-হযরত মাওলানা মুফতী মুহম্মদ ফযলুল হক।
قل انما انا بشر مثلكم يوحى الى.
অর্থঃ- “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম! আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমি ছূরতান তোমাদের মত বাশার(হাক্বীক্বতান তোমাদের মত নই) কেননা, আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়।” (সূরা ক্বাহাফ/১১০)
আলোচ্য আয়াত শরীফে بشر مثلكم এর সরাসরি শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করে অনেকে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘আমাদের মত মানুষ’ বলে থাকে। যা সম্পূর্ণরূপে অশুদ্ধ, ভুল, কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের খিলাফ এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদার বিপরীত।
কারণ, তিনি আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনিই সকল সৃষ্টির মূল, মহান আল্লাহ্ পাক-এর রুবুবিয়ত প্রকাশের উৎস।
তিনি নূরের তৈরী অর্থাৎ নূরে মুজাস্সাম। তাঁর শরীর মুবারকের কোন ছায়া ছিলনা। তাঁর শরীর মুবারকে কোন মশা-মাছিও বসতনা। তাঁর শরীর মুবারকের সবকিছু পবিত্র থেকেও পবিত্রতম। তাঁর রক্ত মুবারক, প্রশ্রাব মুবারক, ঘাম মুবারক ইত্যাদি পান করার কারণে জাহান্নাম হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তিনি ইস্তিঞ্জা মুবারক করার সাথে সাথে যমীন তা গ্রাস করে ফেলত। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় মেঘমালা তাঁকে ছায়া দিত। গাছপালা তাঁকে সিজদা করত। তিনি অন্যান্য মানুষের মত মায়ের রেহেম শরীফে তাশরীফ নেননি। বরং আল্লাহ্ পাক-এর কুদরতীভাবে তাশরীফ নিয়েছেন এবং হযরত আমিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর বাম পাজরের নিচ থেকে কুদরতীভাবে যমীনে আগমণ করেছেন। তাঁর যমীনে তাশরীফ আনার সময় দুনিয়ার কোন মহিলা তাঁর দাইমা বা খেদমতগার হিসেবে ছিলেননা। বরং বেহেশ্ত থেকে আগত হযরত হাওয়া আলাইহাস্ সালাম, হযরত মরিয়াম আলাইহাস্ সালাম, হযরত হাযেরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, হযরত আছিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাগণকে আল্লাহ্ পাক দাইমা বা খেদমতগার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
তিনি যা বলতেন, করতেন, অনুমোদন দিতেন তাই শরীয়ত। তাঁর প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত কোন নবীকে নবুওওয়াত দেয়া হয়নি এবং কোন রসূলকে রিসালত দেয়া হয়নি। মহান আল্লাহ্ পাক ও সমস্ত কায়েনাত সর্বক্ষণ তাঁর প্রতি ছলাত-সালাম পাঠান এবং সকলেই তাঁর ছানা-ছিফত পাঠে মশগুল।
পবিত্র কুরআন শরীফের প্রতিটি সূরাতে, প্রতিটি আয়াত শরীফে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি অক্ষরে, এমনকি প্রতিটি নুক্তার মধ্যেও তাঁর ছানা-ছিফত ও প্রসংশা বিদ্যমান।
কোন মানুষ ক্বিয়ামত পর্যন্ত নেক কাজ করেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ সে, “মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে” স্বীকার না করবে।
তিনিই ছওমে বেছাল বা কোন কিছু না খেয়ে একাধারা রোযা রাখতে পারতেন যা অন্য কোন মানুষ পারতনা। এক কথায় লক্ষ-কোটি বিষয় রয়েছে যা একমাত্র আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্যই খাছ এবং যদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মত মানুষ নন। মহান আল্লাহ পাক-এর গুণে গুনান্বিত ও আল্লাহ্ পাক-এর বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যবান।
আল্লাহ্ পাক-এর একটি মুবারক বৈশিষ্ট্য হচ্ছেليس كمثله شئ আল্লাহ্ পাক-এর অনুরূপ কিছু নেই।
আর আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন,
لست كاحدكم وفى رواية اخرى لست كاحد مثلكم.
অর্থঃ- “আমি তোমাদের কারো মত নই।”
অন্য হাদীস শরীফে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ايكم مثلى.
অর্থঃ- “তোমাদের মধ্যে কে আছ আমার অনুরূপ?” অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে কেউই আমার মত নয়।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে সর্ব বিষয়ে বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল
তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর
তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর
তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে
তাফসীরুল কুরআন: মি’রাজুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম