কাদিয়ানী রদ! (১)
(পঞ্চম ভাগ)
(কুতুবুল ইরশাদ, মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফোক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীছ, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লাম শাহ সূফী শায়খ মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খ-ে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমীন) এক্ষেত্রে উনার কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষায় সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।
(ধারাবাহিক)
(৯) হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার একটি মো’জেজা সম্বন্ধে মির্জা ছাহেবের ভিন্ন ভিন্ন মত।
কুরআন শরীফ উনার সূরা মায়েদার ১৫ রুকুতে আছে;
واذ تخلق من الطين كهيئة الطير باذنى فتنفخ فيها فتكون طيرا باذنى-
খোদা কেয়ামত দিবসে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার উপর যে নেয়া’মতগুলি প্রদান করিয়াছিলেন, তৎসমুদয়ের আলোচনা প্রসঙ্গে বলিবেন-
“যখন তুমি আমার হুকুমে মৃত্তিকা হইতে পক্ষীর আকৃতি প্রস্তুত করিতে পরে উহাতে ফুৎকার করিতে, ইহাতে উহা আমার আদেশে পক্ষী হইয়া যাইত।” এজালায় আওহাম, ২০৩ পৃষ্ঠা-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“ইহা সম্পূর্ণ ভ্রান্তিমূলক, ফাছেদ ও মোশরেকানা মত যে, মছিহ মৃত্তিকার পক্ষীসমূহ বানাইয়া এবং তৎসমূদয়ে ফুক দিয়া তৎসমস্তকে সত্য সত্যই পক্ষী প্রস্তুত করে দিতেন বরং ইহা মিছমেরিজম ছিল।”
আরও উক্ত পৃষ্ঠা-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“মছিহ এইরূপ কার্য্য করিতে (পক্ষী বানাইতে) উক্ত তালাবের মৃত্তিকা আনয়ন করিতেন- যাহাতে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উনার তাছির নিহিত ছিল।”
আরও ১৯৪/১৯৫ পৃষ্ঠা-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“হযরত মছিহ মৃত্তিকার খেলার জিনিস কোন কল দ্বারা দাবাইতেন কিম্বা ফুক দিতেন, ইহাতে উহা পক্ষীর ন্যায় উড়িয়া যাইত, কেননা তিনি নিজের পিতা ইউছুফ উনার সহিত ২২ বৎসর পর্যন্ত করাতির কার্য্য করিতেন।” (অসমাপ্ত)
(ধারাবাহিক)
এ সকল আয়াত শরীফ তাবলীগ বা ইসলাম প্রচারের সাথে সম্পৃক্ত। যখন কোন কাফিরের সাথে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কথা বলবে, তখন তাকে খুবই ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের সাথে কথা বলতে হবে। শুধু ইসলামের সকল ভাল দিক সম্বন্ধে যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন করলেই চলবে না; সেই কাফির ব্যক্তিকেও তার ধর্মের ভাল দিক গুলো উত্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। এটা জরুরী যে কাফিরদের মতবাদকে খুব সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে একজন মুসলমান সহজেই তাকে খন্ডন করতে পারে এবং অন্য ধর্মের কল্পনা প্রসূত দর্শনের উপর ইসলামের শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে। প্রকৃত সত্য এই যে, কুরআন শরীফ উনার মধ্যে শুধু দু’জনের মধ্যে আলোচনার নির্দেশই নেই বরং মুসলমানদের প্রতি আদেশ রয়েছে কাফিরদের নিকট তাদের ধর্মে বিশ্বাসের দলীল পেশ করতে বলা। যা “যদি সত্যবাদী হও দলীল পেশ কর।” এই আয়াত শরীফ দ্বারা পরিস্কার বুঝা যায় এবং এটাই ইংগিত বহন করে যে কাফিরদের জন্য এরূপ কোন দলীল দেয়া কখনও সম্ভব নয়। এটা বলা হয়েছে-
……..
