-মুহম্মদ সাদী।
(ধারাবাহিক)
আনুষ্ঠানিক খিলাফতলাভ
কোন মুরীদকেই খলিফা, বিশেষতঃ খাছ খলিফা মনোনীত করার বিষয়টি ত্বরীকতের শায়খগণের একান্ত আপন ইচ্ছায় সাধিত হয়না। নৈকট্য লাভকারী মাহবুব বান্দাগণের কামিয়াবীর স্তর পরিপূর্ণরূপে কেবলমাত্র মহান আল্লাহ্ পাক-এর অবহিতিতে থাকে। যমীনে ইসলাম ধর্মের আবাদ প্রবাহমান রাখায় খাছভাবে মনোনীত মুর্শিদগণকে খলিফা মনোনয়নে আল্লাহ্ পাক তাঁর অভিপ্রায় জানিয়ে দিয়ে থাকেন। সিলসিলা পরম্পরায় খিলাফত হস্তান্তরের চলমান প্রক্রিয়া আল্লাহ্ পাক-এরই উদ্দিষ্ট নিয়ম। এই নিয়ম প্রতিপালনে আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্দিষ্ট লক্ষ্য জানিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট মুর্শিদের মুবারক মাধ্যমে খলিফা মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মুর্শিদ ক্বিবলা সন্নিধানে মুরীদ ক্রমান্বয়ে যোগ্য হতে থাকে। যোগ্যতা হাছিলের বিষয়টি আপেক্ষিক এবং সুলুকের মাকামগুলো (সোপান) অগণিত, সূক্ষ্ম এবং স্পর্শকাতর। তবে আলোচ্য কামিয়াবী হাছিলের ন্যূনতম মাত্রা হলো দুনিয়া বিরাগী মানসিকতায় গায়রুল্লাহ্কে দায়িমীভাবে (অনুক্ষণ) পর্যুদস্ত করণে অটল, অভ্যস্ত ও ইস্তিকামাত (দৃঢ়) থাকা। মূল নৈকট্য-গন্তব্য সীমাহীন হওয়ায় সালেকের আয়াসসাধ্য যোগ্যতার মাত্রানুপাত আবহে তার উত্তরণের সোপান নির্ধারিত থাকে এবং এই নির্ধারিত সোপানই তার কামিয়াবীর চূড়ান্ত ধাপ বলে সাব্যস্ত হয়। তাই নেকট্যলাভকারী পৃথক পৃথক বান্দার কামিয়াবীর স্তর অবধারিত কারণেই ভিন্নতর হয়ে থাকে।
মুর্শিদের মুবারক লালন, প্রতিপালন, এবং নেক নজরের আবেহায়াতে ক্রমান্বয়ে বেড়ে উঠা মুরীদের পরিপুষ্টি, অর্জন এবং কামিয়াবীর গূঢ় রহস্য, অতিক্রান্ত অনুক্রম এবং উত্তরণের মন্জিল অবলীলায় অবহিতিতে থাকলেও আল্লাহ্ পাক-এর সদয় আদেশ না পেয়ে কোন মুর্শিদই তাঁর কোন মুরীদকে খলিফা মনোনীত করেননা এবং কাউকেই লব্ধ নিয়ামতের নির্যাস দান করেননা। করলে আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে দায়িমী সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার অবকাশ সৃষ্টি হয়ে যায়। মুহব্বত-মারিফাতের নিগূঢ় সংযোগ বিচ্ছিন্নতায় আপন বিবেচনায় খলিফা মনোনয়নের এমন বিরূপ ব্যবস্তা আল্লাহ্ পাক-এর অপছন্দ এবং ওলী আল্লাহ্গণের অনুসৃত রীতি ও নীতি বিরুদ্ধ। এক্ষেত্রে মুর্শিদ নিয়ামক মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এখতিয়ারের প্রশ্ন সাধারণ নিয়মে পরোক্ষ এবং কখনো গৌণ। কারণ, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ ওহীর বাণী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আউলিয়া-ই-কিরামগণ (রহমতুল্লাহি আলাইহিম) সন্ধান ও সংকটে ইল্হাম ও ইল্কা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
প্রাণের আঁকা মুর্শিদ ক্বিবলা খলিফাতুল্লাহ্, ইমামুল হুদা, কাইয়্যুমুয্যামান, হাদিউস্ সাক্বালাইন, কুতুবুল আলম, শাইখুল ইসলাম, আলহাজ্ব, হযরত মাওলানা আবু নছর মুহম্মদ আব্দুল হাই ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুবারক তত্ত্বাবধানে আল্লাহ্ পাক-এর নিগূঢ় নৈকট্য লাভকারী অন্তরঙ্গ মুরীদ ওলীয়ে মাদারজাদ, কুতুবুজ্জামান, আওলাদে রসূল আলহাজ্ব হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কামিয়াবীর অবস্থান পরিপূর্ণরূপে অবহিত থাকলেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশিষ্ট খলিফা হিসেবে মনোনয়ন দান এবং তাঁকে নিয়ামতের নির্যাস সোপর্দ করণে তিনি (মুর্শিদ ক্বিবলা) আল্লাহ্ পাক এবং রসূলে আকরাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সদয় আদেশ ও অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন। তা এখন পাওয়া গেছে। তাই আনুষ্ঠানিকতার এতো আয়োজন, এতো সমারোহ। (অসমাপ্ত)