ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

গবেষণা কেন্দ্র

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ

          [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের জন্যে এবং অসংখ্য দরূদ ও সালাম আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। মহান আল্লাহ্ পাক-এর অশেষ রহ্মতে আমাদের গবেষণা কেন্দ্র, “মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে, বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীল ভিত্তিক মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে টুপির ফতওয়া, অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান, নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা, ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া, জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া, মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া, কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া, খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া এবং নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া প্রকাশ করার পর ১৯তম ফতওয়া হিসেবে “ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া।]

ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

          সুন্নতের মূর্ত প্রতীক, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শেরেকী ও বিদ্য়াতের মুলৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক মূখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যত লিখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে, তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মকছুদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” এমন সব লিখাই পত্রস্থ করা হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমল ইসলাহ্ করনে একান্ত আবশ্যক।

          এ ধারাবাহিকতায় “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারক ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার পেছনেও একই কথা। কারণ অধিকাংশ মুসলমানই পাগড়ীর সঠিক আহ্কাম ও ফযীলত সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। যার ফলে তারা পাগড়ী সম্পর্কিত বিষয়ে সঠিক আক্বীদা পোষণ করতে যেরূপ ব্যর্থ, তদ্রুপ পাগড়ী পড়ার ন্যায় একখানা গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ দায়িমী সুন্নত পালনেও ব্যর্থ। যা অবশ্যই মহান আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেজামন্দী হাছিলের ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়।

          এছাড়া অনেকে পাগড়ীকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার কারণে পাগড়ী পরিহিত ব্যক্তিকে ঠাট্টা বা বিদ্রুপ করে থাকে। অথচ এটা সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। কেননা আক্বাইদের ইমামগণের মতে শুধু পাগড়ী নয় বরং যে কোন সুন্নতের অবজ্ঞাই কুফরীর কারণ। এ প্রসঙ্গে আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ আছে যে, اهانة السنة كفر.

অর্থঃ- “সুন্নতের অবজ্ঞা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।”

 পাগড়ী পরিধান করা নামাযের বাইরে ও ভিতরে উভয় অবস্থায়ই সুন্নত ও ফযীলতের কারণ। যেমন, নামাযের মধ্যে পাগড়ী পরিধান করার ফযীলত সম্পর্কে উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে,

ان ركعتين مع العمامة افضل من سبعين ركعة بدونها.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই পাগড়ী পরিধান করে দু’রাকায়াত নামায আদায় করা, পাগড়ী ছাড়া ৭০ রাকায়াত নামায আদায় করার চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ।” (হাশিয়ায়ে শামাইলুত্ তিরমিযী/৮)

          আর নামাযের বাইরে পাগড়ী পরিধান করা সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে হাদীস শরীফের সহীহ্ কিতাব “তিরমিযী শরীফের” হাশিয়ায় উল্লেখ আছে,

ان لبس العمامة سنة.

অর্থঃ- “নিঃসন্দেহে পাগড়ী পরিধান করা (দায়িমী) সুন্নত।”(হাশিয়ায়ে শামাইলুত্ তিরমিযী/৮)

          পাগড়ীর উল্লিখিত ফযীলত থেকে যেন উম্মত মাহরুম না হয়, সে জন্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উম্মতদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে,

عليكم بالعمائم فانها سيماء الملئكة.

অর্থঃ- “তোমাদের জন্যে পাগড়ী অবধারিত, কেননা তা ফেরেশ্তাগণের নিদর্শন স্বরূপ।” (মিশকাত শরীফ/৩৩৭, ফাইদুল ক্বদীর ৪র্থ জিঃ ৪৫৪ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৬ পৃষ্ঠা)

মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালাম পাকে ইরশাদ করেন,

قل ان كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم الله ويغفرلكم ذنوبكم والله غفور رحيم.

অর্থঃ- “হে হাবীব (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি বলুন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ্ পাক-এর ভালবাসা চাও, তবে আমাকে (আমার সুন্নতকে) অনুসরণ কর, তবেই আল্লাহ্ পাক তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের সকল গুণাহ্-খতা ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ পাক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (সূরা আলে ইমরান/৩১)

          অতএব বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, নামাযের ভিতরে ও বাইরে পাগড়ীর মত দায়িমী সুন্নতের আমলের দ্বারা বান্দা অবশ্যই মহান  আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাছ রেজামন্দী লাভ করতে পারবে।  অথচ আজকাল অনেকেই পীর, ছুফী, দরবেশ, মুফতী, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, আল্লামা, আশেকে রসূল কত কি দাবি করে। কিন্তু “পাগড়ী” দায়িমীভাবে পরিধান করা তো দূরের কথাই নামাযের সময়ও পরিধান করেনা।

কোন রং-এর ইমামাহ্ বা

পাগড়ী পরিধান করা খাছ সুন্নত

“মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৬-৯৩তম সংখ্যাগুলোর ফতওয়া বিভাগে প্রদত্ত ৫৪৯টি নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য দলীল-আদীল্লাহ্ সমূহের দ্বারা যে বিষয়গুলো সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা হলো-

 ১। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারক পরিধান করেছেন।

          ২। পূর্ববতী সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণও দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন।

          ৩। মহান আল্লাহ্ পাক-এর সমস্ত ‘মালাইকা’ বা ফেরেশ্তাগণও দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারক পরিধান করেন।

          ৪। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, শাফিউল মুযনিবীন, ছহেবে হাযির ও নাজির হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত অনুসরণে এবং তাঁরই মুবারক নির্দেশ পালনার্থে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণও দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করেছেন।

          ৫। এবং অনুরূপভাবে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগনের ন্যায় সমস্ত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও ইমাম মুজতাহিদগণও দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন ও করছেন।

          অতএব, দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করা আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, ফখরে মাওজুদাত, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাছ সুন্নত। শুধু তাই নয় সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম, সমস্ত মালাইকা বা ফেরেশ্তা, হযরত ছাহাবা-ই- কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম গণেরও খাছ সুন্নত হচ্ছে দায়িমীভাবে ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করা।

          এখন প্রশ্ন হলো- কোন রং-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করা খাছ সুন্নত? অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন্ রং-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করেছেন বা করতেন?

          বস্তুতঃ কিতাবে পাগড়ীর রং সম্পর্কে মুখতালিফ বা বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা দেখা গেলেও তাফসীর, হাদীস, শরাহ, ফিক্বাহ, ফতওয়া ও সীরাত গ্রন্থ সমূহে বর্ণিত গ্রহণযোগ্য মতে সাদা, কালো ও সবুজ এই তিন রং-এর পাগড়ী পরিধান করাই খাছ সুন্নত। কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণতঃ উক্ত তিন রং-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকই অধিকাংশ সময় পরিধান করতেন। নিম্নে পর্যায়ক্রমে এ সম্পর্কিত দলীল আদিল্লাহ্ সমূহ উল্লেখ করা হচ্ছে-

সাদা রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী

খাছ সুন্নত হওয়ার প্রমাণ

          স্মতর্ব্য যে, ইমামাহ্ বা পাগড়ীও লিবাস বা পোশাকের অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ ইমামাহ্ বা পাগড়ী হচ্ছে لباس الرأس বা  মাথার পোশাক। আর হাদীস শরীফে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্, ছহেবে ইল্মে গায়ব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা রং-এর পোশাক পরিধান করার ব্যাপারে যেরূপ আদেশ করেছেন, তদ্রুপ সাদা পোশাকের বহু ফযীলতও বর্ণনা করেছেন। কারণ সাদা রং স্বয়ং আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট অধিক পছন্দনীয় । যেমন, এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে,

সাদা রং মহান আল্লাহ্ রব্বুল

আলামীন-এর নিকট অধিক প্রিয়

[৫৫০-৫৫১]

عن ابن عباس رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله خلق الجنة بيضاء واحب شئ الى الله البياض. (مجمع الزوائد ج৫ ص১২৮ – اللباس والزينة ص৫৫৬)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ পাক জান্নাত (বেহেশ্ত) কে সৃষ্টি করেছেন সাদা রংয়ের করে। আর আল্লাহ্ পাক-এর কাছে অধিক পছন্দনীয় হচ্ছে সাদা রংয়ের বস্তু।” (মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৫ম জিঃ ১২৮ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায যীনাহ্ ৫৫৬ পৃষ্ঠা)

রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকটও অধিক প্রিয় রং হচ্ছে সাদা তাই উম্মতদেরকেও সাদা রং-এর পোশাক পরিধান করার নির্দেশ দিয়েছেন

[৫৫২-৫৭৪]

عن ابن عباس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم البسوا ثيابكم الياض فانها من خير ثيابكم وكفنوا فيها موتاكم. (ابوداود شريف ج২ ص২৮৫، ص২০৭ – بذل المجهود ج৬ ص৪৮৬ – عون المعبود ج৪ – شرح ابى داؤد لبدر الدين العينى – ترمذى شريف ج১ ص১১৮ – تحفة الاحوذى ج৪ ص৭২ – عارضة الاحوذى ج১০ ص২৫৩ – معارف السنن – مشكوة شريف ص১৪৪ مرقاة ج৪ ص৩৬ – شرح الطيبى ج৩ ص৩৫৫ – التعليق الصبيح – لمعات – اشعة اللمعات – مظاهرحق ج২ ص৪১ – مرأت المناجيح ج২ ص ৪৬৩ – اللباس والزينة ص১১৪ – فتح الربانى للشيبانى ج১৭ ص২৩৫ بلوغ الامانى ج১৭ ص২৩৫ – نيل الاوطارشرح منقى الاخبار ج১২ ص২৬، ৫১ – كتاب الحدائق لابن الجوزى ج৩ ص২৪ – مسند احمد بن حنبل ج১ ص২৪৭، ص২৮৪ ص৩২৮ ص৩৬৩ – شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৯০)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমরা সাদা পোশাক পরিধান কর, কেননা ইহা তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক। আর তোমাদের মধ্যে যারা ইন্তিকাল করে তাদেরকে সাদা কাপড়ে কাফন দাও। (আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ ১৮৫, ২০৭ পৃষ্ঠা, বযলুল মাজহুদ ৬ষ্ট জিঃ ৬, ৪৮ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বুদ ৪র্থ জিঃ, শরহু আবী দাউদ লি বদরিদ্দীন আইনী, তিরমিযী শরীফ ১ম জিঃ১১৮ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ জিঃ ৭২ পৃষ্ঠা, আরিদাতুল্ আহওয়াযী ১০ম জিঃ ২৫৩ পৃষ্ঠা, মায়ারিফুস্ সুনান, মিশকাত শরীফ ১৪৪ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লীকুছ্ ছবীহ্, লুময়াত, আশয়াতুল্ লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব ২য় জিঃ ৪১ পৃষ্ঠা, মিরয়াতুল্ মানাজীহ্ ২য় জিঃ ৪৬৩ পৃষ্ঠা, আল্লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ্ ১১৪ পৃষ্ঠা, ফাতর্হু রব্বানী লিশ্ শাইবানী ১৭তম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, বুলুগুল্ আমানী ১৭তম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, নাইলুল্ আউতার শরহে মুনতাক্বাল্ আখবার ২য় জিঃ ১০২ পৃষ্ঠা, ছহীহু ইবনি হাব্বান ৭ম জিঃ ৩৯২ পৃষ্ঠা, আল্ মু’জামুল্ কবীর ১২তম জিঃ ৩৬, ৫১ পৃষ্ঠা, কিতাবুল্ হাদাইক লি ইবনিল জাওযী ৩য় জিঃ ২৪ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ১ম জিঃ ২৪৭, ২৮৪ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান লিল্ বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৯০ পৃষ্ঠা)

[৫৭৫-৬০৩]

عن سمرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال البسوا من ثيابكم البياض فانها اطهر واطيب وكفنوا فيها موتاكم- (نسائى شريف ج১ ص২৬৮ – نسائى بشرح السيوطى ج৮ ص২০৫ – نسائى بشرح السندى ج৮ ص২০৫ – السنن الكبرى للنسائى ج৫ ص৪৭৭ – ابن ماجة ص২৬৩ – مسند احمد بن حنبل ج৫ ص১৩ ص১৯ – شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৯১ – مشكوة شريف ص৩৭৪ – مرقاة اللمعات – اشعة اللمعات ج৩ ص৫৪৪ – مظاهر حق ج৩ ص৫৩৪ – مرأة المناجيح ج৬ ص১০৪ – الفتح الربانى للشيبانى ج১৭ ص২৩৫- بلوغ الامانى ج১৭ ص২৩৫ – نيل الاوطار شرح منتقى الاخبار للشوكانى ج২ ص১০২. شرح السنة للبغوى ج৬ ص১৫৬ – كتاب الحدائق لابن الجوزى ج৩ ص২৪ – اللباس والزينة ص৮৫، ৮৭ ص৫১১ – شمائل الترمذى ص৬ – جمع الوسائل ج১ ص১৪৮ – شمائل بشرح المناوى ج১ ص১৪৮ – المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية ৭৪ – خصائل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৫৬ – فتح البارى ج১০ ص২৮৩ – ارشاد السارى ج৮ ص৪৩৬ – المصنف لعبد الرزاق)

অর্থঃ- “হযরত সামুরাহ্ ইবনে জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, তোমরা সাদা পোশাক পরিধান কর। কেননা ইহা অধিক পবিত্র এবং পছন্দনীয় আর ইহা দ্বারা তোমাদের মৃতদেরকেও কাফন দাও।” (নাসায়ী শরীফ ১ম জিঃ ২৬৮ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বিশরহিস্ সুয়ূত্বী ৮ম জিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বিশ্রহিস্ সিনদী ৮ম জিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৫ম জিঃ ৪৭৭ পৃষ্ঠা, ইবনু মাজাহ্ ২৬৩ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৫ম জিঃ ১৩ ও ১৯ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৯১ পৃষ্ঠা, মিশকাত শরীফ ৩৭৪ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৮ম জিঃ ২৪৮ পৃষ্ঠা, শরহুত্ ত্বীবী ৮ম জিঃ ২১৬ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লীকুছ ছবীহ্ ৪র্থ জিঃ ৩৮৭ পৃষ্ঠা, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৪৪ পৃষ্ঠা, মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫৩৪ পৃষ্ঠা, মিরয়াতুল্ মানাজীহ্ ৬ষ্ঠ জিঃ ১০৪ পৃষ্ঠা, আল্ ফাতহুর রব্বানী লিশ্ শাইবানী ১৭তম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, বুলূগুল আমানী ১৭তম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, নাইলুল্ আউত্বার শরহে মুনতাকাল আখবার লিশ্ শাওকানী ২য় জিঃ ১০২ পৃষ্ঠা, শরহুস্ সুন্নাহ্ লিল্ বাগবী ৬ষ্ঠ জিঃ ১৫৬ পৃষ্ঠা, কিতাবুল্ হাদাইক্ব লি ইবনিল্ জাওযী ৩য় জিঃ ২৪ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ ৮৫, ৮৭ ও ৫১১ পৃষ্ঠা, শামাইলুত্ তিরমিযী ৬ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ১৪৮ পৃষ্ঠা, শামাইল বিশরহিল্ মানাবী ১ম জিঃ১৪৮ পৃষ্ঠা, আল্ মাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়াহ্ আলাশ্ শামাইলিল্ মুহম্মদিয়া ৭৪ পৃষ্ঠা, খছাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫৬ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ২৮৩ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ ৪৩৬ পৃষ্ঠা, আল্ মুছান্নাফু লি আব্দির রয্যাক)

[৬০৪-৬১৩]

عن سمرة بن جندب رضى الله عنه قال قال رسول الله عليه صلى الله عليه وسلم عليكم بهذه البياض فليلبسها احياؤكم وكفنوا فيها موتاكم فانها من خير ثيابكم. (مسند احمد بن حنبل ج৫ ص১২ – ১২১ – شمائل الترمذى ص৬ جمع الوسائل ج১ ص১৪৭ شمائل بشرح المناوى ج১ ص১৪৭ – المواهب اللد نية على الشمائل المحمدية ص৭৪ – خصانل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৫৬ – نيل الاوطار بشرح منتقى الاخبار للشوكانى ج২ ص১০২ المعجم الكبير للطبرانى ج১২ ص৫১، ২১৪. المسند الحميدى ج১ ص৮৪. مجمع الزوائد ج৫ ص১২৮)

অর্থঃ- “হযরত সামুরাহ্ ইবনে জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, তোমাদের জন্য এই সাদা কাপড় অবধারিত। তাই, তোমাদের জীবিতরা যেন ইহা পরিধান করে এবং মৃতদের ইহা দ্বারা কাফন দেয়, কেননা, ইহাই (অর্থাৎ সাদা কাপড়) তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক।” (মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৫ম জিঃ ১২, ২১ পৃষ্ঠা, শামাইলুত্ তিরমিযী ৬পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ১৪৭ পৃষ্ঠা, শামাইলু বিশরহিল্ মানাবী ১ম জিঃ ১৪৭ পৃষ্ঠা, আল্ মাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়া আলাশ্ শামাইলিল মুহম্মদিয়া ৭৪ পৃষ্ঠা, খছাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫৬ পৃষ্ঠা, নাইলুল্ আউতার বিশরহে মুনতাক্বাল্ আখবার লিশ্ শাওকানী ২য় জিঃ ১০২ পৃষ্ঠা, আল্ মু’জামুল কবীর লিত্ ত্বাবারানী ১২ জিঃ ৫১, ২১৪ পৃষ্ঠা, আল্ মুসনাদুল্ হামীদী ১ম জিঃ ২৪০ পৃষ্ঠা, মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৫ম জিঃ ১২৮ পৃষ্ঠা)

[৬১৪]

عن ابى هريرة ……. ان لله عز وجل ملائكة وقوفا بباب المسجد يستغفرون لاصحاب العمائم البيض. (كشف الخفاء ومزيل الالباس ج২ ص৮)

অর্থঃ- “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর কিছু বিশেষ  ফেরেশ্তা রয়েছেন, যাঁরা মসজিদের দরজায় অবস্থান করে সাদা পাগড়ী পরিধানকারী বান্দা গণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন।” (কাশফুল খফা ওয়া মুযীলুল্ ইলবাস ২য় জিঃ ৬৮ পৃষ্ঠা)

[৬১৫]

          হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ ক্ষেত্রে কালো রংয়ের পাগড়ী পরেছেন। তবে বেশীর ভাগ সময়ে তিনি সাদা পাগড়ী পরিধান করতেন। যেহেতু রংয়ের মধ্যে সাদা রং-ই ছিল তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। একটি হাদীসে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সাদা পোশাকই তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক। তোমাদের মৃতদেরকে সাদা কাপড়ে দাফন কর। তাই অধিকাংশ সময়ে তাঁর পাগড়ী হত সাদা রংয়ের। (আখলাকুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৮১ পৃষ্ঠা)

          উপরে বর্ণিত হাদীস শরীফের ভিত্তিতে এটাই প্রমাণিত হলো যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট অধিক পছন্দনীয় রং হচ্ছে সাদা রং। তাই আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা রং-এর বহু ফযীলত বর্ণনা করে উম্মতদেরকে সাদা পোশাক পরিধান করার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। শুধু তাই নয় সাদা রং তাঁর নিকট অধিক প্রিয় হওয়ার কারণে ইন্তিকালের পর সাদা কাপড় দ্বারা কাফন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন ইরশাদ হয়েছে, وكفنوا فيها موتاكم.

