সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মানুষ এমন অনেক আমল করেন যা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফে পেশ করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ আমলগুলি দেখে আমলবাহী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক করেন, “ঐ আমলগুলি এই ব্যক্তির আমলনামা হতে কেটে দিন। কারণ, এগুলি আমার সন্তুষ্টি মুবারকের জন্য করা হয়নি। বরং তার আমলনামায় অমুক কার্য লিখে দিন। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম যেহেতু লোকটিকে তদ্রু কাজ করতে দেখেননি তাই উনারা বিস্মিত হন। মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফে আরয করেন, বারে ইলাহী! এই ব্যক্তি তো তদ্রুপ আমল করেনি। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, কার্যক্ষেত্রে এ সকল কাজ করতে দেখা না গেলেও লোকটি এই কার্যগুলো করার নিয়ত করেছিল। সুবহানাল্লাহ! (কিমিয়ায়ে সাআদাত-৭/১৭৯)
উল্লেখ্য যে, নিয়তবিহীন আমল ইবাদত বলে গণ্য হয় না। পক্ষান্তরে আমলবিহীন নিয়ত ইবাদত বলে গণ্য হয়ে থাকে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দির উদ্দেশ্য মনে না রেখে কোন আমল করলে তা ইবাদত বলে গণ্য হয়না। কিন্তু নেক আমল করার জন্য দৃঢ় নিয়ত বা সংকল্প করতঃ কোন প্রতিবন্ধকতাবশতঃ আমলটি করতে না পারলেও সৎ নিয়তটি ইবাদত বলে গণ্য হবে। আর তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যথারীতি পূণ্যের অধিকারী হবেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মুসলমানগণ যখন কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য বের হয়, রণক্ষেত্রে কাফিরদের সাথে মুকাবিলায় লিপ্ত হয় তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তাদের আমলনামার মধ্যে লিখতে থাকেন। অমুক ব্যক্তি বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে জিহাদ করতেছে। অমুক ব্যক্তি নিজের মান-সম্মান রক্ষার্থে জিহাদ করতেছে। পরিশেষে লিপিবদ্ধ করেন অমুক ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিলের জন্য জিহাদে লিপ্ত হয়েছেন। শুধু সেই ব্যক্তিই মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় শহীদ হয়েছেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র মসজিদে যায় সে যেন মহান আল্লাহ পাক উনার মিছালী ছূরতে দীদার মুবারক লাভের নিয়তে যায়। কারণ যে ব্যক্তি কারো সাক্ষাতে যায় সাক্ষাৎকৃত ব্যক্তির কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় সাক্ষাতকারী ব্যক্তির প্রতি সম্মানপ্রদর্শনপূর্বক তার মনসন্তুষ্টি সাধন করা।’
কাজেই মসজিদে গমনকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মিছালী ছূরত মুবারকে দীদার মুবারক লাভের নিয়তে গমন করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি একইভাবে তাকে সন্তুষ্ট করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
কোন মুরীদ বা সালিক যখন কোন ওলীআল্লাহ উনার সাক্ষাত মুবারকে যায় তখন তাকে বিশুদ্ধ নিয়ত করা অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মিছালী ছূরতে দীদার মুবারকের নিয়ত করা উচিত। বর্ণিত আছে-
مَنْ اَرَادَ اَنْ يـَّجْلِسَ مَعَ اللهِ فَلْيَجْلِسْ مَعَ اَهْلِ التَّصَوُّفِ
অর্থ: যদি কোন ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ছোহবত মুবারকে বসতে চায়, দীদার মুবারক পেতে চায়, সে যেন আহলে তাছাওউফ অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণের ছোবত মুবারকে বসে। অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণের দর্শন মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার দর্শন মুবারকের অন্তর্ভুক্ত।
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৩)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৪)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৫)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৬)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)