মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
কাজেই, সকল মুসলমানদের জন্য আবশ্যক হচ্ছে মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত প্রত্যেক ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার সূক্ষাতিসূক্ষ্ম-পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ-অনুকরণ করা।
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাক্বাম সর্বোচ্চ। মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সম্ভব। খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত-মা’রিফত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের প্রধান মাধ্যম হচ্ছেন মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা।
তাই জায়নামায ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণে সুন্নতী জায়নামায ব্যবহার করা বেমেছাল ফযীলত ও নেয়ামত মুবারক হাছিলের মাধ্যম।
কিন্তু, আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরণের জায়নামায পাওয়া যায়। যেগুলোতে পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র রওজা শরীফ, পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ উনাদের ছবি, পবিত্র মসজিদসমূহের ছবি রয়েছে। যাতে নামায আদায় করলে জায়িয তো হবেই না বরং হারাম ও কাট্টা কুফরী হবে। নাউযুবিল্লাহ!
কেননা, জায়নামায নিচে বিছানো হয়, তার উপর পা রাখা হয়; যা চরম অবমাননার শামিল। এমন কি কাট্টা কুফরীর অন্তভুর্ক্ত। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত নিদর্শন মুবারককে তা’যীম-তাকরীম করা সকলের জন্যই ফরয।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَاۤ أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللهِ
অর্থ: হে ঈমানদাররা! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহকে ইহানত করো না। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ২)
পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র রওজা শরীফ, পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ ইত্যাদি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নিদর্শন মুবারক। এ সম্মানিত নিদর্শন মুবারকসমূহকে সর্বোচ্চ তা’যীম-তাকরীম করতে হবে।
কিন্তু, মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার জন্য কাফির-মুশরিকরা এ সকল ছবিযুক্ত জায়নামায তৈরী করে থাকে। আর এ সকল ছবিযুক্ত জায়নামায ব্যবহার করে অনেকে ঈমানহারা অর্থাৎ বেঈমান হয়ে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
উক্ত ছবিযুক্ত জায়নামাযগুলোকে তা’যীম-তাকরীম, সম্মানের সাথে হিফাযত করে রাখতে হবে।
আবার উল্লেখিত জায়নামায ছাড়াও বাজারে বিভিন্ন রকমের নকশা করা জায়নামায পাওয়া যায়। যা খাছ সুন্নত মুবারক নয়। তবে খাছ সুন্নত মুবারক হিসেবে খেজুর পাতার চাটাইয়ে নামায আদায় করা বেমেছাল ফযীলত মুবারক।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَشَرَ عَلَيْـهَا السَّلَام قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي وَأَنَا حِذَاءَهُ وَأَنَا حَائِضٌ وَرُبَّمَا أَصَابَنِي ثَـوْبُهُ إِذَا سَجَدَ وَكَانَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার (সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমুনা) আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নামায আদায় করতেন, তখন আমি নূরুশ শা’নিশ শাহ্রিইয়্যাহ্ মুবারক (স্বাভাবিক মা’জুরতা মুবারক) অবস্থায় উনার পাশে অবস্থান করতাম। উনার মহাসম্মানিত সিজদাকালে কখনো উনার মহাসম্মানিত কাপড় মুবারক আমার জিসিম মুবারকে (মহাসম্মানিত শরীর মুবারকে) লেগে যেত। তিনি (খেজুর পাতার ছোট) চাটাইয়ের উপর মহাসম্মানিত নামায আদায় করতেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَـزُورُ حَضْرَتْ أُمَّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْها فَـتُدْرِكُهُ الصَّلَاةُ أَحْيَانًا فَـيُصَلِّي عَلَى بِسَاطٍ لَنَا وَهُوَ حَصِيرٌ نَـنْضَحُهُ بِالْمَاءِ
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাঝে মধ্যে হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে দেখতে যেতেন। সেখানে কখনো নামাযের সময় হয়ে গেলে তিনি আমাদের (খেজুর পাতার তৈরী) চাটাইয়ের উপর মহাসম্মানিত নামায আদায় করে নিতেন। হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সেটিকে পানি দিয়ে ধুয়ে দিতেন। (আবূ দাউদ শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খেজুর পাতার তৈরী চাটাইয়ের উপর পবিত্র নামায আদায় করতেন। উনার জন্য মহাসম্মানিত চাটাই মুবারক পানি দিয়ে ধুয়ে প্রস্তুত করে রাখা হতো। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا فَـرُبَّمَا تَحْضُرُ الصَّلَاةُ وَهُوَ فِي بَـيْتِنَا فَـيَأْمُرُ بِالْبِسَاطِ الَّذِي تَحْتَهُ فَـيُكْنَسُ ثُمَّ يُـنْضَحُ ثُمَّ يَـؤُمُّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَـقُومُ خَلْفَهُ فَـيُصَلِّي بِنَا وَكَانَ بِسَاطُهُمْ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখলাক্ব বা নৈতিক চরিত্র মুবারক সহ সার্বিক দিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন সর্বোত্তম। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের ঘরে থাকতেই নামাযের সময় হয়ে গেছে। তখন তিনি যে বিছানা মুবারকের উপর থাকতেন সেটিই ঝেড়ে ফেলে পানি ছিটিয়ে দিতে বলতেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামতি মুবারক করতেন। আমরা উনার পিছনে দাঁড়াতাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ীর বিছানা খেজুর পাতার তৈরি ছিল। (মুসলিম শরীফ)
দাবাগাত করা চামড়ার উপর নামায
আদায়করাও খাছ সুন্নত মুবারক
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيْ عَلَى الْـحَصِيْرِ وَالْفَرْوَةِ الْمَدْبُـوْغَةِ.
অর্থ: হযরত মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (খেজুর পাতার তৈরী) চাটাই ও প্রক্রিয়াজাত অর্থাৎ দাবাগাত করা চামড়ার উপর নামায আদায় করতেন। (আবূ দাউদ শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ থেকে স্পষ্ট হলো যে, খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর ও প্রক্রিয়াজাত অর্থাৎ দাবাগত করা চামড়ার উপর নামায আদায় করা খাছ সুন্নত মুবারক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুতাবিক সর্বপ্রকার আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।
-আহমদ হুসাইন