সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ৯৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দরূদ ও সালাম। যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব। মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে যিনি এতই মশগুল যে, জীবনের সার্বক্ষণিক সাথী, একান্ত বিশ্বস্ত, বিচক্ষণ ছাহাবীকেও ‘বন্ধু’ হিসেবে গস্খহণ করেননি।’ তবে বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে যদি বন্ধুরূপে আমি কবুল করতাম তবে, তিনি হতেন আফজালুন নাছ বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম।

উল্লেখ্য, জুমাদাল উখরা মাস এ মহান ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ইন্তিকালের মাস হওয়ায় স্বভাবতই তা আলাদা গুরুত্বও তাৎপর্য রাখে।

সঙ্গত কারণেই আমরা এ মাসে অগাধ শ্রদ্ধার সাথে খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনাকে স্মরণ করছি এবং বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটশালে গভীরভাবে উনার আলোচনা ও মূল্যায়ণের অশেষ আবশ্যকতা বোধ করছি।

স্মরণীয় যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইন্তিকালের অব্যবহিত পরেই সাকীফায়ে বনী সায়েদায় স্থলাভিষিক্তের প্রসঙ্গ উঠলে, তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ দ্বারাই সে মীমাংসা করেন, ভোট বা নির্বাচনের দ্বারা নয়। আর কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণিত হাজারো গুণের সাথে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে ইমামতির ইঙ্গিত প্রাপ্ত ছাহাবী হওয়ায় উনার কাছেই সকলে বাইয়াত গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিসেবে অভিহিত হন।

উল্লেখ্য, কম আক্বল, কম বুঝের কারণে অনেকেই মন্তব্য করে বসেন যে, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ইসলামে গণতন্ত্রের ভিত তিনিই সর্ব প্রথম স্থাপন করেন। মূলত: এ কথাটি উনার শানে বড় অপবাদ যে, মন্তব্য করা হয়- উনার ইন্তিকালের দিন মাটি যেমন থর থর করে কেপেছিল শোকে, আর এখন তা কেপে উঠছে উনার প্রতি মিথ্যা অপবাদ প্রয়োগের লজ্জাকর অপকর্মে।

স্মরণীয় খোলাফা-ই-রাশিদীনের কেউ গণতন্ত্র করেননি, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিতও হননি। হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সরাসরি নিয়োগ করেন হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম। তিনি ইন্তিকাল পূর্ব মুহুর্তে এক ফরমানে উল্লেখ করেন, “রসূলুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খলীফা, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ হতে মু’মিন মুসলমানদের প্রতি। আমি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আপনাদের খলীফা নিযুক্ত করলাম। উনাকে মানুন এবং উনার আদেশ পালন করুন।” (তারিখে ইয়াকুব নজফ, কানজুল উম্মুল) এরপর হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন নিজ শাহাদাত মুবারক উনার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়লেন, তখন তিনি হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু, হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সহ কুরাঈশদের মধ্য হতে ছয় জন বিশিষ্ট ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, উনাদের মধ্য হতে খলীফা হবে। পরবর্তীতে এই ছয়জনের মধ্যে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সিদ্ধান্ত দাতার ভূমিকায় অবর্তীণ হন। তিনি হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে খলীফা মনোনীত করেন। আর উনার পরবর্তীতে হযরত আল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু তিনি খলীফা মনোনীত হন। অতএব জ্ঞাতব্য যে, খলাফা-ই-রাশেদীন উনাদের কেু সার্বজনীন ভোটাধিকার, সংখ্যা গরিষ্ঠতা, গণতন্ত্র বা জমহুরিয়তের ভিত্তিতে নির্বাচিত হননি।

উল্লেখ্য ইতিহাসে বর্ণিত দামেস্কের উমাইয়া ও বাগদাদের আব্বাসীয় খলীফাদের কথিত খিলাফত ৬৫৬ হিঃ বা ১২৫৮ সালে ব্যাহত হয়। অুঃপর ১২৬২ সালে মিশরে এ খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২৫০ বছরের বেশি অব্যাহত থাকে। এরপরে ১৫১৭ সালে তুর্কী সুলতান সেলিম সে খিলাফতের ধারাবাহিকতা জারী করেন। খিলাফতের ধারণা পরবর্তীতে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত বর্তমান থাকে। আর তুরস্কে কামাল পাশার গণতন্ত্র চর্চার কারণেই সে ধারণা অবলুপ্ত হয়।

