– হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম
আল্লাহ্ প্রেমিক পাঠক! গত সংখ্যায় যে বলা হয়েছিলো ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা, ইমাম রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর প্রতি আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরফ হতে বিভিন্ন মাধ্যমে যে সব খোশ-খবরী (সু-সংবাদ) প্রকাশিত হয়েছে সে সম্পর্কে যদি কিতাব প্রণয়ন করা হয় তবে তা হবে বিশাল সমুদ্রের তুলনায় একটি বিন্দুর ন্যায়।
সুতরাং তাঁর খোশ-খবরী তথা লক্বব সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, ‘নবী’ এবং ‘রসূল’ লক্বব ব্যতীত যত লক্বব আছে সমস্ত লক্ববের তিনি জামে বা মেছদাক। (সুবহানাল্লাহ্)
আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হতে যিনি অনুক্ষণ সু-সংবাদপ্রাপ্ত। সন্তানের মত যিনি রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোলে লালিত-পালিত তাঁর মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান সম্পর্কে মানুষ কতটুকু অবগত হতে পারবে। আর কি বা বর্ণনা করা যাবে? কেননা, আল্লাহ্ পাক তাঁর মনোনীত বান্দা আউলিয়া-ই-কিরামগণের মর্যাদা-মর্তবা, বযূর্গী-সম্মান তথা গোপন রহস্য যতটুকু প্রকাশ করেছেন তাতেই তো সাইয়্যিদুল মুজাহিদীন, মাহবুবে ইলাহী হযরত মনসুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মত অসংখ্য বান্দাকে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে। সর্ব সাধারণের কাছে “কাফির” আখ্যা পেতে হয়েছে কত আউলিয়া-ই কিরামগণকে তাঁর কি কোন ইয়ত্তা আছে? তাছাড়া হাল যামানার মুজাদ্দিদ সম্পর্কে জাহিরী আলিম এবং উলামায়ে ‘ছূ’ গোষ্ঠী যে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে তা কারো অজানা নেই। সর্বোপরি আল্লাহ্ পাক বলেছেন, “আমার ওলীগণ আমার কুদরতী জুব্বার নীচে অবস্থান করেন। আমি এবং আমার একান্ত মনোনীত বান্দাগণ ব্যতীত কেউ তাঁদেরকে চিনেনা।”
তবে হক্ব তালাশী, আল্লাহ্ প্রেমিক পাঠকগণের খিদমতে আপাততঃ এটুকু বলে রাখতে চাই যে, ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ্, সাইয়্যিদুনা, ইমাম রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হচ্ছেন ঐ সমস্ত সু-সংবাদপ্রাপ্ত আউলিয়া-ই-কিরামগণের অন্যতম যাদের সম্পর্কে প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বেই আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষৎবাণী করেছেন। (সুবহানাল্লাহ্)
এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “একদা আমরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুমহান সান্নিধ্যে বসা ছিলাম। সেখানে হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুও বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় “সূরা জুময়া” নাযিল হলো। আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা আমাদেরকে পাঠ করে শুনালেন। তিনি যখন পাঠ করলেন,
واخرين منهم لما يلحقوابهم
অর্থাৎ “এবং অন্যান্যদের জন্য ও যারা এখনও তাঁদের সাথে মিলিত হয়নি।” তখন এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলো, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তারা কারা? তখন তিনি নিরুত্তর রইলেন। এ প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করা হলো দু’তিনবার। পরে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উপর হাত মুবারক রেখে বললেন, ঈমান যদি ‘সুরাইয়া’ তারকার নিকটও চলে যায় তবুও তাকে সেখান থেকে ছিনিয়ে আনবে তার সম্প্রদায়ের কিছু লোক।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তাফসীরে মাযহারী- ৯/২৭৫, রুহুল মায়ানী- ১৪/৯৪, খাযিন-৪/২৬৪, তাবারী-২১/৬২, হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৫/১৫৫, কুরতুবী-১৮/৯৩) য (অসমাপ্ত)