-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
واستغفروا الله ان الله غفور رحيم.
অর্থঃ- “তোমরা আল্লাহ্ পাক-এর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (সূরা মুযাম্মিল/২০)
যেসব উছীলাকে কেন্দ্র করে আল্লাহ্ পাক বান্দাকে ক্ষমা করেন তাদের প্রতি রহমত, বরকত, সাকীনা নাযিল করেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাযাত দিয়ে জান্নাতে দাখিল করেন রমাদ্বান মাসের ইবাদত-বন্দেগী সেসবের মধ্যে এক অন্যতম উছীলা। এ মাসের প্রথম দশদিন রহমতের, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের ও শেষ দশদিন নাযাতের। রমাদ্বান মাসের বুযুর্গী সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
من اكرم شهر الله رمضان اكرمه الله تعالى بالجنة ونجاه من النار.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর মাস রমাদ্বান শরীফকে সম্মান করলো আল্লাহ্ পাক তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে নাযাত দিয়ে সম্মানিত করবেন।” (সুবহানাল্লাহ্)
এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ওয়াকেয়া উল্লেখ করা হয়েছে, আরব দেশের এক এলাকায় একজন ইহুদী মহিলা বসবাস করত। সে মারা যাবার পর এক বুযুর্গ ব্যক্তি স্বপে¦ দেখেন যে মহিলাটি বেহেশ্তে বিচরণ করছে। সে ঈমান এনেছিল কিনা সেটা কেউ জানত না। এটা দেখে সেই বুযুর্গ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “হে মহিলা! তুমি কি করে জান্নাতে স্থান পেলে? কারণ জান্নাত তো কাফিরদের জন্য হারাম। তুমিতো জাহান্নামে যাওয়ার কথা।” সে বলল, হুজুর! একটা ঘটনা ঘটে গেছে, সেটা হয়ত আপনার জানা নেই। কি ঘটনা? সে বলল, আমার মৃত্যুর পূর্বে যে রমাদ্বান মাস অতিবাহিত হয়েছিল, সেই রমাদ্বান মাসে আমি একবার বাজারে গেলাম কিছু খরিদ করার জন্য। সাথে একটা বাচ্চা ছিল, তাকে কোলে করে নিয়ে কিছু রুটি-বিস্কুট খরিদ করে তার কাছে রাখতে দিলাম। বাচ্চাটা রাস্তার মধ্যে প্রকাশ্যে খাওয়া শুরু করল। আমি তাকে একটা আঘাত বা থাপ্পড় দিয়ে বললাম, হে ছেলে! তুমি যদিও বাচ্চা, আর যদিও আমরা মুসলমান নই তবুও এটা মুসলমানদের রমাদ্বান মাস, এটাকে সন্মান করতে হবে, তুমি খেওনা। আমি রুটি-বিস্কুটগুলো কেড়ে নিলাম তার কাছ থেকে। আল্লাহ্ পাক এর বদৌলতে পরবর্তী সময়ে আমাকে মৃত্যুর পূর্বেই ঈমান নছীব করেছেন। যার বদৌলতে আজকে আমি জাহান্নামে না গিয়ে জান্নাতে গিয়েছি। (সুবহানাল্লাহ্) রোযাদারের ফযীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صام رمضان من اوله الى اخره خرج من ذنوبه كيوم ولدته امه.
অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমাদ্বান শরীফে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোযা রাখলো সে তার গুণাহ্ থেকে ঐ দিনের ন্যায় নিস্পাপ হয়ে বের হবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।” হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عيه وسلم اعطيت امتى خمس خصال لم تعطهن امة قبلهم خلوف فم الصائم اطيب عند الله من ريح المسك، تستغفرلهم الحيطان حتى يفطروا، يزين الله عز وجل كل يوم جنته، تصفد فيه مرداة الشيطين، يغفرلهم فى اخر ليلة.
অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার উম্মতকে (রোযা উপলক্ষ্যে) এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা পূর্ববর্তী উম্মতকে দান করা হয়নি। (১) রোযাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহ্ পাক-এর নিকট মেশ্কের সুগন্ধি অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধময়, (২) রোযাদার যতক্ষণ রোযা থাকেন ততক্ষণ তাদের জন্য পানির মাছ সহ তামাম প্রাণী ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, (৩) রোযাদারের সম্মানার্থে আল্লাহ্ পাক তার জান্নাতকে প্রতিদিন সাজিয়ে থাকেন, (৪) প্রতিদিন শয়তানকে আবদ্ধ করে রাখা হয়, (৫) প্রতি রোযার শেষ রাত্রিতে রোযাদারকে ক্ষমা করা হয়।”
অতএব, প্রত্যেকের উচিৎ রমাদ্বান মাসের হক্ব আদায় করে আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি ও রেযামন্দী হাছিল করা।
জুমাদাল উলা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা