সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী

الذين يتبعون الرسول النبى الامى الذى يجدونه مكتوبا عندهم فى التورة والانجيل يامرهم بالمعروف وينههم عن المنكر ويحل لهم الطيبت ويحرم عليهم الخبئث ويضع عنهم اصرهم والاغلل التى كانت عليهم.

অর্থঃ- “যারা এমন রসূলের অনুসরণ করে, যিনি হচ্ছেন উম্মি নবী (নবীগণের মূল) যার সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়। তিনি সৎ কাজের আদেশ দান করেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন। আর পবিত্র বস্তু গুলোকে হালাল ঘোষণা করেন এবং অপবিত্র বস্তু গুলোকে তাদের জন্য হারাম করে দেন এবং তাদের উপর থেকে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল।” (সূরা আ’রাফ/১৫৭)

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন ‘উম্মি নবী’ তথা নবীগণের মূল। তাঁকে এ পৃথিবীতে পাঠানোর পূর্বেই আল্লাহ্ পাক আকাশকে গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত করেন। জমিনের সৌন্দর্য বর্ধন করেন জ্বীন-ইনসান পশু পাখি, তরু-লতা, ফুল-ফল ইত্যাদি নানা উপকরণ দ্বারা। এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দু’লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণকে পাঠিয়েছেন দুনিয়াবাসী সবাইকে অবহিত করার জন্য যে, অতিশীঘ্রই আখিরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নাবিয়্যূল উম্মি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে তাশরীফ আনছেন। আর এ বিষয়কে আরো হৃদয়গ্রাহী ও গুরুত্ব দানের জন্য পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাবে সন্নিবেশিত করেছেন তাঁর আলোচনা এবং মহান গুণাবলী।

          উল্লেখ্য যে, প্রেমিক চায় প্রেমাস্পদকে খুশি করার জন্যে। আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সন্তুষ্ট করার জন্যই সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম স্ব-স্ব উম্মতগণ-এর নিকট তাঁর মহান আলোচনাকে সমুন্নত রেখেছেন।

          হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম তদ্বীয় উম্মতকে মহানবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণের সুসংবাদ এবং তাঁর যাবতীয় গুণাবলীর বর্ণনা দিয়েছেন। যা আল্লাহ্ পাক কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেন এভাবে- “স্মরণ কর; যখন মরিয়ম আলাইহাস্ সালাম তন্ময় হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম বললেন, “হে বণি ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ্ পাক-এর প্রেরিত রসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়ণকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদ দাতা, যিনি আমার পরে আগমণ করবেন তাঁর নাম হবে আহমদ।” (সূরা আছ্ছফ/৬)

          তাওরাতে বর্ণিত আছে, “তিনি হচ্ছেন মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ। তাঁর জন্ম হবে মক্কা শরীফে এবং হিজরত করবেন তাইবা’র দিকে। আর তাঁর দেশ হবে সিরিয়া। তিনি কঠোর মেজাজের হবেন না, কঠোর ভাষায় তিনি কথাও বলবেন না, হাটে-বাজারে তিনি হট্টগোলও করবেন না। তিনি অশ্লীলতা থেকে দুরে থাকবেন।” (দালায়িলুন্ নুবুওয়াত, তাফসীরে মাযহারী)

          ইমাম বাগভী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজ সনদে কা’আ আহবার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, তাওরাতে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এরূপ লিখা আছে যে, “মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ও  মনোনীত বান্দা। তিনি না কঠোর মেজাজের লোক, না অনর্থক বক্তা। তিনি হাটে বাজারে হট্টগোল করার লোক নন। তিনি মন্দের প্রতিদান মন্দ দ্বারা গ্রহণ করেন না; বরং ক্ষমা করে দেন এবং ছেড়ে দেন। তাঁর জন্ম হবে মক্কা শরীফে। আর হিজরত হবে তাইবায়, তাঁর দেশ হবে শাম (সিরিয়া) তাঁর উম্মত হবে “হাম্মাদীন”। অর্থাৎ আনন্দ বেদনা, সুখে-দুঃখে উভয় অবস্থাতেই আল্লাহ্ পাক-এর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কারী।” (তাফসীরে মাযহারী)

হযরত সাহাল মাওলা খাইসামা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নিজেই ইঞ্জিলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুণ- বৈশিষ্ট্য সমূহ পড়েছি যে, “তিনি খুব খাঁটোও হবেন না আবার খুব লম্বাও হবেন না। উজ্জ্বল বর্ণ ও দুটি কেশ গুচ্ছধারী হবেন। তাঁর দু’কাধের মধ্যস্থলে “মহরে নবুওয়াত” থাকবে। তিনি সদকা গ্রহণ করবেন না। গাধা ও উটের উপর সাওয়ার হবেন। ছাগলের দুধ নিজেই দোহন করে নিবেন। তালি লাগানো জামা পরবেন। আর যারা এমন করেন তারা অহংকার মুক্ত হয়ে থাকেন। তিনি ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম-এর বংশধর হবেন। তাঁর নাম হবে আহমদ।”

          ইমাম বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইত্যকার বর্ণনা তার বিশ্ব বিখ্যাত “দালায়িলুন্ নবুওওয়াত” কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

          আল্লাহ্ পাক হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম-এর প্রতি ওহী করেন যে, “হে দাউদ! (আলাইহিস্ সালাম) আপনার পরে একজন নবী আসবেন যার নাম হবে “আহমদ”। আমি তাঁর প্রতি কখনো অসন্তুষ্ট হবো না এবং তিনি কখনও আমার নাফরমানী করবেন না। আমি তাঁর পূর্বের-পরের সকল গুণাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছি। তাঁর উম্মত হলো দয়াকৃত উম্মত (উম্মতে মরহুমাহ্)।

          আমি তাদেরকে সে নফল বিষয় দান করেছি, যা পূর্ববর্তী নবীগণকে দিয়েছিলাম এবং তাদের উপর সে সব ফরয আরোপ করেছি যা পূর্ববর্তী নবী আলাইহিমুস্ সালামগণের প্রতি অপরিহার্য্য করেছিলাম। এমনকি তাঁরা হাশ্রের দিন আমার সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তাঁদের নূর আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণের নূরের মত। হে দাউদ আলাইহিস্ সালাম! আমি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর উম্মতকে সমস্ত উম্মত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (তাফসীরে রুহুল মা’আনী)

          ইবনে সাদ মুহম্মদ ইবনে কাব হতে রিওয়ায়েত করেন, আল্লাহ্ পাক হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট এই মর্মে ওহী পাঠান যে, “আমি আপনার সন্তানদের মধ্যে এমন নবী প্রেরণ করবো, যিনি খতামুন্নাবিয়্যীন এবং যাঁর নাম হবে “আহমদ”। তাঁর উম্মতগণ বাইতুল মোকাদ্দাসের প্রাসাদরাজী পূনঃ নির্মাণ করবেন।” (খাসায়েসুল কুবরা)

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে