মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৫)

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৮তম সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হিসেবে)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া মুবারক পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

পুরুষের ন্যায় মহিলাদের ক্বমীছের ফুতহা

বা গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশটি

বুকের উপর হওয়াও সুন্নত

মহিলাদের সুন্নতী ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশটিকে ডান কাঁধে বা বাম কাঁধে বা পিছনে রাখা সুন্নত। এ বিষয়ে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাকতুবাত শরীফসহ কয়েকটি কিতাবের বরাত দিয়ে পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আরো তাহক্বীক্ব করার কারণে এটাও ছাবিত বা প্রমাণিত হয়েছে যে, মহিলাদের ক্বমীছের ফুতহা বা গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশটি বুকের উপর হওয়াও সুন্নত। তার দলীলসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত  جُيُوبِهِنَّ শব্দ মুবারক উনার দ্বারাও মহিলাদের ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ বুকের উপর হওয়া প্রমাণিত

পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ উনার গলাবন্ধনীর সামনের ফাঁড়া অংশটিকে ফুত্হা বলে।

যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوبِهِنَّ

অর্থ: মহিলারা যেন তাদের গলা ও বক্ষদেশ ওড়না দ্বারা ঢেকে নেয়।

উল্লেখিত  جُيُوبِهِنَّ শব্দ মুবারক উনার অর্থ প্রসঙ্গে তাফসীর গ্রন্থসমূহে বলা হয়েছে-

جُيُوبِهِنَّ يعني موضع الجيب وهو النحر والصدر

অর্থ: جُيُوبِهِنَّ (জুয়ূবিহিন্ন) এর অর্থ হলো জেবের স্থান। আর তা হলো “গলা ও বক্ষ”। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস- পৃ:২৯৫, তাফসীরে কুরত্ববী- ১২/২৩০, ফতহুল ক্বদীর লিশ-শাওকানী- ৪/২৪, তাফসীরে খাযিন- ৩/২৯২, তাফসীরে জালালাইন- ৪৬২ পৃ: ইত্যাদি)

তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ‘মহাক্কাক্বান’ ৮ম খণ্ড ২৫৭৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِي قَـوْلِ اللهِ: وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوبِهِنَّ يَعْنِى النَّحْرَ وَالصَّدْرَ وَلَا يُـرٰى مِنْهُ شَيْء

অর্থ: হযরত সায়ীদ ইবনে জুবাইর রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম কালাম মুবারক-

وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوبِهِنَّ

উনার মধ্যে جُيُوبِهِنَّ উক্ত শব্দ মুবারক উনার অর্থ হলো- গলা এবং বক্ষ যার কোন কিছুই দেখা যায় না।

তাফসীরুল কুরআনিল কারীম- ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وليس المقصود تغطية الشعر. وإنما المقصود تغطية فتحة الصدر، النص في الآية لتغطية فتحة الصدر

অর্থ: জুয়ূবিহিন্নার দ্বারা শুধুমাত্র চুল ঢাকা উদ্দেশ্য নয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্বমীছের বুকের উপর ফাঁড়া অংশটিকে ঢেকে রাখা। উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ক্বমীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ ঢাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

عَلٰى جُيُوْبِهِنَّ .والجيب فتحة الصدر في الثوب

অর্থ: আলা জুয়ূবিহিন্না উনার মধ্যে الجيب জেবের অর্থ হলো ক্বমীছে বুকের উপর ফাঁড়া অংশ। (আল-কুরআনু মিনহাজুল হায়াত-২/১৮২, সিলসিলাতুত তাফসীর লি-মুছত্বফা আদওয়া- ১৬/৬৩, ফী-যিলালিল কুরআন- ৪/২৫১৩, আসরারুল বয়ান ফী-তা’বীরিল কুরআন- ১৩ পৃষ্ঠা, শরহু বুলূগিল মারাম লি-আ‘তিয়্যা সালিম-৫/১১১, আল-লুগাতুল ইক্বতিছদিয়্যাতুর রুমানিয়্যু- ৯৮ পৃষ্ঠা)

লি-মুসাম্মাতি বায়ানিয়াতি লি-সুয়ারিল কুরআনিল কারীম ৭ম খণ্ড, ৪৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

عَلٰى جُيُوبِهِنَّ :الخمار هو غطاء الرأس. والجيب هو فتحة الصدر

অর্থ: جُيُوبِهِنَّ (জুয়ূবিহিন্না) এর অর্থ হলো ওড়না যা দ্বারা মাথা ঢাকবে এবং জেব অর্থাৎ ক্বমীছের বুকের উপর ফাঁড়া অংশকে ঢাকবে।

