সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সংখ্যা: ১০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ মিজানুর রহমান খান লুটন, ইউ.কে।

 সুওয়ালঃ  “ঈদে মীলাদুন্নবী পরিভাষা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম।” জনৈক ব্যক্তির এ বক্তব্য কতটুকু কুরআন-সুন্নাহ সম্মত? দয়া করে জানাবেন।  জাওয়াবঃ উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ্র খিলাফ এবং মনগড়া উক্তি বৈ কিছুই নয়। কারণ “ঈদে মীলাদুন্ নবী” পরিভাষা ব্যবহার করা হারাম তো নয়ই বরং তা জায়িয ও শরীয়ত সম্মত। শরীয়তে হালাল-হারাম সব স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। নতুন করে কোন কিছু হালাল কিংবা হারাম হয় না। এবং এটাও বলে দেয়া হয়েছে, যে বিষয়টি হালাল তা হারাম করা কারো জন্য জায়িয নেই।       আল্লাহ্ পাক বলেন,

لاتحرموا طيبت ما احل الله لكم.

অর্থ : “তোমরা হারাম কারোনা যা আল্লাহ্ পাক তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন।” (সূরা মায়িদা/৮৭)

الحلال بين والحرام بين.

 অর্থ : “হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট।” (বুখারী শরীফ)

উল্লিখিত ব্যক্তির বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে যে, সে কুরআন-সুন্নাহর ইল্ম সম্পর্কে এতই অজ্ঞ যে, হালাল-হারাম, জায়িয-নাজায়িয ইত্যাদি ইসলামী শরীয়ত উনার মৌলিক বিষয় সম্পর্কে তার যথেষ্ট জ্ঞানের অভাব রয়েছে। নচেৎ তার জানা উচিত ছিল যে, কোন বিষয় হারাম হওয়ার জন্য কুরআন-সুন্নাহ্র স্পষ্ট নছ (দলীল) থাকা বাঞ্ছনীয়। যদি  স্পষ্ট কোন দলীল পাওয়া না যায়, যে বিষয়টি হারাম অথবা হালাল তাহলে সেটি মুবাহ্র অন্তর্ভূক্ত হবে।        শরীয়তে উছূল বর্ণিত রয়েছে,

اصل الشئ الاباحة.

অর্থ : “বস্তুর মূল হলো মুবাহ্।”    আর মুবাহ্ জিনিষটি এমন সাধারণত তা করা বা ব্যবহারে ছওয়াব ও গুণাহ্ কোনটিই নেই। কিন্তু তা যদি নেক কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে করা হয় বা ব্যবহার করা হয় তবে তাতে নেকী বা ছওয়াব রয়েছে। যেমন দ্বীনি বা নেক কাজে ঘড়ি, মাইক ইত্যাদি ব্যবহার করা। আর ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ কাজে ব্যবহার করলে ছওয়াবের পরিবর্তে গুণাহ্ হবে। কাজেই কেউ কোন বিষয়কে হারাম বললেই তা হারাম হয়ে যায়না। বরং কেউ যদি কোন বিষয়কে হারাম সাব্যস্ত করতে চায় তবে তাকে কুরআন ও সুন্নাহ্র স্পষ্ট দলীল পেশ করতে হবে। অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহ্র দলীলের দ্বারা হারাম সাব্যস্ত করতে হবে। অন্যথায় তা কস্মিনকালেও হারাম হবেনা। এখন মূল কথার জবাবে আসা যাক। “ঈদে মীলাদুন্ নবী” পরিভাষা ব্যবহার করা প্রসঙ্গে।   উল্লেখ থাকে যে, শব্দের সাধারণত দু’টি অর্থ থাকে। একটি অভিধানগত অন্যটি পরিভাষাগত।  ‘ঈদে মীলাদুন্ নবী’-এর অর্থ    আভিধানিক অর্থে ‘ঈদ’ অর্থ খুশী, ‘মীলাদ’ অর্থ জন্মের সময়, ‘নবী’ অর্থ যিনি অদৃশ্যের সংবাদ দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ “ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”-এর জন্মের সময়  বা দিনে খুশি প্রকাশ করা।    পারিভাষিক অর্থঃ আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফ দিবস উপলক্ষ্যে তাঁর জীবনী মুবারক আলোচনা করা, তাঁর প্রতি ছলাত-সালাম প্রেরণ, অতঃপর মুনাজাতান্তে উপস্থিত লোকদের মধ্যে তবাররুক বন্টন ইত্যাদি নেক কাজের মাধ্যমে খুশী প্রকাশ করা।       নবীর জন্ম দিবস উপলক্ষ্যে খুশী প্রকাশ করা সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম-এর বক্তব্যকে উপস্থাপন করতঃ ইরশাদ করেন,

والسلام على يوم ولد ت.

অর্থ : “হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম বলেন, আমি যেদিন জন্মগ্রহণ করেছি সেদিন আমার প্রতি সালাম প্রেরণ করা হয়েছে।” (সূরা মরিয়ম/৩৩)     তাহলে যে নবীর উম্মত হওয়া বা উম্মতের বুযুর্গী-সম্মান হাছিল করার জন্য হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম পুনরায় যমীনে আগমন করবেন এবং যিনি নবী গণের নবী, রসূলগণের রসূল সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মীলাদ বা বিলাদতের দিন বা সেই উপলক্ষ্যে তাঁর ছানা-ছীফত করা এবং ছলাত-সালাম পাঠের মাধ্যমে খুশী প্রকাশ করার মাসয়ালা কি হবে? কুরআন-সুন্নাহ্ সম্মত হবে? না তার খিলাফ হবে?      বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, তা নিঃসন্দেহে কুরআন ও সুন্নাহ্ সম্মতই হবে এবং তা রহমত, বরকত ও ছাকীনা লাভের কারণ। এক কথায় আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি-রেযামন্দী হাছিলের উছীলা বা মাধ্যম।  কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ফিক্বাহ, ফতওয়া, তারীখ ইত্যাদি সকল কিতাবাদিতে “ঈদে মীলাদুন্ নবী” পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। ইসলামী শরীয়ত উনার তৃতীয় ও চতুর্থ দলীল ইজ্মা ও ক্বিয়াস দ্বারা “ঈদে মীলাদুন্নবী ছলাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”-এর পরিভাষাটি প্রবর্তিত হয়েছে। ইমাম-মুজতাহিদগণ এর প্রবর্তণ করেছেন।        সুতরাং “ঈদে মীলাদুন্ নবী” পরিভাষা ব্যবহার করা কুরআন-সুন্নাহ সম্মত।”

উল্লেখ্য, “মীলাদুন্ নবী” পরিভাষা ব্যবহার করার ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত কিংবা মতবিরোধ নেই। কারণ আরবী ভাষায় “মীলাদ” (জন্মের সময়) শব্দটি “বিলাদত” (জন্ম) শব্দ হতে উদ্ভূত হয়েছে। আর “নবী” শব্দটিও আরবী। তাই একত্রে “মীলাদুন্ নবী” শব্দদ্বয়ের অর্থ “নবীর জন্মের সময়।” অর্থাৎ নবীর জন্মের সময়কে আরবী ভাষায় “মীলাদুন্ নবী” বলা হয়। সুতরাং তা ব্যবহার করা অবশ্যই জায়িয।   তবে “মীলাদুন্ নবী”-এর পূর্বে “ঈদ” শব্দটি ব্যবহার করা জায়িয কিনা?  এ প্রশ্নের জাওয়াব হলো যে, হ্যাঁ, মীলাদুন্ নবী শব্দের পূর্বে ঈদ শব্দ ব্যবহার করা জায়িয বরং সুন্নত।  যার প্রমাণ আমরা হাদীস শরীফে দেখতে পাই। যেমন হাদীস শরীফে আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমুয়ার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, “এ দিনে আল্লাহ্ পাক উনার প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস্ সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাঁকে বেহেশ্ত থেকে যমীনে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁকে ওফাত দান করা হয়েছে।” ইত্যাদি কারণে জুমুয়ার দিনকে কেবল ঈদের দিন হিসেবেই উল্লেখ করা হয়নি। বরং ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আদ্বহা হতে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত দিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেমন, হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن  ابى ليلة بن عبد المنذر قال قال النبى صلى الله عليه وسلم ان يوم الجمعة سيد الايام واعظمها عند الله وهو اعظم عند الله من يوم الاضحى ويوم الفطر فيه خمس خلال خلق الله فيه ادم واهبط الله فيه ادم الى الارض وفيه توفى الله ادم وفيه ساعة لايسأل العبد فيها شيشا الا اعطاه ما لايسأل حرام وفيه تقوم الشاعة ما من ملك مقرب ولا سماء ولا ارض ولا رياح وا جبال ولا بحر الا هو مشفق من يوم الحمعة.

 অর্থ : “হযরত আবূ লায়লা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জুমুয়ার দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ্ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। এটি ঈদুল আদ্বহার দিন ও ঈদুল ফিত্রের দিন অপেক্ষাও আল্লাহ্ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত।

এ দিনটিতে পাঁচটি (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয় রয়েছে, (১) এ দিনে আল্লাহ্ পাক হযরত আদম আলাইহিস্ সালামকে সৃষ্টি করেছেন, (২) এ দিনে তাঁকে যমীনে প্রেরণ করেছেন, (৩) এ দিনে তাঁকে ওফাত দান করেছেন, (৪) এ দিনটিতে এমন একটি সময় রয়েছে যে সময়টিতে বান্দা আল্লাহ্ পাক উনার নিকট কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন যে পর্যন্ত না সে হারাম কিছু চায় এবং (৫) এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোন ফেরেশ্তা নেই, আসমান নেই, যমীন নেই, বাতাস নেই, পাহাড় নেই, সমুদ্র নেই, যে জুমুয়ার দিন সম্পর্কে ভীত নয়।”     (ইবনে মাযাহ্, মিশকাত, শরহে ইবনে মাযাহ্, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, ত্বালিকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, মিরয়াতুল মানাজীহ্ ইত্যাদি)        জুমুয়ার দিনের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে স্বয়ং আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমুয়ার দিনকে ঈদের দিন বলে বর্ণনা করেছেন।    এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে,

عن عبيد بن السباق مرسلا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فى جمعة من الجمع يا معشر المسلمين ان هذا يوم جعله الله عيدا.

অর্থ : “হযরত ওবায়েদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জুমুয়ার দিনে বলেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন যাকে আল্লাহ্ পাক ঈদ স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন।”        (ইবনে মাযাহ্, মুয়াত্তা মালিক, মিশকাত, শরহে ইবনে মাযাহ্, মুসাওওয়া, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, ত্বালিকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, মিরয়াতুল মানাজীহ্ ইত্যাদি) হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه انه قرأ اليوم اكملت لكم دينكم الاية وعتده يهورى فقال لونزلت هذه الابة عليها لاتخذناها عيدا فقال ابن عباس فانها نزلت فى يوم عيدين فى يوم جمعة ويمم عرفة.

  অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা

اليوم اكملت لكم دينكم الاية.

 “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম” এ আয়াত শরীফটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন তাঁর নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, “যদি এই আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে “ঈদ” বলে ঘোষণা করতাম।” এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল- (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন।” (তিরমিযী)

হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,

عن طارق بن شهاب قالت اليهود لعمر انكم تقرئون اية لونزلت فينا لاتخذناها عيدا فقال عمر انى لاعلم حيث انزلت واين انزلت واين رسول الله صلى الله عليه وسلم حين انزلت يوم عرفة وانا والله بعرفة.

 অর্থ : “হযরত তারিক বিন শিহাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, ইহুদীরা হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বললো যে, আপনারা এমন একটি আয়াত শরীফ পাঠ করেন যদি তা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা অবশ্যই উক্ত আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। তখন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি নিশ্চিতরূপে জানি যে, উক্ত আয়াত শরীফ কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে। এবং আরাফার দিন এ আয়াত শরীফ যখন নাযিল হয় তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথায় অবস্থান করছিলেন। আল্লাহ্ পাক উনার কছম! নিশ্চয়ই সেদিনটি ছিল আরাফার দিন।” (ইবনে মাযাহ্)     অতএব, কুরআন-সুন্নাহ সম্মত কোন বিষয়কে হারাম বলে অভিহিত করা বা ফতওয়া দেয়া স্পষ্ট কুফরীর অর্ন্তভূক্ত। {দলীলসমূহ ঃ (১)  আহকামুল কুরআন জাস্সাস, (২) রুহুল মায়ানী, (৩) রুহুল বয়ান, (৪) কুরতুবী, (৫) কবীর, (৬) তাবারী, (৭) যাদুল মাছীর, (৮) মাযহারী, (৯) ইবনে কাছীর, (১০) খাযেন, (১১) বাগবী, (১২) দুররুল মনছূর, (১৩) ইবনে আব্বাস, (১৪) বুখারী, (১৫) ইবনে মাযাহ্, (১৬) মুয়াত্তা মালিক, (১৭) মিশকাত, (১৮) ফতহুল বারী, (১৯) উমদাতুল ক্বারী, (২০) ফয়জুল বারী, (২১) ইরশাদুস্ সারী, (২২) শরহে কিরমানী, (২৩) মিরকাত, (২৪) আশয়াতুল লুময়াত, (২৫) লুময়াত, (২৬) শরহুত্ ত্বীবী, (২৭) তালিকুছ্ ছবীহ্, (২৮) মুযাহিরে হক্ব, (২৯) কিতাবুত্ তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান্ নাযীর, (৩০) সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা, (৩১) মাওলুদুল কবীর, (৩২) দুররুল মুনাজ্জাম, (৩৪) নুরুল আনোয়ার, (৩৫) উছূলুশ্ শাশী ইত্যাদি।}

 সাইয়্যিদ মুহম্মদ মোক্তাদুল ইসলাম (মিলন)

রঈসুল মজলিশ- ছাত্র আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত সুবহানীঘাট, সিলেট।

সুওয়ালঃ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র ডিসেম্বর/২০০০ঈঃ সংখ্যায় “তাফসীরে রুহুল বয়ান, বুখারী, গুনিয়াতুত তালেবীন, রেজভীয়া” কিতাবের বরাত দিয়ে বলেছে, “সহীহ্ মুসলিম শরীফসহ” অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাবে নফল নামায বিশেষতঃ ক্বদর ও বরাতের নফল নামায জামাত সহকারে আদায় করা বৈধ….।”  আর আপনারা “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” লিখেছেন, “তারাবীহ, ছলাতুল কুছুফ (সূর্য গ্রহণের নামায), ছলাতুল ইস্তিস্কা (বৃষ্টির নামায) এই তিন প্রকার নামায ব্যতীত যেমন লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাত, তাহাজ্জুদ, চাশ্ত, আওয়াবীন ইত্যাদি নফল নামায সমূহ ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদীসহ জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্।”  কোনটি সঠিক?    আর “বুখারী, মুসলিম শরীফে” কি “ক্বদর” ও বরাতের” নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করার কথা উল্লেখ আছে? দয়া করে জানাবেন। জাওয়াবঃ রেযাখানীরা তাদের মুখপত্রে “তাফসীরে রুহুল বয়ান, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, গুনিয়াতুত্ তালেবীন এবং রেজভীয়া” কিতাবের বরাত দিয়ে নফল নামায বিশেষতঃ “শবে বরাত”, “শবে ক্বদরের” নফল নামায আযান-ইক্বামত ছাড়া জামায়াত সহকারে আদায় করা যে বৈধ বলেছে, তা আমরা আমাদের “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর বিগত সংখ্যাগুলোতে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে প্রমাণ করেছি যে, “তাদের বক্তব্য সম্পূণই ভুল, জিহালতপূর্ণ, জালিয়াতী ও প্রতারণামূলক।”   কেননা, রেযাখানীরা কিতাবের নাম দিয়ে যে বক্তব্য প্রদান করেছে, আসলে উক্ত কিতাবসমূহের বক্তব্য সে রকম নয়। বরং তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, তারা কিতাবের ইবারত, সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে মনগড়া বক্তব্য প্রদান করেছে এবং ক্ষেত্র বিশেষ নিজের ভ্রান্ত মতকে টিকিয়ে রাখতে কিতাবের ইবারত কারচুপি করেছে। (ধারাবাহিক) বর্তমান সংখ্যায় রেযা খাঁর ইবারত  কারচুপির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলো   আমরা নির্ভরযোগ্য বিশ্বখ্যাত, ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবের উদ্বৃতি দিয়ে দলীলের মাধ্যমে রেযাখানীদের বক্তব্য খন্ডন করে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের উক্ত খন্ডনের জবাবে রেযাখানীরা কিছুই লিখতে পারেনি। অপারগ হয়ে পরিশেষে রেযাখানীরা গালি-গালাজ শুরু করেছে। আর এর কারণ হচ্ছে একটাই তা হলো-

اذا يئس الانسان طال لسانه.

 অর্থ : “মানুষ যখন নিরাশ হয় তখন তার জিহ্বা লম্বা হয়।” অর্থাৎ সে তখন গালি-গালাজ করে।   উল্লেখ্য, পরিশেষে রেযাখানীরা বলেছে, “কোন কোন ভন্ড ও প্রতারক ফতোয়ায়ে রেজভীয়ার এসব উদ্বৃতি চুরি করে কোন কোন ফক্বীহ’র মতামতকে পুঁজি করে ঢালাও ভাবে মাকরূহে তাহরীমার গরম গরম ফতোয়া দিয়ে হযরত পীরানে পীর দস্তগীর আব্দুল কাদের জিলানী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ অনেক মাশায়েখে কেরামের উপর মাকরূহে তাহরীমার অপবাদ দিয়ে নিজের খ্যাতি চমকানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে হুশিয়ার-সাবধান!” এর জবাবে বলতে হয় যে, “রেজভীয়া” কিতাবের লিখক রেযা খাঁ-ই চরম ভন্ড ও চরম প্রতারক। কারণ রেযা খাঁ-ই তার “রেজভীয়া” কিতাবে

… یہ کر اھت صرف تنزیھی … رد المحتار میں ھے فی الحلیۃ الظاھد ان الجما عۃ فیہ غیر مستحبۃ…..

          এসব উদ্বৃতি দিয়ে তার ভ্রান্ত মতকে ছাবেত করার উদ্দেশ্যে “রদ্দুল মুহতারে” বর্ণিত বিত্র নামাযের বর্ণনাকে শবে বরাত, শবে ক্বদর, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি নামাযের ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে বর্ণনা করে চরম প্রতারণা করেছে। দ্বিতীয়তঃ “রেজভীয়া” কিতাবের লিখক রেযা খাঁ-ই তার রেজভীয়া কিতাবে

…. یہ کراھت صرف تنزیھی … رد المحتار میں ھے فی الحلیۃ الظا ھر ان الجما عۃ فیہ غیر مستحبۃ…..

          এসব উদ্বৃতি দিয়ে “রদ্দুল মুহতারের” বর্ণিত বিত্র নামায জামায়াতে আদায় করা সম্পর্কিত ইবারতগুলো চুরি করেছে।         যেমন, রেযা খাঁ তার “রেজভীয়া” কিতাবে “রদ্দুল মুহতারের” উদ্ধৃতি দিয়ে এভাবে ইবারত উল্লেখ করেছে,

فى الحلية الظاهران الجماعة فيه غير مستحبة………………..

          অথচ মুল “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের ২য় খন্ডের ৪৮ পৃষ্ঠায় এভাবে ইবারত উল্লেখ আছে,

فى الحلية بما اخرجة الطحاوى عن المسوربن مخرمة قال دفنا ابابكر رضى الله تعالى عنه ليلا فقال عمر رضى الله تعالى عنه انى لم أوتر فقام وصفنا وراءه فصلى بنا ثلاث ركعات م يسلم الافى اخرهن ثم قال ويمكن ان يقال الظاهر ان الجماعة فيه غير مستحبة …….

  অর্থাৎ- “হিলইয়া কিতাবে উল্লেখ আছে, যেটা ইমাম ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন- আমরা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে রাত্রে দাফন করলাম। অতঃপর হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি (এখনও) বিত্র নামায পড়িনি। অতঃপর তিনি (অর্থাৎ হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিত্র নামায পড়ার জন্য) দাঁড়ালেন এবং আমরাও তাঁর পিছনে কাতার করে দাঁড়ালাম। এরপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে তিন রাকায়াত বিত্র নামায পড়ে শেষে সালাম ফিরালেন। প্রকাশ থাকে যে, নিশ্চয়ই বিত্র নামায জামায়াতে পড়া মুস্তাহাব নয়।” উপরোক্ত বর্ণনা থেকে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হিলইয়া কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে “হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর দাফনের রাত্রিতে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বিত্র নামায জামায়াতে আদায় করা” সম্পর্কিত ইবারত গুলো উল্লেখ না করে রেযা খাঁ ইবারতের মাঝখান থেকে

بما اخرجه الطحاوى عن المسور بن مخرمة قال دفنا ابا بكر رضى الله تعالى عنه ليلا فقال عمر رضى الله تعالى عنه انى لم أوتر فقام وصفنا وراءه فصلى بنا ثلاث ركعات لم يسلم الافى اخرهن ثم قال ويمكن ان يقال.

 এই ইবারতগুলো চুরি করেছে।

তৃতীয়তঃ এরপর রেযা খাঁ তার “রেজভীয়া” কিতাবে এভাবে ইবারত উল্লেখ করেছে,

……….يه كراهت صرف تنزيهى ………ثم ان كان ذلك احيانا كان مباحا غير مكرو ………….

          অথচ মূল “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের ২য় খন্ডের ৪৮ পৃষ্ঠায় এভাবে ইবারত উল্লেখ আছে,

………. ثم ان كان ذلك احيانا كما فعل عمر كان مباحا غير مكروه…………

অর্থাৎ- “অতঃপর যদি এই বিত্র নামায (রমযান মাস ব্যতীত) অন্য সময় কখন জামায়াতের সাথে আদায় করে যেমন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু করেছেন (অর্থাৎ যেমন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর দাফনের রাত্রিতে বিত্র নামায জামায়াতের সাথে পড়েছেন) তা মুবাহ, মাকরূহ তাহরীমী নয়।” উপরোক্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো, রেযা খাঁ ইবারতের মাঝখান থেকে كما فعل عمر. এই ইবারতটি চুরি করেছে।

চতুর্থতঃ এরপর রেযা খাঁ তার “রেজভীয়া” কিতাবে এভাবে ইবারত উল্লেখ করেছে,

……. بان الوتر نفل من وجه والنفل بالجماعة غير مستحب ……

          অথচ মূল “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের ২য় খন্ডের ৪৯ পৃষ্ঠায় এভাবে ইবারত উল্লেখ আছে,

بأن الوتر نفل من وجه حتى وجبت القراءة فى جميعها وتؤدى بغير اذان واقامة والنفل بالجماعة غير مستحب …..

 অর্থাৎ- “নিশ্চয়ই বিত্র নামাযও নফল কারণ এই যে, এর প্রত্যেক রাকায়াতে ক্বিরয়াত পড়া ওয়াজিব এবং আযান ও ইক্বামত ছাড়া আদায় করা হয়। সুতরাং রমযান মাস ব্যতীত নফল অর্থাৎ বিত্র নামায জামায়াতে আদায় করা মুস্তাহাব নয়।”   উক্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো, রেযা খাঁ ইবারতের মাঝখানে

حتى وحبت القراءة فى حميعها وتؤدى بغير أذان واقامة

এই ইবারতটি চুরি করেছে। উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হলো যে, “রেজভীয়া” কিতাবের লিখক রেযা খাঁই চরম ভন্ড,  প্রতারক ও বড় চোর। কারণ রেযা খাঁ তার ভ্রান্ত মতকে ছাবেত কারার উদ্দেশ্যে বিত্র নামাযের বর্ণনাকে শবে বরাত শবে ক্বদর ইত্যাদি নফলের সাথে মিলিয়ে দিয়ে “রদ্দুল মুহতারে” বর্ণিত ইবারতের মাঝখান থেকে বিত্র নামায জামায়াতে আদায় করা সম্পর্কিত ইবারতগুলো চুরি করেছে। (চলবে)

 মাওলানা মুহম্মদ মুহসিনুর রহমান

মাওলানা মুহম্মদ মাছূম বিল্লাহ্

মুহম্মদ আসাদুর রহমান,

মুহম্মদ মাইজুর রহমান ভোলহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ।

সুওয়ালঃ  আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম এই তিনটি সংখ্যায় প্রদত্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ, মুহাক্কিক-মুদাক্কিক ও হক্কানী উলামা-ই-কিরামগণের ফতওয়া মুতাবিক জানতে পারলাম যে, “প্রাণীর ছবি তৈরী করা, ঘরে রাখা সর্বাবস্থায় হারাম।”

অথচ রেযাখানী মুখপত্র নভেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় ছবি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ফতওয়া প্রকাশ করেছে। যা কিনা মানুষের ঈমান-আমল বিনষ্ট করবে নিশ্চিতরূপে। রেযাখানীদের ছবি সম্পর্কিত বক্তব্যের যে বিষয়গুলো আপত্তিকর সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো- (ক) রেযাখানীরা ছবি তোলাকে বৈধ বলেছে; কিন্তু দলীল হিসেবে পেশ করেছে ঘরে ছবি রাখা সম্পর্কিত হাদীসসমূহকে। (খ) .. কতেক উলামা যেসব ছবির শরীর ও ছায়া নেই সেসব ছবিকে বৈধ বলেছেন।   (গ) হুযূর আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরুর দিকে ছবি তৈরী করা ও সংরক্ষণ করাকে নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে অনুমতি দেন।  (ঘ) পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ এবং হাম্বলী, শাফেয়ী, মালেকী এমনকি হানাফীদেরও কেউ কেউ নাকি (গায়রে মুজাস্সাম) শরীরবিহীন ছবিকে বৈধ বলেছেন।  (ঙ) সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে বিশেষ প্রয়োজনে ছবি তোলা বৈধ যা যুগের চাহিদাও।  (চ) প্রত্যেক যুগের ফক্বীহ্, মুফতী, কাজী ও আলিমগণ যুগের চাহিদা অনুযায়ী ফতওয়া দিয়েছেন এবং দেয়া উচিত।  (ছ) ছবি হারাম হওয়ার মূলে হলো গায়রুল্লাহ্র সম্মান ও ইবাদত।  (জ) প্রয়োজনীয় রেকর্ডের জন্য ফাইল বন্দি ছবিসমূহ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট জ্ঞান ও ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য জানার নিমিত্তে সরকারী-বেসরকারী যাদুঘর বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানসমূহে পূর্বের নানা মনীষীগণের ছবি সংরক্ষণ/ধারণ করে রাখা বিশেষ প্রয়োজনে মাকরূহ্ হবেনা।  এছাড়াও আরো বহু আপত্তিকর বিষয় তাদের উক্ত ছবি সম্পর্কিত বক্তব্যে স্থান পেয়েছে। কুরআন-সুন্নাহ্, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে তাদের উল্লিখিত আপত্তিকর বক্তব্যগুলোর শরয়ী ফায়সালা কামনা করি।

জাওয়াবঃ  আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্, নুরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রেযাখানীদের ন্যায় এরূপ লোকদের সম্পর্কেই ইরশাদ করেন,

عن ابى هريرة قال قال رسو اله صلى الله عيه وسلم يكون فى اخر الزمان ججالون كذابون يأتونكم من الاحاديث بما لم تسمعوا انتم ولا اباشكم فاياكم واياهم لايصلونكم ولا يفتنونكم.

  অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমনসব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ্ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবেনা।” (মুসলিম শরীফ)

উল্লিখিত হাদীস শরীফের পূর্ণ মেছদাক বা নমুনা হচ্ছে রেযাখানীরা। তারা ছবির ব্যাপারে এমন সব বক্তব্য প্রদান করেছে যা কিতাবে দেখা তো দূরের কথা কেউ কোন দিন শুনেও নাই। মূলতঃ রেযাখানীরা নিজেদেরকৃত বদ আমলকে ধামা-চাপা দেয়ার উদ্দেশ্যেই মনগড়াভাবে ছবিকে জায়িয করার অপচেষ্টা করেছে। যেমনটি করেছিলো, “ছানী আযান, তাহাজ্জুদের জামায়াত, বাইয়াত হওয়া, দুই সিজদার মাঝখানে পূর্ণ দোয়া পড়া, ধুমপান” ইত্যাদি বিষয়গুলোকে নিয়ে। কিন্তু মাসিক আল বাইয়্যিনাত তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র আর অপতৎপরতাকে নির্ভরযোগ্য দলীলের দ্বারা ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ্ তাদের ছবিকে জায়িয করার সকল ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতাকেও ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হবে।             রেযাখানীরা ছবি জায়িয করার উদ্দেশ্যে যে সকল মনগড়া, বানোয়াট, জালিয়াতিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছে তা ধারাবাহিকভাবে পর্যায়ক্রমে খন্ডন করার পূর্বে ছবি হারাম হওয়ার দলীলগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হলো-

 (ধারাবাহিক) ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবির  সঠিক ফায়ছালা

عن ابن عباس اتاه رجل من اهل العراق فقال انى اصور هذه التصاوير فما تقول فيها فقال ادنه ادنه سمعت محمدا صلى الله عليه وسلم يقول من صور صورة فى الدنيا كلف يوم القيمة ان ينفخ فيها الروح وليس بنا فغم.

 অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ইরাক থেকে আসলো এবং বললো, আমি এ রকম প্রাণীর ছবি আঁকি। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন? হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তুমি আমার নিকটবর্তী হও, সে তাঁর নিকটবর্তী হলো। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, তাকে ক্বিয়ামতের দিন ঐ ছবির মধ্যে প্রাণ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু সে ওটার মধ্যে প্রাণ দিতে পারবে না। (নাসাঈ শরীফ কিতাবুজ্ জিনাত বাবুত তাছাবীর ২য় জিঃ, ৩০০ পৃষ্ঠা)

عن ابى طحة ان النبى صلى الله عليه وسلم قال لا تدخل الملئكة بيتا فيه كلب ولا صورة.

অর্থ : “হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ঐ ব্যক্তি রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করেনা, যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর ছবি থাকে।” (নাসাঈ শরীফ ২য় জিঃ, ২৯৯ পৃষ্ঠা)

عن عائشة قالت كان لنا ستر فيه تمثال طائر وكان الداخل اذا دخل استقبله فقال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم حولى هذا فانى كما دخلت فرايته ذكرت الدنيا.

অর্থ : “হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের পাখির ছবি যুক্ত একখানা পর্দা ছিলো। প্রত্যেক লোক প্রবেশ করাতেই উহা তাদের নজরে পড়তো। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পর্দাটি সরিয়ে ফেলতে বললেন। কেননা, আমি যতবার ঘরে প্রবেশ করি ততবারই ওটা দেখে আমার দুনিয়ার স্মরণ হয়।” (মুসলিম ২য় জিঃ, ২০০ পৃষ্ঠা)

عن قاسم عن عائشة انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فقام النبى صلى الله عليه وسلم بالباب فلم يدخل فقلت اتوب الى الله مما اذنبت قال ما هذه النمقة قلت لتجلس عليها وتوسدها قال ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم العيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم وان الملئكة لاتدخل بيتا فيه الصور.

 অর্থ : “হযরত কাসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণনা করেন। হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা একখানা আসন খরীদ করলেন। যার মধ্যে প্রাণীর ছবি ছিলো, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ওটা দেখে) ঘরে প্রবেশ না করে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর আমি বললাম আমি আমার ভুলের জন্য আল্লাহ্ পাক উনার নিকট তওবা করছি, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এই আসনটি কি জন্য?” আমি বললাম, আপনার বসার ও হেলান দেয়ার জন্য। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি তৈরীকারীদের ক্বিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি হবে। এবং তাদেরকে বলা হবে তোমরা যে প্রাণীর ছবি তৈরী করেছ, তার মধ্যে প্রাণ দাও এবং নিশ্চয় ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করেনা, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, ৮৮১ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, ২০১ পৃষ্ঠা)

عن ابى حجيفة عن ابيه ان النبى صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الدم وثمن الكلب وكسب البغى ولعن اكل الربى وموكله والواشمة والمستوشمة والمصور.

অর্থ : “হযরত আবূ হুজায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর পিতা হতে বর্ণণা করেন, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্তের দাম ও কুকুরের দাম নিতে এবং যিনাকারীনির উপার্জন নিষেধ করেছেন এবং যে ঘুষ খায়, যে ঘুষ দেয়, যে অঙ্গে উলকি আঁকে এবং যে আঁকায় আর যে ছবি অঙ্কন করে, এদের সবার উপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা’নত দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, ৮৮১ পৃষ্ঠা)

عن عائشة حدثته ان النبى صلى الله عليه وسلم لم يكن يترك فى بيته شيشا فيه تصاليب الا نقضه.

অর্থ : “হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বর্ণনা করেন যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রাণীর ছবি বা ছবিযুক্ত সকল জিনিস (থাকলে) ধ্বংস করে ফেলতেন। (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, ৮৮০ পৃষ্ঠা, মিশকাত ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

عن ابى طلحة قال قال النبى صلى الله عليه وسلم لاتدخل الملئكة بيتا فيه كلب ولاتصاوير.

অর্থ : “হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করেনা, যে ঘরে প্রাণীর ছবি বা কুকুর থাকে।” (বুখারী শরীফ, কিতাবুল লিবাছ, বাবুত তাছাবীর ২য় জিঃ, ৮৮০ পৃষ্ঠা)   উল্লিখিত হাদীস শরীফসমূহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা করানো সম্পূর্ণই হারাম ও নাজায়িয। (চলবে)  (পরবর্তী সংখ্যা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারণ করুন)

 মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম আসাদগেট, ঢাকা।

সুওয়ালঃ  ঢাকা মুহম্মদপুর জামিয়া রাহমানিয়া থেকে প্রকাশিত অখ্যাত পত্রিকা নভেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় জিজ্ঞাসার-জবাব বিভাগে নিম্নোক্ত জিজ্ঞাসা-জবাব ছাপা হয়।

জিজ্ঞাসা ঃ  জামে মসজিদের ভিতরে দ্বিতীয়বার জামাআত করা জায়িয আছে কিনা?

জবাব ঃ মসজিদ যদি নির্দিষ্ট কোন মহল্লায় অবস্থিত না হয় বরং রাস্তা-ঘাটের পার্শ্বে কিংবা হাট বাজারের মসজিদ হয় যার ইমাম মুয়াজ্জিন কিংবা মুসল্লি নির্ধারিত না থাকে, অথবা মসজিদটি কোন এক মহল্লায় অবস্থিত বটে কিন্তু সেখানে প্রথম জামাআত অন্য মহল্লার লোকেরা করেছে, অথবা মহল্লাবাসিই প্রথম জামাআত করেছে কিন্তু আযান ছাড়াই তারা করেছে। উপরোল্লিখিত তিন সুরাতে দ্বিতীয় জামাআত করা (যদিও তা আযান ইকামতসহ হোক) সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয।

এছাড়া অন্য যে কোন সুরতে শরয়ী মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত করা মাকরূহে তাহরীমী।   আর মাসিক মদীনা নভেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়। প্রশ্ন ঃ একবার জামায়াত হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় জামায়াত করা যায় কিনা? উত্তর ঃ যে মসজিদে ইমাম, মুয়ায্যিন ও জামায়াতের সময় নির্দিষ্ট আছে এ জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত করা মাকরূহে তাহরিমী।    এখন আমার সুওয়াল হলো-  জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত করা সম্পর্কে উক্ত পত্রিকাদ্বয়ের বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন। জাওয়াবঃ জামে মসজিদে (অর্থাৎ যে সব মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও জামায়াত নির্ধারিত আছে সে সব মসজিদে) ছানী বা দ্বিতীয় জামায়াত করা সম্পর্কে উপরোক্ত পত্রিকাদ্বয়ের বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে যা সম্পূর্ণ দলীলবিহীন ও মনগড়া। কারণ মদীনা এবং অখ্যাত পত্রিকায় যে তিনটি সুরত বর্ণনা করেছে  উক্ত তিনটি সুতর ছাড়াও অন্য যে কোন শরয়ী মসজিদে বা জামে মসজিদে ছানী বা দ্বিতীয় জামায়াত করা জায়িয রয়েছে এবং সকলের ঐক্যমতে দ্বিতীয় জামায়াত করা মাকরূহ তাহরীমী হবে না।  কেননা বিশ্বে যে সমস্ত মসজিদ রয়েছে তা দু’ভাগে বিভক্ত। যথাক্রমে- (১) যার ইমাম ও মুয়াজ্জিন নির্ধারিত নেই, (২) যার ইমাম ও মুয়াজ্জিন নির্ধারিত আছে।

উল্লেখ্য, যে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন মুকাররার বা নির্ধারিত নেই সেখানে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি প্রত্যেক জামায়াতই আযান-ইক্বামত দিয়ে আদায় করা জায়িয রয়েছে, বরং তা উত্তম।  আর যে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন মুকাররার বা নির্ধারিত রয়েছে এবং আযান ইক্বামতসহ মহল্লাবাসী প্রথম জামায়াত করেছে। সেখানেও দ্বিতীয় জামায়াত জায়িয রয়েছে শর্ত সাপেক্ষে- (১) মুকাররার ইমামের নির্ধারিত স্থানে দ্বিতীয় জামায়াতের ইমাম দাঁড়াতে পারবেনা। (২) প্রথম জামায়াত চলাকালে দ্বিতীয় জামায়াত হতে পারবেনা। (৩) আযান-ইক্বামত দিতে পারবেনা। (৪) মহল্লার মসজিদের নির্দিষ্ট মুছল্লী হতে পারবেনা। তবে বহিরাগত কিছু মুছল্লী মসজিদে এমন সময় উপস্থিত হলো, যখন জামায়াত হয়ে গেছে অথচ তারা জামায়াতে রীতিমত নামায আদায় করে, তখন তারা উপরোক্ত শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় জামায়াত আদায় করতে পারবে।  আবার মহল্লার মসজিদের নির্দিষ্ট মুছল্লীগণও দ্বিতীয় জামায়াত পড়তে পারবে, যদি এমন অবস্থা হয় যে, বিশ-পঞ্চাশজন লোক কবরস্থানে মৃতের দাফন সম্পন্ন করে এসে অথবা আল্লাহ্ পাক না করুন মহল্লার কোন বাড়ীতে আগুন লাগার কারণে ২০/৩০ জন মুছল্লী আগুন নিভিয়ে এসে অথবা অন্য কোন জরুরী কাজ সম্পন্ন করে এসে দেখতে পেল যে, মহল্লার মসজিদে জামায়াত শেষ হয়ে গেছে, অথচ তারা প্রত্যেকেই রীতিমত জামায়াতে নামায আদায় করে, তাহলে তারা মা’জুর হিসেবে উক্ত মহল্লার মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত আদায় করতে পারবে।         উল্লেখ্য, উক্ত পত্রিকাদ্বয় উল্লেখ করেছে, “যে মসজিদে ইমাম, মুয়ায্যিন ও জামায়াতের সময় নির্দিষ্ট আছে এ জাতীয় মসজিদে বা শরয়ী মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত করা মাকরূহে তাহরীমী।” অথচ সর্বজনমান্য ও বিশ্ববিখ্যাত ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহে দ্বিতীয় জামায়াত করা সকলের ঐক্যমতে জায়িয লেখা হয়েছে।

যেমন, বিশ্ববিখ্যাত, সর্বজনমান্য ফতওয়ার কিতাব “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” ১ম খন্ডের ৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

المسجد اذا كان له امام معلوم وجماعة معلومة فى محلة قصلى اهله فيه بالجماعة لا يباح تكرارها فيه باذان ثان أما اذا صلوا بغير اذان يباح اجماعا وكذا فى مسجد قارعة الطريق كذا فى شرح المجمع.

 অর্থ : “যদি মহল্লার মসজিদে ইমাম ও জামায়াত নির্দিষ্ট থাকে এবং মহল্লার লোকেরা আযান দিয়ে জামায়াতের সহিত নামায আদায় করে তাহলে দ্বিতীয়বার আযান দিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় জামায়াত করা জায়িয নেই।”   তবে যদি দ্বিতীয় আযান ব্যতীত সানী জামায়াত পড়ে, তাহলে সকলের ঐক্যমতে সানী জামায়াত জায়িয। আর অনুরূপভাবে এই হুকুম রাস্তার মসজিদের জন্যও প্রযোজ্য। এটা শরহে মাজমাআর মধ্যে উল্লেখ আছে।   “আইনুল হেদায়া” কিতাবের নিছফে আউয়াল খন্ডের ৫৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

اور بلا اذان واقامت بالاجماع مکروہ نھیں ھے.

 অর্থ : “আযান ও ইক্বামত ব্যতীত দ্বিতীয় জামায়াত পড়লে, সকলের ঐক্যমতে মাকরূহ হবে না।”

“ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া” ১ম খন্ডের ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

اگرمحلہ کی مسجد میں امام اور جما عت کے لوگ معمولیی مقرر ھیں اوران لوگوں نے اسمیر جماعت سے نماز پڑہ لی تو اذان کے ساتہ دوسری جماعت اسمیں جائز نھیں اور بغیراذان کے پزھیں تو بالاجما ع مباح ھے اور یھی حکم ھےراستہ کی مسجد کا.

  অর্থ : “যদি মহল্লার মসজিদে ইমাম ও জামায়াতের লোক স্বাভাবিকভাবে নির্দিষ্ট থাকে এবং মহল্লার লোকেরা মহল্লার মসজিদে আযান দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে পুনরায় আযান দিয়ে দ্বিতীয় জামায়াত পড়া জায়িয নেই। আর আযান ব্যতীত যদি দ্বিতীয় জামায়াত পড়ে, তাহলে সকলের ঐক্যমতে দ্বিতীয় জামায়াত জায়িয। এই হুকুম রাস্তার মসজিদের জন্যও প্রযোজ্য।”  “বাহরুর রায়েক” কিতাবের ১ম খন্ডের ৩৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

لا بأس به مطلقا اذا صلى فى غير مقام الامام.

অর্থ : “সাধারণভাবে ছানী জামায়াত পড়াতে কোন অসুবিধা নেই তবে শর্ত হলো মুকাররার ইমামের নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে নামায পড়বে।”       “হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার” কিতাবের ১ম খন্ড ২৪০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

اما اذا كررت بغير اذان فلا كراهة مطلقا وعليه المسلمون.

 অর্থ : “আযান ও ইক্বামত দিয়ে ছানী জামায়াত মাকরূহ। তবে শর্ত হলো দ্বিতীয়বার আযান ব্যতীত যদি ছানী বা দ্বিতীয় জামায়াত পড়ে তাহলে সাধারণভাবে (مطلقا)  দ্বিতীয় জামায়াত পড়া মাকরূহ হবেনা এবং এরই উপর সমস্ত মুসলমান (ফক্বীহ্গণ)ঐক্যমত পোষণ করেছেন।” “শামী” কিতাবের ২য় খন্ডের ২৮৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

ولو كرر اهله بدونهما ………… جاز اجماعا.

অর্থ : “যদি মহল্লার অধিবাসী আযান ও ইক্বামত ব্যতীত দ্বিতীয় জামায়াত করে ……. তাহলে সকলের ঐক্যমতে জায়িয।           “জাওহারাতুন নাইয়ারাহ” কিতাবের ৭৬ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ আছে,

وفى شرح المنية اذا لم تكن الجماعة على الهيئة الاولى لا تكره والا تكره وهو الصحيح وبالبول عن المحراب تختلف الهيئة كذا فى البزازية.

অর্থ : “শরহে মুনিয়ায়” উল্লেখ আছে যদি প্রথম সুরতে জমায়াত না হয় তাহলে মাকরূহ হবে না। (প্রথম সুরত বলতে আযান ও ইক্বামত হবেনা, ইমামের নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াতে পারবেনা, তাহলে ছানী জামায়াত পড়লে মাকরূহ হবে না) অন্যথায় মাকরূহ হবে। আর এটাই ছহীহ্ ও বিশুদ্ধ মত। আর মেহরাব থেকে সরে দাঁড়ানোই হলো প্রথম সুরতের বিপরীত।” অনুরূপ “বাজ্জাজিয়ায়” উল্লেখ আছে।          “রদদুল মুহতার” কিতাবে ২য় খন্ডের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

ان الصحيح انه لا يكره تكرار الجما عة اذا لم تكن على الهيئة الاولى.

 অর্থ : “নিশ্চয়ই ছহীহ্ মত এই যে, দ্বিতীয় জামায়াত যদি প্রথম জামায়াতের সুরতে না হয় তাহলে দ্বিতীয় জামায়াত পড়লে মাকরূহ হবেনা।          অর্থাৎ প্রথম জামায়াতের মত আযান ও ইক্বামত না দিয়ে ও ইমামের নির্ধারিত স্থানে না দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় জামায়াত করলে মাকরূহ্ হবে না। এটাই ছহীহ্ মত।”     “শামী” কিতাবে আরো উল্লেখ আছে,

لايكره تكرار الجماعة فى مسجد واحد.

অর্থ : “একই মসজিদে ছানী জামায়াত পড়লে মাকরূহ হবে না।”   “গায়াতুল আওতার” কিতাবের ১ম খন্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

دررمیں کھاکہ اگر اھل محلہ بدون اذان واقامت کے جماعت دو بارہ کریں ….. تو دوسری جما عت جائز ھوگی بالاتفاق.

 অর্থ : “দুরারে বর্ণিত আছে, যদি মহল্লার অধিবাসী তাদের মহল্লার মসজিদে আযান ও ইক্বামত ব্যতীত দ্বিতীয় জামায়াত করে …… তাহলে দ্বিতীয় জামায়াত পড়া সকলের ঐক্যমতে জায়িয।”    “বাহরুর রায়েকের” ১ম খন্ডের ৩৪৬ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ আছে,

يجوز تكرار الجماعة بلا اذان ولا اقامة ثانية اتفاقا.

  অর্থ : “সকলের ঐক্যমতে দ্বিতীয়বার আযান ও ইক্বামত ব্যতীত ছানী জামায়াত পড়া জায়িয।    এতএব প্রমাণিত হলো, উক্ত পত্রিকাদ্বয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত সম্পর্কে যে বক্তব্য পেশ করেছে তা সম্পূর্ণ ভুল যা জিহালতপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও দলীলবিহীন।      {দলীলসমূহঃ- (১)  বাহরুর রায়েক (২) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (৩) দুরারুল বিহার, (৪) শরহে দুরারিল বিহার (৫) উবাব, (৬) মূলতাক্বাদ, (৭) হাশিয়ায়ে তাহতাবী, (৮) কাজীখান, (৯) গায়াতুল আওতার, (১০) আইনুল হেদায়া,  (১১) ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, (১২) শরহে মাজমা, (১৩) রদ্দুল মুহ্তার, (১৪) দূরারুল আহ্কাম, (১৫) দুররুল মুখতার, (১৬) খাজানা, (১৭) তাতারখানিয়া, (১৮) শামী, (১৯) ওয়াল ওয়ালেজিয়া (২০) হামিশুল খাযায়িন,  (২১) বাজ্জাজিয়া (২২) শরহে মুনীয়া,  (২৩) জাওহারাতুন্নাইয়ারাহ্ ইত্যাদি।}

মুহম্মদ আলী হায়দার পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম। সুওয়ালঃ হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত অখ্যাত পত্রিকার জুলাই/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় জিজ্ঞাসা-সমাধান বিভাগে নিম্নোক্ত জিজ্ঞাসা-সমাধান ছাপা হয়। জিজ্ঞাসা ঃ আমাদের এলাকায় জুমআর নামাযের সানী আযানের পর হাত উঠিয়ে মুনাজাত করার প্রচলন আছে। এ ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিভঙ্গি কি? সমাধান ঃ  জুমআর খুত্বার পূর্বের আযানের পর ‘দোয়য়ে উসীলা’ অর্থাৎ “আল্লাহুম্মা রাব্বাহা যিহিদ্দা’ …” দোয়াটি পড়া অনুচিত। ফুক্বাহায়ে কিরাম এ সময়ে এ দোয়া পড়া মাকরূহ লিখেছেন। কারণ হাদীস শরীফের ভাষ্য মতে ইমাম সাহেব খুত্বা পাঠের জন্য মিম্বারে আরোহণের পর নামায, তাসবীহ্-তাহ্লীল পড়া ইত্যাদি নিষিদ্ধ। আর বিশেষ করে খুত্বার আযানের পর হাত উঠিয়ে মুনাজাত করার নিয়ম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন, তাবে তাবিঈন কারোর যুগেই ছিলনা। কাজেই প্রশ্নোল্লিখিত প্রথাটি শরীয়ত বহির্ভূত।    আর মাসিক মদীনা নভেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়- প্রশ্ন ঃ জুমার দিন খুৎবার পূর্বে যে দ্বিতীয় আযান দেয়া হয়, উক্ত আযানের জওয়াব দিতে হয় কিনা এবং আযানের শেষে দোয়া পড়তে হয় কিনা? উত্তর ঃ জুমার দিন ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বরে চলে আসেন, তখন যাবতীয় কাজ-কর্ম দোয়া, কালাম ও নামায পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ফলে জুমার দ্বিতীয় আযানের জওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়াও নিষিদ্ধতার আওতাভুক্ত হয়ে যাওয়ার দরুন ফতোয়ার কিতাবে তা নাজায়িয লেখা হয়। উক্ত পত্রিকায় ৭৪ নং প্রশ্নের উত্তরে আরো বলা হয়েছে, “খুৎবার আযানের মৌখিক জবাব দেয়া জায়িয নাই।”

এখন আমার সুওয়াল হলো- জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়া সম্পর্কে হাটহাজারীর মুখপত্রের ও মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? দলীলসহ জানাবেন। জাওয়াবঃ  জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়া সম্পর্কে হাটহাজারীর মুখপত্রের ও মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং ভুল ও প্রতারণামূলক হয়েছে।   কারণ হাটহাজারীর মুখপত্র বলেছে, “জুমআর খুত্বার পূর্বের আযানের পর ‘দোয়ায়ে উসীলা’ অর্থাৎ “আল্লাহুম্মা রাব্বাহা যিহিদ্দা’ …” দোয়াটি পড়া অনুচিত।”   এর জবাবে বলতে হয়,  হাটহাজারীর উক্ত বক্তব্য কুফরীমূলক হয়েছে। কারণ ছানী আযানের পরেও দোয়ায়ে উসীলা অর্থাৎ “আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দা’ওয়াতিত্ তাম্মাহ্ … দোয়াটি পড়া সুন্নত ও অশেষ ফযীলতের কারণ। যা হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।

যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن جابر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قال حين يسمع النذاء اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة ات محمدن الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودان الذى وعدته حلت له شفاعتى يوم القيامة.

অর্থ : “হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে অর্থাৎ আযানের পর “আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দা’ওয়াতিত্ তাম্মাহ্ ওয়াচ্ছলাতিল ক্বইমাহ্, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা ওয়াব্ আছহু মাক্বামাম মাহ্মুদানিল লাজী ওয়া আদ্দাহু” (বায়হাক্বী শরীফে আরো উল্লেখ আছে ইন্নাকা লা তুখলিফুল মীয়াদ) এ দোয়া পাঠ করবে তার জন্যে ক্বিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ অবধারিত।” (বুখারী, মিশকাত, ফাতহুল বারী, ওমদাতুল ক্বারী, ইরশাদুস্ সারী, তাইসীরুল ক্বারী, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, মুযাহেরে হক্ব, মিরআতুল মানাযীহ্)        উপরোক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো, দোয়ায়ে উসীলা পড়া হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুপারিশ লাভের কারণ। আর তা যে কোন আযানের পরেই হোক না কেন।   উল্লেখ্য যে, আযানের পর দোয়ায়ে উসীলা পড়া যে, মুস্তাহাব তা তাদের সিলসিলার কিতাবগুলোতেও উল্লেখ আছে। যেমন, “ফতওয়ায়ে “মাহ্মুদিয়াতে” উল্লেখ আছে যে,

سوال اذان کے بعد مناجات کیسی ھے؟

جواب اذان کے بعد دعاءوسیلہ مستحب ھے کذا فی درمختار ج1 صفہ 412.

অর্থ : সুওয়াল- “আযানের পর মুনাজাত করা কি? জাওয়াব- আযানের পর দোয়ায়ে উসীলা পড়া (অর্থাৎ মুনাজাত করা) মুস্তাহাব। অনুরূপ দুররুল মুখতার ১ম জিঃ পৃঃ৪১২ উল্লেখ রয়েছে।”

অতএব, প্রমাণিত হলো, দোয়ায়ে উসীলা পড়া মুস্তাহাব সুন্নত এবং অশেষ ফযীলতের কারণ।

দ্বিতীয়তঃ হাটহাজারীর মুখপত্র বলেছে, “ফুক্বাহায়ে কিরাম এ সময়ে এ দোয়া পড়া মাকরূহ লিখেছেন।”

আর মাসিক মদীনা বলেছে যে, “জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়াও নিষিদ্ধতার আওতাভুক্ত হয়ে যাওয়ার দরুন ফতোয়ার কিতাবে তা নাজায়িয লেখা হয়।”     এর জবাবে বলতে হয় যে, হাটহাজারীর মুখপত্রের ও মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্যও ভুল। কারণ ফতওয়ার কিতাবে অধিক ছহীহ্ ও বিশুদ্ধ মতে বা ফতওয়াগ্রাহ্য মতে জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া এবং দোয়া পড়াকে নিষিদ্ধ বা নাজায়িয লিখা হয়নি। বরং ফতওয়ার কিতাবে যেটা নিষিদ্ধ বা মাকরূহ্ লিখা হয়েছে সেটা ইমাম ছাহিব খুৎবার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর পরে দুনিয়াবী কথাবার্তা না বলা এবং দুনিয়াবী কথা-বার্তার জাওয়াব না দেয়ার জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়ার জন্য নিষিদ্ধতা প্রযোজ্য নয়। কেননা, জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়া দুনিয়াবী কথাবার্তা নয়। বরং জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়া দ্বীনি কথা-বার্তা। সুতরাং ফতওয়ার কিতাবসমূহে জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়াকে জায়িয লিখা হয়েছে।

 যেমন, এ প্রসঙ্গে ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ করা হয়-

واما قبل الشروع بعد صعوده على المنبر فيكره الكلام الدنيوى اتفاقا واما الكلام الدينى كالتسبيح والتهليل فلا يكره عندهما ……. والاصح انه لا يكره عنده ايضاصرحبه فى النهاية وغيره- فعلى هذا ايكره اجابه اذان الثانى ودعاء الوسيلة بعده مالم يشرع الامام فى الخطبة.

 অর্থ : “ইমাম ছাহিব মিম্বরে উঠে খুৎবা পাঠ শুরু করার পূর্বে দুনিয়াবী (পার্থিব) কথাবার্তা বলা সর্ব সম্মতিক্রমে মাকরূহ্। আর ইমাম আবূ ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি  ও ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে দ্বীনী কথাবার্তা যেমন- তাছবীহ-তাহ্লীল, দোয়া-দরূদ পাঠ করা মাকরূহ্ নয়। … আর অধিক ছহীহ্ মত হলো- ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকটও দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া মাকরূহ্ নয়।” এ ব্যাপারে নেহায়া ও অন্যান্য কিতাবে স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে।    সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, “দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও খুৎবা শুরু করার পূর্বে আযানের দোয়া পড়া মাকরূহ্ নয়। (বরং জায়িয)” (হাশিয়ায়ে হেদায়া, নেহায়া, শরহে বেক্বায়া)     হযরত ইবনে নজীম মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব “বাহ্রুর রায়েকে” লিখেন যে,

قال بعضهم انما كان بكره ما كان من كلام الناس واما التسبيح ونحوه فلا (يكره) وقال بعضهم كل ذالك مكروه والاول اصح.

অর্থ : “কেউ কেউ বলেন, মানুষের কথাবার্তা অর্থাৎ দুনিয়াবী কথাবার্তা মাকরূহ্। আর তাছবীহ্-তাহ্লীল এবং অনুরূপ (দোয়া-দরূদ) পড়া মাকরূহ নয়। আর কেউ কেউ বলেন, সবই মাকরূহ্। তবে প্রথমটিই অধিক ছহীহ্ (বিশুদ্ধ) মত।” (অর্থাৎ অধিক ছহীহ্ মতে দ্বিতীয় আযানের জবাব দেয়া ও দোয়া পড়া মাকরূহ্ নয়)।

দ্বিতীয় আযানের জবাব দেয়া প্রসঙ্গে “উমদাতুর রেয়ায়া” কিতাবের ১ম জিঃ ২৪৪ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে,

علامۃ لکھنوی فرماتے ھین فلاتکرہ اجابۃ

الاذان الذی یؤذن بین یدی الخطیب وقد ثبت

ذالک من فعل معاویۃ فی صحیح البخادی.

