সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় প্রতিপালকেরই প্রশংসা প্রাপ্য। যিনি বিপদ দান করলে তিনি ব্যতীত মোচনকারী আর কেউ নেই। সালাত ও সালামের হকদার তিনিই যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মানুষের বিপদে আপতিত হওয়া যার জন্য কষ্টদায়ক। মূলতঃ আল্লাহ্ পাক-এর অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বিপদই আপতিত হয়না। আল্লাহ্ পাক মানুষদেরকে ভয়, ক্ষুধা, মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। এসব বিপদে অধিকমাত্রায় সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি ইত্যাদি বিপদাপদের তওবা-ইস্তেগফারই আল্লাহ পাক-এর পছন্দনীয়। আল্লাহ্ পাক বলেন, “অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব অনটন এবং রোগ-ব্যধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা আকুতি-মিনতি করে।” (সূরা আনয়াম) বিপদ-আপদ বা রোগ-ব্যধি দেয়ার জন্য আল্লাহ পাক-এর তরফ থেকে অতিকায় কিছু নাযিল করতে হয় না বরং খুব ক্ষুদ্র কিছুর দ্বারা বিরাট গযব আসাই আল্লাহ্ পাক-এর কুদরতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন, “আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক।” (সূরা আরাফ/১৩৩) ফিরআউনের জাতির উপর আল্লাহ্ পাক প্রথমে তুফান যা বন্যাজনিত আযাব প্রেরণ করেন। দ্বিতীয় আযাব স্বরূপ আসে পঙ্গপাল। যা তাদের শস্যক্ষেত্র, ঘর, আসবাবপত্র এমনকি ছাদসহ সবকিছু খেয়ে নিঃশেষ করেছিল। এরপর এলো উকুন। এর ব্যাপকতায় তাদের খাদ্যশস্যেও ঘুনে ধরেছিল এবং শরীরে আর মাথায়ও যন্ত্রাণাকর উকুন পড়েছিল অগণিত মাত্রায়। তারপর চতুর্থ আযাবরূপে হাজির হলো ব্যান্ড। এত অধিক সংখ্যায় ব্যাঙ তাদের ঘরে জন্মালো যে, কোন স্থানে বসতে গেলে গলা পর্যন্ত উঠত ব্যাঙের স্তূপ। শুতে গেলে ব্যাঙের রূপে তলিয়ে যেতে হত, পাশ ফেরা অসম্ভব হত। রান্নার হাড়ি, খাবারের পাত্র সবকিছুই ব্যাঙে ভরে যেত। এরপর পঞ্চম আযাব হিসেবে এলো রক্ত। তাতে খাদ্য-পানীয় সব রক্তে পরিণত হয়ে যেত। আর ঘষ্ঠ আযবে হিসেবে যা ১ এসেছিল তা হচ্ছে- মহামারী আকারে প্লেগ। যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে ইদুরের মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করে। অতএব, অনুধাবনীয় যে আল্লাহ্ পাক-এর আযাব আসার জন্য আহামরি কিছুর দরকার হয়না। আল্লাহ্ পাক বলেন, “আল্লাহ পাক মশা কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র কোন বস্তুর উপমা দিতে সংকোচবোধ করেন না।” (সূরা বাক্বারা/২৬) প্রসঙ্গতঃ চিকিৎসকদের তথ্যানুযায়ী এডিস নামীয় এক শ্রেণীর মশা কথিত ডেঙ্গু জ্বরের বাহক হয়ে জন-জীবনে বিরূপ আতঙ্ক সৃষ্টি করছে তা সকলেই মর্মে মর্মে অনুধাবন করছেন। তথ্যসূত্রে জানা গেছে যে, প্রথম ডেঙ্গু জ্বরের সন্ধান পাওয়া যায় চীনে ৯৯২ সালে। ১৬৩৫ সালে ফ্রান্স ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজে ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ডেঙ্গু প্রথম মহামারী আকারে দেখা দেয়, ১৮৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায়, ও ১৯৬৪ সালে ঢাকায় ডেঙ্গুর অস্তিত্ব দেখা দিলে তখম একে। ঢাকা ফিভার বলা হলেও ১৯৯৬ সালে ডেঙ্গু জ্বর হিসেবে এটির নিশ্চিত শনাক্তকরণ হয়। বিশ্বের ১০২ টি দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। গড়ে সারা বিশ্বে দশ কোটি লোক আক্রান্ত হলেও মারা যায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। রষ্ট্রে রক্তে ঘুনে ধরা একটি অবক্ষয় যুক্ত সমাজ কাঠামোতে। যা হয় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের দায়বদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সব কটি মহল থেকেই আমরা সেরূপই অবাঞ্ছিত এবং হতাশাব্যঞ্জক কর্মকান্ড গভীর আক্ষেপ ও দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি। ডেঙ্গু। নিয়ে জনমনে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা। যোাম নিন্দনীয়ভাবে লক্ষ্য করা গেছে পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্যসেবী তথা চিকিৎসক মহলের অমূলক আশঙ্কা তৈরীর। মাধ্যমে রোগী শোষনের বিষয়টিও আমাদেরকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এর সাথে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, মশা নিধন সামগ্রী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অমানবিক ব্যবসায়িক মানসিকতাও আমাদেরকে চরমভাবে ক্ষুদ্ধ করেছে পাশাপাশি সরকারী মহলের ব্যর্থতাও বিশেষভাবে। সমালোচনার কারণ হয়েছে। মূলতঃ সুদ, ঘুষ সন্ত্রাসসহ দুর্নীতি আর বেপর্দা, অশ্লীলতা, নেশাসহ যাবতীয় পাপের সমাহার সত্যিকার অর্থে আজকের। আতঙ্ক মশার ভয়াবহতাকেও হার মানিয়েছে এবং এর কুফল। মশার কামড়ের চেয়েও অনেক বেশী যন্ত্রণাকাতর হয়েছে কিন্তু সে যন্ত্রণাকাতর মানসিকতার সত্যিকার মূল্যবোধ থেকেও আমরা বড়ই বেখেয়াল। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক আজকের এডিস মশা যে হযরত মুসা আলাইহিস্ সালাম-এর যুগের। উকুনের মতই এক গযব সে সম্পর্কে আমরা বড়ই বেখবর। বলাবাহুল্য সাধারণের এই উদাসীনতার জন্য নামধারী। আলেম সমাজের বিজাতীয়-বেশরা অনুসরণ প্রীতিই দায়ী এরা ইসলামকে আজ চলমান অনৈসলামিক সেন্টিমেন্টের পোহনে জুড়ে দিতে চায়। তাই মাওসেতুং এর অনুকরণে লংমার্চ, গান্ধীর অনুকরণে হরতাল, খ্রীষ্টান প্রোটেস্ট্যান্টদের অনুকরণে মৌলবাদ, ইহুদী-নাছারার অনুকরণে নির্বাচন-গণতন্ত্র, ব্লাসফেমী, ছবি, মেয়ে লোকের নেতৃত্বের। আন্দোলন, মিছিল-মিটিং হয় তাদের কর্মসূচী। তাই উদ্ভূত। ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে আম মানুষের মধ্যে অনুভূতি’ ও উপলব্ধি তৈরীতে তারা বড়ই। নিষ্ক্রিয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যে ঈমানের অঙ্গ এ হাদীস শরীফের শিক্ষার আলোও জনমনে ছড়াতে তারা অগ্রণী ভূমিকা। পালন করতে পারত। অথচ এই শিক্ষা গ্রহণ করেছে। বিধর্মীরা। সিঙ্গাপুরে কোন বাড়িতে যদি ময়লা জমে থাকে তবে গৃহ পরিদর্শকগণ পাঁচশত ডলার জরিমানা করেন। আল্লাহ্-এর সোহবত লাভে প্রত্যাশী। মূলতঃ আইনের সফলতার পূর্বে চাই সামাজিক সচেতনতা। আর মুসলিম দেশ হিসেবে এ সচেতনতা তৈরীর দায়িত্ব অর্পিত হয় আলেম সমাজের উপর। কিন্তু স্বার্থান্বেষী, কুপমন্ডুক, নামধারী আলেম সমাজই সেক্ষেত্রে অন্তরায়। আমরা তাই জীবনের সর্বস্তরে সফলতার জন্য, সুন্দর, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন লাভের ক্ষেত্রে হক্কানী-রব্বানী অলী।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়