লি-মুসাম্মাতি বায়ানিয়াতি লি-সুয়ারিল কুরআনিল কারীমÑ৭ম খণ্ড, ৪৮০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

عَلٰى جُيُوْبِهِنَّ : الخمار عند العرب وفي اللغة هو غطاء الرأس تحديدًا والجيب هو فتحة الصدر

অর্থ: আরবদের নিকট جُيُوبِهِنَّ (জুয়ূবিহিন্না) এর দু’টি অর্থ হলো : (এক) ওড়না, শাব্দিক অর্থে যা দ্বারা সম্পূর্ণ মাথা ঢাকবে। (দুই) জেব অর্থাৎ ক্বমীছের বুকের উপর ফাঁড়া অংশ ঢাকবে।

সিলসিলাতুত তাফসীর লি-মুছত্বফা আদওয়া- ১০ম খণ্ড, ৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

عَلٰى جُيُوْبِهِنَّ: والجيب: فتحة الصدر التي يدخل منها الشخص رأسه

অর্থ: جُيُوب দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- ক্বমীছের বুকের উপরের ফাঁড়া অংশ। ক্বমীছ পরিধান করতে কোন ব্যক্তির যে স্থান দিয়ে মাথা প্রবেশ করে।

আল-ঈমানু বিল-মাওতি ওয়ামা বা’দাহু ওয়া আ’যাবিল ক্বাবরি ওয়া নায়ী’মুহু- ২৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

الْجَيْب هُوَ مَا يُفْتَح مِنْ الثَّوْب لِيَدْخُل فِيهِ الرَّأْس، أي فتحة صدر الثوب

অর্থ: الجيب জেবের অর্থ হলো: ক্বমীছ পরিধান করতে মাথা প্রবেশ করানোর জন্য যে ফাঁড়া তৈরী করা হয় অর্থাৎ ক্বমীছের বুকের উপর ফাঁড়া অংশ।

সিররু ছনায়াতুল ই’রাব-২ খণ্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

عَلَى جُيُوبِهِنَّ: وليُلقين بغطاء الرأس على فتحة الصدر لستر شعورهن وأعناقهن

অর্থ: আলা জুয়ূবিহিন্না অর্থ হলো- অবশ্যই মহিলাগণ তাদের ওড়না দ্বারা তাদের ক্বমীছের বুকের উপরের ফাঁড়া অংশকে ঢেকে দিবে। যাতে তাদের মাথা ও গলা সম্পূর্ণ আবৃত হয়ে যায়।

দায়িরাতু মায়ারিফিল উসরাতিল মুসলিমাতি-৫ম খণ্ড, ৩১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

 والجيوب: جمع جيب، وهو فتحة الصدر من القميص ونحوه

অর্থ: “আল-জুয়ূব” শব্দটি জাইবুন শব্দের বহুবচন। জাইবুন বলা হয় ক¦মীছ এবং অনুরূপ পোশাকের বক্ষের উপর ফাঁড়া অংশকে।

মাছাবীহুত তাফাসীরিল কুরআনিয়্যাতিল জামিয়ি’-১১খণ্ড, ১০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

فِي هٰذِهِ الْاٰيَةِ دَلِيلٌ عَلٰى أَنَّ الْـجَيْبَ إِنَّمَا يَكُوْنُ فِي الثَّـوْبِ مَوْضِعَ الصَّدْرِ

অর্থ: উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত হলো- নিশ্চয়ই ক্বমীছের জেব বা ফাঁড়া অংশটি বক্ষের স্থানে হবে।

তাফসীরে ক্বুরত্বুবী ১২তম খণ্ড ২৩১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

فِي هٰذِهِ الْاٰيَةِ دَلِيْلٌ عَلٰى أَنَّ الْجَيْبَ إِنَّمَا يَكُوْنُ فِي الثَّـوْبِ مَوْضِعَ الصَّدْرِ. وَكَذٰلِكَ كَانَتِ الْجُيُوبُ فِي ثِّيَابِ السَّلَفِ رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ، عَلٰى مَا يَصْنَـعُهُ النِّسَاءُ عِنْدَنَا بِالْأَنْدَلُسِ وَأَهْلُ الدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ مِنَ الرِّجَالِ وَالصِّبْـيَانِ وَغَيْرِهِمْ

অর্থ: উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, নিশ্চয়ই জেব শুধুমাত্র ক্বমীছের বক্ষের স্থানে হবে। কেননা, হযরত ছলফে ছালেহীন রিদ্বওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাইনগণ উনাদের পোশাকে তদ্রুপ বক্ষের স্থানে জেব থাকত। উক্ত কারণেই আমাদের স্পেনের মহিলাগণ এবং মিশরের পুরুষ, বালক এবং অন্যান্যগণ উনারা বক্ষের স্থানেই জেব রাখেন।

আইসারুত তাফাসীর লিল-জাযায়ির ৩য় খণ্ড ৫৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

عَلٰى جُيُـوْبِهِنَّ: أي ولَتَضْرِبُ الْمَرْأَةُ الْمُسْلِمَةُ الْحُرَّةُ بِخِمَارِهَا عَلٰى جُيُـوْبِ أي فُـتَحَاتِ الثِّيَابِ فِي الصَّدْرِ وغَيْرِه حَتّٰى لَا يَـبْدُوْ شَيْءٌ مِنْ جِسْمِهَا

অর্থ: “আলা জুয়ূবিহিন্না” অর্থাৎ অবশ্যই স¦াধীনা মুসলিমা মহিলাগণ উনারা ওড়না দ্বারা উনাদের জুয়ূব অর্থাৎ জামায় বক্ষের মধ্যের খোলা বা ফাঁড়া অংশ এবং অন্যান্য অংঙ্গগুলিকে ঢেকে রাখবেন। যাতে শরীরের কোন অংশ প্রকাশ না হয়ে যায়।

দায়িরাতু মায়া’রিফিল উসরাতিল মুসলিমাতি- ২৭তম খণ্ড, ১৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

الجيوب جمع جيب وهو فتحة القميص على الصدر

অর্থ: “আল-জুয়ূব” শব্দটি জাইবুন শব্দের বহু বচন। জাইবুন বলা হয় ক¦মীছে বক্ষের উপর ফাঁড়া অংশকে।

ফাতওয়া আশ-শাইখ মুহম্মদ আলী ফারকুস-৯ম খণ্ড, ৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

ولْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوبِهِنَّ والـمراد بالجيب هو موضع القطع من الدِّرع والقميص أي الفتحة من الأعلى التي يبدو فيها شيءٌ من الصدر والعنق

অর্থ: ولْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوبِهِنَّ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত جَيْبٌ (জেব) শব্দ মুবারক উনার দ্বারা পুরুষ ও মহিলাগণ উনাদের ক্বামীছের কাটা অংশটি উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ক্বমীছের ঐ ফাঁড়া বা খোলা অংশ যার মধ্যে উপর থেকে নীচের দিকে বক্ষ ও গলার কিছু অংশ প্রকাশ পায়।

ইজহারুল হাক্কি ওয়াছ ছাওয়াব ফী-হুকমিল হিজাব- ৪৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

الجيب- موضوع القطع من الدرع والقميص وهو من الأمام كما تدل عليه الآية.  لا من الخلف كما تفعله نساء الإفرنج

অর্থ: পুরুষ ও মহিলাগণ উনাদের ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট কর্তিত স্থানটিকে জেব বলা হয়। উক্ত কর্তিত ফাঁড়া অংশটি সামনের দিকে হবে, এটা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাই প্রমাণিত। উক্ত কর্তিত ফাড়া অংশটি পিছনের দিকে হবে না, যেমনটি ইউরোপীয় বা পাশ্চাত্যের মহিলারা পরিধান করে থাকে।

মাজাল্লাতুল মানার-১১তম খণ্ড, ৫১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

والجيوب جمع جيب، وهو فتحة القميص على الصدر

অর্থ: “আল-জুয়ূব” শব্দটি জাইবুন শব্দের বহুবচন। জাইবুন বলা হয় ক্বমীছে বক্ষের উপর ফাঁড়া অংশকে।

দুরুসু শারহি মুসলিম আল- মুহাররারাহ- ৫৪তম খণ্ড ৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وَلَا تَـبَـرَّجْنَ تَـبَـرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُوْلٰى ويقول حَضْرَتْ اِبْنِ جرير رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ: تَـبَـرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُوْلٰى هو أن تظهر مقدم شعرها وجبيها (فتحة الصدر

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তারা যেন প্রাচিন জাহেলী যুগের মহিলাদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে বের না হয়” হযরত ইবনে জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রাচিন যুগের মহিলাদের সাদৃশ্যতা হলো- তারা তাদের চুলের অগ্রভাগ এবং জামার বুকের উপরের খোলা অংশ প্রকাশ করে রাখতো।

মাজাল্লাতুল মানার-৩২তম খণ্ড, ৬০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وسبب نزول هذه الآية أن المؤمنات الحرائر كن يلبسن كملابس الإماء الفواجر على عادات الجاهلية، وأعمها الدرع (القميص) والخمار، وكثيرًا ما كانت المرأة تلقي القناع على رأسها وتسدله من وراء ظهرها، فيكون جيب الدرع مفتوحًا على نحرها وصدرها

অর্থ: উল্লেখিত আয়াত শরীফ অবতীর্ণের কারণ হলো: নিশ্চয়ই স্বাধীনা মুমিনা মহিলাগণ জাহেলী যুগের মহিলাদের ন্যায় লিবাস পরিধান করতো বিশেষ করে, ক্বমীছ ও ওড়না পরিধান করতো। অধিকাংশ মহিলাই তারা তাদের মাথায় ওড়না পরিধান করে তার দু’প্রান্ত পিছনে পীঠের উপরে ঝুলিয়ে রাখতো। আর এ কারণেই, তাদের পরিহিত ক্বমীছের জেব গলা থেকে বক্ষের উপর পর্যন্ত খোলা রাখতো।

উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি স্পষ্ট যে উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফে جُيُوبِهِنَّ শব্দ মুবারক দ্বারা গলা ও বক্ষ দু’টিকে বুঝানো হয়েছে। আর সমস্ত তাফসীর, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহগ্রন্থ, ফিক্বাহ, লোগাতের কিতাবসমূহে জেব বলতে ক্বমীছের গলাবন্ধনীকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জেব শব্দ দ্বারা যদি সরাসরি গলার অর্থ নেয়ার সাথে সাথে ক্বমীছের গলাবন্ধনী অর্থ নেয়া আবশ্যক হয়। তাহলে, আমরা বলবো মহিলাদের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশটি মহিলাদের বক্ষের উপরে হওয়ার কারণেই জুয়ূব শব্দের মধ্যে নিদিষ্ট করে বক্ষ অর্থ গ্রহণ করা আবশ্যক হয়েছে এবং ঢাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নচেৎ ফাঁড়া অংশটি যদি কাঁধের উপর থাকতো তাহলে অপরিহার্যভাবে جُيُوبِهِنَّ উক্ত শব্দ মুবারক উনার মধ্যে কাঁধের অর্থ গ্রহণ করা আবশ্যক হতো। অথচ جُيُوبِهِنَّ উক্ত শব্দ মুবারক উনার অর্থ শুধুমাত্র গলা ও বক্ষ।

জাহেলী যুগের মহিলাদের অনুরূপ জামার বুক ছিঁড়ে শোক প্রকাশের নিষেধাজ্ঞার দ্বারাও মহিলাদের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট সামনের ফাঁড়া অংশ বুকের উপর হওয়া প্রমাণিত

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُود وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউ’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- ঐ ব্যক্তি আমার উম্মত নয় যে (যে মহিলা মৃতের শোক প্রকাশকালে) গালে চপেটাঘাত করে, ক্বমীছের জেব অর্থাৎ বুকের উপর ফাঁড়া অংশকে ছিড়ে ফেলে, জাহিলীযুগের ন্যায় চিৎকার দিয়ে কান্না করে। (বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, কানযুল উম্মাল, সুনানুল কুবরা লিল-বাইহাক্বী-৪/৬৪)

আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু ছহীহ মুসলিম- ৩য় খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

شق الجيوب- والجيوب جمع جيب. وهو فتح القميص المستطيل على الصدر-

অথ:র্  شق الجيوب (শাক্কুল জুয়ূব)  এখানে جيوب শব্দটি  جيب শব্দের বহুবচন। আর মহিলাদের ক্বমীছে বুকের উপর লম্বা ফাঁড়া অংশকে جيب বলা হয়।

খুত্বাবুন ওয়া দুরুসুন- ৬৫তম খণ্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

إمراة مات زوجها أو أخوها فلطمت خدها. وهكذا الرجل أيضًا. إذا فعل. ليس منا من لطم الخدود وشق الجيوب. وهي فتحة للثوب. القميص. التي تكون في الصدر

অর্থ: কোন মহিলার আহাল (স্বামী) অথবা ভাই ইন্তিকাল করলে তার গালে চপেটাঘাত করে। এরূপ পুরুষরাও করে থাকে। যারা এমন করে তারা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। شق الجيوب (শাক্কুল জুয়ূব) সেটা হলো পোশাক বা মহিলাদের ক্বমীছে বুকের মধ্যের ফাঁড়া অংশ।