অর্থাৎ “তোমরা মৃত ব্যক্তিদের সাদা রং-এর কাপড় দ্বারা কাফন দাও।”

          তাই উক্ত হাদীস শরীফ সমূহের ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফসমূহের সকল ব্যাখ্যাকারগণ একমত পোষণ করে বলেছেন যে, সাদা রং-এর কাপড়ে কাফন দেয়াই খাছ সুন্নত বা মুস্তাহাব। যেমন হাদীস শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ সমূহে উক্ত হাদীস শরীফ সমূহের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে,

[৬১৬]

ان افضل مايكفن فيه الميت من الالوان البياض وقدكفن النبى صلى الله عليه وسلم فى ثلاثة اثواب بيض. (بذل المجهود ج৬ ص৪৮)

অর্থঃ- “মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেয়ার জন্য সাদা রংয়ের কাপড়ই সর্বোত্তম। আর নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিনটি সাদা কাপড় দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছে।” (বযলুল্ মাজহুদ ৬ষ্ঠ জিঃ ৪৮ পৃষ্ঠা)

[৬১৭-৬২২]

قوله كفنوا فيها موتاكم – الامر فيه استحباب قال ابن الهمام واوجبها البياض. (حاشية ابى داؤد ج২ ص২০৭ – حاشية ترمذى ج১ ص১১৮ – تحفة الاحوذى ج৪ ص৭২ – مرقاة ج৪ ص৩৬ – مظاهر حق ج২ ص৪১ – مرأت المناجيح ج২ ص৪২৩)

অর্থঃ- “রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উক্তিঃ “তোমরা তোমাদের মৃতদের উহা (সাদা কাপড়) দ্বারা কাফন দাও।” এখানে নির্দেশটি দ্বারা “মুস্তাহাব’ প্রমাণিত। ইবনে হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাদা রং তাঁর নিকট অধিক পছন্দনীয় বা উত্তম।” (হাশিয়ায়ে আবু দাউদ ২য় জিঃ ২০৭ পৃষ্ঠা, হাশিয়ায়ে তিরমিযী ১ম জিঃ ১১৮ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ জিঃ ৭২ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৪র্থ জিঃ ৩৬, ৭২ পৃষ্ঠা, মুযাহিরে হক্ব ২য় জিঃ ৪১ পৃষ্ঠা, মিরয়াতুল্ মানাজীহ ২য় জিঃ ৪৬৩ পৃষ্ঠা)

[৬২৩]

قال ابن حجر لان اللون الابيض افضل الالوان …… وقد لبس عليه الصلاة والسلام غير الابيض كثيرا لبيان جوازه. (مرقاة ج৪ ص৩৬)

অর্থঃ- “হযরত ইবনে হাজার আসকালীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নিশ্চয়ই সাদা রং-ই রং সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম রং। আর সাদা রংয়ের পোশাক ছাড়াও অন্য রংয়ের পোশাক হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিধান করতেন, জায়েয বা বৈধ প্রমাণ করার জন্য। (মিরকাত ৪র্থ জিঃ ৩৬ পৃষ্ঠা)

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সাদা রং অধিক পছন্দনীয় হওয়ার পরও  কালো বা অন্য রংয়ের পাগড়ী পরিধান করার কারণ

          উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা বুঝা গেল যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট অধিক পছন্দনীয় রং হচ্ছে সাদা রং। তাই তিনি নিজেও অধিকাংশ সময় সাদা রং-এর পোশাক বা পাগড়ী পরিধান করতেন এবং উম্মতদেরকেও সাদা রং-এর পোশাক পরিধান করতে ও সাদা রংয়ের কাপড় দ্বারা মৃতদেরকে কাফন দিতে বলেছেন। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে সাদা রং অধিক পছন্দনীয় হওয়ার পরও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালো বা অন্য রং-এর পাগড়ী পরিধান করার কারণ কি?

          মূলতঃ এর জবাব হলো- আখিরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি সর্বদা শুধুমাত্র সাদা পোশাকই ব্যবহার করতেন কালো বা অন্য পাগড়ী ব্যবহার না করতেন তবে মানুষ কালো রং-এর পাগড়ী পরিধান করাকে নাজায়েয মনে করতো। কাজেই কালো রং-এর পাগড়ী পরিধান করা যে জায়েয, তা প্রমাণ করার জন্যই তিনি কখনো কখনো কালো ও সবুজ পাগড়ী পরিধান করেছেন। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত- عمامة سوداء অর্থাৎ কালো পাগড়ীর ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ সমূহে উল্লেখ আছে,

[৬২৪]

 (وعليه عمامة سوداء) فيه جواز لباس الثياب السود وفى الرواية الأخرى خطب الناس وعليه عمامة سوداء فيه جواز لباس الناس الاسود فى الخطبة وان كان الابيض افضل كما ثبت فى الحديث الصحيح خير ثيابكم البياض – وأما لباس الخطباء السواد فى حال الخطبة فجائز ولكن الأفضل البياص كما ذكرنا وانما لبس العمامة السوداء فى هذا الحديث بيانا للجواز والله اعلم- (مسلم بشرح النووى ج৫ ص১৩৩)

অর্থঃ- “(তাঁর মাথায় ছিল কালো পাগড়ী) এই হাদীসে سوداء (কালো) দ্বারা কালো রংয়ের পোশাক পরিধান করা জায়েয ফতওয়া দেয়া হয়েছে। অন্য হাদীস শরীফে রয়েছে, “তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে খুত্ববাহ্ দিলেন, যখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ী ছিল।” অত্র হাদীস দ্বারা খুত্ববাহ্ দানকালে কালো পোশাক পরিধান জায়েয ইহাই প্রমাণ করা হয়েছে। যদিও সাদা পোশাক (যেমন সাদা পাগড়ী) হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট। তাই, খুত্ববাহ্ প্রদান অবস্থায় কালো পোশাক জায়েয(বৈধ)। কিন্তু সাদা পোশাক (যেমন পাগড়ী) সর্বোৎকৃষ্ট। যেমন  আমরা আলোচনা করেছি। তবে জেনে রাখা দরকার, নিশ্চয়ই এই হাদীস শরীফ কালো পাগড়ী জায়েয (বৈধ) প্রমাণের জন্য, (উৎকৃষ্ট প্রমাণের জন্য নয়, বরং উৎকৃষ্ট হচ্ছে (সাদা পাগড়ী)। আল্লাহ্ পাক অধিক জ্ঞাত।” (মুসলিম বিশরহিন নববী ৫ম জিঃ ১৩৩ পৃষ্ঠা)

[৬২৫]

وقوله وعليه عمامة سوداء فى بعض النسخ عصابة بدل عمامة وهى بمعناها ويؤخذ منه كما قال جمع جواز لبس الأسود فى الخطبة وان كان الابيض افضل- (المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية ص১০০)

অর্থঃ- “وعليه عمامة سوداء অর্থাৎ তাঁর মাথায় কালো পাগড়ী ছিল, কোন কোন কিতাবে عمامة (ইমামাহ্) এর পরিবর্তে عصابة (ইছাবাহ) বা পাগড়ী উল্লেখ আছে। ইহার অর্থ ও عمامة (ইমামাহ্-পাগড়ী) এর অর্থ একই। হাদীসে اسود (কালো) দ্বারা খুত্ববাহ-এর সময় কালো পোশাক পরিধান জায়েয ইহাই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। যদিও সাদা পোশাক (যেমন সাদা পাগড়ী) তা থেকে উৎকৃষ্ট।” (মাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়া আলাশ্ শামাইলিল মুহম্মদিয়া ১০০ পৃষ্ঠা)

[৬২৬-৬২৭]

(وعليه عمامة سوداء) واستدل بعض العلماء بهذا الحديث على جواز لبس السواد وان كان البياض افضل لماسبق من ان خيرثيا بكم البيض- (جمع الوساءل ج১ ص২০৪ خصاءل البنوى صلى الله عليه وسلم ص২২৮)

অর্থঃ- “(وعليه عمامة سوداء) অত্র হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে অধিকাংশ উলামাগণ মত পোষণ করেন যে, কালো পোশাক পরিধান জায়েয। যদিও সাদা পোশাক (যেমন সাদা পাগড়ী) তোমাদের পোশাকের মধ্যে উৎকৃষ্ট- তার দিক থেকে ফযীলত পূর্ণ।” (জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ২০৪ পৃষ্ঠা, খছাইলুন্ নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২২৮ পৃষ্ঠা)

[৬২৮-৬৩০]

قال النووى فى الحديث جواز لبس الاسود فى الخطبة وان كان الابيض افضل منه- (جمع الوساءل ج১ ص২০৫. شمائل بشرح المناوى ج১ ص৪০৬- خصائل النبوى صلى الله عليه وسلم ص২২৮)

অর্থঃ- “হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি (عمامة سوداء) হাদীসের বিশ্লেষণ করে বলেন, সাদা পোশাক (পাগড়ী) পরিধান করে খুত্ববাহ্ দেয়া উত্তম ও আফযল হলেও কালো পোশাক (পাগড়ী) পরিধান করে খুত্ববাহ্ দেয়া জায়েয রয়েছে।” (জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা, শামাইলু বিশরহিল্ মানাবী ১ম জিঃ ২০৬ পৃষ্ঠা, খছাইলুন্ নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২২৮ পৃষ্ঠা)

[৬৩১]

          রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদা-সর্বদা সাদা রংয়ের পাগড়ীই পরেছিলেন। ….. মুহাদ্দিসীন-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেন, ঐ সময় (মক্কা বিজয়ের সময়) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালো রংয়ের পাগড়ী পরেছিলেন। সাদা রংয়ের কাপড় পরিধান করার জন্য নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও তাঁর নিজের কালো পাগড়ীর পরিধান করার হেতু সম্বন্ধে তাঁরা বলেন যে, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি কালো পাগড়ী পরিধান না করতেন তাহলে মু’মিনগণ স্বাভাবিকভাবে এই ধারণাই করত যে, সাদা ছাড়া অন্য কোন রংয়ের পাগড়ী পরা চলবে না এবং তাতে লোকদের পক্ষে কষ্ট নিশ্চয় হত। তাই সাদা রংয়ের পাগড়ী ছাড়া অন্য রংয়ের পাগড়ী ব্যবহারের বৈধতা জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্যে তিনি কালো পাগড়ী ব্যবহার করেছিলেন।” (খছাইলুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২২৭ পৃষ্ঠা)

          অতএব, উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহ্ থেকে প্রমাণিত হয় যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ সময়ই সাদা পাগড়ী পরিধান করতেন। কেননা তাঁর কাছে সব চাইতে পছন্দনীয় পোশাক ছিল সাদা। তাছাড়া হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা পোশাক পরিধান করতে গুরুত্বের সহিত আমর বা নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং উহার পবিত্রতা ও পছন্দনীয়তা বর্ণনা করেছেন।

নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা রংয়ের পোশাক বা পাগড়ী পরিধান করার প্রমাণ

          সাইয়্যিদুল বাশার, হাবীবুল্লাহ, রহমতুল্লিল আলামীন, শাফীউল উমাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে, শুধু উম্মতের জন্যই সাদা রং এর পোশাক বা পাগড়ী পছন্দ করেছেন তা নয়, বরং স্বয়ং নিজেও সাদা রং-এর পোশাক বা পাগড়ী মুবারক পরিধান করেছেন। এছাড়াও তাঁর টুপি মুবারক, পতাকা মুবারক ও কাফন মুবারকও ছিল সাদা রং-এর। নিম্নে এসম্পর্কিত দলীল-আদিল্লাহ্ সমূহ উল্লেখ করা হলো-

[৬৩২]

قال السخاوى فى فتاوى رأيت من نسب لعائشة عمامته فى السفر بيضاء- (الزرقانى ج৬ ص২৫৭)

অর্থঃ- “হযরত সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ফতওয়ার কিতাবে লিখেছেন যে, আমি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি ঐ বর্ণনাটিকে হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহ আনহা-এর দিকে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সফরে সাদা পাগড়ী ছিল।” (যুরকানী ৬ষ্ঠ জিঃ ২৫৭ পৃষ্ঠা)

[৬৩৩-৬৪০]

قال ابوذر اتيت النبى صلى الله عليه وسلم وعليه ثوب ابيض. (بخارى شريف ج২ ص৪৬৭ – فتح البارى ج১০ – ص২৮৩ عمدة القارى ج২২ ص৭ – ارشاد السارى ج৮ ص৪৩৬ – تيسير البارى ج৭ ص৫৫৮ شرح السنة للبغوى ج৬ ص১৫৬. اللباس والزينة ص৮৪. مسند احمد بن حنبل ج৫ ص১৬৬)

অর্থঃ- “হযরত আবু যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন। আমি একদা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসলাম, তখন তাঁর (হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীর মুবারকে সাদা পোশাক ছিল।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ ৮৬৭ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ২৮৩ পৃষ্ঠা, উমদাতুল কারী ২২তম জিঃ ৭ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ ৪৩৬ পৃষ্ঠা, তাইসীরুল বারী ৭ম জিঃ ৫৫৮ পৃষ্ঠা, শরহুস্ সুন্নাহ্ লিল বাগবী ৬ষ্ঠ জিঃ ১৫৬ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্যীনাহ্ ৮৪ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৫ম জিঃ ১৬৬ পৃষ্ঠা)

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পতাকা মুবারক ছিল সাদা কাপড়ের

[৬৪১-৬৫১]

عن جابر يرفعه الى النبى صلى الله عليه وسلم انه كان لوائه يوم دخل مكة ابيض. (ابو داؤد ج২ ص৩৫৬. بذل المجهود ج৪ ص৩০২. عون المعبود ج২ ص৩৩৭. ترمذى شريف ج১ ص২০১. تحفة الاحوذى ج৫ ص৩২৬. عارضة الاحوذى ج৭ ص১৭৭. نسائى شريف ج২ ص২৯. نسائى بشرح السيوطى ج৫ ص২০০. السنن الكبرى للنسائى ج২ ص৩৮২. ذخيرة العقبى شرح نساءى. ابن ماجة ص২০৭)

অর্থঃ- “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ‘মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন (মক্কা বিজয়ের দিবসে) মক্কা শরীফে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর পতাকা ছিল সাদা রংয়ের।” (আবু দাউদ ২য় জিঃ ৩৫৬ পৃষ্ঠা, বযলুল মাজহুদ ৪র্থ জিঃ ২৩০ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বুদ ২য় জিঃ ৩৩৭ পৃষ্ঠা, তিরমিযী শরীফ ১ম জিঃ ২০১ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৩২৬ পৃষ্ঠা, আরিদাতুল্ আহওয়াযী ৭ম জিঃ ১৭৭ পৃষ্ঠা, নাসায়ী শরীফ ২য় জিঃ ২৯ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বি শরহিস্ সুয়ূতী ৫ম জিঃ ২০০ পৃষ্ঠা, আস্ সুনানুল্ কুবরা ২য় জিঃ ৩৮২ পৃষ্ঠা, যখীরতুল্ উক্ববা শরহে নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ২০৭ পৃষ্ঠা)

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর টুপি মুবারকও ছিল সাদা রংয়ের

[৬৬১-৬৬৪]

عن ابن عمر رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يلبس قلنسوة بيضاء. (شعب الايمان للبيعقى ج৫ ص১৭৫. مجمع الزوائد ج৫ ص১২১. اللباس والزينة ص৮৮. اخلاق النبى صلى الله عليه وسلم ص১৭৩)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই হযরত রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদাই সাদা রংয়ের টুপি পরিধান করতেন।” (শুয়াবুল ঈমান লিল্ বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৫ পৃষ্ঠা, মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৫ম জিঃ ১২১ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ্ ৮৮ পৃষ্ঠা, আখলাকুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৮৩ পৃষ্ঠা)

[৬৫৬]

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه قلنسوة بيضاء شامية. (اخلاق النبى صلى الله عليه وسلم ص১৮৩)

অর্থঃ- “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শাম দেশের (সিরিয়ার) তৈরি সাদা টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখেছি।” (আখলাকুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৮৩ পৃষ্ঠা)

[৬৫৭-৬৫৯]

عن ابن عمر قال كان رسول الله صلى الله عليه واله وسلم يلبس كمة بيضاء. (مجمع الزوائد ج৫ ص১২১. اللباس والزينة ص৮৮. الا وسط للطبرانى)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা টুপি পরিধান করতেন।” (মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৫ম জিঃ ১২১ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ ৮৮ পৃষ্ঠা, আল আওসাত্ব লিত্ তাবারানী)

রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাফন দেয়া হয়েছিল ‘সাদা সূতী’ তিন কাপড় দিয়ে

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা পোশাক যেমন পাগড়ী, টুপি, কুর্তা ইত্যাদী সাদা হওয়া খুবই পছন্দ করতেন এবং বাস্তবে পরিধানও করতেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওফাত মুবারকের পর কাফনও ছিল সাদা সূতী ইয়ামেন দেশীয় তিনটি কাপড়। যেমন হাদীস শরীফের কিতাব সমূহে বর্ণিত আছে যে-

[৬৬০-৬৮৪]

عن عائشة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كفن فى ثلاثة اثواب يمانية بيض سحولية من كرسف ليس فيها قميص ولا عمامة. (بخارى شريف ج১ ص১৬৯. فتح البارى ج৩ ص১৩৫. عمدة القارى ج৮ ص৩৮. ارشاد السارى ج২ ص৩৮৮. بخارى بشرح الكرمانى ج৭ ص৬৮. تيسير البارى ج২ ص২৪৯. فيض البارى ج২ ص৪৫৩. مسلم شريف ج১ ص৩০৫. مسلم بشرح النووى شرح الابى والسنوسى – فتح الملهم. المفهم للقرطبى. مشكوة شريف ص১৪৩. مرقاة ج৪ ص৩৩. شرح الطيبى ج৩ ص৩৫৩. التعليق الصبيح ج২. اللمعات- اشعة اللمعات ج১ ص২৪৬. مظاهر حق ج২ ص৪০. مرأت المناجيح ج২ ص৪৬২. اشرف التوضيح ج২ ص২০৭. تنظيم الاشتات ج৩ ص২০. درس مشكوة ج২ ص১৫২. نيل الاوطار ج৪ ص৩৯. اللباس والزيينة ص২১১.

অর্থঃ- “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইয়ামান দেশীয় তিন খন্ড সাদা সূতী কাপড় দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ক্বমীছ (জামা) এবং ইমামাহ্ বা পাগড়ী ছিল না। (বুখারী শরীফ ১ম জিঃ ১৬৯ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ৩য় জিঃ ১৩৫ পৃষ্ঠা, উমদাতুল ক্বারী ৮ম জিঃ ৪৮ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ২য় জিঃ ৩৮৮ পৃষ্ঠা, বুখারী বিশ্রহিল্ কিরমানী ৭ম জিঃ ৩৮ পৃষ্ঠা, তাইসীরুল বারী ২য় জিঃ ২৪৯ পৃষ্ঠা, ফাইদুল বারী ২য় জিঃ ৪৫৩ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ১ম জিঃ ৩০৫ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশ্রহিন্ নববী, শরহুল উবাই ওয়াস্ সিনূসী, ফাতহুল মুলহিম, আল্ মুফহিম লিল্ কুরতুবী, মিশকাত শরীফ ১৪৩ পৃষ্ঠা, মিরক্বাত ৪র্থ জিঃ ৩৩ পৃষ্ঠা, শরহুত্ ত্বীবী ৩য় জিঃ ৩৫৩ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লীকুছ্ ছবীহ্ ২য় জি, লুময়াত, আশয়াতুল্ লুময়াত ১ম জিঃ ৬৭২ পৃষ্ঠা, মুযাহিরে হক্ব ২য় জিঃ ৪০ পৃষ্ঠা, মিরয়াতুল্ মানাজীহ্ ২য় জিঃ ৪৬২ পৃষ্ঠা, আশরাফুত্ তাওযীহ্ ২য় জিঃ ২০৭ পৃষ্ঠা, তানযীমুল্ আশতাত ৩য় জিঃ ২০ পৃষ্ঠা, দরসে মিশকাত ২য় জিঃ ১৫২ পৃষ্ঠা, নাইলুল্ আউতার ৪র্থ জিঃ ৩৯ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ্ ২১১ পৃষ্ঠা)

[৬৮৫-৬৯১]

عن عائشة رضى الله عنها قالت دخلت على ابى بكر فقال فى كم كفنتم النبى صلى الله عليه وسلم قالت فى ثلاثة اثواب بيض سحولية ليس فيها قميص ولاعمامة. (بخارى شريف ج১ ص১৮৬. فتح البارى ج৩ ص২৫২. عمدة القارى ج৮ ص২১৮. ارشاد السارى ج২. ص৪৭৪. بخارى بشرح الكرمانى ج৭ ص১৫৭. تيسير البارى ج২ ص৩৩. مسند احمد بن حنبل ج৬ ص১১৮-১৩২.