অথচ সে গণতান্ত্রিক রীতিতেই খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গস্খহণ করার কারণে, ব্রিটিশ আমল থেকেই উপমহাদেশের মুসলমানগণ বিভ্রান্তির, বিড়ম্বনার শিকার হয়ে আসছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নিখিল ভারত খিলাফত কমিটি’ গঠন থেকে একইরূপে চালিত সকল জমিয়ত, জামায়াত বা ইলামিক পার্টি, ফ্রন্ট, জোট মুসলমানদের ভুল দিক নির্দেশনা, ব্যর্থতা আর হতাশা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। একইভাবে আসন্ন নির্বাচনেও যে পারবেনা তা বোঝার জন্য নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন পড়েনা। বরং নারী নেতৃত্বের লেজুড় বৃত্তির বেড়াজালে তাদের মনোনয়ন বিষয়ের করুণ অবস্থা একান্তই অপদস্থতা তথা খোদায়ী লা’নত ও গযবে লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয় পরিস্ফুট করে। হারাম ছবি তোলা, লংমার্চ করা, মৌলবাদ দাবী করা, হরতাল করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া সর্বোপরি ইসলামের নামে নির্বাচনের মত হারাম কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রকাশ্যে বের্পদা হয়ে নারী নেতৃত্ব গ্রহণ করে তার আচলে জোট বাধার মত ঘৃণ্য হারাম কাজ করেও মাত্র গোটা কয়েক আসনে মনোনয়ন লাভের যোগ্য বলেও তারা বিবেচিত হয়না। বিষয়টি যুগপৎভাবে তাদের অদৃরদর্শিতা, অজ্ঞতা এবং হারাম পথে পরিচালিত হওয়ার প্রেক্ষিত্রে খোদা-তায়ালা উনার রহমতহী-ই প্রতীয়মান করে।

মূলতঃ ইসলামের নামে নির্বাচন করলেও, আসলে ইসলাম তাদের কাছে কোন বিষয়ই নয়। যে কারণে লালায়িত মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়াতে নামধারী ইসলামী জামায়াতের অঙ্গসংগঠন তথা ছাত্র সংগঠনই কথিত জামায়াতের অফিস পুড়িয়ে দেয়, আবার কথিত জামায়াত তাদের জোটের বিপরীতে নিজেদের ঘোষিত মুরতাদদের ভোট দেয়ার কথা প্রচার করে।

অপরদিকে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির নামে তথাকথিত ইসলামী নেতাদের পরস্পর কাঁদা ছোড়াছুড়ি এই কথাই প্রকাশ করে যে আসলে ইসলাম নয়, নফসের খাহেশাত পূরণই তাদের মূখ্য বিষয়। এদিকে কুখ্যাত লম্পট, বির্তকিত ব্যক্তির সাথে মৌলবাদী পীরের ফ্রণ্ট গঠন এটাই প্রমাণ করে যে, সে কোন পর্যায়ের। আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের কথা এটাই প্রতিভাত করে যে, কথিত এমপি হওয়াই তার এতদিনের তথাকথিত ইসলামী রাজনীতির মূখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু নির্বাচনের ইতিহাসের বাস্তবতা এই যে, ইসলামের নামে নির্বাচনের মত হারাম পথে কোন দিন ইসলাম আসেনা।

স্মর্তব্য ইসলামী হুকুমত বা খিলাফত মহান আল্লাহ পাক উনার দান। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে দাউদ আলাইহিস সালাম! আমি আপনাকে খিলাফত দিয়েছি।” (সূরা জুমার)

আর মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ উনাকেই এ দানে সমৃদ্ধ করেন। সুতরাং উনার ছোহবতে থাকাই হবে আমাদের খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়ার পক্ষে আঞ্জাম দেয়ার সত্যিকার উছীলা।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়