মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ كَرَّمَ الله وَجْهَه عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْبَـعَةٌ اَنَا لَـهُمْ شَفِيْعٌ يَّـوْمَ الْقِيَامَةِ الْـمُكْرِمُ لـِذُرِّيَـتِـىْ وَالْقَاضِىْ لَـهُمْ حَوَائِجَهُمْ وَالسَّاعِىْ لَـهُمْ فِـىْ اُمُوْرِهِمْ عِنْدَ اضْطِرَارِهِمْ اِلَيْهِ وَالْمُحِبُّ لَـهُمْ بِقَلْبِهٖ وَلِسَانِهٖ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবীইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন চার শ্রেণীর লোকদের সুপারিশ করবো। হাক্বীক্বত দায়েমীভাবে আমি সুপারিশ করবো। সুবহানাল্লাহ!
এক. যাঁরা আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সম্মান করবে। সুবহানাল্লাহ!
দুই. যাঁরা আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মালী তথা আর্থিকভাবে খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিবে। সুবহানাল্লাহ!
তিন. যাঁরা আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে জান দিয়ে তথা শারিরিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিবে।
চার. যাঁরা আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অন্তরে মুহব্বত করবে এবং জবানে উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করবে। সুবহানাল্লাহ! (জামিউল আহাদীছ ৪/২২৯, জামউল জাওয়ামি’, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৭/১১, দায়লামী শরীফ)
উক্ত চার শ্রেণীর লোককে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই সুপারিশ করবেন। শুধু ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন তা নয়, বরং সবসময় ইহকাল পরকাল সবকালেই তিনি সুপারিশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা দিয়ে সবটাই বুঝা যায়। সেটা হচ্ছে, কাজী সাহেবদের যুগ। অনেক আগের ঘটনা, হাজার বছর আগের ঘটনা। তখন একজন আওলাদে রসূল মহিলা ছিলেন। উনার যিনি আহাল তিনিও আওলাদে রসূল। সন্তানরাও আওলাদে রসূল। এখন সেই মহিলা উনার যিনি আহাল তিনি অবস্থা সম্পন্ন ছিলেন। ব্যবসা- বাণিজ্য ছিলো, অনেক কিছু ছিলো উনার। তিনি হঠাৎ ইন্তেকাল করলেন। ইন্তেকাল করার কারণে যে টাকা পয়সাগুলো রেখে গিয়েছিলেন, সেই আওলাদে রসূল মহিলা তিনি খরচ করতেছিলেন। খরচ করতে করতে একসময় জমা টাকা-পয়সাগুলো শেষ হয়ে গেল। শেষ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক যেহেতু কোন ব্যবসা- বাণিজ্য নেই, আমদানী নেই। বেশ কয়েকদিন যাবৎ উনাদের আর্থিক সমস্যা চলছিলো। তখন সেই মহিলা আওলাদে রসূল তিনি চিন্তা করলেন তাহলে এখন কি করে সংসারটা পরিচালনা করা যাবে, একটা ফায়সালা করা দরকার। তখন কাজী সাহেবদের যুগ ছিলো। সেই মহিলা আওলাদে রসূল তিনি উনার আল-আওলাদ সবাইকে নিয়ে ঐ এলাকার যিনি কাজী সাহেব তার কাছে গেলেন। গিয়ে কাজী সাহেবকে বিষয়টা বুঝিয়ে বললেন যে এরকম ব্যাপার। আমরা তো আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমাদের অবস্থা ভালোই ছিলো। এই সন্তানদের যিনি পিতা তিনি তো মোটামুটি অবস্থাসম্পন্ন ছিলেন, অনেক টাকা পয়সা রেখে গিয়েছিলেন। অনেক দিন হয়ে গেছে আমরা সেটা খেতে খেতে শেষ হয়ে গেছে। পুরুষ না থাকার কারণে আমাদের সেই সচ্ছলতা এখন আর