সম্মানিত মুসলমান উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা। তারা যালিম, ধেঁাকাবাজ, মিথ্যাবাদী, লা’নতপ্রাপ্ত, গযবপ্রাপ্ত এবং চির জাহান্নামী। তাদের অনুসরণ করা, তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করা, তাদের প্রশংসা করা এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা প্রত্যেকটাই কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। অনুরূপভাবে তাদের দিবস বা উৎসব পালন করা এবং তাতে অংশ গ্রহণ করা, তাদের পণ্য-দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করা কাট্টা হারাম। আর তাদের প্রতি কঠোর হওয়া এবং অনন্তকালের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী শত্রুতা ও ঘৃণা প্রকাশ করা ফরয। নিম্নে তাদের নিকৃষ্টতা, অপবিত্রতা এবং সম্মানিত মুসলমান উনাদের প্রতি তাদের কঠিন শত্রুতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী হচ্ছে কাফির-মুশরিকরা
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنْدَ اللهِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا فَـهُمْ لَا يُـؤْمِنُـوْنَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী হচ্ছে যারা কাফির, ঈমান আনে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
কাফির-মুশরিকরা নাপাক, অপবিত্র
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا الْمُشْرِكُوْنَ نَـجَسٌ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মুশরিকরা হচ্ছে নাপাক, অপবিত্র।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
তাদের প্রতি কঠোর হওয়া ফরয
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مُّحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ وَالَّذِيْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَى الْكُـفَّارِ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর উনার সঙ্গী-সাথী অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমগণ উনারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাতাহ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)
সম্মানিত মুসলমান উনাদের
সবচেয়ে বড় শত্রু
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
لَـتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الْـيَـهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْا
অর্থ: “অবশ্যই আপনি পাবেন সম্মানিত মুসলমান উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ইহুদী এবং মুশরিকদেরকে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে খাযিন’-এ উল্লেখ রয়েছে,
لَـتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّـلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الْـيَـهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْا اَللَّامُ فِـىْ قَـوْلِهٖ لَـتَجِدَنَّ لَامُ الْقَسَمِ تَـقْدِيْـرُهٗ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّكَ لَـتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّـلَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا بِكَ وَصَدَّقُـوْكَ الْـيَـهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْا وَوَصَفَ اللهُ شِدَّةَ عَدَاوَةِ الْـيَـهُوْدِ وَصَعُوْبَةَ اِجَابَــتِهِمْ اِلَـى الْـحَقِّ وَجَعَلَهُمْ قَـرْنَاءَ الْمُشْرِكِـيْـنَ عَبْدَةَ الْاَصْنَامِ فِـى الْعَدَاوِةِ لِلْمُؤْمِنِيْـنَ وَذٰلِكَ حَسَدًا مِّنْـهُمْ لِلْمُؤْمِنِيْـنَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক لَـتَجِدَنَّ (লাতাজিদান্না) উনার মধ্যে اللام (লাম) হচ্ছেন লামে ক্বসম। এখানে উহ্য বাক্য হচ্ছেন- وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّكَ মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনার প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং আপনার সমস্ত কিছু বিনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে সত্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন, উনাদের জন্য আপনি অবশ্যই অবশ্যই সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন- (১) ইহুদী এবং (২) মুশরিকদেরকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে ইহুদীদের (ঈমানদার উনাদের প্রতি) চরম শত্রুতা এবং হক্ব বা সত্য গ্রহণের বিমুখতার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মু’মিন উনাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও চরম শত্রুতা করার দিক থেকে ইহুদী এবং মূর্তিপূজারী মুশরিকরা যে সমান সেটি জানিয়ে দিয়েছেন।” (তাফসীরে খাযিন ২/৬৮)
