(কুতুবুল ইরশাদ, মুবাহিছে আয’ম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাস্সিরীন, হাফিযুল হাদীছ, মুফতিউল আ’যম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরতুল আল্লামা মাওলানা শাহ্ ছূফী শায়েখ মুহম্মদ রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত ‘কাদিয়ানী রদ’ কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত)। আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ পত্রিকায় ইতিপূর্বে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছি। পাঠকদের অনুরোধে তা পুনরায় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে কাদিয়ানীসহ সমস্ত বাতিল ফিরক্বা থেকে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের প্রচেষ্টায় কামিয়াবী দান করুন। আমীন!
যদিও তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়।
মির্জা গোলাম প্রতিশ্রুত মাহদী
হতে পারে কিনা?
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
পাঠক, মির্জা কাদিয়ানী এখানে মাহদী শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘হিদায়েত প্রাপ্ত’ গ্রহণ করেছে, এতে এরূপ বিকৃত অর্থ হয়, সে সময় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ব্যতীত অন্য কেউ হেদায়েত প্রাপ্ত হবেনা, কিন্তু ইহা একেবারে বাতিল অর্থ। দ্বিতীয় ইবনে মাজাহর হাদীছ শরীফ জঈফ ইহা ইমাম ছুয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মেছবাহোজ- জোজাজা’ কিতাবে বিস্তারিতরূপে লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এর প্রথম রাবি ইউনুস ইবনে আবদুল আ’লা, দ্বিতীয় রাবি ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তৃতীয় রাবি মুহম্মদ বিন খালেদ, চতুর্থ রাবি আবান ইবনে ছালেহ, পঞ্চম রাবি হাছান, কিন্তু ইউনুস উহা ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট শ্রবণ করেননি, মুহম্মদ ইবনে খালেদ জঈফ ও অপরিচিত ব্যক্তি। আবান ইবনে ছালেহ, হাসানের নিকট কোন হাদীছ শরীফ শ্রবণ করেননি।
আবুল হাসান ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে স্বপ্নযোগে সাক্ষাত করে জিজ্ঞাসা করেছেন, এতে তিনি বলেন, ইউনুস আমার নিকট হতে মাহদী সংক্রান্ত যে হাদীছ শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন, তা মিথ্যা। মূল কথা এই যে, মুহাদ্দিছগণের নিকট উপরোক্ত হাদীছ শরীফখানা ছহীহ নয়। মিজ্জর্া কাদিয়ানী নিজেই এজালাতোল আওহামের ২/২৯৩ পৃষ্ঠায় ও হাকিকাতোল মাহদীর ২০ পৃষ্ঠায় লিখেছে যে, মাহদী সংক্রান্ত হাদীছ শরীফগুলি জঈফ, এই হেতু ইমাম বুখারি ও মুসলিম তৎসমস্ত বর্ণনা করেননি। এই হিসাবে এই হাদীছ শরীফখানা বাতিল হবে।
গোলাম কাদিয়ানী যে ইবনু-মাজাহ হতে উক্ত হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেছে, উক্ত কিতাবে নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ আছে-
قَالَ إِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ، فَـبَـيْـنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَـقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ، إِذْ نَـزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ، فَـرَجَعَ ذَلِكَ الْإِمَامُ يَمْشِي الْقَهْقَرَى، لِيَـتَـقَدَّمَ عِيْسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ، فَـيَضَعُ عِيْسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، ثُمَّ يَـقُوْلُ لَهُ: تَـقَدَّمْ فَصَلِّ، فَإِنَّـهَا لَكَ أُقِيْمَتْ، فَـيُصَلِّيْ بِهِمْ إِمَامُهُمْ
“হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাদের (দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের) ইমাম (অগ্রনী) একজন নেক্কার ব্যক্তি হবেন, উক্ত ইমাম ফজরের সময় তাদের জন্য নামায পড়তে অগ্রসর হবেন, এমতাবস্থায় উক্ত সময়ে তাদের নিকট হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম তিনি নাযিল হবেন, এতে উক্ত ইমাম পশ্চাতের দিকে হেঁটে আসবেন যেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি অগ্রগামী হয়ে নামায পড়েন। তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি দুই কাঁধের মধ্যে হাত স্থাপন করে উনাকে বলবেন, আপনি অগ্রসর হয়ে নামায পড়ুন, কেননা এই নামায আপনার (ইমামতের) জন্য ইক্বামত বা সাব্যস্ত করা হয়েছে। কাজেই তিনি তাদের নামায পড়াবেন।”