাজে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বলে, দাওয়াত দেয় কিন্তু উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বতের দিক, উনার রুহানিয়ত, মু’জিযার দিক তুলে ধরতে বড়ই জড়তা, অজ্ঞতা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও কুণ্ঠার পরিচয় দেয়।
অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে, রিছালতে পানাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবির্ভাবের প্রাক্কাল হতে শুরু করে উনার আম্মাজানের রেহেম শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান, জন্মমুহুর্তে, শৈশব-কৈশোর, যৌবন, মক্কীজীবন, হিজরত, মাদানী জীবন, দ্বীনের দাওয়াত, পারিবারিক জীবন, জিহাদ, ইন্তিকাল সব মুহুর্তই অতিবাহিত হয়েছে উনার অনন্য রুহানিয়তে, মু’জিযাতে।
আবাবীল পাখির দ্বারা আবরাহার হস্তীবাহিনী ধ্বংস, হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার স্বপ্নে যমযম কূয়োর ঠিকানা প্রাপ্তি, উনার দশ ছেলে লাভ, একশত উট কুরবাণী উনার দ্বারা খাঁজা আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জীবন হিফাযত, হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার বিবাহ, রেহেম শরীফ উনার মধ্যে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন সুস্বপ্ন, গায়েবী নেদা, ফেরেশতাদের সাক্ষাত, হযরত মরিয়ম, হাওয়া, আছিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার আগমণ উনাদের সেবা গ্রহণসহ যমীনে তাশরীফ মুহুর্তে সিজদাবনত অবস্থায় থাকা, সারে জাহান উনাকে ঘুরিয়ে আনা, পারস্য রাজ্যের বিশাল প্রাসাদ প্রকম্পিত হয়ে উঠা, প্রাসাদ চূঁড়া হতে অতিকায় বিশাল পাথর খ- খসে পড়া, অগ্নি উপাসকদের হাজার বছরের প্রজ্বলিত অগ্নিকু- নিভে যাওয়া, তাশরীফ মুহুর্তেই “মহান আল্লাহ পাক তিনি বড় মহান, উনার জন্য সব প্রশংসা সর্বাধিক বার উচ্চারণ করা, “ধাত্রীমাত্রা হালীমা আলাইহাস সালাম উনার বাহনে, ঘরে, দুধ পানের ক্ষেত্রে চমকপ্রদ বরকতের কথা, সিনা মুবারক চাকের কথা, মেঘের ছায়া দানের কথা, মহীয়সী ও বিদূষী রমনী হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শ্রদ্ধাবনত হওয়ার কথা, গাছ পাথরের সালাম দেয়ার কথা, আবু জেহেল লাহাব, হিন্দার শত শতবার শহীদ করার হামলা হতে হিফাযত হওয়ার কথা, কাবা গৃহে শে’রে আবু তালিবের বয়কটনামা পোকায় খেয়ে ফেলার ঘটনা, সামান্য খাদ্যে চল্লিশজনের তৃপ্তি, পাথর থেকে দুধ, আঙ্গুল থেকে পানি বের হওয়া, চাঁদ দ্বিখ-িত হওয়া, মিরাজ শরীফ উনার ঘটনা, বায়তুল মোকাদ্দাস শরীফ উনার বর্ণনার ঘটনা, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে সিজদাকারী নক্ষত্রের নাম বলে দেয়া, বদরের জিহাদে শত শত ফিরিশতাদের অংশগ্রহণ, খন্দকের অভিনব ঘটনা, মূতা যুদ্ধের ঘটনা, হুনায়নের জিহাদে ধূলি নিক্ষেপের ঘটনা, মৃত সন্তানকে পুনরায় জীবিত করার ঘটনা, অস্তমিত সূর্যকে পুনরায় উদয় করার কথা, কিয়ামত পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী করার কথা ইত্যাদি লক্ষ-কোটি মু’জিযার কথা প্রতীয়মান করে যে সাইয়্যিদুল মাখদুম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রিছালতের দায়িত্ব পালনে ওতপ্রতোভাবে জড়িত ছিল উনার অনন্য রূহানী শক্তি। আপাত দৃষ্টিতে এগুলো উল্লেখ্য হলেও ছাহেবে আসমাউল হুসনা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মূল রূহানী ক্ষমতার বিকাশ ঘটেছে মানুষের অন্তর পরিবর্তনের দ্বারা। এ শক্তির প্রস্ফুটনেই তাই দেখা যায়, একা পৃথিবীতে আসলেও, ছহিবুল বারাকাত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইন্তিকাল মূহুর্তে সোয়া লাখ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনার আদর্শের সৈনিক হয়েছিলেন এবং প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বৎসর পরেও বর্তমানে প্রায় দেড়শ কোটি মুসলমান রয়েছে।
কাজেই আজকে যারা ছাহিবী দ্বীনুল হক্ব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীরাত আলোচনা অথবা উনার আদর্শ প্রচারে এই রূহানী শক্তি সম্পর্কে বিমুখ থাকে সেটি যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, ছহিবুল বারাকাত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমএর্ক তাদের কতবড় অজ্ঞতা তা ভাষায় বর্ণনার অযোগ্য।
আবার কিছু কিছু আহমকের এই প্রবণতাও দেখতে পাওয়া যায় যে, তারা কুরআন-সুন্নায় শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত, মশহুর ঐসব রূহানী প্রকিয়াকে বস্তুতান্ত্রিক যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করে তথাকথিত প্রগতিশীল ইসলামিক চিন্তাবিদ সাজতে চায় এবং অনেক ক্ষেত্রে না পেরে অকাট্য সেসব নির্দশনকে অস্বীকারের মত কুফরীও করে বসে। নাউযুবিল্লাহ!
এ পর্যায়ে দেখা যায় মি’রাজ শরীফ অস্বীকারকারী গোষ্ঠী, “মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পায়খানা-পেশাব মুবারক, রক্ত মুবারক পাক ছিল, নাযাতের উছীলা ছিল এ বিষয় মানতে নারাজ গোষ্ঠী, “মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল মাটির তৈরি নন, তিনি স্বাভাবিক ভাবে এবং স্বাভাবিক পথে দুনিয়াতে আগমণকারী নন “এ বিষয় না মানা গোষ্ঠী,” “মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাযির-নাযির” এ সত্যকে অস্বীকারকারী গোষ্ঠী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শেষোক্ত দুবিষয়ে বর্তমান সংখ্যায় সমৃদ্ধ দলীল দ্বারা অকাট্য জবাব দেয়া হয়েছে, তাতে সন্দেহবাদীরা সকল সংশয়ের সমুচিত জবাব পাবে ইনশাআল্লাহ।
মূলতঃ আমাদের এ কথা বুঝতে হবে যে, এই যমীন, এই আলম কতিপয় সামানা-আসবাব তথা নিয়ম-শৃঙ্খলার আবর্তে আবদ্ধ থাকলেও সারে আলমের যিনি মূল রহমতুল্লিল আলামীন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন মতেই দুনিয়াবী নিয়ম শৃঙ্খলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নন। বরং উনাকে কেন্দ্র করেই সবকিছু এবং স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মুহব্বতে মশগুল।
মূলতঃ এ সত্য যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পারলেই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান উপলব্ধি ও উনার মুহব্বতের দাবীদার হওয়া সম্ভব। আত্মিক ত্বরক্কীসহ ইছলাহর কাজ, দ্বীনের কাজ করা সম্ভব ও সহজ। এর বিপরীতে তা ততোধিক কঠিন ও দূরূহ ব্যাপার।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এধরণের একটি মহল তাওহীদের নামে অনাবশ্যক, অহেতুক ও খোঁড়া যুক্তি দিয়ে ক্রমশ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শান খর্ব করার অপচেষ্টায় মত্ত। মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান উনার বিন্দুমাত্র খিলাফ করা কস্মিন কালেও কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে শুধু অপচেষ্টা কারীরাই গোমরাহ, বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যেমন- এ ধারাবাহিকতায় আজকের খারিজী, দেওবন্দীরা, লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী, নির্বাচন, ছবি তোলা, মেয়ে লোকের নেতৃত্ব গ্রহণ ইত্যাদি প্রকাশ্য হারামে মত্ত হয়ে গোমরাহ হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে তাই খাজিনাতুর রহমত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রূহানী ক্ষমতা সম্পন্ন উম্মত হওয়াই হোক আমাদের আন্তরিক কামনা। এ মহান উপলক্ষ্যে মাসিক আল বাইয়্যিনাত বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের পাশাপাশি যামানার তাজদীদী মুখপত্র, সমসমায়িক বিষয়ের ছহীহ নির্দেশনা দান, সুন্নতের পূনঃপ্রচলন, বিদয়াত নির্মূলীকরণ, ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণকারী তথা উম্মাহর মাঝে রূহানীয়তের বিকাশ বিস্তৃতকারী মাসিক আল বাইয়্যিনাত তার হক্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন বছরে পদার্পণ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আমরা জানাই অগণিত শুকরিয়া।