তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِىْ الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَـلْيَـفْرَحُوْا هُوَ خَيْـرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ

তাফসীর: উক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতের মাঝে তাশরীফ নিয়েছেন এজন্য উম্মতকে খুশি মুবারক প্রকাশ করার জন্য আদেশ মুবারক করা হয়েছে এবং এই খুশি মুবারক প্রকাশ করার আমল বা ইবাদতকে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

উক্ত আমল মুবারক স্বয়ং যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মনোনিত সকল হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনারা দায়িমী করে যাচ্ছেন। অনুরূপভাবে মানুষকেও দায়িমী করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

যেমন এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

إِنَّ اللهَ وَمَلَآئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَاۤ أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ পেশ করেন। হে ঈমানদাররা! উনার প্রতি তোমরাও পবিত্র ছলাত শরীফ পেশ করো এবং পবিত্র সালাম মুবারক পেশ করার মতো পেশ করো। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার জন্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছেন- “আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি (রোয আযলে সৃষ্টির শুরুতে) হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, আমি আপনাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করবো অতঃপর আপনাদেরকে সত্যায়িত করার জন্য আখিরী রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনার প্রতি ঈমান আনবেন অর্থাৎ উনাকে মেনে নিবেন এবং উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিবেন। আপনারা কি আমার এই ওয়াদা স্বীকার করে নিলেন? জবাবে সকলে বললেন, আমরা স্বীকার করলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন বললেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ওয়াদা অনুযায়ী প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের যামানায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন এবং উনার মুবারক আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। যেমন হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-

وَمُبَشِّرًا بِرَسُوْلٍ يَأْتِيْ مِنْ بَعْدِي اسْمُهٗ أَحْمَدُ

 অর্থ: আমি এমন একজন সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন মুবারকের সুসংবাদ দানকারী যিনি আমার পরে যমীনে তাশরীফ মুবারক আনবেন। উনার পবিত্র নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (পবিত্র সূরা ছফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ০৬)

তাফসীরুল কুরআন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আমাদের মত মানুষ নন’

তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর

তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর

তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে

তাফসীরুল কুরআন: মি’রাজুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম