হুব্বুল আওওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, ছহিবুল মুহব্বত, ছহিবু উসওয়াতিন্ হাসানাহ্, ছহিবুল ইহ্সান, হাবীবুল্লাহ্  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিশুদের প্রতি দয়া বা স্নেহ

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ জয়নুল আবেদীন মুরাদী

مانحل والد ولده من نحل افضل من أدب حسن.

অর্থঃ- “সন্তানকে ভাল আদব-কায়দা ও স্বভাব-চরিত্র শিক্ষা দেয়া অপেক্ষা পিতা-মাতার পক্ষে উত্তম শিক্ষা প্রদান আর কিছুই হতে পারেনা।” (বায়হাক্বী, তিরমিযী, মিশকাত)

          তথাকথিত উন্নত বিশ্বে আজ মায়া-মমতা নিঃশেষিত প্রায়। এমনকি যান্ত্রিক সভ্যতার যাতাকলে তারা আজ শিশুদের প্রতিও স্নেহ-মমতা প্রদর্শনে চরম অমানবিকতা প্রদর্শন করে। বিষয়টি ওদের রাষ্ট্র যন্ত্রকে ভাবিয়ে তুলছে। তাই ওরা গাড়ীতে, বিভিন্ন স্থানে “আপনার শিশুকে আজ চুমো খেয়েছেন কি?” এধরণের অনেক শ্লোগান দিয়ে শিশুদের প্রতি স্নেহ-মমতা জাগরিত করতে চাইছে। অথচ প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর পূর্বে রহমতুল্লিল আলামীন, রাউফুর রহীম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের প্রতি অভূতপূর্ব স্নেহ মমতার নজীর স্থাপন করেছেন।

          শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার তাক্বীদ দিতে গিয়ে শাফিউল উমাম, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যারা শিশুদের প্রতি দয়া বা স্নেহ করেনা এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেনা সে আমার দলভূক্ত নয়।” (তিরমিযী, মিশকাত)

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা সন্তানদের মাঝে সুবিচার প্রতিষ্ঠা কর এবং ইনছাফ কায়েম কর।” (মুসনাদে আহমদ)

          হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শিশুদের নিকট দিয়ে হেঁটে যেতেন তখন শিশুদের সালাম দিতেন।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

          হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, “কোন এক সময় এক বেদুঈন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি শিশুদের চুমু দেন? আমি তো কখনো শিশুদের চুমু দেই না।’ জবাবে খাইরুল আলম, হাবীবাল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ বেদুঈনকে লক্ষ্য করে বললেন, “আল্লাহ্ পাক যদি তোমার অন্তর থেকে দয়া ছিনিয়ে নেন তাহলে আমার কি করার আছে।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

          হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, ছহেবে আলক্বাব, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যখন কোন নবজাতক শিশু নিয়ে আসা হতো তখন রহমতে আলম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের জন্য দোয়া করতেন এবং তাদের মিষ্টি মুখ করাতেন।” (মুসলিম)

          হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “সাইয়্যিদুল বাশার, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তুলনায় সন্তান-সন্ততিদের প্রতি অধিক মুহব্বতকারী দ্বিতীয় আর কাউকে দেখিনি।” এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারওয়ারে কাওনাইন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা শরীফের এক উঁচু প্রান্তে ধাত্রী মায়ের নিকট দুধ পান করতেন। সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই সেখানে যেতেন, আমরাও সাথে যেতাম। সাইয়্যিদুল মাখদুম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ঘরে যেতেন অথচ ঐ ঘরটি প্রায়ই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকতো। কারণ হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ধাত্রী মায়ের স্বামী ছিলেন একজন কর্মকার। সুলতানুন নাছির, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে কোলে তুলে নিতেন এবং আদর করে চুমু দিতেন। অতঃপর সেখান থেকে চলে আসতেন।” (বুখারী, মুসলিম)

          ছহেবে আসমাউল হুসনা, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের যে রকম ভালবাসতেন, মুহব্বত করতেন আল্লাহ্ পাক আমাদেরকেও অনুরূপ মুহব্বত করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