অর্থ : “আল্লামা লক্ষেèাবী বলেন, জুমুয়ার দ্বিতীয় আযান যা খতীবের সম্মুখে দেয়া হয়, তার জাওয়াব দেয়া মাকরূহ্ নয়। কেননা নিশ্চয় এটা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর আমল দ্বারা ছহীহ্ বুখারী শরীফে প্রমাণিত রয়েছে।”           এ প্রসঙ্গে “নাফ্উল মুফতী ওয়াস সায়েল” কিতাবের ১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,

قد ثبت اجابة الثانى عن النبى صلى الله عليه وسلم ومعاوية رضى الله عنه ما اخرجه التخارى فاين الكراهة.

  অর্থ : “নিশ্চয় দ্বিতীয় আযানের জবাব দেয়া হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  হতে প্রমাণিত রয়েছে। যেটা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি  বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মাকরূহ্ কোথায়?”       উল্লেখ্য যে, জুমুয়ার দ্বিতীয় আযান যা খতীব ছাহেবের সামনে দেয়া হয়, সে আযানের জাওয়াব দেয়া সম্পর্কে “দুররুল মুখতার” কিতাবের ইবারতের ব্যাখ্যায় ফতওয়ার বিখ্যাত কিতাব “হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী” কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে জুমুয়ার দ্বিতীয় আযান যা খতীব ছাহেবের সামনে দেয়া হয়, সে আযানের জাওয়াব দেয়া নিষিদ্ধ নয়।”  যেমন, ফতওয়ার বিখ্যাত কিতাব “হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী আলা দুররিল মুখতার” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৮৮-১৮৯ পৃষ্ঠায় লিখা হয়েছে,

(قوله فى الاذان بين يدى الخطيب) ….. ان الاصح جواز الاذكار عنده قبل شروعه فى الخطبة قلا مانع من الاجابة.

অর্থাৎ- “জুমুয়ার দ্বিতীয় আযান যা খতীব ছাহেবের সামনে দেয়া হয়, সে আযানের জাওয়াব দেয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, … নিশ্চয় অধিক ছহীহ্ মত হলো, হযরত ইমাম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট খতীব ছাহেবের খুৎবা শুরু করার পূর্বে যিক্র-আযকার করা জায়িয। সুতরাং জুমুয়ার দ্বিতীয় আযান যা খতীব ছাহেবের সামনে দেয়া হয় সে আযানের জাওয়াব দেয়া নিষেধ নয়। অর্থাৎ জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া নিষেধ নয়।” উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ফতওয়ার কিতাবে নিষেধ করা হয়নি। সুতরাং জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়া জায়িয।

আরো উল্লেখ্য যে, জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জবাব দেয়া ও দোয়া পড়া যে জায়িয, তা ওলামায়ে দেওবন্দের কিতাবেও রয়েছে। যেমন, এ প্রসঙ্গে “ইমদাদুল আহ্কাম”-এর ১ম জিঃ ৩২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,

جمعہ کی اذان ثانی کا جواب دینا مخبلف فیہ ھے،صا حبین کے نزدیک جائز ھے اور امام صاحب کے قول میں مختلف روایت ھیں ایک روایت سے جواز معلوم ھوتا ھے اور ایک روایت سے کراھت  معلوم ھوتی ھے اور طحطا وی نے اس کا اصح ھونا نقل کیاھے.

اور امام صاحب سے جو یہ قول مشھور ھے کہ خروج امام قاطع صلوۃ و کلام ھے اسکا مطلب یہ ھے کہ خروج امام قاطع کلام الناس ھے اور قاطع سائر الکلام خطبۃ شروع ھو جانا ھے. پس ابتداء خطبہ سے پھلے کلام دینی یعنی تسبیح وجواب اذان جائز ھے.

অর্থ : “জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জবাব দেয়ার মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ছাহিবাইন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ-এর নিকট জায়িয এবং ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ক্বওলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এক বর্ণনা মতে জায়িয প্রমাণিত হয়, আরেক বর্ণনা মতে মাকরূহ্ বুঝা যায় এবং তাহ্তাবী এটাকে অধিক ছহীহ্ বলে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রসিদ্ধ যে ক্বওল রয়েছে, “ইমাম ছাহেবের আগমণ নামায ও কথা-বার্তাকে নিষেধ করে” এ কথার মূল অর্থ হলো- ইমাম ছাহেবের আগমণ মানুষের কথাবার্তাকে বন্ধ করে দেয় এবং তিনি খুৎবা শুরু করার সাথে সাথে সর্ব প্রকার কথাবার্তা নিষিদ্ধ। সুতরাং খুৎবা শুরু করার পূর্বে দ্বীনী কথা-বার্তা অর্থাৎ তাসবীহ্-তাহ্লীল ও আযানের জাওয়াব দেয়া জায়িয।”   আর কেফায়াতুল মুফ্তীর” ৩য় জিঃ ২১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,

امام محمد رحمۃ اللہ کے نذدیک اذان خصبہ کاجواب دینا جانز ھے. امام ابو یوسف و امام محمد رحمۃ اللہ علیھما خطبہ شروع ھونے سے پھلے غیر خطیب کیلئے کلام دینی کو جائز فرماتے ھیں تو اجابت اذان  اور دعاء وسیلہ ان کے نزدیک جائز ھے.

অর্থ : “ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া জায়িয। ইমাম আবূ ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি খুৎবা শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত মুক্তাদীগণের জন্য দ্বীনী কথাবার্তা বলা জায়িয বলেছেন। তাই দ্বিতীয় আযানের জবাব দেয়া এবং দোয়ায়ে উসীলা করা তাঁদের নিকট জায়িয।”            অতএব, উপরোল্লিখিত বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য অকাট্য দলীল-আদিল্লার ভিত্তিতে স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, ছহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য মতে দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়ায়ে উসীলা পড়া জায়িয।       তৃতীয়তঃ হাটহাজারীর মুখপত্র বলেছে, “হাদীস শরীফের ভাষ্য মতে ইমাম সাহেব খুত্বা পাঠের জন্য মিম্বারে আরোহণের পর নামায, তাসবীহ্-তাহ্লীল পড়া ইত্যাদি নিষিদ্ধ।” এর জবাবে বলতে হয় যে, তাদের উক্ত বক্তবও জিহালতপূর্ণ। কারণ হাটহাজারীর মুখপত্র,  মাসিক মদীনা এবং তাদের সমজাতীয়রা “তিবরানী শরীফের” উক্ত হাদীস শরীফখানার    মাফহুম ও ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে বা হাদীস শরীফখানার ভাষ্য বুঝতে ভুল করার কারণে তাদের পত্রিকা ও কিতাবাদীতে, “জুমুয়ার দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়ায়ে উসীলা পড়া মাকরূহ, নাজায়িয ও নিষিদ্ধ বলেছে” যা মোটেও শুদ্ধ নয়।  যেমন, হাদীস শরীফখানা হলো, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

اذا خرج الامام فلا صلوة ولا كلام.

অর্থ : “ইমাম যখন (খুৎবার জন্য) বের হয়, তখন নামায পড়া ও কথা বলা নিষেধ।”

اذا خرج الا مام لخطبته فلا صلوة واذا صعد المنبر اى قام المنبر لخطبته فلا كلام.

এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় বলা হয়,  অর্থ : “ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার জন্য হুজরা থেকে বের হন, তখন কোন নামায নেই। আর যখন খুৎবা দেয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়িয়ে যান, তখন কোন কথা নেই।”

এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মুয়াত্তা শরীফে উল্লেখ করেন, ইবনে শিহাব জুহুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

خروج الامام يقطع الصلوة وخطبته يقطع الكلام.

 অর্থ : “ইমামের  আগমন  নামাযকে বন্ধ করে দেয়, আর তাঁর খুৎবা কথা-বার্তাকে বন্ধ করে দেয়।”

অর্থাৎ ইমাম ছাহিব যখন খুৎবা দেয়ার জন্য হুজরা থেকে বের হন, তখন কেউ যদি নামায শুরু করে, তবে তার পক্ষে এ অল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ খুৎবা শুরু করার পূর্বে নামায শেষ করা সম্ভব নয়। তাই কোন নামায নেই এবং নামায শুরু করা মাকরূহ। আর যখন খুৎবা দেযার জন্য মিম্বরে দাঁড়াবেন, অর্থাৎ খুৎবা শুরু করবেন, তখন কোন কথাবার্তা বলা নিষেধ।

অতএব, খুৎবা শুরু করার পূর্বে দোয়া-দরুদ, তাস্বীহ্-তাহ্লীল, দ্বীনী কথাবার্তা বলা জায়িয রয়েছে। অনুরূপ দ্বিতীয় আযানের জাওয়াব দেয়া ও দোয়া পড়া জায়িয বরং সুন্নত ও মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত।  চতুর্থতঃ হাটহাজারীর মুখপত্র বলেছে, “বিশেষ করে খুত্বার আযানের পর হাত উঠিয়ে মুনাজাত করার নিয়ম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন, তাবে তাবিঈন কারোর যুগেই ছিলনা। কাজেই প্রশ্নোল্লিখিত প্রথাটি শরীয়ত বহির্ভূত।

এর জবাবে বলতে হয় যে,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণের যুগে কোন জিনিস না থাকলেই যদি তা শরীয়ত বহির্ভূত হয়, তাহলে তাদের বক্তব্য মোতাবিক হাটহাজারী মাদ্রাসাও শরীয়ত বাহির্ভূত। কেননা, যে নিয়মে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ইল্ম শিক্ষা দেয় সে নিয়ম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণের যুগে ছিলোনা।

এমনিভাবে নাহু ছরফ শিক্ষা করা, ভাত-মাছ খাওয়া, মোটরগাড়ী, ট্রেন, প্লেন, রকেট, রিক্সা, জাহাজে চড়া, ফ্যান, ঘড়ি , চশমা, মাইক ব্যবহার করা এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার জন্য সদকা, ফিৎরা, যাকাত, কুরবানীর চামড়া আদায় করা ইত্যাদিও শরীয়ত বহির্ভূত হবে। কেননা, উক্ত জিনিসগুলো যে নিয়মে আদায় করা হয় সে নিয়ম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণের যুগে ছিলোনা। অথচ হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপাত্ররা দায়িমীভাবেই তা পালন করছে। মূলকথা হলো, ছানী বা দ্বিতীয় আযানের পর খুৎবা শুরু করার পূর্বে হাত তুলে মুনাযাত করা, দোয়ায়ে উসীলা পড়া, তাছবীহ্-তাহ্লীল, দোয়া-দরূদ ইত্যাদি পড়া ফুক্বাহা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ তাদের ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবে জায়িয ও মুস্তাহাব বলে ফতওয়া প্রদান করেছেন। আর ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবে থাকার অর্থই হলো, শরীয়তে থাকা। সুতরাং ছানী বা দ্বিতীয় আযানের পর খুৎবা শুরু করার পূর্বে হাত তুলে মুনাজাত করা শরীয়তসম্মত।

তাছাড়া পরিশেষে হাটহাজারীর মুখপত্র তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে “কিফায়াতুল মুফতী” কিতাবের দলীল দিয়েছে। আর উক্ত “কিফাইয়াতুল মুফতীতে” উল্লেখ আছে,

سوال. اذان کے بعد ھا تھ اذھاکر مناجات  کرنا کیسا ھے …..؟

جواب. اذان کے بعد جو الفاظ ادا کیئے جاتے ھین و ہ دعاکے الفاظ ھیں اور رفع یدین اداب دعا مین سے ھے. اس لئے ھا تھ اذھانے مین مضائقہ نھین.

অর্থ: সুওয়াল – “আযানের পর হাত উঠায়ে মুনাজাত করা কিরূপ? জাওয়াব- আযানের পর যে সকল শব্দসমূহ পড়া হয়, সেগুলো দোয়ার শব্দ। আর দোয়ার সময় উভয় হাত উঠানো আদবের অন্তর্ভুক্ত। তাই হাত উঠায়ে মুনাজাত করাতে কোন ক্ষতি নেই।”              অতএব, প্রমাণিত হলো, হাত তুলে মুনাজাত করা আদবের অন্তর্ভুক্ত। অপরপক্ষে বেয়াদব আল্লাহ্ পাক উনার রহমত থেকে বঞ্চিত। যেমন, কিতাবে আছে,

بے ادب محروم گشت از لطف رب.

অর্থ : “বেয়াদব আল্লাহ্ পাক উনার রহমতে থেকে বঞ্চিত। আর বেয়াদব আল্লাহ্ পাক উনার রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে আল্লাহ্ পাক উনার আযাব-গযবে পতিত হবে।  পঞ্চমতঃ  মাসিক মদীনা বলেছে, “খুৎবার আযানের মৌখিক জবাব দেয়া জায়িয নাই।”   এর জবাবে বলতে হয় যে, মদীনার উক্ত বক্তব্যও ভুল। কারণ জুমুয়ার খুৎবার আযানের মৌখিক জাওয়াব দেয়া জায়িয তো বটেই বরং সুন্নত। কেননা স্বয়ং আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ খুৎবার আযানের মৌখিকভাবে জাওয়াব দিয়েছেন।   যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে,

عن ابى امامة قال سمعت معاوية بن ابى سفيان رضى الله عنه وهو جالس على المنبر اذن المؤذن فقال الله اكبر الله اكبر …. الخ. فلما ان قضى التأذين قال ايها الناس انى مسعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذا المجلس حين اذن المؤذون يقول ما سمعتم منى من مقالتى.

 অর্থ : “হযরত আবূ উমামা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জুমুয়ার দিন মিম্বরের উপর বসে মুয়াজ্জিনের আযানের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও আযানের শব্দ সমূহকে উচ্চারণ করেন এবং আযান শেষে বলেন, হে লোক সকল আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জুমুয়ার দিন মিম্বরে বসা অবস্থায় মুয়াজ্জিনের আযান শ্রবণে এরূপ বলতে শুনেছি, যেরূপ তোমরা আমার থেকে শুনতে পেলে।” (বুখারী, নাসাঈ)

 এ প্রসঙ্গে মুয়াত্ত্বায়ে মুহম্মদ-এর শরাহ্ “আত্ তা’লীকুল মুমাজ্জাদের” ১০৭ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে যে,

وقد ثبت فى صحيح البخارى ان معاوية رضى الله عنه اجاب الاذان وهو على المنبر وقال يا ايها لناس انى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذا المجلس حين اذن المؤذن يقول مثل ما سمعتم منى مقالتى. فاذا ثبت الاجابة عن صاحب الشرع وصاحبه فما معنى الكراهة.

