সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

দিন-রাতের পরিবর্তনকারী যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই সব প্রশংসা। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই সব ছলাত ও সালাম।

সৃষ্টির শুরু থেকেই গণনায় মাসের সংখ্যা বারটি বলে, রব তায়ালা নির্ধারিত করে দিয়েছেন; এবং এক্ষেত্রে মুহাররামুল হারাম হিজরী সালের প্রথম মাস বা পয়লা মুহাররম নতুন হিজরী সালের প্রথম দিন। তাই মুহররমের আগমন মুসলমানদের জন্য যেমন বিগত এক বৎসরের জিন্দেগীর মূল্যায়নের অবকাশ রাখে তেমনি প্রেরণা দেয় পরিশুদ্ধ চেতনায় নতুন সালে পদার্পণ করার দীপ্ত অভিপ্রায়ের ও নব চেতনার।

কিন্তু বেদনাদায়ক হলেও সত্য যে, মুহাররম মাসে মুসলিম মানসিকতায় যে আলোড়ন আন্দোলিত হওয়ার কথা, তার খুব কম স্পন্দনই আমরা দেখতে পাই। এই মুহাররম মাসেই রয়ে গেছে আশুরা- যে দিনটিতে পৃথিবী সৃষ্টি, প্রথম বৃষ্টি বর্ষণ, প্রথম রহমত নাযিলসহ অন্য হাজারো গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সমাবেশে সমৃদ্ধ। অথচ সে সম্পর্কে আলোচনা, পর্যালোচনা ও তার প্রতিফলনের প্রচেষ্টার তেমন কোন পদক্ষেপই সঠিকভাবে লক্ষ্য করা যায়না। রাষ্ট্রীয়ভাবে তো বটেই সমাজ জীবনেও মুসলমানদের ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে বা মসজিদসমূহে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগে কাঙ্খিত উৎসাহ পরিলক্ষিত এবং অজ্ঞতাই বিশেষভাবে দায়ী।

অধুনা এ ধারণা বিস্তার লাভ করেছে যে, মাদরাসা পাস করলেই আলিম হওয়া যায়। আর মাদরাসা সংশ্লিষ্টরাও এ অভিমত পোষণ করে যে, আরিম হতে হলে প্রথাগত ও প্রচলিত মাদরাসায় পাঠ ও পাশের বিকল্প নেই।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামিক মূল্যায়ণ এই যে, আলিম হওয়ার সাথে প্রচলিত মাদরাস পাশের আদৌ যথার্থতা নেই। প্রচলিত মাদরাসাগুতে ছাত্র ও শিক্ষকের অসত্য সংখ্যা অন্তর্ভূক্তিকরণ, নামকাওয়াস্তে সিলেবাসভিত্তিক পড়ালেখা ও পরীক্ষা পদ্ধতি, বিশেষতঃ কি কওমী, কি খারেজী, কি আলীয়া সবক্ষেত্রে যেসব অনাচার ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় তা উপরোক্ত মন্তব্যেরই সত্যতা প্রতীয়মান করে।

গত পনেরই মার্চের দাখিল পরীক্ষায় দেখা যায়, শুরুর দিনে কেবল এক হাজার দাখিল পরীক্ষার্থীই বহিস্কার নয় বরং প্রায় অর্ধশত শিক্ষককেও নকল সরবরাহের দায়ে পত্রিকায় মাদরাসা শিক্ষক ও ছাত্রদের ভয়াবহ নকল প্রবণতার নির্লজ্জ খবর প্রকাশিত হতে থাকে। মাদারীপুরে একটি কেন্দ্র থেকেই একদিনে দশ বস্তা নকল উদ্ধার করা হয়।

সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, চলমান মাদরাসা শিক্ষার এই প্রক্রিয়া স্বভাবতই কাঙ্খিত হারে হক্কানী আলিম উপহার দিতে পারেনা।