অর্থঃ- “হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কত খন্ড কাপড় দ্বারা নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাফন দিয়েছিলে? তিনি (হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) জাওয়াবে বললেন, সাদা সাহুলী তিন খন্ড কাপড় দ্বারা। যার মধ্যে ক্বমীছ (জামা) এবং ইমামাহ্ বা পাগড়ী ছিল না। (বুখারী শরীফ ১ম জিঃ ১৮৬ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ৩য় জিঃ ২৫২ পৃষ্ঠা, উমদাতুল ক্বারী ৮ম জিঃ ২১৮ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ২য় জিঃ ৪৭৪ পৃষ্ঠা, বুখারী বিশরহিল্ কিরমানী ৭ম জিঃ ১৫৭ পৃষ্ঠা, তাইসীরুল বারী ২য় জিঃ ৩৩৪ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৬ষ্ঠ জিঃ ১১৮ ও ১৩২ পৃষ্ঠা)

সকল ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালামগণ সাদা রংয়ের পাগড়ী পরিধান করে থাকেন

[৬৯২-৭০৫]

روى عن على بن ابى طالب وابن عباس وغيرهما ان الملائكة اعتمت بعمائم بيض. (تفسير القرطبى ج২ ص১০৬. تفسير الخازن ج১ ص২৮০. تفسير روح البيان ج৩ ص৯০. تفسير ابى السعود ج২ ص৮০. تفسير السمر قندى ج১ ص২৯৬. تفسير الدر المصون ج২ ص২০৬. تفسير المحرر الوجيز ج১ ص৫০৪. حاشية محى الدين شيخ زادة على تفسير البيضاوى ج১ ص৬৬৯. تفسير الجلالين ض৬০. حاشية الجمل على الجلالين ج১ ص৩১২. تفسير فتح القدير ج১ ص৩৭৮. تفسير المظهرى ج২ ص১৩৩. تفسير ابن عباس رضى الله عنها ج১ ص২৭৪. حاشية الصاوى على الجلالين ج১ ص১৭৭)

অর্থঃ- “হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত আছে সিঃসন্দেহে (বদর যুদ্ধে) ফেরেশ্তাগণ ‘সাদা পাগড়ী পরিধান করেছিলেন।” (তাফসীরুল কুরতুবী ২য় জিঃ ১৯৬ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল খাযিন ১ম জিঃ ২৮০ পৃষ্ঠা, তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় জিঃ ৯০ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল আবীস সাউদ ২য় জিঃ ৮০ পৃষ্ঠা, তাফসীরুস্ সামরকান্দী ১ম জিঃ ২৯৬ পৃষ্ঠা, তাফসীরুদ্ দুররিল মাছূন ২য় জিঃ ২০৬ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল্ মুহাররারিল ওয়াজীয ১ম জিঃ ৫০৪ পৃষ্ঠা, হাশিয়াতু মুহিউদ্দীন শায়খ যাদাহ আলা তাফসীরল বাইযাভী ১ম জিঃ ৬৬৯ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল জালালাইন ৬০ পৃষ্ঠা, হাশিয়াতুল জামাল আলাল জালালাইন ১ম জিঃ ৩১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরু ফাতহুল ক্বাদীর ১ম জিঃ ৩৭৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল্ মাযহারী ২য় জিঃ ১৩৩ পৃষ্ঠা, তাফসীরু ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ১ম জিঃ ২৭৪ পৃষ্ঠা, হাশিয়াতুছ্ ছাবী আলাল জালালাইন ১ম জিঃ ১৭৭ পৃষ্ঠা)

[৭০৬]

قال عروة بن الوبير كانت الملائكة على خيل بلق عليهم عمائم بيض قد ارسلوها بين اكتافهم. (تفسير ابى السعود ج২ ص৮১)

অর্থঃ- “হযরত উরওয়াহ্ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (বদর যুদ্ধের দিন) ফেরেশ্তাগণ সাদা ডোরা বিশিষ্ট ঘোড়ায় ‘সাদা পাগড়ী’ পরিহিত ছিলেন। পাগড়ীর শামলা তাঁদের দু’কাঁধের মাঝে ঝুলন্ত ছিল।” (তাফসীরু আবীস্ সাউদ ২য় জিঃ ৮১ পৃষ্ঠা)

[৭০৭-৭১৩]

اخرج ابن اسحاق والطبرانى عن ابن عباس رضى الله عنه قال كانت سيماء الملائكة يوم بدر عمائم بيض. (تفسير روح المعانى ج৩ ص৪৭. التسهيل لعلوم الندزيل ج১ ص১৫৮. تقسير ابن كثير ج১ ص৬০১. حاشية محى الدين شيخ زاده على البيضاوى ج১ ص৩১২. فتح القديد ج১ ص৩৭৯. حاشية الجلالين ص ص৬০)

অর্থঃ- “হযরত ইবনে ইসহাক ও তাবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহিমা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিবস ফেরেশতাগণের বিশেষ চিহ্ন ছিল সাদা পাগড়ী।” (তাফসীরু রুহুল মায়ানী ৩য় জিঃ ৪৬ পৃষ্ঠা, আত্ তাসহীলু লি উলূমিত্ তানযীল ১ম জিঃ ১৫৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরু ইবনে কাসীর ১ম জিঃ ৬০১ পৃষ্ঠা, হাশিয়াতু মুহিউদ্দীন শায়খ যাদাহ্ আলাল বাইযাভী ১ম জিঃ ৬৬৯  পৃষ্ঠা, হাশিয়াতুল্ জামাল আলাল জালালাইন ১ম জিঃ ৩১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরু ফতহুল ক্বাদীর ১ম জিঃ ৩৭৯ পৃষ্ঠা, হাশিয়ায়ে জালালাইন ৬০ পৃষ্ঠা)

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণও ‘সাদা’  রংয়ের ‘ইমামাহ্ বা পাগড়ী’ পরিধান করেছেন

আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্, সাইয়্যিদুল বাশার হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সাদা রংয়ের পোশাক বা পাগড়ী পরিধান করতেন তার প্রমাণ আপনারা উপরের বর্ণনাগুলোতে পেয়েছেন। আখিরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে সাদা রংয়ের পোশাক বা পাগড়ী পরিধান করেছেন তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেনা। কেননা, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণই আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবচেয়ে বেশী অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ সবচেয়ে বেশী পালন করেছেন। হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে সাদা রংয়ের পাগড়ী পরিধান করেছেন নিম্নোক্ত বর্ণনায় তা সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে।

[৭১৪]

عن سليمان بن ابى عبد الله قال ادركت المهاجرين الاولين يعتمون بعمائم كرابيس …… بيض ….. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৪১)

অর্থঃ- “হযরত সুলাইমান ইবনে আবী আব্দুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (ইসলামের) প্রথম দিকের সকল মুহাজিরীন (হিজরত কারী ছাহাবা) রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণকে ………, সাদা, ………. রংয়ের সূতী কাপড়ের পাগড়ী পরিধান করতে দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ ৮ম জিঃ ২৪১ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত বর্ণনায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, মুহাজির ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ بيض বা সাদা সংয়ের পাগড়ীও পরিধান করেছেন।

          অতএব, প্রমাণিত হলো যে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সাদা রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন বা করেছেন।

হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও সাদা রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করতেন

          আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সুন্নত অনুসরণে তাবিঈন, তাবে-তাবিঈন তথা আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও সাদা রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন বা করেছেন। এ সম্পর্কিত বহু বর্ণনা কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। নিম্নে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা উল্লেখ করা হলো-

[৭১৫]

উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “(হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি) অত্যন্ত মূল্যবান এবং পছন্দনীয় (সাদা) রং করা পোশাক ব্যবহার করতেন। জুব্বা, পাগড়ী, চাদর এবং এছাড়া অন্যান্য পোশাক সমূহ ছিল সাধারণতঃ সূতী কাপড়ের। …. পাগড়ী ছিল সাদা রংয়ের।” (সিয়ারুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ৭ম জিঃ ৪০৯ পৃষ্ঠা)

[৭১৬-৭১৭]

حدثنا الحسن بن صالح عن ابيه قال رأيت على الشعبى عمامة بيضاء. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৮. طبقات ابن سعد ج৬ ص১৭৫)

অর্থঃ- “হযরত হাসান ইবনে ছালিহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতা (হযরত ছালিহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সাদা পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৮ পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতু ইবনে সা’দ ৬ষ্ঠ জিঃ ১৭৫ পৃষ্ঠা)

[৭১৮-৭১৯]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “হযরত খারিজা ইবনে যায়েদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ……. সাদা রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন এবং বাম হাতের আঙ্গুলে আংটি পরতেন।” (সিয়ারুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ৭ম জিঃ ১১৬ পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতু ইবনে সা’দ ৫ম জিঃ ১৯৪ পৃষ্ঠা)

[৭২০-৭২১]

حدثنا اسماعيل بن عبد الملك قال رأيت على سعيد بن جبير عمامة بيضاء. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৮. طبقات ابن سعد ج৬ ص১৮৬)

অর্থঃ- “হযরত ইসমাঈল ইবনে আব্দুল মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সাদা পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৮ পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতু ইবনে সা’দ ৬ষ্ঠ জিঃ ১৮৬ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হল যে, আল্লাহ্ পাক সাদা রং অধিক পছন্দ করেন এবং তাঁরই হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সাদা পোশাক তথা সাদা পাগড়ীকে অধিক পছন্দ করতেন এবং অধিকাংশ সময় তা পরিধান করতেন। তাঁর সমস্ত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ এবং তৎপরবর্তী তাবিঈন ও তাবে’তাবিঈন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ তৎসঙ্গে সমস্ত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও সাদা পাগড়ী পছন্দ করার পাশাপাশি পরিধানও করতেন। তাই প্রমাণীত হয় যে, সাদা পাগড়ী পরিধান করা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত, ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণের সুন্নত, তাবিঈন ও তাবে’তাবিঈন এবং পরবর্তী সকল আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সুন্নত।

সবুজ রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী

খাছ সুন্নত হওয়ার প্রমাণ

          নূরে মুজাস্সাম, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সাদা রংয়ের পোশাকের পর সবচেয়ে বেশী পছন্দনীয় পোশাক হচ্ছে সবুজ রংয়ের পোশাক। তাই তিনি অনেক সময় সবুজ রংয়ের পোশাক যথা- চাদর, লুঙ্গী ইত্যাদি পরিধান করতেন বলে হাদীস শরীফে স্পষ্ট বর্ণিত রয়েছে। অতএব, ইমামাহ্ বা পাগড়ীও যেহেতু লিবাছ বা পোশাকসমূহের মধ্যে একটি লিবাছ বা পোশাক তাই সবুজ রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করাও সুন্নত। আখিরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সবুজ রংয়ের পোশাক পরিধান করেছেন বিশ্ববিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ হতে নিম্নে তার কতিপয় প্রমাণ পেশ করা হলো-

হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবুজ পোশাক পরিধান করার প্রমাণ

[৭২২-৭৪১]

عن قتادة عن انس رضى الله عنه قال قلت له اى الثياب كان احب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الحبرة. (بخارى شريف ج২ ص৮৬৫. فتح البارى ج১০ ص২৭৬. عمدة القارى ج২১ ص৩১৩. ارشاد السارى ج৮ ص৪৩১. بخارى بشرح الكرمانى ج২১ ص৭০. تيسير البارى ج৭ ص৫৫১. مسلم شريف ج২ ص১৯৩. مسلم بشرح النووى. مسلم بشرح الابى ج৭ ص২২৮. مسلم بشرح السنوسى ج৭ ص২২৮. المفهم بشرح المسلم ج৫ ص৪০১. فتح الملهم ج৪ ص১১৫. ابوداؤد شريف ج২ ص২০৭. بذل المجهود ج৬ ص৪৭. عون المعبود ج৪ ص৯০. شرح ابى داؤد لبدر الدين العينى. مسند احمد بن حنبل ج৩ ص১৩৪. ص১৮৪ ص২৫১. الفتح الربانى للشيبانى ج৭১ ص২৩৯. بلوغ الامانى ج১৭ ص২৩৯. اللباس والزينة ص২৯-৩৮)

অর্থঃ- “হযরত ক্বতাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (হযরত ক্বতাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট কোন পোশাক সবচাইতে পছন্দনীয় ছিল? তিনি জবাবে বললেন, হিবরাহ্ অর্থাৎ ইয়ামান দেশীয় সবুজ রংয়ের সূতী কাপড়।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ ৮৬৫ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ২৭৬ পৃষ্ঠা, উমদাতুল কারী ২১তম জিঃ ৩১৩ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ ৪৩১ পৃষ্ঠা, বুখারী বিশরহিল্ কিরমানী ২১তম জিঃ ৭০ পৃষ্ঠা, তাইসীরুল বারী ৭ম জিঃ ৫৫১ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ১৯৩ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশরহিন্ নববী, মুসলিম বিশরহিল উবাই ৭ম জিঃ ২২৮ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশরহিস্ সিনূসী ৭ম জিঃ ২২৮ পৃষ্ঠা, আল্ মুফহিম বিশরহিল মুসলিম ৫ম জিঃ ৪০১ পৃষ্ঠা, ফাতহুল মুলহিম ৪র্থ জিঃ ১১৫ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ ২০৭ পৃষ্ঠা, বযলুল মাজহুদ ৬ষ্ঠ জিঃ ৪৭ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯০ পৃষ্ঠা, শরহু আবী দাউদ লি বাদরিদ্দীন আইনী, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৩য় জিঃ ১৩৪, ১৮৪, ২৫১ পৃষ্ঠা, আল ফাতর্হু রব্বানী লিশ্ শাইবাণী ১৭ জিঃ ২৩৯ পৃষ্ঠা, বুলূগুল আমানী ১৭তম জিঃ ২৩৯ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু আয্ যীনাহ্ ২৮, ২৯ পৃষ্ঠা)

[৭৪২-৭৭৭]

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال كان احب الثياب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يلبسها الحبرة. (بخارى شريف ج২ ص৮৬৫. فتح البارى ج১০ ص২৭৬. عمدة القارى ج২১ ص৩১৩. ارشاد السارى ج৮ ص৪৩২. بخارى بشرح الكرمانى ج২১ ص৭০. تيسير البارى ج৭ ص১৫৫. مسلم شريف ج২ ص১৯৩. مسلم بشرح النووى. شرح الابى للمسلم ج৭ ص২২৭. شرح السنوسى للمسلم ج৭ ص২২৮. فتح الملهم ج৪ ص১১৫. ترمذى شريف ج১ ص২১০. تحفة الاحوذى ج৫ ص৪৮৭. عارضة الاحوذى ج৭ ص২৮০. نشائى شريف ج২ ص২৯৭. نسائى بشرح السيوطى ج৭ ص২০৩. نسائى للسندى ج৮ ص২০৩. السنن الكبرى للنسائى ج৫ ص৪৭৮. مسند احمد بن حنبل ج৩ ص২৯১. مشكوة شريف ص৩৭৩ مرقاة ج৮ ص২৩৪. شرح الطيبى ج৮ ص২০৫. التعليق الصبيح ج৪ ص৩৮২. مظاهرحق ج৩ ص৫২৬. لمعات. اشعة اللمعات ج৩ ص৫৩৪. مرأة الماجلح ج৬ ص৯১. درس مشكوة ج৩. ص১৫৪. شمائل الترمذى ص৬. جمع الوسائل ج১ ص১৪০. شمائل بشرح المناوى ج১ ص১৪০. المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية ص৭১. خصائل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৫২. نيل الاوطار. شرح منتقى الاخبار للشوكانى ج২ ص১০৩. كتاب الحدائق ج৩ ص২৪. اللباس والزينة ص২৯ ص৫১২)

অর্থঃ- “হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল ‘হিবরাহ্’ (ইয়ামান দেশীয় সবুজ রংয়ের চাদর), যা তিনি পরিধান করতেন।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ ৮৬৫ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ২৭৬ পৃষ্ঠা, উমদাতুল ক্বারী ২১তম জিঃ ৩১৩ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ ৪৩২ পৃষ্ঠা, বুখারী বিশরহিল কিরমানী ২১তম জিঃ ৭০ পৃষ্ঠা, তাইসীরুল বারী ৭ম জিঃ ৫৫১ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ১৯৩ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশরহিন্ নববী, শরাহুল উবাই লিল্ মুসলিম ৭ম জিঃ ২২৮ পৃষ্ঠা, শরহুস্ সিনূসী লিল মুসলিম ৭ম জিঃ ২২৮ পৃষ্ঠা, ফতহুল্ মুলহিম ৪র্থ জিঃ ১১৫ পৃষ্ঠা, তিরমিযী শরীফ ১ম জিঃ ২১০ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪৮৭ পৃষ্ঠা, আরিদ্বাতুল্ আহওয়াযী ৭ম জিঃ ২৮০ পৃষ্ঠা, নাসায়ী শরীফ ২য় জিঃ ২৯৭ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বিশরহিস্ সূয়ূত্বী ৮ম জিঃ ২০৩ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বিশরহিস্ সিনদী ৮ম জিঃ ২০৩ পৃষ্ঠা, আস্ সুনানুল্ কুবরা লিন নাসায়ী ৫ম জিঃ ৪৭৮ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৩য় জিঃ ২৯১ পৃষ্ঠা, মিশকাত শরীফ ৩৭৩ পৃষ্ঠা, মিরক্বাত ৮ম জিঃ ২৩৪ পৃষ্ঠা, শরহুত্ ত্বীবী ৮ম জিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লীকুছ্ ছবীহ্ ৪র্থ জিঃ ৩৮২ পৃষ্ঠা, মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫২৬ পৃষ্ঠা, লুময়াত, আশয়াতুল্ লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৩৪ পৃষ্ঠা, মিরয়াতুল্ মানাজীহ্ ৬ষ্ঠ জিঃ ৯১ পৃষ্ঠা, দরসে মিশকাত ৩য় জিঃ ১৫৩ পৃষ্ঠা, শামাইলুত্ তিরমিযী ৬ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ১৪০ পৃষ্ঠা, শামাইলু বিশরহিল্ মানাবী ১ম জিঃ ১৪০ পৃষ্ঠা, আল্ মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া আলাশ্ শামাইলিল মুহম্মদিয়া ৭১ পৃষ্ঠা, খছাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫২ পৃষ্ঠা, নাইলূল আউতার শরহে মুনতাক্বাল আখবার লিশ্ শাওকানী ২য় জিঃ ১০৩ পৃষ্ঠা, কিতাবুল হাদাইক্ব ৩য় জিঃ ২৪ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্যীনাহ্ ২৯ ও ৫১২ পৃষ্ঠা)

[৭৭৮-৭৮১]

عن ابى رمثة قال رأيت النبى صلى الله عليه وسلم يخطب وعليه بردان اخضران. (نسائى شريف ج১ ص২৩৩. نسائى بشرح السيوطى. نسائى بحاشية السندى. السنن الكبرى للنسائى)

অর্থঃ- “হযরত আবু রিমছাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুত্ববাহ্ দান অবস্থায় দেখেছি যে, তখন তাঁর শরীর মুবারকে সবুজ রংয়ের দুটি চাদর ছিল।” (নাসায়ী শরীফ ১ম জিঃ ২৩৩ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বিশরহিস্ সুয়ূত্বী, নাসায়ী বিহাশিয়াতিস্ সিনদী, আস্ সুনানুল্ কুবরা লিন্ নাসায়ী)

উপরালোচিত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যার আলোকে সবুজ রংয়ের পোশাকের ফযীলত, গুরুত্ব ও আহকাম

          সবুজ রংয়ের পোশাক বিশেষ করে সবুজ রংয়ের পাগড়ী খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তর্ভূক্ত। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবুজ রংয়ের পোশাক খুবই পছন্দ করতেন এবং পরিধানও করতেন। কেননা, তা জান্নাত বাসীগণের পোশাক। উহার মাধ্যমে মস্তিস্ক ঠান্ডা, চক্ষু শীতল ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এ সম্পর্কিত কতিপয় বর্ণনা নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে উল্লেখ করা হলো-

[৭৮২-৭৯০]

وقال الداودى لونها اخضر لانها لباس اهل الجنة- وقال ابن بطال هى من برود اليمن تصنع من قطن وكانت اشرف الثياب عنهم. (فتح البارى ج১০ ص২৭৭. فتحالملهم ج৪ ص১১৫. عون المعبود ج৪ ص৯০. مرقاة ج৪ ص২৩৫. جمع الوسائل ج১ ص১৪০. حاشية بخارى ص৮৬৫. خاشية ابوداود ص২০৭. الزرقانى – احياء علوم الدين)