অর্থ :  “ছহীহ্ বুখারীতে উল্লেখ রয়েছে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মিম্বরে বসে দ্বিতীয় আযানের জবাব দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে মানুষেরা আমি রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিম্বরে বসে এরূপে জুমুয়ার আযানের জবাব দিতে শুনেছি, যেরূপ আমাকে তোমরা জবাব দিতে শুনলে। সুতরাং যখন জুমুয়ার আযানের জবাব দেয়া হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম হতে প্রমাণিত, তখন এটাকে মাকরূহ্ বলার অর্থ কি? (মূলতঃ এটা মাকরূহ্ নয়, বরং সুন্নত)।”

উপরোক্ত হাদীস শরীফ এবং ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহের দলীল-আদিল্লাহ্ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, “জুমুয়ার খুৎবার আযানের মৌখিক জাওয়াব দেয়া সুন্নত।”

অতএব, হাটহাজারীর মুখপত্র ও  মাসিক মদীনার বক্তব্য ভুল বলেই প্রমাণিত হলো।

[এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ১৮তম সংখ্যা পড়ুন।] {দলীলসমূহ ঃ (১) বুখারী, (২) নাসাঈ, (৩) তিবরানী, (৪) মুয়াত্তা ইমাম মালেক, (৫) মিরকাত, (৬) আইনী, (৭) বাহরুর রায়েক, (৮) মাবসূত, (৯) আলমগীরী, (১০) নূরুল হেদায়া, (১১) নুরুদ্দেরায়া, (১২) হাশিয়ায়ে হেদায়া, (১৩) নেহায়া, (১৪) হাশিয়ায়ে শরহে বেকায়া, (১৫) ইনায়া, (১৬) কাফী, (১৭) হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী, (১৮) গায়াতুল আওতার, (১৯) হাশিয়ায়ে মারাফীউল ফালাহ্, (২০) সিরাজুল ওয়াহ্হাজ, (২১) আত তা’লীকুল মুমাজ্জাদ আ’লা মুয়াত্তায়ে মুহম্মদ, (২২) উমদাতুর রিয়ায়া, (২৩) মজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে আমিনীয়া, (২৪) ইমদাদুল মুফতীন, (২৫) মায়ারেফে মাদানীয়াহ্, (২৬) জরুরী মাসায়েল,  (২৭) নাফ্উল মুফতী ওয়াস্ সায়েল, (২৮) ফতওয়ায়ে শামী, (২৯) ইমদাদুল আহ্কাম, (৩০) কেফায়াতুল মুফতী ইত্যাদি।}

মুহম্মদ রাসেদুল ইসলাম (রাসেদ)

সভাপতি- আঞ্জুমনে আল বাইয়্যিনাত, রংপুর।

সুওয়ালঃ  “মহিলাদের ঈদ, জুমুয়া ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জামায়াতে অর্থাৎ মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া শরীয়ত সম্মত কিনা?” বর্তমানে মহিলাদের জন্য পৃথক মসজিদ তৈরীর কথাও শুনা যাচ্ছে। এটাই বা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের দলীলের ভিত্তিতে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। জাওয়াবঃ  “মহিলাদের জন্য ঈদ, জুমুয়া, তারাবীহ্ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জামায়াতের জন্য ঈদগাহে ও মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ েতাহরীমী।” অনুরূপ মহিলাদের জন্য পৃথক মসজিদ তৈরী করাও শরীয়ত পরিপন্থী কাজ। প্রথম যুগে মহিলাদের মসজিদে  যাওয়ার হাক্বীক্বত কেউ কেউ বলে থাকে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যামানায় মহিলারা মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়তেন এবং এখনও মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফে মহিলাগণ জামায়াতে উপস্থিত হন, তবে এর ফায়সালা কি?”

এর জবাব হলো, শরীয়তে এমন অনেক বিষয়ই রয়েছে, যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যামানায় ছিলনা কিন্তু হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সময় তা উৎপত্তি লাভ করে। যেমন, “জুমুয়ার ছানী আযান” এ ছানী আযান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময় ছিলনা। হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মুসলমান ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইজতিহাদ করতঃ উক্ত ছানী আযানের প্রথা চালু করেন এবং এর উপর সকল ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়।    অনুরূপভাবে যদিও প্রথম যুগে ইসলাম ও মুসলমানদের বৃহত্তর স্বার্থে মহিলাদের জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল কিন্তু হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফতকালে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে ইমাম-মুজতাহিদগণ মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দেন এবং এর উপর উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত। কেননা, প্রথম যুগে মহিলাদের জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেয়ার কারণ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,  অর্থ : “ইমাম ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মহিলাদের ইসলামের প্রথম যুগে জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রদান করার কারণ হলো, বেদ্বীনদের সম্মুখে মুসলমানদের জনসংখ্যা ও জনশক্তি বৃদ্ধি করা। হযরত ইমাম আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, (শুধু তাই নয়) সে যুগ ফিৎনা-ফ্যাসাদ হতেও সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে তার কোন কারণই অবশিষ্ট নেই।”

স্মর্তব্য যে, হাদীস শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ অধিকাংশ কিতাবেই প্রথম যুগে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার কারণ হিসেবে তা’লীম বা ইলম অর্জন করাকেই উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা আরো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, বুখারী শরীফের ৯১৫ নং হাদীস শরীফের বর্ণনা দ্বারা। এ হাদীস শরীফে ইরশাদ করা হয়, হযরত উম্মে আতি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “ঈদের দিন আমাদেরকে বের হওয়ার আদেশ দেয়া হতো, আমরা কুমারী মেয়েদেরকে, এমনকি ঋতুবর্তী মহিলাদেরকেও ঘর থেকে বের করতাম। অতঃপর পুরুষদের পেছনে থেকে তাদের তাকবীরের সাথে সাথে তাকবীর পড়তাম এবং তাদের দোয়ার সাথে সাথে আমরাও ঐ দিনের বরকত ও পবিত্রতা লাভের আশায় দোয়া করতাম।”  এ হাদীস শরীফে এবং অন্যান্য আরো হাদীস শরীফে স্পষ্টই উল্লেখ রয়েছে যে, “ঋতুবর্তী মহিলাগণও ঈদগাহে উপস্থিত হতো।”

অথচ শরীয়তে ঋতুবর্তী মহিলাদের জন্য নামায সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং তাদের ঈদগাহে বা জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি যদি শুধুমাত্র নামাযের জন্য হতো, তবে ঋতুবর্তী মহিলাগণ ঈদগাহে উপস্থিত হতোনা। মূলতঃ প্রথম যুগে নামাযসহ সকল অনুষ্ঠানাদিতে মহিলাদের উপস্থিত হওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, তা’লীম গ্রহণ করা। তদুপরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন এবং সে সময় ফিৎনার আশংকা কল্পনাও করা যায়না। তথাপি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদেরকে সুসজ্জিতভাবে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যেতে নিষেধ করেন এবং তিনি আরো বলেন, “সুগন্ধি ব্যবহারকারীনী মহিলা যিনাকারীনী।”   আরো ইরশাদ করা হয়, “যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে, সে যেন ফরয গোসলের ন্যায় গোসল করে আমার সাথে নামাযে আসে।”  শুধু তাই নয়, সাথে সাথে পর্দারও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই দেখা যায়, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ফজরের নামায এত অন্ধকার থাকতে শেষ করতেন যে, মহিলাগণ নামায পড়ে যখন চলে যেতেন, তখন তাদেরকে স্পষ্টভাবে চেনা যেতনা। আর এ পর্দার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়েই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মসজিদে নববীর এ দরজাটি যদি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতাম, তবে খুবই উত্তম হতো। অর্থাৎ পর্দার জন্য খুবই সুবিধা হতো।”  কিন্তু বর্তমান যামানায় ঐরূপ ব্যবস্থা বা কঠোরতা কল্পনাও করা যায় না। আর এদিকে লক্ষ্য করেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য হাদীস শরীফে ইরশাদ করেন, “মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায পড়া সর্বোত্তম।”

 সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মহিলাদের প্রথম যুগে জামায়াত বা ঈদগাহে অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, তা’লীম গ্রহণ করা।

পর্দার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

পরবর্তীতে পর্দার গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য করে মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়। কেননা, পর্দা হচ্ছে ফরযে আইন। আর মহিলাদের জামায়াতে নামায পড়া ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব কোনটিই নয়। পর্দা সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ ফরমান,

وقرن فى بيوتكن ولاتبرجن تبرج الجا هلية الاولى.

 অর্থ : “(হে মহিলাগণ) তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাক, জাহিলিয়াত যুগের মেয়েদের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করোনা।” (সূরা আহ্যাব/৩৩)    অন্য আয়াত শরীফে উল্লেখ করা হয়,

واذا سالتموهن متاعا فسئلوهن من وراء حجاب.

অর্থঃ “যখন তোমরা মহিলাদের নিকট কোন জিনিস চাও, তখন পর্দার আড়াল হতে চাও।” (সূরা আহ্যাব/৫৩)

হাদীস শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

المرأة عورة فاذ خرجت استشرفها الشيطان.

অর্থ : “মেয়েলোক হলো আবৃত থাকার বস্তু। যখনই তারা বেপর্দায় রাস্তায় বের হয়, শয়তান উঁকি-ঝুকি মারে তাদের দ্বারা পাপ কাজ সংঘঠিত করার জন্য।”(তিরমিযী, মিশকাত)   হাদীস শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়,

لعن الله الناظر والمنظور اليه.

অর্থ : “দেখনেওয়ালা আর দেখানেওয়ালী উভয়ের উপর আল্লাহ্ পাকের লানত।”

হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়, একদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত সালমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত মায়মুনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বসা ছিলেন। এমন সময় একজন অন্ধ ছাহাবী হযরত উম্মে মাকতূম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আসতে লাগলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা ভিতরে চলে যাও।” তখন উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদেরকে দেখছেননা।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সে যদিও অন্ধ কিন্তু তোমরা তো অন্ধ নও, তোমরা কি তাঁকে দেখছনা?”

এ হাদীস শরীফ দ্বারা বুঝা যায় যে, কোন পুরুষদের বেগানা মহিলাদের দিকে দৃষ্টি দেয়া যেরূপ কবীরা গুণাহ্, তদ্রুপ মহিলাদেরও বেগানা পুরুষের দিকে দৃষ্টি দেয়া কবীরা গুণাহ্।   পর্দার কতটুকু গুরুত্ব তা চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয়। আর এ পর্দার গুরুত্বের জন্যই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের ঘরে নামায পড়া সর্বোত্তম ও অধিক ফযীলতপূর্ণ বলে উৎসাহ প্রদান করেন। আর তাই দেখা যায় পর্দা ফরয হওয়ার পূর্বে মহিলাগণ যেভাবে মসজিদে যেতেন কিন্তু পর্দা ফরয হওয়ার পর ক্রমেই তা কমতে থাকে।

 মহিলাদের ঘরে নামায আদায়  করার উৎসাহ ও ফযীলত

হাদীস শরীফে ইরশাদ করা হয়,

 عن ام سلمة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خير مساجد النساء قعر بيوتهن.

অর্থ : “হযরত উম্মে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মহিলাদের জন্য উত্তম মসজিদ হলো, তার ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠ।”

(সুনানুল কুবরা, আহমদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক) অন্য হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়,

عن عبد الله عن النبى صلى الله عليه وسلم- ماصلت امراة صلاة احب الى الله من صلاتها فى اشد بيتها ظلمة.

 অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মহিলাদের অন্ধকার কুঠরীর নামায আল্লাহ্ পাকের নিকট অধিক প্রিয়।” (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী)

অন্য হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়,

عن ام حميد قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انا نحب الصلاة معك فيمنعنا ازواجنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاتكن فى بيوتكن خير من صلاتكن فى دوركن وصلاتكن فى دوركن افضل من صلاتكن فى مسجد الجماعة.

  অর্থ : “হযরত উম্মে হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা মহিলারা আপনার সাথে নামায পড়তে ইচ্ছুক কিন্তু আমাদের স্বামীরা আমাদেরকে নিষেধ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের জন্য সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে, খাছ ঘরে নামায পড়া উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়া মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে সর্বোত্তম।”         (সুনানুল কুবরা, জাওহারুন নক্বী)

এ হাদীস শরীফ দ্বারা স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বামী কর্তৃক মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার নিষেধকে সমর্থন করেন। যদি তিনি সমর্থন না করতেন, তবে অবশ্য তিনি বলতেন, বাঁধা দেয়া ঠিক হবে না। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা নাজায়িয নয় বরং জায়িয।         উপরোক্ত হাদীস শরীফ সমূহের আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করার জন্য কার্যতঃ উৎসাহ প্রদান করেননি বরং ঘরে নামায আদায় করার বহু ফযীলতও বর্ণনা করেছেন।     যেমন, হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়,

عن ابن عمر عن النبى صلى الله عليه وسلم صلاة المرأة تفضل على صلاتها فى الجمع خمسا وعشرين درجة.

অর্থ : “মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে নামায আদায় করার চেয়ে ঘরে একা নামায পড়ায় ২৫ গুণ বেশী ফযীলত পাওয়া যায়।” (দায়লামী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ৩৮৯)

যেখানে ঘরে একাকী নামায আদায় করায় ২৫গুণ ফযীলত, সেখানে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায আদায় করার হেতু কি, তা আমাদের বোধগম্য হয় না।

 হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিষেধাজ্ঞা ও  হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর সমর্থন

পর্দার গুরুত্ব ও মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করার উৎসাহ ও ফযীলতপূর্ণ হাদীস শরীফের দিকে লক্ষ্য রেখে আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইজতিহাদ করতঃ মহিলাদেরকে মসজিদে এসে জামায়াতে নামায আদায় করাকে নিষেধ করে দেন।       যেমন, কিতাবে উল্লেখ আছে,

ولقد نهى عمر رضى الله عنه النساء عن الخروج الى المساجد.

অর্থ : “নিশ্চয়ই হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মহিলাদেরকে জামায়াতের জন্য মসজিদে যেতে নিষেধ করেন।”   (ফতহুল ক্বাদীর, ফতওয়ায়ে দেওবন্দ, ফতওয়ায়ে রহিমীয়া)      তখন মহিলারা হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন, তখন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন,

لو ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى ما احدثت النساء لمنعهن.