ছহীহু ফিক্বহিস সুন্নাহ ওয়া আদিল্লাতিহী ওয়া তাওদ্বীহি মাযাহিবিল আয়িম্মাহ- ১ম খণ্ড, ৬১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وشق الجيب هو شق المرأة ثوبها من فتحة الصدر ودعوى الجاهلية هي النياحة ونُدبة الميت والدعاء بالويل

অর্থ: شق الجيب (শাক্কুল জেব) সেটা হলো মহিলাদের ক্বমীছের বুকের ফাঁড়া অংশ। دعوى الجاهلية হলো হায় হায় করে চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি করা।

ফদ্বলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী-শারহি দুরারিল বাহিয়্যাহ- ১৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وأما شق الجيوب فالجيب هو المكان الذي يدخل منه الرأس في الثوب وكانت المرأة إذا أصابتها مصيبة أمسكت ثوبها وقطَّعته وهذا محرَّم

অর্থ: আর شق الجيب (শাক্কুল জেব) এর মধ্যে জেব অর্থ হলো ক্বমীছ/পোশাক পরিধানকালে যে স্থান দিয়ে মাথা প্রবেশ করানো হয়। আর জাহেলী যুগের মহিলারা তাদের উপর বিপদ-আপদ আসলে তারা তাদের জামার জেব (বুকের উপর ফাঁড়া অংশকে) ধরে তা ছিঁড়ে ফেলতো। আর এটা হারাম কাজ।

জ্বরে আক্রান্ত মহিলা উনার জেবে পানি ঢালা সংক্রান্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেও মহিলাদের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশ বুকের উপর হওয়া পবিত্র সুন্নত প্রমাণিত

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَسْمَاءَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْـهَا أَنَّـهَا كَانَتْ تَأْتِي الْمَرْأَةَ الْمَوْعُوكَةَ فَـتَصُبُّ الْمَاءَ فِي جَيْبِهَا وَتَـقُولُ: إنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ

অর্থ: হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই জ্বরে আক্রান্ত একজন মহিলাকে উনার নিকটে নিয়ে আসা হলো।

অত:পর উক্ত মহিলার জেবে তিনি পানি ঢালতে লাগলেন। এবং বলতে লাগলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জ¦রে আক্রান্ত লোকের শরীরে পানি ঢেলে তাকে ঠাণ্ডা করো। (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজা শরীফ)

উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে, فِي جَيْبِهَا এর অর্থ প্রসঙ্গে বিভিন্ন শরাহ গ্রন্থ সমূহের উদ্ধৃতি নিম্নে দেয়া হলো-

মুরশিদুন জাউয়িল হাজা ওয়াল হাজাত ইলা সুনানি ইবনি মাজাহ: ওয়াল ক্বওলুল মুক্তাফা আ’লা সুনানিল মুছত্বফা- ২০তম খণ্ড, ২৮৪ পৃষ্ঠা এবং আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু ছহীহি মুসলিম- ২২তম খণ্ড, ২৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

والجيب بفتح الجيم وسكون الياء هو ما ينفتح من القميص من النحر إلى أسفل الصدر

অর্থ: الجيب “জীম” অক্ষরে যবর এবং “বা” অক্ষরে ছাকিন। জেব অর্থ হলো গলা থেকে বক্ষের নীচ পর্যন্ত যে অংশ খোলা থাকে তাকে জেব বলা হয়।

ফাতহুল মুনয়ি’ম শারহু ছহীহি মুসলিম- ৮ম খণ্ড ৫৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

فالمعنى فتصب الماء من فتحة قميصها على صدرها

অর্থ: فتصب الماء উক্ত শব্দের অর্থ হলো- তিনি পানি ঢাললেন ক্বমীছের গলাবন্ধনী থেকে বক্ষের উপরে অবস্থিত ফাঁড়া অংশ দিয়ে।

মিন্নাতুল মুনয়ি’ম ফী-শারহি ছহীহি মুসলিম-৩য় খণ্ড, ৪৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

(في جيبها) بفتح الجيم، وجيب القميص ما ينفتح منه على النحر والصدر

অর্থ: في جيبها “জীম” অক্ষরে যবর, ক্বমীছের জেব হলো গলা ও বক্ষের উপর যে অংশ ফাঁড়া থাকে।

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৮৩