হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আব্দুর রউফ

قل لااسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى.

অর্থঃ- “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন (হে বিশ্ববাসী)! আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার আত্মীয়-স্বজনদের তথা বংশধরদের সাথে সদাচরণ করবে।” (সূরা শুরা/২৩)

          উপরোক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন তাফসীরের কিতাবে বিভিন্ন হাদীস শরীফের আলোকে বলা হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ্ পাক প্রদত্ত নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন বিনিময় উম্মতের কাছে চাননি। তবে তাঁর সম্মানিত বংশধরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার, তাঁদের তাযীম-তাকরীম করার, তাঁদের অনুসরণ-অনুকরণ করার তাক্বীদ দিয়েছেন।

          আরো উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশ ধারা হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও তাঁর আওলাদদ্বয় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মাধ্যমে বিশ্বময় জারী রয়েছে। (তাফসীরে ইবনে হাতেম, ইবনে কাছির, মাযহারী, মারেফুল কুরআন ইত্যাদি)

          এই মর্মে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

الحسن والحسين سيدا شباب اهل الجنة.

অর্থঃ- “হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হচ্ছেন বেহেশ্তের যুবকদের সাইয়্যিদ বা সর্দার।”

          অতএব, যারা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বংশের বা আওলাদ তাঁরাই সাইয়্যিদ বা আওলাদুর রসূল।

          এই আওলাদুর রসূল বা সাইয়্যিদগণের  প্রতি তাযীম-তাকরীম করা, তাঁদের খিদমত করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্ পাক-এর কছম! ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মুসলমান ব্যক্তির অন্তরে ঈমান দাখিল হবেনা (হাক্বীক্বীভাবে ঈমানদার হবেনা) যতক্ষণ সে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টির জন্য আমার বংশধর হওয়ার কারণে কুরাঈশদেরকে মুহব্বত না করবে।” আওলাদুর রসূলগণ কুরাঈশগণের অন্তর্ভূক্ত অর্থাৎ আওলাদুর রসূলগণের মুহব্বতই ঈমানের অঙ্গ।” (আমহদ, ইবনে কাছির)

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হলো, আল্লাহ্ পাক-এর কিতাব। যার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। তোমরা কিতাবুল্লাহ্কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধর। “তিনি কিতাবুল্লাহ্র প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, “দ্বিতীয়টি হলো, আমার আহলে বাইত বা (আওলাদগণ) বংশধরগণ। তাঁদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি। তাঁদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি।” (মুসলিম, মিশকাত)

          অন্যত্র সাইয়্যিদুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

انى تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা তা আঁকড়িয়ে ধর তবে পথভ্রষ্ট হবে না। প্রথমতঃ আল্লাহ্ পাক-এর কিতাব ও দ্বিতীয়তঃ আমার বংশধর (আওলাদগণ)।”

          আহ্লে বাইত তথা আওলাদুর রসূলগণের খুছূসিয়ত, মর্যাদা, মর্তবা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত সম্পর্কে অন্য হাদীস শরীফে রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমার আওলাদগণ-এর উদাহরণ হলো হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর কিস্তির ন্যায়। যে তাতে প্রবেশ করেছে (অর্থাৎ যে আমার আওলাদগণকে মুহব্বত করে) সেই নাযাত পেয়েছে।” (সিররুশ শাহাদাতাইন)

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “নিশ্চয়ই আমার আওলাদগণ বণী ইসরাইলের হিত্তাতুন-এর ন্যায়। যারা তা বলেছে (অর্থাৎ যারা তাঁদের তাযীম-তাকরীম করেছে) তারা নাযাতপ্রাপ্ত।” (সিররুশ্ শাহাদাতাইন)

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “তারকারাজী আসমানের নিরাপত্তা দানকারী আর আমার বংশধর বা আওলাদগণ যমীনের নিরাপত্তা দানকারী। সুতরাং যখন আমার আহলে বাইত বা আওলাদগণ (দুনিয়া থেকে) চলে যাবেন তখন দুনিয়াবাসী সকলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” (আহমদ, মিশকাত, হাশিয়ায়ে মিশকাত)

          বিশ্ববাসীর জন্য নিরাপত্তা দানকারী, নাযাত দানকারী, ধ্বংস থেকে রক্ষাকারী, ঈমান-আমল হিফাযতকারী, আওলাদুর রসূলগণকে মুহব্বত করলে তবে আল্লাহ্ পাক ও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

احبوا الله تعالى لمايغدوكم من نعمه واحبونى بحب الله واحبوا اهل بيتى بحبى.

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক তোমাদের যে নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহ্ পাককে মুহব্বত করো। আর আমাকে মুহব্বত করো আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি লাভ করার জন্য। আর আমার আহলে বাইতকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টির জন্য।”

          আর তাই অতীতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়া-ই-কিরাম আল্লাহ্ পাক ও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য মন প্রাণ উজাড় করে এমনকি সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে আওলাদে রসূলগণকে মুহব্বত করেছেন, খিদমত করেছেন। “আনোয়ারে আরিফীন” কিতাবে হযরত রবি বিন সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুবারক খিদমতের তাযীম-তাকরীমের, মুহব্বতের বিরল ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি হজ্বের যাত্রা পথে আওলাদুর রসূলগণকে মুহব্বত করে, তাঁদের দুঃখে ব্যথিত হয়ে আওলাদুর রসূলগণের এক অসহায় পরিবারকে সাহায্য করেছিলেন বলে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তাঁকে স্বপ্নযোগে দীদারের মাধ্যমে সু-সংবাদ দান করেছেন।

          আওলাদুর রসূলগণকে বর্ণনাতীত মুহব্বত, তাযীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শনের নজীর স্থাপন করেছেন ইমামুল আইম্মা, হাকিমুল হাদীস, হযরত ইমাম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি একবার বসে দরস দেয়ার সময় মাঝে মাঝে দরস বন্ধ করে বার বার দাঁড়িয়ে এক শিশু যিনি আওলাদুর রসূলগণের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেছেন (সুবহানাল্লাহ্)। আর এর মূল কারণই হচ্ছে তাঁরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁরা মানুষের ঈমান-আমল হিফাযতের উছীলা। তাঁদের অনুসরণ-অনুকরণ পথ ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা

আন্ নাবীউস্ সালেহ্, ছহিবুল উসীলা, হায়াতুন্ নবী, রিসালতে পানাহ্, আকরামুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন,  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পর্শ ধন্য কিছু জিনিস মুবারকের বেমেছাল মর্যাদা ও ফযীলত প্রসঙ্গে