নেই। এখন আমাদের একটা ব্যবস্থা করা দরকার। অর্থাৎ উনাদের খাবারের ব্যাপার, থাকার ব্যাপার, কাপড়-চোপড়ের ব্যাপারে অর্থাৎ সার্বিক ব্যবস্থা কাজী সাহেবকে করতে হবে। কাজী সাহেব লোকটা একটু বেয়াকুফ ধরণের আর বখীল ধরণের ছিলো। সে আসলে না দেওয়ার জন্য বলল, আপনারা যে আওলাদে রসূল তার কোন নসবনামা আছে? এখন সেই মহিলা আওলাদে রসূল তিনি বললেন, নসবনামা নিয়ে কি কেউ ঘুরে। তাছাড়া নসবনামা তো সবসময় থাকেও না। তবে আমরা জানি আমরা আওলাদে রসূল, আমার সন্তানরাও আওলাদে রসূল। এখন আপনি একটা ব্যবস্থা করেন। তখন সেই কাজী বখীল লোকটা সে বলল, যদি আপনার নছবনামা না থেকে থাকে তাহলে আমার পক্ষে সাহায্য করা সম্ভব না। নাউযুবিল্লাহ! এটা বলে সে উনাদেরকে বিদায় করে দিলো। যখন বিদায় করে দিলো, সেই মহিলা আওলাদে রসূল তিনি চিন্তা করলেন এখন কোথায় যাওয়া যেতে পারে। যেহেতু কাজী সাহেবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এলাকা দেখা-শুনা করার জন্য, এখন দেখা-শুনা করারতো আর কেউ নাই। উনারা বের হয়ে একটা চৌরাস্তার মধ্যে গিয়ে দাড়াঁলেন। চিন্তা করলেন কোথায় যাবেন, ডানে বামে, সামনে পিছনে, কোন দিকে। সেই চৌরাস্তার পাশে একটা মজুসী সরদারের দোকান ছিলো। ব্যবসা করতো, মজুসী সরদার। মজুসী মানে অগ্নি উপাসক। সে চৌরাস্তায়ই তার একটা বড় দোকান ছিলো। সে সেই দোকানে বসা ছিলো। সে মজুসী সরদার দোকান থেকে লক্ষ্য করতেছিলো একজন পর্দানশীল মহিলা কয়েকজন বাচ্চা নিয়ে একবার রাস্তার ডানে যান, একবার বামে যান, সামনে পিছনে যান। ব্যাপারটা কি? কোন সমস্যা আছে কি না? অনেকক্ষণ লক্ষ্য করে সে নিজে দোকান থেকে বের হয়ে আসলো। এসে সেই আওলাদে রসূল উনাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনারা কোথাও যেতে চাচ্ছেন বা রাস্তা চিন্তে পারতেছেন না? কোন কিছু সংবাদ দিতে হবে। তখন সেই আওলাদে রসূল মহিলা তিনি বললেন, আপনি কে? তখন সেই মজুসী সরদার বলল, এই এলাকার যারা মজুসী তাদের আমি প্রধান। আমার এখানে দোকান আছে, ব্যবসা আছে। আমি বড় ব্যবসায়ী। তখন সেই মহিলা আওলাদে রসূল বললেন, আপনিতো মজুসী। আপনাকে বলে কি হবে? আপনিতো মুসলমান না। মুসলমান কাজী সাহেবের কাছে বলে কোন ফায়দা হয়নি আর আপনাকে বলে কি ফায়দা হবে? তখন সেই মজুসী সরদার বলল, আপনার পরিচয় কি? তিনি বললেন, আমরাতো আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ। আচ্ছা ঠিক আছে। সেই মজুসী বলল, আমিতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করি। উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আমি পড়েছি, উনার সম্পর্কে আমি জানি। তাহলে আপনি আমাকে বলেন আমি কোন খিদমত করতে পারি কি না? তখন সেই মহিলা আওলাদে রসূল তিনি বললেন, আসলে বিষয়টাতো এরকম না। বিষয় হচ্ছে যেহেতু এই সন্তান যারা উনাদের পিতা ছিলেন তিনিও আওলাদে রসূল, আমরা সবাই আওলাদে রসূল। এখন উনি বড় ব্যবসায়ী ছিলেন, আমরা অবস্থাসম্পন্ন ছিলাম। অনেক টাকা-পয়সা রেখে গিয়েছিলেন। তিনি ইন্তেকাল করেছেন অনেক দিন হয়ে গেছে। রেখে যাওয়া টাকাগুলো আস্তে আস্তে, খেতে খেতে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের থাকা খাওয়ার সমস্যা। সেজন্য কাজী সাহেবকে বলেছি কিন্তু কাজী সাহেব দুনিয়াদার হওয়ার কারণে সে বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি। নাউযুবিল্লাহ! তখন সেই মজুসী সরদার বলল, যে ঠিক আছে, আপনি যেহেতু আওলাদে রসূল। আপনার সন্তানরা আওলাদে রসূল। এক কাজ করেন আমার সাথে আসেন। ঐ যে আমার বাড়ী আছে, অনেক বড় বাড়ী। অনেক কামরা আছে আমার বাড়ীতে। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তবে সেখানে থাকতে পারবেন পর্দার সাথে। আপনার থাকা-খাওয়া, কাপড়-চোপড়, অন্যান্য খরচ আমি সব বহন করবো। তখন সেই মহিলা আওলাদে রসূল তিনি চিন্তা করলেন ব্যাপারটা কি, তাহলে দেখি। আপাতত একটা ব্যবস্থা হোক। অন্য কোন ব্যবস্থা করতে না পারায় আপাতত সেখানে যাওয়ার সম্মতি প্রকাশ করলেন। এবং তিনি সেই বাড়ীতে গেলেন। আসলে বাড়ীটা অনেক বড়, অনেক কামরা রয়েছে। মজুসী সরদারের আহলিয়া এবং মেয়ে যারা তারা অনেক বিনয়ী। তারা খুব তা’যীম করলো, তাকরীম করলো, সম্মান করলো, মুহব্বত প্রকাশ করলো। এবং উনাকে কয়েকটা কামরা আলাদা করে দিলো। তিনি বললেন, আপনারা এখানে থাকতে পারেন। কোন সমস্যা নেই থাকা-খাওয়া, উযূ-গোসল, ইস্তিঞ্জা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা আছে আলাদা। এবং মজুসী সরদার বলল, আপনারা এখানে থাকুন। আমার যতদিন হায়াত আছে অর্থাৎ আমি সবসময় আপনাদের খিদমতের আঞ্জাম দিবো। আপনাদের যা কিছু প্রয়োজন হয় বলবেন আমরা তা ব্যবস্থা করবো। সে তার আহলিয়া ও মেয়েদেরকে বলল, তারা যেন সার্বক্ষনিকভাবে উনাদের দেখা-শোনা করে। ফায়সালা হয়ে গেল, তিনি সেখানে থাকতে থাকলেন। সেই রাত্রে ঐ কাজী সাহেব স্বপ্নে দেখতেছে, সে দেখতেছে সে জান্নাতে গেছে। জান্নাতে গিয়ে দেখতেছে সেখানে অনেকগুলি বড় বড় বালাখানা তৈরী করা হচ্ছে। সেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও আছেন। সেই কাজী সাহেব জিজ্ঞাসা করতেছে এখানে কি করা হচ্ছে? এখানে বড় বড় জান্নাতী বালাখানা তৈরী করা হচ্ছে। কাদের জন্য? এটা মুসলমানদের জন্য। তখন কাজী সাহেব সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গেল। গিয়ে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মুসলমান, আমাকে একটা বালাখানা দান করুন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তুমি যে মুসলমান তোমার কোন দলীল আছে কি? সে বলল, আমিতো মুসলমান। তিনি বললেন, এ কথা বললে হবে না, দলীল পেশ করতে হবে। তোমার বাড়ীতে না আজকে আমার আওলাদরা গিয়েছিলেন, তোমাকে খিদমতের কথা বলেছিলেন। তুমি নসবনামা চেয়েছ, দলীল চেয়েছ। দলীল নাই এজন্য তুমি কোন সহযোগিতা করনি। তাহলে তোমার দলীল না থাকলে তোমাকে আমি কি করে জান্নাত দিবো। অর্থাৎ তুমি দলীল ছাড়া জান্নাত পাবে না। শক্ত করে যখন বললেন, তাকে বের করে দিলেন সেখান থেকে। না, তোমাকে বালাখানা দেয়া হবে না। সেতো ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তার ঘুমই ভেঙ্গে গেল। ঘুমের থেকে উঠে সে কাঁপতেছিল যে, বিষয়টাতো কঠিন অপরাধ হয়ে গেছে। এখন সে ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাযের পরে খঁুজতে লাগলো, সেই আওলাদে রসূল কোথায় গেছেন। সে খুঁজতে থাকলো। উনাদেরকে সে খঁুজতে লাগলো। অনেক খেঁাজা খঁুজির পরে জানতে পারলো এখানে যে মজুসী সরদার সে ব্যক্তি উনাদের ব্যবস্থা করেছেন। তখন সেই কাজী সাহেব গিয়ে মজুসী সরদারকে