(এটা মিথ্যা বর্ণনাকারীকে সম্বোধনের একটি সাধারণ ভাষা) একটি উপসংহারমূলক সিদ্ধান্ত এই যে, কুরআন শরীফ উনার যুক্তি খ-ন করা যাবেনা। অবিশ্বাস করার অনুকূলে কোন যুক্তি সম্ভব নয়।
এটা অমুসলিমদের ধর্মীয় আলোচনা দ্বারা মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করার সম্ভাবনা বাতিল করে দেয়। আয়াত শরীফগুলোতে কেবল এটাই উল্লেখ করা হয়েছে, অবিশ্বাসীদেরকে কিভাবে ইসলঅম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করা যাবে; এই আয়াত শরীফগুলো অমুসলিমদের ধর্ম প্রচারের (ক্ষেত্রে) সহায়তাক হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
কুরআন শরীফ, পবিত্র রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ বা তাফসীরের কোথাও উল্লেখ নেই যে অমুসলিমরা মুসলমানদের মধ্যে তাদের (কাফিরদের) ধর্ম প্রচার করতে পারবে।
এ সকল আয়াত শরীফ এবং তাফসীর সমূহ মুসলমানদের মধ্যে অমুসলিমদের ধর্ম প্রচারর মৌলিক অধিকারের যুক্তি যথেষ্ট নয়। তবে এটা ইসলামী রাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত অমুসলিমদের (কাফির) ধর্ম প্রচারের অনুমোদন দিবে কিনা। যে সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কিন্তু এটাও গ্রহণীয় যদি কাফিররা অমুসলিম হিসেবে ধর্ম প্রচার করে এবং মুসলমান নামে করা চলবে না। সংসদ অন্যান্য শর্তসমূহও জারী করতে পারবে।
মৌলানা মওদুদী তার “ইসলামী রিয়াসাত” পুস্তকের ৫৮২ থেকে ৬০২ পৃষ্ঠায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনানুগ অধিকারের বিশদ আলোচনা করেন এবং সেখানে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রে কাফিরদের ধর্মীয় পুস্তক প্রকাশের পক্ষ সমর্থন করেন, যেন তারা তাদের ধর্মের উৎকৃষ্টতা প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্য ধর্মাবলম্বীর (কাফিরের) কোন মুসলমানের নিকট তার ধর্ম প্রচার গ্রহণীয় নয়। তিনি আরও বলেন যে, কোন মুসলমানদের ধর্ম পরিবর্তনের অনুমোদন নেই।
মিঃ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ অনুমোদিত মানবাধিকার সনদ থেকে উদ্ধৃতি দেন। অনুচ্ছেদটি তিনি উল্লেক করেন নি¤œরূপ ঃ
“অনুচ্ছেদ ১৮- প্রত্যেক মানুষ মুক্ত চিন্তা, চেতনা ও ধর্মীয় অধিকার (ভোগ) করবে। এই অধিকারের বলে সে তার ধর্ম বা বিশ্বাস পরিবর্তনে ক্ষমতাবান। তা সে একা বা অন্যান্যদের সাথে সমাজবদ্ধভাবে এবং প্রকাশ্যে বা গোপনে করতে পারবে। তার ধর্ম প্রকাশে, বিশ্বাসে অনুশীলনে, ইবাদতে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনেও ক্ষমতাবান।”
এ ধর্মে কোন দেশের অধিবাসীদের দেয়ার মত কিছুই নেই যে তার ধর্ম প্রচারের অধিকার দেয়া যাবে।
সবশেষে ইসলামিক কাউন্সিলের প্রকাশিত দুটি সম-সাময়িক সমস্যা নিয়ে লেখা বাঁধাইহীন পুস্তিকার উল্লেখ করা যেতে পারে। একটি, “মানবাধিকার ঘোষণা” এবং অন্যটি “ইসলামিক সংবিধানের রূপরেখা” পুস্তিকা দুটিতে মানবাধিকার বর্ণনা প্রধানতঃ কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ উনাদের আদেশ অনুযায়ী করা হয়েছে এবং জাতি সংঘে এটাই অনুমোদিত হয়েছে। অতিরিক্ত কিছু অধিকারের উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন- বিচার অধিকার, ক্ষমতা অপব্যবহারের প্রতিবাদ ব্যবস্থা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা অধিকার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যাপারে সর্বসাধারণের সম্পৃক্ত বিষয়ে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, অবস্থান এবং শ্রমিকদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিত হবে তাদের ধর্মীয় আইন ও আচার অনুযায়ী। (অসমাপ্ত)
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)