তিমির মেঘেতে আবরিত আজ ধরণীর দেহ তল,
অজ্ঞান আর বর্বর দ্বারা মজলুমে কোলাহল।
উৎপীড়কের প্রহরণ ঘাতে পৃথিবী পড়িছে নুয়ে,
মরদুদ ঐ হুংকার মারে বিকারী হিংস্র ছুয়ে।
সারা দুনিয়ার ইহুদী, ওহাবী, খারিজীরা তার সেনা,
শিবির-জামাতী, খ্রীষ্ট নমরা করিছে তাহার বন্দনা।
তাবলীগী আর রেজভীরা তার পিয়ন গিরিতে রহে,
কাদিয়ানী আর বাহাই নাস্তিক শয়তানি ঘানি বহে।
ঐ রাজারবাগের সুন্নি বাগানে ইলাহীর প্রেম ভরা,
সদা মাদানী রবিতে আলোকিত রহে জান্নাতি টুকরা।
সেথায় হিন্দু নমর প্রদীপ জ্বলেনা, উঠেনা খ্রীষ্ট রোদ,
নাস্তিকতার ধুম্র আসেনা মরদুদ ভোলে বোধ।
ঐ রাজারবাগেই ইসলাম শুধু জাগেরে জিন্দা ফুলে,
দেখ জান্নাতেরই স্নিগ্ধ সমীর সৌরভে উঠে দুলে।
খলীফা খোদার লক্ষ ওলীর আলোকিত মারকাজ,
গাউছূল আ’যম, বীর মুজাদ্দিদ পঞ্চ শতকী তাজ।
মুজাদ্দিদ তাঁর তাজদীদ দ্বারা বিদয়াত উপড়ে ফেলে,
ওলামায়ে‘ছূ’র মুখোশ পুড়ায়ে কালিমা তাহাতে ঢালে।
রাজারবাগীর দেহেরে ভেবেছ খরকুটা দিয়ে গড়া?
ইহুদীবাদের মিছে অগ্নিতে পোড়াতে চাহিস তোরা!
রে ওহাবী, খারিজী, জামাতী, শুনরে খুলিয়া কান,
তিনি রসূলের নূরে তৈরী, ঐ খলিলের খান্দান,
খলিলী শপথে দীপ্ত চেহারা কুরাইশী মেহ্মান।
তিনি ছিদ্দীক্বী শান ফারুকের দান হায়দারী মহিয়ান,
যিন্ নূরাইনের দীপ্ত চেতনায় বাতিল করিছে ম্লান,
ঐ সাইফুল্লাহ্র জালালী জোশে ভরপুর তার প্রাণ।
উম্মুল মু’মিনীন আর ছাহাবা লইয়া রসূল সফর করেন,
দেশে দেশে যেয়ে কলেমা দাওয়াত অকাতরে ঢেলে দেন।
অনুরূপ সেই সুন্নি সৌর্যে মুজাদ্দিদ উঠেন জেগে,
তিনি পঞ্চদশ শতকের ঘোর জাহিলে উদয় রাজারবাগে।
লয়ে মহিলা পুরুষ আহালবর্গ সুন্নতি ফরমান,
কাফেলা তাঁহার ঐশি নূরেই চমকে অনির্বাণ।
খোদার পথের পথিক সকল মুরীদান নিবেদিত,
আহ্লে সুন্নার অমীয় প্রচারে সদা রহে নিয়োজিত।
ইহা দেখে হায় ইবলিস জ্বলে শির চুল ছিড়ে ছিড়ে,
শয়তানী তার বিদায় হচ্ছে কোহেকাফ কূট গীরে।
ক্ষোভের যাতনা পারেনা সহিতে নেমে আসে অবসাদ,
ধরা হতে তার পরাজয় ভেবে হয়ে যায় উন্মাদ।
তড়িৎ কহিছে ইহুদী চেলারে ওহাবী খারিজী ডাক্,
অপবাদের ঐ ধুয়ায় এবার রাজারবাগীরে ঢাক্।
প্রচার করে দে প্রতি জনপদে ঢাক ঢোল পিটিয়ে,
রাজারবাগীরা সফর করিছে অবলা মহিলা নিয়ে।
অশ্লীল বলিয়া গালি দাও তারে মিছিল আর সভা করে,
মূর্খ জনতা কিতাব পড়েনা ধোকা দাও জোরে শোরে।
ইহুদী আদেশে ওহাবী খারিজী নেমে পড়ে রাস্তায়,
মুজাদ্দিদের বিরুদ্ধে তারা কাছা বেঁধে লেগে যায়।
কতনা অশ্লীল অপবাদ দিয়ে জনপদে গেয়ে ফিরে,
শুন মুসলিম, চেয়ে দেখ তোরা দিল মন সব ধরে।
মিছিল করিয়া চিৎকারে তারা নিতে চায় প্রতিশোধ,
মিথ্যা খবর ও গণসংযোগে করিতেছে প্রতিরোধ।
হায়! এত সব কিছু করিয়া ওহাবী বিফলে থুব্ড়ে পড়ে,
ঐ মুজাদ্দিদের দর্শন লাগি মুসলিম ভীড় করে।
নছীহতে তাঁর জাগ্রত হয় মুমিন-মু’মিনা দিল,
আল্লাহ সব অনুগত হয় মুছে ফেলে গরমিল।
সহজ-সরল মুসলিম সবে চিনিছে, ওহাবী কি?
কত জঘন্য খারিজী, জামাতী ছলনাতে রহে ঢাকি।
গাউছূল আ’যম রাজারবাগীরে আল্লাহ্র ওলী বলে,
সেই মুসলিম তাঁরে আপন হৃদয়ে যতো রাখিছে তুলে।
তিরস্কার করে, ধিক্কার দেয়, খারিজী জামাতীদের, ইহুদী চালরে,
রুখিবার তরে শপথ লইছে ফের।
কহে, নিবেদিত রবো মুজাদ্দিদের তাজদীদী খিদমতে,
তাই বাস্তবে সবে রঙ্গীন হবো রসূলের সুন্নতে।
মোদের ইমামাতুছ ছিদ্দীক্বা মা ঐ হাবীবায়ে রহমান,
তিনি মুর্শিদে আ’যমের সহধর্মিনী ধরণীতে গুলশান।
তিনিও শরীক দ্বীনের দাওয়াতে গাউছে পাকের সাথে,
শরয়ী পর্দায় সফর করেন ইলাহী ইশ্কে গেঁথে।
অবলা সরলা মুমিনা মাঝারে জরুরী তা’লীম বেলা,
নিবেদিতা হন সর্বদা তিনি ত্যাগিয়া আয়েশ হেলা।
ঝাঁকে ঝাঁকে তাই সরলা রমনী বোরকা পরিয়া আসে,
হাবীবা খোদার ছোহবতে তারা তা’লীম লইছে খোশে।
তারা, কতনা অজানা মাসয়ালা জানিছে ধর্মীয় অবয়বে,
ভুল পথে থাকা আফসুস ধ্বনি নিগারিছে চুপি রবে।
শোকর আদায় করিছে তাহারা আল্লাহ্র দরগায়,
সাইয়্যিদাতুন্ নিসার পরশে ইছলাহ্ মিলিয়া যায়।
একে একে তারা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাতের হচ্ছে সদস্যা,
এবার নিজ মহিলাঙ্গনে হক্ব প্রচারিয়া ঘুঁচায় সমস্যা।
তাই দিকে দিকে আজ মুজাদ্দিদের তাজদীদ কামিয়াব,
ইহাই দেখিয়া মরদুদ হায় কাঁদিয়া করে বিলাপ।
কাঁদিতেছে ঐ ওহাবী, খারিজী, জামাতী ভূষণ ছিড়ে,
শোকে যোগ দেয় মরদুদ সাথে ধরণীতে ঘুরে ঘুরে।
শোকর গুজারী দরবারে খোদা আমরা মুসলমান,
তব ওলীর পরশে পাইছি ফিরিয়া সত্যের সন্ধান।
-বিশ্বকবি, শায়খ মুহম্মদ মুফাজ্জলুর রহমান (উফিয়া আনহু)
হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মকবুলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ রহেন উজ্জ্বলে-১৮৬
খোলা চিঠির খোলা জবাব- (১) : আল বাইয়্যিনাত-এর দলীলের বলে – রেযাখানী গোষ্ঠী গেল সকলের পদতলে
খোলা চিঠির খোলা জবাব- (২) আল বাইয়্যিনাত-এর দলীলের বলে, রেযাখানী গোষ্ঠী গেল সকলের পদতলে
খোলা চিঠির খোলা জবাব- (3) আল বাইয়্যিনাত-এর দলীলের বলে, রেযাখানী গোষ্ঠী গেল সকলের পদতলে
খোলা চিঠির খোলা জবাব- (১) আল বাইয়্যিনাত-এর দলীলের বলে, রেযাখানী গোষ্ঠী গেল সকলের পদতলে