অর্থঃ- “ইমাম দাউদী বলেন, উহার (হিবরাহ-এর) রং হচ্ছে সবুজ। কেননা, নিশ্চয়ই উহা জান্নাতবাসীগণের পোশাক। ইবনে বাত্বাল বলেন, (হিবরাহ হল) ইয়ামান দেশীয় চাদর, যা সুতা দিয়ে তৈরি করা হয়। আর উহাই তাদের কাছে অতি উত্তম কাপড় হিসেবে ছিল।” (ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ১৭৭ পৃষ্ঠা, ফতহুল মুলহিম ৪র্থ জিঃ ১১৫ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বুদ ৪র্থ জিঃ ৯০ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৮ম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ১৪০ পৃষ্ঠা, হাশিয়ায়ে বুখারী ৮৬৫ পৃষ্ঠা, হাশিয়ায়ে আবু দাউদ ২০৭ পৃষ্ঠা, যুরকানী, ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন)

[৭৯১]

قوله والحبرة وهى البرد اليمانى وقال الداودى هى الخضراء لانها لباس اهل الجنة ولذلك يستحب فى الكفن وسجى رسول الله صلى الله عليه وسلم بها والبياض خير منها وفيه كفن رسول الله صلى الله عليه وسلم. (عمدة القارى ج২১ ص৩১১)

অর্থঃ- “الحبرة (হিবরাহ) হচ্ছে ইয়ামানী চাদর। ইমাম দাউদী বলেন, ইহা সবুজ রংয়ের, কেননা নিশ্চয়ই ইহা জান্নাতবাসীগণের পোশাক। আর এজন্যই উহা দ্বারা কাফন করা মুস্তাহাব। রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লামকে (ওফাতের পর) হিবরাহ বা সবুজ চাদর দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তবে (কাফনের জন্য) উহার চেয়ে সাদাই উত্তম, যার মাধ্যমে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাফন দেয়া হয়েছিল। (উমদাতুল ক্বারী ২১ জিঃ ৩১১ পৃষ্ঠা)

[৭৯২-৭৯৯]

انما كانت الحبرة احب الثياب الى النبى صلى الله عليه وسلم لانه ليس فيها كثير زينة ولانها اكثر احتمالا للوسخ. (عمدة القارى ج২১ ص৩১৩. بخارى بشرح الكرمانى ج২১ ص৭০. بذل المجهود ج৬ ص৪৮. عون المعبود ج৪ ص৯০. تحفة الاحوذى ج৫ ص৪৮৭. مرقاة ج৮ ص২৩৫. جمع الوسائل ج১ ص১৪১. حاشية بخارى ص৮৪৫)

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই হিবরাহ অর্থাৎ সবুজ রংয়ের কাপড় নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট অধিক পছন্দনীয় ছিল। কেননা, তার (সবুজ রংয়ের) মধ্যে অধিক চাকচিক্যতা নাই এবং তাতে অধিক পরিমাণে দাগ বা ময়লা পরিলক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” (উমদাতুল ক্বারী ২১তম জিঃ ৩১৩ পৃষ্ঠা, বুখারী বিশরহিল কিরমানী ২১তম জিঃ ৭০ পৃষ্ঠা, বযলুল মাজহুদ ৬ষ্ঠ জিঃ ৪৮ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বুদ ৪র্থ জিঃ ৯০ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪৮৭ পৃষ্ঠা, মিরক্বাত ৮ম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ১৪১ পৃষ্ঠা, হাশিয়ায়ে বুখারী ৮৬৫ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত অসংখ্য দলীল-আদিল্লা’র মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবুজ পোশাক যেমন, চাদর, লুঙ্গি ইত্যাদী খুবই পছন্দ করতেন এবং পরিধানও করতেন। কেননা, সবুজ কাপড় জান্নাত বাসীগনের পোশাকের অন্তর্ভূক্ত। সবুজ পোশাক পরিধান করা খাছ সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। যেহেতু তা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিধান করেছেন। তাই বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, ‘সবুজ ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করাও খাছ সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত।’ কেননা ইমামাহ্ বা পাগড়ীও পোশাকসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম পোশাক।

ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালামগণও সবুজ ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করে থাকেন

          মহান আল্লাহ্ পাক-এর ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালামগণ যেমন সাদা পাগড়ী পরিধান করেন, তেমনীভাবে সবুজ পাগড়ীও পরিধান করে থাকেন। কেননা সাদা, সবুজ ইমামাহ্ বা পাগড়ী তাঁদের বিশেষ নিদর্শন বা চিহ্ন। এসম্পর্কিত প্রমানাদি নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-

[৮০০]

قيل ان الملائكة بعمائم بيض وقيل حمر وقيل خضر وقيل صفر. (فتح القدير ج১ ص৩৭৮)

অর্থঃ- “কারো মতে, নিঃসন্দেহে ফেরেশ্তাগণ সাদা পাগড়ী পরিধান করে থাকেন। আবার কেউ বলেন, গন্ধম রংয়ের। কেউ বলেন, ‘সবুজ পাগড়ী পরিধান করে থাকেন আবার কারো মতে ঘিয়া রংয়ের পাগড়ী।” (তাফসীরে ফতহুল ক্বাদীর ১ম জিঃ ৩৭৮ পৃষ্ঠা)

[৮০১]

كان سيماء الملائكة عمائم …… خضر ………. من نور. (المنتظم فى تاريخ الملوك والامم ج৩ ص১১৭)

অর্থঃ- “(বদর যুদ্ধে) ফেরেশ্তাগণের নিদর্শন ছিল সবুজ রংয়ের নূরানী বা আলোকিত পাগড়ী। ….. (আল মুনতাযা ফী তারীখিল মুলুকি ওয়াল উমাম ৩য় জিঃ ১১৭ পৃষ্ঠা)

[৮০২]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বদর যুদ্ধের দিবস ফেরেশ্তাগণের মাথায় সাদা পাগড়ী এবং হুনাইন যুদ্ধের দিবস সবুজ পাগড়ী বাঁধা ছিল।” (মাদারিজুন নবুওওয়াত ২য় জিঃ ১৬০ পৃষ্ঠা)

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ সবুজ রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করতেন

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবুজ রংয়ের পোশাক পছন্দ করতেন এবং পরিধানও করতেন। তাই, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণও সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন এবং পছন্দ করতেন। নিম্নোক্ত হাদীস শরীফখানাই তার বাস্তব প্রমাণ-

[৮০৩]

عن سليمان بن ابى عبد الله قال ادركت المهاجرين الاولين يعتمون بعمائم كرابيس …….. خضر ……….. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৪১)

অর্থঃ- “হযরত সুলাইমান ইবনে আবী আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (ইসলামের) প্রথম দিকের সকল মুহাজিরীন (হিজরতকারী ছাহাবা) রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণকে ……. সবুজ ….. রংয়ের সূতী কাপড়ের পাগড়ী পরিধান করতে দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৪১ পৃষ্ঠা)

          অতএব স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ সবুজ পাগড়ী পরিধান করেছিলেন।

আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও সবুজ রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করতেন

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালাম ও ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ সবুজ পাগড়ী পরিধান করতেন। তাই, তাবিঈন, তাবে’তাবিঈন, ফক্বীহ্, ইমাম, মুজতাহিদীন তথা সমস্ত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও সবুজ পাগড়ী সুন্নত হিসেবে পরিধান করতেন। এ বিষয়ে কিছু প্রমাণাদী নিম্নে পেশ করা হলো-

[৮০৪]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “(হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি) অত্যন্ত মূল্যবান এবং পছন্দনীয় রং করা পোশাক ব্যবহার করতেন। জুব্বা, পাগড়ী ও চাদর ইত্যাদি সমস্ত পোশাক ছিল সাধারণতঃ সূতী কাপড়ের। পাগড়ী ছিল সাদা রংয়ের।……… তবে কখনো কখনো সবুজ রংয়ের (পাগড়ী) ব্যবহার করতেন।” (সিয়ারুছ্ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ৭ম জিঃ ৪০৯ পৃষ্ঠা)

[৮০৫]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “(হযরত মাখদুম আলী আহমদ ছাবির কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি) সব সময় সবুজ রংয়ের পাগড়ী ব্যবহার করতেন।” (সাওয়ানিহে হযরত ছাবির কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১১৮ পৃষ্ঠা)

          উল্লেখিত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ ছাড়াও অপরাপর সকল আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন বা করেন। সুতরাং অসংখ্য দলীল-আদিল্লার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণীত হল যে, সবুজ ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত। হযরত ছাহবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণের সুন্নত। ফেরেশতা আলাইহিমুস্ সালামগণের সুন্নত এবং হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত।

কালো রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ী

খাছ সুন্নত হওয়ার প্রমাণ

          সাইয়্যিদুল মুরসলীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা এবং সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধানের সাথে সাথে কালো রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ীও পরিধান করতেন। নিম্নে কালো পাগড়ীর দলীল-আদিল্লা পেশ করা হলো-

[৮০৬-৮০৮]

عن جابر رضى الله عنه قال كان للنبى صلى الله عليه وسلم عمامة سوداء يلبسها فى العيدين. (العلل المتناهية ج২ ص৬৮৩. الميزان للذهبى ج৩ ص২৩৬. الحاوى للسيوطى ج১ ص৭৭)

অর্থঃ- “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কালো পাগড়ী ছিলা। তিনি দু’ঈদে পরিধান করতেন।” (আল ইলালুল্ মুতানাহিয়াহ্ ২য় জিঃ ৬৮৩ পৃষ্ঠা, আল্ মীযান লিয্ যাহাবী ৩য় জিঃ ৬৩৬ পৃষ্ঠা, আল্ হাবী লিস্ সুয়ূতী ১ম জিঃ ৭৭ পৃষ্ঠা)

[৮০৯-৮২৬]