উল্লেখ্য, নকল প্রবণতার বাইরেও যারা পাশ করে, তারাও যে ভাল জ্ঞান অর্জন করে থাকে বিষয়টি তা নয়। বরং অনেকটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত করে তোলা বর্তমান মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যসূচী এতটা স্বল্প ও সীমাবদ্ধ যে তাতে করে সাধারণভাবে সৃজনশীল ও প্রজ্ঞাবান আলিম হওয়া প্রায় এক রকম অসম্ভব। আর এ ধরণের একটা কুপম-ুক আবহে বেড়ে উঠার কারণেই আলিম নামধারী বর্তমান মাদরাসা পড়–য়ারা মূলতঃ জাতীয় জীবনে মূর্খতা, হঠকারিতা, শঠতা, নীতিহীনতা তথা ব্যার্থতার পরিচয় দিয়ে চরম সমালোচনার পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামকে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল করে তোলার পরিবর্তে তারা প্রবাহমান সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ডামাডোলে কায়েমী স্বার্থবাদ চরিতার্থ করতে গিয়ে ইসলামকে খ-িত ও বিকৃত করতে চাইছে।

অথচ ইসলামের দাবী ছিল কথিত আলিম সমাজ নিজেদের মাঝে ইসলামের অন্তর্নিহিত আদর্শ এমনভাবে ফুটিয়ে তুলবেন যে, তাতে অন্য সকলে নৈতিক শিক্ষার অনুপ্রেরণা পাবে।

উল্লেখ্য, শুধু অন্যান্য রাজনৈতিক মতবাদ ও প্রক্রিয়াই নয় প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রও সত্যিকারভাবে আচরণ ও অনুভূতির আদর্শিক ও নৈতিক উত্তরণ ঘটায়না। সেক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যক্তি ইমেজ চর্চা তথা একগুঁয়েমী, ঔদ্ধত্য, খেয়ালীপানা ও অহমিকার অনুশীলন জাতীয় জীবনকে চরম অস্থীতিশীলতায়, সংঘাত ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন করে। আর জাতীয় জীবনে এই আদর্শবোধের শুন্যতার দায়ভার মূলতঃ কথিত আলিম সমাজের উপরই বর্তায়।

বিশেষতঃ কথিত আলিম সমাজ যখন প্রজ্ঞা, বিনয়, জনগণের হক্ব উপলব্ধি, দেশাত্ববোধ প্রভৃতি বাঞ্ছিত আদর্শবোধের প্রতিফলন নিজেদের মাঝেই ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার বিপরীতে চলমান রাজনৈতিক প্রবাহে মশগুল হয়ে ইসলামের নামে হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম করে, তখন তাদের ব্যবহৃত ও দাবীকৃত ইসলামী মুখোশটি বড়ই বিশদৃশ হয়ে পরে।

কারণ ইসলামের মূল শিক্ষাই হচ্ছে বিজাতীয়, বিদয়াতী প্রথা থেকে আলাদা হওয়া। অথচ তারপরেও নামধারী আলিম সমাজ মাওসেতুং-এর লংমার্চ, গান্ধীর হরতাল, খ্রিস্টান প্রোটেষ্টান্টদের মৌলবাদ, ইহুদী-নাছারাদের নির্বাচন ইত্যাদি বিজাতীয়, বিদয়াতী কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, আশুরার রোযা একটি মাকরূহ হওয়ার পিছনে এ কারণেই নিহিত। কারণ একটি রোযা রাখলে ইহুদীদের সাথে মিল রাখা হয়। সুতরাং মুসলমানদের তার খেলাফ করতে হয়। দু’টি রোযা রাখতে হয়।

কাজেই মুহররমের শিক্ষা বাস্তবায়িত করতে হলে আমাদেরকে বিজাতীয় পন্থা থেকে বিরত হতে হবে। তথা জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রে ইসলামিক আদর্শ ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। আর কেবলমাত্র হক্ব ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবতের দ্বারাই তা সম্ভব।

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৩)