প্রস্তাব দিলো, উনাদেরকে আমার কাছে দিয়ে দিন। আমি খিদমত করবো। আপনাকে আমি এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা হাদিয়া করবো। মজুসী বললো কি হয়েছে? কেন খিদমত করবেন আপনি, কেন এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা হাদিয়া দিবেন? কাজী সাহেব বললো, আপনিতো মজুসী। আপনি কি করে খিদমত করবেন। আর আমিতো মুসলমান। তিনি বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, কিন্তু আপনিতো এটা জানেন না। কি হয়েছে? এই যে আমি উনাদেরকে যখন খিদমতের জন্য নিয়ে এসেছি। গত রাত্রে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বপ্ন মুবারকে আমাকেসহ, আমার পরিবারবর্গ সবাইকে উনার নিজ মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (হাত মুবারকে) বাইয়াত করায়ে মুসলমান বানিয়ে ঈমান দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু এতটুকু না, যে জান্নাতী বালাখানা থেকে আপনাকে বের করে দেয়া হয়েছে সেই জান্নাতী বালাখানা আমাদেরকে হাদিয়া করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! কাজেই আমিতো আপনার কাছে দিবো না। তখন কাজী সাহেব সেখান থেকে মাহরূম হয়ে ফেরত গেল। বলার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে বললেন সুপারিশ করবেন কিয়ামতের দিন। এখানেতো সুপারিশ করলেন।
এখানে ফিকিরের বিষয় যারা মুহব্বতের সাথে সম্মান করে মালী ও বদনী উভয়ভাবে খেদমত মুবারক করবে এবং উনাদের ছানা ছিফত মুবারক করবে অর্থাৎ মুহব্বত করবে ক্বলব দিয়ে আর ছানা ছিফত করবে যবান দিয়ে তাদের জন্য সুপারিশ ওয়াজিব। এটা শুধু কিয়ামতের ময়দানে নয় দুনিয়াতেও সুপারিশ করা হলো। সুবহানাল্লাহ! এই মজুসী সরদারকে জান্নাতি করা হলো। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাকে একা নয় তার আল আওলাদ, আহাল ইয়াল যারা খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন সবাইকে জান্নাতি করে দেয়া হলো। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই জিন-ইনসান বা কায়িনাতের যে কেউ হোক যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মান করবে, মালী তথা আর্থিকভাবে খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিবে, জান দিয়ে তথা দৈহিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিবে এবং উনাদেরকে অন্তরে মুহব্বত করবে এবং জবানে উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করবে তাদেরকে তিনি সুপারিশ মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!
অত্যন্ত আনন্দের ও খুশির বিষয় হচ্ছে, বর্তমান যামানার মহান মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূল ও সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! এখন উনাদের যদি আমরা হাক্বীক্বীভাবে অন্তর দিয়ে মুহব্বত করি, যবান দিয়ে ছানা-ছিফত মুবারক ও শুকরিয়া আদায় করতে পারি তবেই উক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হওয়া সহজ ও সম্ভব হবে, তবেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুপারিশ লাভ করা যাবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে কবুল করুন। আমীন!
-সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।