পরাক্রমশালী পবিত্র জাত। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই সব প্রশংসা। যিনি ইলম এবং কুদরতের দ্বারা সব কিছুর সাথে রয়েছেন এবং তাদের উপর ক্ষমতাবান। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছালাম। যিনি আমাদেরকে তাওহীদ শিক্ষা দিয়েছেন, তাযকিয়া করেছেন, মুহব্বত-মারিফাতে সমৃদ্ধ করেছেন।
জমিনে যেসব ফিৎনা-ফাসাদ আপতিত এবং আবর্তিত হয় সবই মানুষের হাতের কামাই। তাই যাবতীয় বিপদাপদ, অন্যায়, নিপীড়ন, সন্ত্রাসস সব সঙ্কট থেকে উত্তরণের মূল প্রক্রিয়া হচ্ছে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করা। বিপদাপদ, কষ্ট, মূল্যবোধের অবক্ষয় জনিত অস্থিরতা ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা হতে উদ্ধারের জন্য বস্তুতান্ত্রিক উপযোগ তথা সাজ-সরঞ্জাম ও কলা-কৌশল বা প্রক্রিয়ার চেয়ে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করাই মু’মিনের কাজ।
বন্যা প্রতিরোধ ও তার ছোবল থেকে বাঁচার জন্য অনেক পন্থাই গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু বন্যা বার বার আসে, নতুন নতুন ভাবে। রোগ-ব্যাধির প্রতিকারের জন্য উন্নত থেকে উন্নততর প্রতিষেধক ও প্রক্রিয়া আবিস্কার হচ্ছে কিন্তু তারপরেও নিত্য-নতুন ব্যধি মানুষকে আক্রান্ত করছে।
অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য, দ্রব্যমূল্যকে স্থিতিশীল রাখার জন্য, দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণে জনজীবনকে সমৃদ্ধ রাখার জন্য, হাজারো নতুন থেকে নতুনতর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে কিন্তু তারপরেও অনাকাঙ্খিত অস্থিরতা সমাজ জীবনকে গ্রাস করছে।
অপরদিকে দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, খুন, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, চোরাচালানি ও সন্ত্রাস ইত্যাদি বন্ধের জন্য সব-দেশে সব সরকারই ক্রমাগত ব্যবস্থা নিচ্ছে ও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বস্তুত সেসব প্রক্রিয়াকে অতিক্রম করেই নতুন মাত্রায় অপরাধ হচ্ছে, নিত্য-নতুন অপরাধী গজাচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশে সন্ত্রাস নির্মূলে পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড গঠন সহ, কম্বিং অপারেশন ইত্যাদি অনেক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। একের পর এক বিভিন্ন টপ টেররদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, বিভিন্ন দল, উপদল, সিন্ডিকেটের হোতাদের আটক করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও থেকে থাকছেনা অপরাধ। নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা অপরাধীদের। বি এইচ আর বি প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে যে, হালে প্রতিদিন নয়জন করে মানুষ খুন হচ্ছে।
এতদ্বপ্রেক্ষিতে অনেকে তাদের গডফাদার আর প্রশাসনের পক্ষপাত দুষ্টতার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছেন। কিন্তু তারা মানব সত্ত্বার বাইরে নয়। সমাজের প্রবাহমান পরিবেশ থেকেই তাদের অসৎ মানসিকতা পুষ্টি লাভ করে। যা মূলতঃ সমাজের উঁচু থেকে নীচু তলা সব জায়গায়ই সংক্রমিত হয়। সুতরাং প্রক্রিয়া আর প্রচেষ্টা চালিয়ে অপরাধীকে সামরিক নিয়ন্ত্রণ করা যায় বটে কিন্তু অপরাধ প্রবণতাকে নির্মূল করা যায়না কখনও। অপরাধ তথা সন্ত্রাস নির্মূল করণে আমাদের মাঝে মূলতঃ মূল্যবোধের চেতনা জাগ্রত করতে হবে, তথা সর্বশক্তিমান যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অবিচল আস্থাবান হতে হবে।
বলাবাহুল্য এই আদর্শবোধ যে সমাজের আ’ম জনতার মাঝেই অনুপস্থিত শুধু তাই নয়, বস্তুতঃ যারা এ ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারত, সেই কথিত আলেম সমাজের মাঝেও এই চেতনা নগণ্যরূপে খুঁজে পাওয়াও দুস্কর। ইসলামী আন্দোলনের নামে মহান আল্লাহ পাক উনার মুখী হওয়ার পরিবর্তে এরা বস্তুতান্ত্রিক সাজ-সরঞ্জাম তথা কলা-কৌশলের উপরই নির্ভর করছে। তাই তারা বস্তুতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ছবি তুলছে; অথচ ছবি তোলা ইসলামে হারাম। একইভাবে মাওসেতুং এর লংমার্চ, কট্টর হিন্দু গান্ধীর হরতাল, খ্রিস্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের মৌলবাদ, ইহুদী-নাছারার ব্লাসফেমী ইত্যাদি বিজাতীয় হারাম কলা-কৌশল তারা অবলম্বন করছে। বিশেষতঃ ইসলামী আন্দোলনের নামে এতসব হারাম কাজ ছাড়াও ইসলামের নামে ভোট ব্যবসা ও হারাম নির্বাচনের পর তারা বর্তমানে মহিলা নেতৃত্বের পেছনে চলছে।
মূলতঃ এসব কিছু স্পষ্টই প্রমাণ করে যে, তারা আল্লাহমুখী হওয়ার পরিবর্তে গায়রুল্লাহমুখী তথা বস্তুতান্ত্রিক উপযোগের প্রতি নিবদ্ধ হয়ে আছে। কিন্তু বস্তুতান্ত্রিক কৌশলের উপর নির্ভর কর ধর্মের পরিচয় নয়; সেটা ধর্মের পরিবর্তে ধর্ম-ব্যবসা বটে।
মূলতঃ কি আযাব-গযব, কি সামাজিক ভারসাম্যহীনতা, অপরাধ, সন্ত্রাস নির্মূলীকরণ অথবা এসব মুক্ত ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠাকরণ সব ক্ষেত্রেই বস্তুতান্ত্রিক কলা- কৌশলের উপর নির্ভর করা বস্তুত সর্বশক্তিমান যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি যথাযথ আস্থার অভাবই প্রতিপন্ন করে। স্মর্তব্য হক্বানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবতের দ্বারা ইলমে তাসাউফ অর্জনের মাধ্যমেই মূলতঃ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ আস্থা তথা মুহব্বত-মারিফাত অর্জন সম্ভব। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে তা নসীব করুন। (আমীন)