অর্থ : “যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের বর্তমান অবস্থা দেখতেন, তবে অবশ্যই নিষেধ করতেন।” (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)

হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর এ কথার আসল অর্থ হলো- হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যা করেছেন, ঠিকই করেছেন। অর্থাৎ আমি এটাকে পূর্ণ সমর্থন করি। আর এটাকে সমর্থন করার অর্থই হলো, “মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা।”        কাজেই যেখানে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফের দৃষ্টিতে ইজতিহাদ করতঃ মহিলাদের মসজিদে উপস্থিত হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, আর হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এটাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। সেখানে এর বিরোধীতা করে প্রথম যুগের দোহাই দিয়ে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া শুধু কুরআন-সুন্নাহ্ বিরোধীই নয় বরং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ইজতিহাদ ও আমলের স্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ বটে। অথচ হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়,

عليكم بسيتى وسنة الخلفاء الراشدين المهدين.

অর্থ : “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত ও আমার খোলাফা-ই রাশেদীনের সুন্নত অবশ্যই পালনীয়।”  (আহমদ, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্, মিশকাত) এ হাদীস শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মতকে উপেক্ষা করে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অর্থই হলো এ হাদীস শরীফের হুকুমকে অস্বীকার করা।  সুতরাং উপরোক্ত কিতাবসমূহের আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হলো যে, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করেন এবং হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তা পূর্ণ সমর্থন করেন এবং এর দ্বারা এটাও প্রমাণিত হলো যে, যারা বলে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিষেধ করেননি, তারা হয় অজ্ঞ, জাহিল অথবা নিরেট মিথ্যাবাদী।

 মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহরীমী হওয়ার ব্যাপারে ইজমায়ে উম্মত

পরবর্তীতে ইমাম-মুজতাহিদগণ পর্দার গুরুত্ব, মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করার উৎসাহ ও ফযীলতপূর্ণ হাদীস শরীফ ও হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিষেধাজ্ঞা ও হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর সমর্থনের দৃষ্টিতে ইজতিহাদ করতঃ কেউ বিনা শর্তে মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দেন, আর কেউ শর্ত সাপেক্ষে মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দেন তবে হানাফী মাযহাবের সকল ইমামগণই বিনা শর্তে মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দেন এবং উক্ত ফতওয়ার উপর উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা লাভ করে, বিশেষ করে হানাফী মাযহাবের ইমাম-মুজতাহিদদের মধ্যে। যেমন, কিতাবে উল্লেখ করা হয়,

قد اجمعت الامة على كراهة خروج النساء الى الجماعة.

অর্থ : “মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” (ইমদাদুল আহ্কাম)    কাজেই যেখানে বিশ্বের অসংখ্য ইমাম-মুজতাহিদ মহিলাদের মসজিদে যাওয়া নাজায়িয অর্থাৎ মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দেন, সেখানে এর বিরোধীতা করে এটাকে জায়িয বলা গোমরাহী ছাড়া কিছুই নয়। আর এদের ব্যাপারে আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ ফরমান,

ومن يشاقق الرسول من بعد ماتبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ماتولى الخ.

অর্থ : “যে কারো নিকট হিদায়েত বিকশিত হবার পর রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরূদ্ধাচরণ করবে, আর মু’মিনদের পথ রেখে ভিন্ন পথের অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে।” (সূরা নিসা/১১৫)      হযরত শায়খ আহমদ ইবনে আবু সাঈদ মোল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি এ আয়াত শরীফের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন,

فجعلت مخالفة المؤمنين مثل مخالفة الرسول فيكون اجماعهم كخبر الرسول حجة قطعية.

  অর্থ : “এ আয়াতে মু’মিনদের বিরোধীতাকে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধীতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অতএব রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস শরীফের মতো তাদের ইজমাও অকাট্য ও প্রামান্য দলীল বলে পরিগণিত হবে।” (নুরুল আনোয়ার)

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, ইমাম-মুজতাহিদগণের মতের বিরোধীতা করার অর্থ হলো, আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধীতা করা, যা সুস্পষ্ট গোমরাহী।  মূলকথা হলো, মহিলাদের মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী হওয়ার উপর উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে সারাবিশ্বে তা অনুসৃত হয়ে আসছে। ইজমা ও কিয়াস যেহেতু কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফেরই অন্তর্ভুক্ত ও সমর্থিত, সেহেতু উক্ত ইজমাকে অস্বীকার করা বা মু’মিনদের প্রচলিত পথের বিরোধিতা করা কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের দৃষ্টিতে প্রকাশ্য গোমরাহী।

 মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী হওয়ার অকাট্য প্রমাণ

ইমামগণ যে মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দিয়েছেন নিম্নে তার কতিপয় প্রমাণ পেশ করা হলো-

قال صاحب الهدايه ويكره لهن حضور الجماعات يعنى الشواب منهن- وقوله الجماعة يتناول الجمع والاعياج والكسوف والاستسقاء- قال اصحابنا لان فى خروحهن خوف الفتنه وهو سبب للحرام وما يقضى الى الحرام فهو حرام فعلى هذا قولهم يكره مرادهم يحرم .

অর্থ : “হেদায়ার লেখক বলেন, যুবতী মহিলাদের জামায়াতে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী। তিনি আরো বলেন, জামায়াত বলতে এখানে (পাঁচ ওয়াক্তসহ) জুমুয়া, ঈদাইন, কুসূফ, ইস্তিস্কা ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত। আমাদের ফক্বীহগণ বলেন, কেননা তাদের (মাহিলাদের) জামায়াতের জন্য বের হওয়ায় ফিৎনার আশঙ্কা রয়েছে, আর ফিৎনা হারামের অন্তর্ভূক্ত, আর যা হারাম কাজে সহায়তা করে তাও হারাম, এ কারণেই ফকীহ্গণের মাকরূহ্ তাহরীমীর দ্বারা মূলতঃ মহিলাদের জামায়াতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়াই উদ্দেশ্য।” (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ৫ম জিঃ পৃঃ১৫৬, ফতহুল মুলহিম, শরহে মুসলিম ২য় জিঃ পৃঃ৪২৮, তাফহীমুল মুসলিম ১৪ জিঃ পৃঃ ২১)

ومنعهن المتأخرون عن الخروج فعن ابن مسعود مرفوعا صلوة المرأة فى بيتها افضل من صلاتها فى حدرتها وصلاتها فى مخدعها افضلا من صلاتها فى بيتها وهذا يدل على ان مرضى الشرع ان لا تخرجن الى المساجد.

অর্থ : “উলামায়ে মুতাআখ্খিরীনগণ মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষেধ বলে মত প্রকাশ করেন। কেননা হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে মরফূ হাদীস হিসাবে বর্ণিত রয়েছে যে, মহিলাদের হুজরায় নামায আদায় করার চেয়ে ঘরে নামায পড়া সর্বোত্তম এবং ঘরের চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠ সর্বোত্তম। উপরোক্ত হাদীস শরীফের আলোকে শরীয়ত এ মতই ব্যক্ত করে যে, মহিলাগণ জামায়াতের জন্য মসজিদে যাবে না।” (ফায়জুল বারী শরহে বুখারী ২য় জিঃ পৃঃ৩২২, বযলুল মাযহুদ শরহে আবু দাউদ)

امام طام طحاوی کھتے ھیں کہ یہ حکم ابتداء اسلام میں دشمنوں کی نظر میں مسلمانوں کی کثرت وشوکت کے اظھار کیلئے تھا عینی کھتے ھیں کہ اس وقت فتنوں سے امر بھی تھا اب یہ بات نھیں رھی. صاحب بدا نع کھتے ھیں کہ جوان عورتوں کو جمعہ اور عیدیر وغیرہ میں شر کت  کی اجا زت نھیں ھے. کیو نکہ باری تعالی کا ارشاد ھے وقرں فی بیوتکر علاوہ اذیں اس میں فتنہ کا اند یشہ ھے.

 অর্থ : “ইমাম তাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মহিলাদের ইসলামের প্রথম যুগে জামায়াতে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করার কারণ হলো বেদ্বীনদের সম্মুখে মুসলমানদের জনসংখ্যা ও জনশক্তি বৃদ্ধি করা। আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সে যুগ ফিৎনা ফাসাদ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা একেবারেই বিপরীত। বাদায়ের লেখক বলেন, যুবতী মহিলাদের (পাঁচ ওয়াক্তসহ) জুমুয়া, ঈদাইন ইত্যাদিতে যোগদান করার অনুমতি নেই, কেননা আল্লাহ্ পাক বলেন, (হে মহিলাগণ) তোমরা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাক।  এ  ছাড়াও  মহিলাদের  ঘর  হতে  বের  হওয়ার  মধ্যে ফিৎনার আশঙ্কা রয়েছে।”  (মায়ারিফে মাদানিয়াহ, শরহে তিরমিযী ৮ম জিঃ পৃঃ১০৮)

وجب على الامام اونائبه منعهن من ذالك- قال المظهر فيه دليل على جواز خروجهن الى المساجد للصلاة- لكن فى زماننا مكروه- عمم المتأخرون المنع للعجائز واشواب فى الصلوات كلها.

  অর্থ : “ইমাম অথবা তার প্রতিনিধির জন্য জরুরী যেন মহিলাদেরকে জামায়াতের জন্য মসজিদে আসতে নিষেধ করে। হযরত মাযহার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যদিও হাদীস শরীফ দ্বারা মহিলাদের (প্রথম যুগে) মসজিদে যাওয়া প্রমাণিত কিন্তু আমাদের সময়ে তা মাকরূহ্ তাহ্রীমী, (কেননা) মুতাআখ্খিরীন আলিমগণ যুবতী ও বৃদ্ধা মহিলাদের যে কোন নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।”   (সুনানে নাসাই শরহে ইমামুস সুয়ুতী ২য় জিঃ পৃঃ ২৮২, মিরকাত শরহে মিশকাত ৩য় জিঃ পৃঃ ৫৭-৬৭)

ودرین ذمان مکروہ است برامدن ذنان بر ائے جما عت اذ جھت فساد ذمان. وتستر بحال ذنان اولی است.

  অর্থ : “বর্তমান সময়ে মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী, সময়ের পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে মহিলাদের সর্বাবস্থায় পর্দায় (ঘরে) থাকা সর্বোত্তম। ” (আশয়াতুল লুময়াত শরহে মিশকাত ১ম জিঃ পৃঃ ৪৬২, মুযাহেরে হক্ব, লুময়াত শরহে মিশকাত)

بھر حال جمھور کے نزدیک شابہ کو نہ ھی جمعہ وعیدین کیلئے خروح کی اجاذت ھے اور نہ ھی کسی اور نماذ کیلئے. لقولہ تعالی وقرن فی بیوتکن. وجہ یھی ھے کہ انکا خروج فتنہ  کا سبب ھے چنانچہ علماء متا خرین کا فتوی اسی چر ھے کہ اس ذمانہ میر انکا مساجد کی طرف نکلنا درست نھیں.

অর্থ : “জমহুর উলামা-ই-কিরামদের নিকট যুবতী মহিলাদের যেমনিভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ, তদ্রুপ জুময়া ও ঈদাইনেও নিষিদ্ধ। কেননা আল্লাহ্ পাক বলেন, তোমরা মহিলাগণ ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাক। শুধু তাই নয়, তাদের বের হওয়ার মধ্যে ফিৎনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উলামায়ে মুতাাখ্খিরীনগণের ফতওয়া হলো মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া নাযায়েয (হোক যুবতী অথবা বৃদ্ধা)।” (দরসে তিরমিযী ২য় জিঃ পৃঃ৩২১, মায়ারিফে সুনান ৪র্থ জিঃ পৃঃ৪৪৫)

          উপরোক্ত বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, মহিলাদের প্রথম যুগে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফতকালে তিনি মহিলাদের মসজিদে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তা পূর্ণ সমর্থন করেন। শুধু তাই নয় তৎকালীন সময়ের সমস্ত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণও তা বিনা বাক্যে মেনে নেন। কেউ এর বিরোধীতা করেননি। আর পরবর্তীতে হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী ও মালেকী মাযহাবে জামায়াতের জন্য মসজিদে আসাকে মাকরূহ্ তাহ্রীমী বা নাজায়িয বলে ফতওয়া দেন। অর্থাৎ মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী হওয়ার ব্যাপারে হযরত ছাহাবা-ই-কিরামসহ সকল উম্মতেরই ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া বা তাদের জন্য পৃথক মসজিদ তৈরী করার অর্থই হলো, ইসলামী শরীয়ত উনার অন্যতম দলীল ইজমাকে অস্বীকার করা যা মূলত কুরআন-সুন্নাহ্কে অস্বীকার করারই নামান্তর। আর কুরআন-সুন্নাহ্কে অস্বীকার করা হচ্ছে সুস্পষ্ট কুফরী। উল্লেখ্য, মসজিদ তৈরী করা অবশ্যই ছাওয়াব বা ছদকায়ে জারিয়ার কাজ। কিন্তু মহিলাদের জন্য মসজিদ তৈরী করলে ছদকায়ে জারিয়ার পরিবর্তে গুণাহ্ েজারিয়ারই ব্যবস্থা হবে। অর্থাৎ মসজিদে মহিলারা নামায পড়তে আসার কারণে যত পাপ বা গুণাহ্ সংঘটিত হবে সমস্ত গুণাহ্ যারা মসজিদ তৈরী করেছে তাদের আমল নামায় জমা হবে।  {বিঃ দ্রঃ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১১তম সংখ্যাটি পাঠ করুন। যেখানে অসংখ্য কিতাবের বরাতে বিস্তারিত ফতওয়া দেয়া হয়েছে।}         {দলীলসমূহঃ (১) সুনানুল কুবরা, (২) আহমদ, (৩) মুয়াত্তা ইমাম মালিক, (৪) সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, (৫) জাওহারুন নক্বী, (৬) দায়লামী শরীফ, (৭) ফতহুল ক্বাদীর,  (৮) আবু দাউদ, (৯) বুখারী, (১০) মুসলিম শরীফ, (১১) মিশকাত শরীফ, (১২) ইমদাদুল আহ্কাম, (১৩) নুরুল আনোয়ার, (১৪) উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, (১৫) ফতহুল মুলহিম, (১৬) শরহে মুসলিম, (১৭) তাফহীমুল মুসলিম, (১৮) ফায়জুল বারী শরহে বুখারী, (১৯) বযলুল মাযহুদ শরহে আবু দাউদ, (২০) মায়ারিফে মাদানিয়াহ, (২১) শরহে তিরমিযী, (২২) সুনানে নাসাই শরহে ইমামুস সুয়ূতী, (২৩) মিরকাত শরহে মিশকাত, (২৪) দরসে তিরমিযী, (২৫) মায়ারিফে সুনান, (২৬) আশয়াতুল লুময়াত শরহে মিশকাত, (২৭) মুযাহিরে হক্ব, (২৮) লুময়াত শরহে মিশকাত, (২৯) ফতওয়ায়ে দেওবন্দ, (৩০) ফতওয়ায়ে রহিমীয়া ইত্যাদি}  মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাশার, বরিশাল।  সুওয়ালঃ   “ছয় তাকবীরের সহিত ঈদের যে নামায পড়া হয় তা কোন হাদীসে নেই।” জনৈক মাওলানা ছাহেবের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক? দয়া করে জানিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন। জাওয়াবঃ  উল্লিখিত মাওলানা ছাহেবের বক্তব্য মোটেও সঠিক নয় বরং সম্পূর্ণ উদ্ভট, মিথ্যা, দলীল বিহীন, জিহালতপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। সঠিক বক্তব্য হচ্ছে, ছহীহ্ হাদীস শরীফের কিতাবসহ অনেক হাদীস শরীফের কিতাবে ছয় তাকবীরের সহিত ঈদের নামায পড়ার কথা বর্ণিত রয়েছে। যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফের ছহীহ্ কিতাব আবূ দাউদ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

ان سعيد بن العاص رضى الله تعالى عنه سال ابا موسى الاشعرى وحذيفة بن اليمان كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكبر فى الاضحى والفطر فقال ابو موسى كان يكبر اربعا تكبيره على الجنائز فقال حذيفة صدق فقال ابو مؤسى كذلك اكبر فى البصرة حيث كنت عليهم قال ابو عائشة الاموى وانا حاضر سعيد بن العاص.

অর্থঃ “হযরত সায়ীদ ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হুযায়ফা বিন ইয়ামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম ঈদুল আদ্বহা ও ঈদুল ফিত্রের নামাযে কিভাবে বা কত তাকবীর বলতেন? হযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তিনি জানাযার নামাযের তাকবীরের মত প্রতি রাকয়াতে চার তাকবীর বলতেন। এটা শুনে হযরত হুযায়ফা বিন ইয়ামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তিনি (হযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) সত্য বলেছেন। অতঃপর হযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি অনুরূপ তাকবীর বলে ঈদের নামায আদায় করতাম যখন বসরা শহরের শাসক ছিলাম।      হযরত আবূ আয়েশা উমবী বলেন, (এ হাদীস শরীফ বর্ণনাকালে) আমি সায়ীদ ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম।”         হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,

عن تعض اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قال صلى بنا النبى صلى الله عليه وسلم يوم عيد فكبر اربعا واربعا ثم اقبل علينا بوجهه حين انصرف فقال لاتنسوا كتكبير الجنائز واشار باصابعه وقبض ابهامه.

অর্থ : “হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনেকে বলেন যে, হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ঈদের নামায পড়লেন। তিনি (উক্ত নামাযে) চার চার বার তাকবীর পাঠ করলেন অতঃপর নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা ভুলে যেওনা যে, ঈদের তাকবীর হচ্ছে জানাযার তাকবীরের অনুরূপ এবং তিনি স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলী গুটিয়ে বাকী অঙ্গুলীসমূহ দ্বারা ইশারা করে জানিয়ে দিলেন।” (ইলাউস্ সুনান, ত্বহাবী শরীফ, কিতাবুয্ যিয়াদাত) হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে

عن علقمة والاسود قالا كان ابن مسعود رضى الله تعالى عنه جالسا وعنده حذيفة وابو موسى الاشعرى فسالهم سعيدبن العاص عن التكبير فى صلاة العيد فقال حذيفة سل الاشعرى فقال الاشعرى سل عنذ الله فانه اقدمنا واعلمنا فساله فقال ابن مسعود يكبر اربعا ثم يقرء ثم يكبر فير كع فيقوم الثنية فيقرء ثم يكبر اربعا بعذ القراءة.

অর্থ : “হযরত আলকামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আসওয়াদ আমিরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, কোন এক স্থানে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বসা ছিলেন এবং তাঁর নিকট অবস্থান করছিলেন হযরত হুযায়ফা বিন ইয়ামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। অতঃপর তাঁদেরকে হযরত সায়ীদ ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঈদের নামাযের তাকবীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, হযরত হুযায়ফা বিন ইয়ামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আপনি (এ ব্যাপারে) হযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞাসা করুন। তখন হযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন যে, আপনি হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞাসা করুন। কারণ তিনি আমাদের চেয়ে (দ্বীন গ্রহণের ক্ষেত্রে) অগ্রগামী এবং (দ্বীন সম্পর্কে) বেশী জানেন। অতঃপর সায়ীদ ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তিনি (অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাযের শুরুতে) চার বার তাকবীর বলতেন অতঃপর ক্বিরয়াত পাঠ করতেন অতঃপর তাকবীর বলে রুকুতে চলে যেতেন অতঃপর দ্বিতীয় রাকয়াতে দাড়িয়ে শুরুতে ক্বিরয়াত পাঠ করতেন অতঃপর ক্বিরয়াত পাঠের পর চারবার তাকবীর পাঠ করতেন।” (মুসনদে আব্দুর রাজ্জাক, ফিকহুস্ সুনান ওয়াল আছারুস্ সুনান) ব্যাখ্যাঃ- আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত হাদীস শরীফে كان يكبر اربعا অর্থাৎ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার নামাযে চার তাকবীর বলতেন, এর ব্যাখ্যায় ছহীহ্ আবূ দাউদ শরীফের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ বজলুল মাজহুদ সহ সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে,

كان يكبر فى كل ركعة اربعا اى مع تكبيرة الاحرام فى الاولى وتكبيرة الركوع فى الثانية.

  অর্থ : “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক রাকয়াতে চার বার তাকবীর পাঠ করতেন। অর্থাৎ প্রথম রাকয়াতে তাকবীরে তাহরীমাসহ চার তাকবীর, দ্বিতীয় রাকায়াতে রুকুর তাকবীরসহ চার তাকবীর।”        উল্লেখ্য, উপরোক্ত প্রতিটি হাদীসই ছহীহ্ ও হাসান এবং রাবী বা বর্ণনাকারীগণ সকলেই ছেক্বাহ-এর অর্ন্তভূক্ত। কাজেই গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে সে সকল হাদীস শরীফ যেমন সন্দেহের অবকাশ রাখেনা তেমনি দলীল পেশ করার ক্ষেত্রেও কোনরূপ বাধা নেই। আর এ সকল ছহীহ্ ও হাসান হাদীস শরীফের ভিত্তিতে      হানাফী মাযহাবের মাসয়ালা ও আমল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ঈদের নামায ছয় তাকবীরের সাথে আদায় করা ওয়াজিব।   মোটকথা প্রথম রাকয়াতে তাকবীরে তাহরীমা এবং দ্বিতীয় রাকয়াতে রুকুর তাকবীর এ দুটি তাকবীর হচ্ছে নামাযের মধ্যকার তাকবীর। আর উভয় রাকয়াতে তিন+তিন=ছয় তাকবীর হচ্ছে ঈদের নামাযের জন্য অতিরিক্ত তাকবীর। অতএব, ছয় তাকবীর সম্পর্কে উক্ত মাওলানার বক্তব্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস শরীফ ও আমলের প্রতি মিথ্যা তোহ্মতের কারণে সম্পূর্ণ কুফরী হয়েছে যার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেন,

من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار.

অর্থ : “যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন যমীনে থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (বুখারী শরীফ) {দলীলসমূহঃ (১) বুুখারী, (২) মুসলিম, (৩) আবূ দাউদ, (৪) মুসনদে আব্দুর রাজ্জাক, (৫) ত্ববারানী, আছারুস্ সুনান, (৬) মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ, (৭) তাক্বরীবুত্ তাহযীব, (৮) নেহায়া, (৯) দেরায়া, (১০) ফিক্হুস্ সুনান ওয়াল আছার, (১১) ইলাউস্ সুনান, (১২) ত্বহাবী শরীফ, (১৩) কিতাবুয্ যিয়াদাত, (১৪) বজলুল মাযহুদ, (১৫) আউনুল মা’বুদ, (১৬) মিশকাত, (১৭) মিরকাত, (১৮) আশয়াতুল লুময়াত, (১৯) লুময়াত, (২০) শরহুত ত্বীবী, (২১) তালীকুছ ছবীহ, (২২) মুযাহিরে হক্ব ইত্যাদি)  মুহম্মদ আব্দুল্লাহ্, কাশিমগঞ্জ, তেতুলিয়া।  সুওয়ালঃ  “শবে বরাত” ও “শবে ক্বদরে” যে নামায পড়া হয় তা-কি সুন্নত? না, নফল? এ নামায জামায়াতে পড়া যাবে কি-না?  জাওয়াবঃ  বরাত ও ক্বদরের রাত্রিতে বরাত ও ক্বদরের নিয়তে যে নামায পড়া হয় মাসয়ালার দিক থেকে যদিও তা নফল কিন্তু ফযীলতের দিক থেকে তা সুন্নতেরই অন্তর্ভূক্ত। কারণ বরাত ও ক্বদরের রাত্রিতে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারারাত্রি সজাগ থেকে তাছবীহ্-তাহ্লীল, যিক্র-আযকার, দোয়া-দরূদ, তওবা-ইস্তিগ্ফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগীসহ কিছু নামায-কালামও আদায় করতেন। সুতরাং তাঁর অনুসরণে উক্ত রাত্রিতে কিছু নামায-কালাম আদায় করা সুন্নতে যায়েদা। এ নামায একাকী আদায় করতে হবে। জামায়াতে আদায় করা যাবেনা। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুমুয়া, দু’ ঈদ, সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগহণ ও ইস্তিস্কা এবং রমাদ্বান শরীফে তারাবীহ্ ও বিত্র নামাযের জামায়াত ব্যতীত অন্য কোন নফল কিংবা সুন্নত নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহ্রীমী।  {দলীল সমূহঃ- (১) আলমগীরী, (২) খুলাছাতুল ফতওয়া, (৩) ফতওয়ায়ে গিয়াসিয়া, (৪) ফতওয়ায়ে শাফিয়া, (৫) বাহরুর রায়েক, (৬) মকতুবাত শরীফ, (৭) জাওহারাতুন্ নাইয়্যারাহ্, (৮) মাবসূত লিস্ সারাখসী, (৯) মাছাবাতা বিস্ সুন্নাহ্, (১০) দুররুল মুখতার, (১১) রদ্দুল মুহ্তার, (১২) শামী, (১৩) গায়াতুল আওতার, (১৪) কুহেস্তানী, (১৫) শরহে মুনিয়া, (১৬) মিনহাতুল খালিক্ব, (১৭) ফতওয়ায়ে তাতারখানিয়া, (১৮) ফতহুল ক্বাদীর, (১৯) হাশিয়ায়ে তাহতাবী, (২০) মারাকিউল ফালাহ্, (২১) শরহে নেক্বায়া (২২) শরহে ইলিয়াছ, (২৩) শরহে হেদায়া, (২৪) আশবাহ্ ওয়ান্ নাযায়ের, (২৫) ইলাউস্ সুনান, (২৬) ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, (২৭) নেহায়া ইত্যাদি}  মুহম্মদ আজাহার আলী, সিলেট।  সুওয়ালঃ  “ক্বিবলা” ও “কা’বা” শব্দের অর্থ কি? পীর ছাহিবকে “ক্বিবলা” ও “কা’বা” বলে সম্বোধন করা শরীয়তসম্মত কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক। জাওয়াবঃ  “ক্বিবলা” শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে  “জিহাত বা দিক।” আর  “কা’বা” শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে “মুরাব্বাউশ্ শাক্ল বা চতুস্কোন বিশিষ্ট ঘর” এবং উভয় শব্দ দ্বারা বাইতুল্লাহ্ শরীফকেও বুঝানো হয়ে থাকে। আর পারিভাষিক অর্থে ক্বিবলা ও কা’বা শব্দদ্বয় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তা হচ্ছে যার দিকে রুজু হয়।          কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্বিবলা বা কা’বা হচ্ছে পাঁচ প্রকার। যথা- (১) নামাযের ক্বিবলা হচ্ছে- “বাইতুল্লাহ্ শরীফ।” এজন্য বাইতুল্লাহ্ শরীফের দিকে মুখ করে নামায আদায় করতে হয়।  (২) দোয়া বা মুনাজাতের ক্বিবলা হচ্ছে- “আসমান।” এজন্য হাতের তালুদ্বয় আসমানের দিকে করে মুনাজাত করতে হয়। (৩) মাখলুকাতের ক্বিবলা হচ্ছেন- “আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” কেননা তিনি হলেন সৃষ্টির মূল, তাঁর উছীলায় সমস্ত মাখলুকাতের সৃষ্টি। (৪) সমস্ত ক্বিবলাকে বিলীনকারী ক্বিবলা হচ্ছেন- “স্বয়ং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন।” (৫) ক্বিবলায়ে কুলূব বা কাল্বের ক্বিবলা হচ্ছেন- “পীর ছাহিব।” যাঁর ফয়েজের মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বত ও মা’রিফাতের ফয়েযে মুরীদ ফয়যিয়াব বা ফয়েযপ্রাপ্ত হয়, ক্বালব ও অন্যান্য লতিফাসমূহে যিকির জারী হয়। অতঃপর ক্বালব (অন্তর)সহ সমস্ত লতিফা পরিশুদ্ধ হয় এবং ইখলাছ পয়দা হয়। আর তখনই মুরীদের পক্ষে গায়রুল্লাহ্ মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহ্ পাক উনার জন্য ইবাদত করা সম্ভব।

অতএব, পীর ছাহেবের নামের সাথে ক্বিবলা ও কা’বা শব্দ ব্যবহার করা শরীয়তসম্মত।  {দলীলসমূহ : (১) শামী, (২) দুররুল মুখতার, (৩) আইনুল ইয়াক্বীন, (৪) বেহেশ্তী জেওর-পুরাতন ছাপা ইত্যাদি}

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