মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফুঁ মুবারক:
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৬ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে রমাদ্বান শরীফ মোতাবেক ২৯ আশির ১৩৯২ শামসী লাইলাতুস সাবত (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “এই যে আমি ফুঁ মুবারক দেই, দেখ না? ফুঁ মুবারক কোথায় পর্যন্ত যায় জানো? একদম ‘তাহ্তাছ ছারা’ থেকে ‘আরশে আযীম’ পার হয়ে ‘আলমে আমর’ পার হয়ে তার উপরে চলে যায়। সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা হাত পেতে থাকেন এভাবে (আদবের সাথে দুই হাত পেতে থাকেন)। তারপরে এভাবে মালিশ করেন। (মুখমণ্ডল ও সমস্ত শরীরে মালিশ করেন।) এটা মানুষ বুঝবে কি? এগুলি কি মানুষ বুঝবে?” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা:
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৬ হিজরী শরীফ উনার ১৪ই ছফর শরীফসহ আরো কয়েক দিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “এই কিছুদিন আগে হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনি এসেছেন আমার কাছে। দেখলাম, আমাদেরই একজন (মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছোট ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ছোট চাচা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি) খুব বয়স্ক একজন লোক নিয়ে এসেছেন। স্বাস্থ্য মাঝারি থেকে কিছুটা কম; অনেক বয়স। সাদা দাড়ি। লম্বা মানানসই। পাগড়ী-রুমাল সব পরা। অর্থাৎ সুন্নতী লেবাস মুবারক পরা। এসে বসেছেন। আমি বললাম, কি ব্যাপার? বললেন যে, ‘উনি হযরত খিযির আলাইহিস সালাম। উনি একটু ফুঁ মুবারক নিতে এসেছেন।’ আমি উনার মাথায় হাত মুবারক বুলিয়ে ফুঁ মুবারক দিয়ে দিলাম। তারপর হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনি বললেন, ‘দয়া করে আমার ক্বলব ও সীনা হাতায় দেন।’ আমি উনার ক্বলব ও সীনা হাতায় দিলাম, হাতায় ফুঁ মুবারক দিয়ে দিলাম। কতক্ষণ পর উনি চলে গেলেন। এরকম কত রেজালুল গাইব আসেন! ওলীআল্লাহগণ উনারা আসেন। ফুরফুরা শরীফের বড় হুযূর হযরত আব্দুল হাই ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং নও হুযূর হযরত নাজমুস সা‘আদাত ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারাও এখানে এসে আমার থেকে তা‘লীম নিয়ে যান। এরকম অনেক ওলীআল্লাহ আসেন এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
সমস্ত সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয:
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৬ হিজরী শরীফ উনার ১৬ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘আহ্ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আমলগুলি সুন্নত মুবারক অনুযায়ী করবে। ২৪ ঘণ্টাই সুন্নত মুবারক উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকা ফরযে আইন।
মূর্খ লোক আমাদের কথা বুঝবে না। এরা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে। প্রত্যেকটা সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয। এটা মনে রাখবে। এখন যদি যমীনে নাও বুঝো, পরকালে বুঝবে। পরকালে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করিও, আমি যে ফতওয়া দিলাম ‘সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয।’ এটা ঠিক কিনা? তখন সব জবাব পাবে। এখন তো বুঝবে না এগুলি, তখন বুঝবে। উনি বলবেন, ‘হঁ্যা; আমার সমস্ত সুন্নত মুবারক পালন করা উম্মতের জন্য ফরযে আইন ছিলো, তারা পালন করেনি।’ না‘ঊযুবিল্লাহ!
কারণ, একটা মানুষ যখন বিদয়াত পালন করে, তখন সে গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। যেমন- সুন্নতী লিবাস পরিধান করা আমরা ফরয বলি। কিভাবে ফরয বলো দেখি? কেউ যদি প্যান্ট-শার্ট পরে, এটা কি? এটা বিদয়াত-গোমরাহী।
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَـهُوَ مِنْـهُمْ
‘যে যেই সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখবে, সে তাদের অন্তভুর্ক্ত।’
কাজেই, প্যান্ট-শার্ট পরা হারাম। তাহলে তার বিপরীতটা কি? সুন্নতী লিবাস পরিধান করা তাহলে কি হলো? ফরয হয়ে গেলো।
কাজেই, প্রত্যেকটা সুন্নত মুবারক পালন করা ফরযে আইন। এটা মনে রাখবে। তুমি পালন করতে পারো আর না পারো। যতটুকু পারলে, শুকুরগুজারী করবে। আর যেটা পারো না, ইস্তিগফার-তওবা করবে। কিন্তু একথা কোনো দিন বলবে না- ‘এত সুন্নত লাগে না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! বিষয়টা কঠিন বিষয়।
কাজেই, সার্বিকভাবে, সর্বাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সন্তুষ্ট করতেই হবে। সময় দিয়ে হোক, মাল দিয়ে হোক, জান দিয়ে হোক, যেভাবেই হোক। এজন্য তোমাদেরকে আমরা যেই আমলগুলি করতে বলি, সবগুলি করবে। ইলিম অর্জন করবে, সুন্নত মুবারক ইত্তিবা করবে, যিকির-ফিকির করবে। তাহলে কামিয়াবী।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী ছহীহ সমঝ, বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক দান করুন। আমীন!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।