তারা চায় মুসলমান উনাদেরকে
কাফির বানাতে
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَدَّ كَثِـيْـرٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِـتٰبِ لَوْ يَـرُدُّوْنَكُمْ مِّنْ بَۢعْدِ اِيْـمَانِكُمْ كُـفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ اَنْـفُسِهِمْ مِّنْ بَۢعْدِ مَا تَـبَـيَّـنَ لَـهُمُ الْـحَقُّ
অর্থ: “আহলে কিতাব অর্থাৎ (কাফির-মুশরিক) ইহুদী-নাছারারা চায় আপনারা ঈমান আনার পর কি করে আপনাদেরকে কাফির বানানো যায়। তাদের ব্যক্তিগত হিংসাবশত। তাদের নিকট সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরেও।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৯)
সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে
তাদের মাল-সম্পদ খরচ
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا يُـنْفِقُوْنَ اَمْوَالَـهُمْ لِـيَصُدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللهِ فَسَيُـنْفِقُوْنَـهَا ثُـمَّ تَكُوْنُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُـمَّ يُـغْلَـبُـوْنَ وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْآ اِلـٰى جَهَنَّمَ يُـحْشَرُوْنَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা কাফির, তারা তাদের মাল-সম্পদ খরচ করে সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। (এজন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত) তারা খরচ করতেই থাকবে। তারপর এটা তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে। অতঃপর তারা পরাজিত হবে। (তারপরেও সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে কাফির বানানোর জন্য তারা খরচ করতেই থাকবে।) আর যারা কাফির তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি জাহান্নামে একত্রিত করবেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)
সম্মানিত মুুসলমান উনাদেরকে
শহীদ করার প্রত্যাশা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا خَلَا يَـهُوْدِىٌّ قَطُّ بِـمُسْلِـمٍ اِلَّا هَمَّ بِقَتْلِهٖ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখনই কোনো (কাফির-মুশরিক বা) ইহুদী কোনো মুসলমান উনাকে একাকী পায়, তখনই সে উনাকে শহীদ করতে চায়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (দায়লামী শরীফ, ইবনে কাছীর, আল ফাতহুল কাবীর ইত্যাদি)
কাফির-মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব
করা কুফরী
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يٰۤـاَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا لَا تَـتَّخِذُوْا عَدُوِّىْ وَعَدُوَّكُمْ اَوْلِـيَآءَ تُـلْقُوْنَ اِلَـيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوْا بِـمَا جَآءَكُمْ مِّنَ الْـحَقِّ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আপনারা আমার ও আপনাদের যারা শত্রু তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবেন না। আপনারা তো তাদের সাথে বন্ধত্ব করেন; অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আপনাদের নিকট যা এসেছেন (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে, মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে) তারা অস্বীকার করে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুমতাহিনাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
لَا يَـتَّخِذِ الْمُؤْمِنُـوْنَ الْكٰـفِرِيْنَ اَوْلِـيَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِيْـنَ ۖ وَمَنْ يَّــفْعَلْ ذٰلِكَ فَـلَيْسَ مِنَ اللهِ فِـىْ شَىْءٍ
অর্থ: “মু’মিনগণ যেন ঈমানদারগণ উনাদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক রূপে গ্রহণ না করে। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, তার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। অর্থাৎ সেও কাফির হিসেবে গণ্য হবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
তাদের ভয়ঙ্কর বিদ্বেষ ও শত্রুতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يٰۤـاَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا لَا تَـتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَاْلُوْنَكُمْ خَبَالًا وَدُّوْا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْـبَـغْضَآءُ مِنْ اَفْـوَاهِهِمْ وَمَا تُـخْفِىْ صُدُوْرُهُمْ اَكْـبَـرُ قَدْ بَـيَّـنَّا لَكُمُ الْاٰيٰتِ اِنْ كُـنْـتُمْ تَـعْقِلُوْنَ. هٰاَنْـتُمْ اُولَآءِ تُـحِبُّـوْنَـهُمْ وَلَا يُـحِبُّـوْنَكُمْ وَتُـؤْمِنُـوْنَ بِالْكِـتٰبِ كُلِّهٖ وَاِذَا لَقُوْكُمْ قَالُوْا اٰمَنَّا وَاِذَا خَلَوْا عَضُّوْا عَلَيْكُمُ الْاَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوْتُـوْا بِغَـيْظِكُمْ اِنَّ اللهَ عَلِـيْمٌ بِۢذَاتِ الصُّدُوْرِ. اِنْ تَـمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَاِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّـئَةٌ يَّـفْرَحُوْا بِـهَا وَاِنْ تَصْبِـرُوْا وَتَـتَّـقُوْا لَا يَضُرُّكُمْ كَـيْدُهُمْ شَيْـئًا اِنَّ اللهَ بِـمَا يَـعْمَلُوْنَ مُـحِيْطٌ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আপনারা সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে ব্যতীত বিধর্মীদেরকে অর্থাৎ ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদেরকে ঘনিষ্ট বন্ধু, উপদেষ্টা, পরামর্শদাতা হিসেবে গ্রহণ করবেন না। কারণ, তারা আপনাদের ক্ষতি করতে কোনো প্রকার ত্রুটি করে না। তারা চায় আপনাদের কষ্ট হোক। তাদের মুখ থেকেই (আপনাদের প্রতি কঠিন) বিদ্বেষ প্রকাশ পায়। আর তাদের অন্তরে যা গোপন রয়েছে, তা আরো ভয়ঙ্কর, কঠিন। আমি আপনাদের জন্য নিদর্শন মুবারকসমূহ বা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ বর্ণনা করলাম যদি আপনারা তা বুঝতে পারেন, উপলব্ধি করতে পারেন। আপনারাই তো ঐ সমস্ত লোক আপনারা তাদেরকে মুহব্বত করেন, তারা (কিন্তু) আপনাদেরকে মুহব্বত করে না। আপনারা সমস্ত কিতাব বিশ্বাস করেন। (তারা কিন্তু আপনাদের কিতাব মুবারক বিশ্বাস করে না।) আর যখন তারা আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তারা বলে আমরা ঈমান এনেছি, (আমরা আপনাদেরকে নিরাপত্তা দিবো, আপনাদের উপকার করবো ইত্যাদি ইত্যাদি)। আর যখন তারা নিরিবিলি একাকী হয়, তখন আপনাদের প্রতি রাগে-গোস্বায় তাদের আঙ্গুলসমূহ কামড়াতে থাকে। (কেন সম্মানিত মুসলমান উনাদের কোনো ক্ষতি করা গেলো না।) বলুন, ‘তোমরা তোমাদের গোস্বায় মারা যাও।’ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তরের অন্তস্থলের বিষয়ও জানেন। যদি আপনাদের নিকট কোনো কল্যাণ বা খাইর বরকত পেঁৗছে, তখন তারা কষ্টপায়। অর্থাৎ যদি আপনাদের কোনো কল্যান বা উন্নতি হয়, তখন তারা কষ্ট পায়। আর যদি আপনাদের কোনো বালা-মুছীবত হয়, তখন তারা খুশি হয়। যদি আপনারা ধৈর্য্য ধারণ করেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকতে পারেন এবং তাকওয়া অবলম্বন করেন, তাহলে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আপনাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা আমল করে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তা বেষ্টন করে রেখেছেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৮-১২০)
কাফির-মুশরিক ও ইহুদী-নাছারাদেরকে জাযীরতুল আরব থেকে
বের করে দেয়া ফরয
এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَخْرِجُوا الْـيَـهُوْدَ وَالنَّصَارٰى مِنْ جَزِيْـرَةِ الْعَرَبِ حَتّٰـى لَا يَـبْـقٰى بِـهَا اِلَّا مُسْلِمٌ
অর্থ: “তোমরা ইহুদী-নাছারাদেরকে জাযীরতুল আরব থেকে বের করে দাও। যাতে সেখানে একমাত্র সম্মানিত মুসলমান উনারা ব্যতীত কেউই না থাকে।” সুবহানাল্লাহ! (আখবারু মাক্কা ৩/১৩, মুসনাদে বাযযার ১/৩৪৯, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছাল ১৩/৩৮৬ ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
اَخْرِجُوا الْمُشْرِكِـيْـنَ مِنْ جَزِيْـرَةِ الْعَرَبِ
অর্থ: “আপনারা মুশরিকদেরকে জাযীরতুল আরব থেকে বের করে দিন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
এ কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার খিলাফত মুবারককালে ইহুদী-নাছারা ও মুশরিকদেরকে জাযীরতুল আরব থেকে বের করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আদ দুর্রুল মানছূর, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্)
সম্মানিত বিদায় হজ্জ মুবারক উনার দিনে বিশেষ ঘোষণা মুবারক
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَذَانٌ مِّنَ اللهِ وَرَسُوْلِهٖۤ اِلَـى النَّاسِ يَـوْمَ الْـحَجِّ الْاَكْـبَـرِ اَنَّ اللهَ بَرِىْٓءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِـيْـنَ وَرَسُوْلُهٗ فَاِنْ تُـبْـتُمْ فَـهُوَ خَيْـرٌ لَّـكُمْ وَاِنْ تَـوَلَّـيْـتُمْ فَاعْلَمُوْاۤ اَنَّـكُمْ غَيْـرُ مُعْجِزِى اللهِ وَبَشِّرِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِعَذَابٍ اَلِـيْمٍ
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জে আকবর বা বিদায় হজ্জ মুবারক উনার দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের পক্ষ থেকে মানুষদের প্রতি ঘোষণা মুবারক করা হচ্ছে- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা মুশরিকদের থেকে মুক্ত অর্থাৎ মুশরিকদের সাথে উনাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যদি তোমরা তওবা করো, (মুশরিকদের থেকে ফিরে আসো, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো,) তাহলে সেটা তোমাদের জন্য উত্তম হবে, কল্যাণকর হবে। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, (মুশরিকদের থেকে ফিরে না আসো, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করো,) তাহলে জেনে রেখো- নিশ্চয়ই তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বরং তোমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে)। আর কাফেরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
তাদের সাথে চিরস্থায়ী শত্রুতা ও
ঘৃণা প্রকাশ করা ফরয
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِـىْۤ اِبْـرٰهِيْمَ وَالَّذِيْنَ مَعَهٗۤ اِذْ قَالُوْا لِقَوْمِهِمْ اِنَّا بُـرَآٰءُ مِنْكُمْ وَمِـمَّا تَـعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَـيْـنَـنَا وَبَـيْـنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْـبَـغْضَآءُ اَبَدًا حَـتّٰـى تُـؤْمِنُـوْا بِاللهِ وَحْدَهٗ
অর্থ: “তোমাদের জন্য হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার অনুসারীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ মুবারক রয়েছেন। যখন উনারা উনাদের স¤প্রদায়কে বলেছিলেন- ‘আমরা তোমাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে জুদা, আলাদা, তোমাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ব্যতীত তোমরা যাদের উপাসনা করো, তাদের সাথেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করেছি। আর এখন থেকে এটাই প্রকাশ পেলো অর্থাৎ সাবস্ত্য হলো তোমরা একক মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমাদের সাথে আমাদের মাঝে অনন্তকালের জন্য অর্থাৎ ক্বিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী শত্রুতা ও ঘৃণাবোধ।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুমতাহিনাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
কাজেই, সম্মানিত মুসলমান উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকরা। তারা যালিম, ধেঁাকাবাজ, মিথ্যাবাদী, লা’নতপ্রাপ্ত, গযবপ্রাপ্ত এবং চির জাহান্নামী। তাদের অনুসরণ করা, তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করা, তাদের প্রশংসা করা এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা প্রত্যেকটাই কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। অনুরূপভাবে তাদের দিবস বা উৎসব পালন করা এবং তাতে অংশ গ্রহণ করা, তাদের পণ্য-দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করা কাট্টা হারাম। আর তাদের প্রতি কঠোর হওয়া এবং অনন্তকালের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী শত্রুতা ও ঘৃণা প্রকাশ করা ফরয।
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে উপরোক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের উপর আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ইবনে ছিদ্দীকুর রহমান।