عن جعفر بن عمروبن حريث عن ابيه قال كانى انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر وعليه عمامة سوداء. (مسلم شريف ج১ ص৪৪০. مسلم بشرح المناوى ج৫ ص১৩৩. شرح الابى والسنوسى ج৪ ص৪৬৭. ابوداؤد شريف ج২০৯. بذل المجهود ج৬ ص৫১. عون المعبود ج৪ ص৯৫. شرح ابى داؤد لبدر الدن العينى نسائى شريف ج২ ص২৯৯. نسائى بشرح السيوطى ج৮ ص২১১. السنن الكبرى للنسائى ج৫ ص৪৯৮. فتح الباى ج১০ ص২৮৩. ابن ماجة ص২৬৪. مسند احمد بن حنبل ج৪ ص৩০৭. شمائل الترمذى ص৯. جمع الوسائل ج১ ص২০৫. شمائل بشرح المناوى ج১ ص২০৫. المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية ص১০০. اللباس والزينة ص১৩০. ১৩৩)

অর্থঃ- “হযরত জা’ফর ইবনে আমর ইবনে হুরাইস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা (হযরত আমর ইবনে হুরাইস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আমার চোখে সেই দৃশ্য এখনো ভেসে আসে, যখন আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিম্বরে খুত্ববাহ দিতে দেখেছি। তখন তাঁর মাথা মুবারকে কালো পাগড়ী বাঁধা ছিল।” (মুসলিম শরীফ ১ম জিঃ ৪৪০ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশরহিন নববী ৫ম জিঃ ১৩৩ পৃষ্ঠা, শরহুল উবাই ওয়াস্ সিনূসী ৪র্থ জিঃ ৪৬৭ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ ২০৯ পৃষ্ঠা,  বযলুল মাজহুদ ৬ষ্ঠ জিঃ ৫১ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯৫ পৃষ্ঠা, শরহু আবী দাউদ লি বদরিদ্দীন আইনী, নাসায়ী শরীফ ২য় জিঃ ২০০০ পৃষ্ঠা, নাসায়ী বি শরহিস্ সূয়ুত্বী ৮ম জিঃ ২১১ পৃষ্ঠা, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৫ম জিঃ ৪৯৮ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ২৭৩ পৃষ্ঠা, ইবনু মাজাহ্ ২৬৪ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৪র্থ জিঃ ৩০৭ পৃষ্ঠা, শামাইলুত্ তিরমিযী ৯ পৃষ্ঠা, জামউল্ ওয়াসাইল ১ম জিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা, শামাইলু বি শরহিল্ মানাবী ১ম জিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা, আল্ মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া আলাশ শামাইলিল মুহম্মদিয়া ১০০ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ্ ১৩০ ও ১৩৩ পৃষ্ঠা)

[৮২৭-৮৪৪]

عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم دخل يوم فتح مكة وعليه عمامة سوداء بغير احرام. (مسلم شريف ج১ ص৪৩৯. مسلم بشرح النووى ج৫ ص১৩৩. شرح الابى والسنوسى ج৪ ص৪৬৭ ابو داؤد شريف ج২ ص২০৯. بذل المجهود ج৬ ص৫১. عون المعبود ج৪ ص৯৫. مذى شريف. شرح ابى داؤد لبدر الدين العينى. تج১ ص২০১-২০৭. تحفة الاحوذى ج৫ ص৩২৭-৪১০. عارضة الاحوذى ج৭ ص২৪৩. نسائى شريف ج২ ص২৯-২৯৯. نسائى بشرح السيوطى ج৫ ص২০১ ج৭ ص২১১. السنن الكبرى للنسائى ج৫ ص৪৯৭. ابن ماجة ص২০৭-২৬৪. مسند احمد بن حنبل ج৩ ص৩৬৩-৩৮৭. الدارمى ج২ ص১০১. شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৭৩. اللباس والزينة ص১২৮-১৩০)

অর্থঃ- “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই যখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিবস ইহরাম ছাড়াই মক্কা শরীফে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথা মুবারকে কালো পাগড়ী ছিল।” (মুসলিম শরীফ ১ম জিঃ ৪৩৯ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশরহিন্ নববী ৫ম জিঃ ১৩৩ পৃষ্ঠা, শরহুল উবাই ওয়াস্ সিনূসী ৪র্থ জিঃ৪৬৭ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ ২০৯ পৃষ্ঠা, বযলুল মাজহুদ ৬ষ্ঠ জিঃ ৫১ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯৫ পৃষ্ঠা, শরহু আবী দাউদ লি বদরিদ্দীন আইনী, তিরমিযী শরীফ ১ম জিঃ ৩০১, ২০৭ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৩২৭, ৪১০ পৃষ্ঠা, আরিদ্বাতুল আহওয়াযী ৭ম জিঃ ২৪৩ পৃষ্ঠা, নাসায়ী শরীফ ২য় জিঃ ২৯, ২৯৯ পৃষ্ঠা,  নাসায়ী বি শরহিস্ সুয়ূত্বী ৫ম জিঃ ২০১ পৃষ্ঠা, ৭ম জিঃ ২১১ পৃষ্ঠা, আস্ সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৫ম জিঃ ৪৯৭ পৃষ্ঠা, ইবনু মাজাহ্ ২০৮, ২৬৪ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমদ ইবনে হাম্বল ৩য় জিঃ ৩৬৩, ৩৮৭ পৃষ্ঠা, দারিমী ২য় জিঃ ১০১ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৩ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায যীনাহ্ ১২৮, ১৩০ পৃষ্ঠা)

ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালামগণও কালো ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করেন

[৮৪৫]

وفى رواية اخرى …….. انها كانت يوم بدر نعمائم سود. (تفسير روح المعانى ج৩ ص৪৬)

অর্থঃ- “অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, বদর যুদ্ধের দিন তাঁদের (ফেরেশ্তাগণের) কালো পাগড়ী ছিল।” (তাফসীরু রুহুল মায়ানী ৩য় জিঃ ৪৬ পৃষ্ঠা)

[৮৪৬]

وكان سيماء الملائكة يوم بدر عمائم سود. (تفسير ابن كثير ج১ ص৬০১)

অর্থঃ- “বদর যুদ্ধের দিন ফেরেশ্তাগণের চিহ্ন ছিল কালো পাগড়ী।” (তাফসীরু ইবনু কাসীর ১ম জিঃ ৬০১ পৃষ্ঠা)

[৮৪৭]

قوله صفر ولابن ابى حاتم ذرلت الملائكة يوم بدر وعليهم عمائم صفر ولابن مردوية عمائم سود. (حاشية الجلا لين ص৬০)

অর্থঃ- “মুফাস্সির রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, অর্থাৎ ফেরেশতাগণের মাথায় ঘিয়া রংয়ের পাগড়ী ছিল। হযরত ইবনে আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে বদর যুদ্ধের দিন ফেরেশ্তাগণ ঘিয়া রংয়ের পাগড়ী পরিধান করে আগমন করেছিলেন। হযরত ইবনে মারদুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে কালো পাগড়ী পরিধান করে এসেছিলেন।” (হাশিয়ায়ে জালালাইন ৬০ পৃষ্ঠা)

[৮৪৮]

عن سعيد بن جبير قال كانت عمامة جبريل يوم غرق فرعون سوداء. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৬)

অর্থঃ- “হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে দিন ফিরয়াউন ডুবে মরেছিল ঐদিন হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালাম-এর মাথায় কালো পাগড়ী বাঁধা ছিল।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৬ পৃষ্ঠা)

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণও কালো ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করতেন

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সকল ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ কালো ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করেছিলেন। নিম্নে এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য দলীল-আদীল্লাহ্ পেশ করা হলো-

[৮৪৯]

عن سليمان بن ابى عبد الله قال ادركت المهاجرين الاولين يعتمون بعمائم كرابيس سود ……. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص৩৪১)

অর্থঃ- “হযরত সুলাইমান ইবনে আবী আব্দুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (ইসলামের) প্রথম দিকের সকল মুহাজিরীন (হিজরতকারী ছাহাবা) রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণকে কালো, ……. রংয়ের সূতী কাপড়ের পাগড়ী পরিধান করতে দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৪১ পৃষ্ঠা)

[৮৫০-৮৫১]

عن عبد الله بن بشر رضى الله عنه قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم على بن ابى طالب رضى الله عنه يوم خيبر فعممه بعمامة سوداء. (عمدة القارى ج২১ ص২০৭. نيل الاوطار ج২ ص১১২)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে বিশর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিবস (খাইবারের উদ্দেশ্যে) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠানোর সময় তাঁকে কালো পাগড়ী বেঁধে দেন।” (উমদাতুল ক্বারী ২১তম জিঃ ৩০৭ পৃষ্ঠা, নাইলুল আউতার ২য় জিঃ ১১২ পৃষ্ঠা)

[৮৫২-৮৫৪]

عن ابى جعفر الانصارى قال رأيت على على عمامة سوداء يوم قتل عثمام رضى الله عنه. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৪. غزاء الالباب ج২ ص২৪৪. طبقات ابن سعد ج১-৩ ص১৯)

অর্থঃ- “হযরত জা’ফর আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাতের দিবস হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৪ পৃষ্ঠা, গিযাউল আলবাব ২য় জিঃ ২৪৪ পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতু ইবনে সা’দ ১ম ও ৩য় জিঃ ১৯ পৃষ্ঠা)

[৮৫৫-৮৫৬]

عن ابن عمر رضى الله عنه قال عمم رسول الله صلى الله عليه وسلم ابن عوف بعمامة سوداء كرابيس. (عمدة القارى ২১ ص২০৭. تحفة الاحوذى ج৫ ص৪১২)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা হযরত আর্ব্দু রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সূতী কাপড়ের কালো রংয়ের পাগড়ী বেঁধে দিলেন।”(উমদাতুল ক্বারী ২১তম জিঃ ৩০৭ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল্ আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১২ পৃষ্ঠা)

[৮৫৭]

حدثنا دينار بن عمرو قال رأيت على الحسن عمامة سوداء. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৫)

অর্থঃ- “হযরত দীনার ইবনে আমর রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর মাথায় কালো পাগড়ী বাঁধা দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা)

[৮৫৮]

عن ابى رزين قال خطبنا الحسين بن على يوم الجمعة وعليه عمامة سوداء. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৭)

অর্থঃ- “হযরত আবু রঝীন রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত হুসাইন ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা জুমুয়ার দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্ববাহ্ দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর মাথায় কালো পাগড়ী বাঁধা ছিল।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৭ পৃষ্ঠা)

হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও কালো ইমামাহ্ বা পাগড়ী পরিধান করতেন

[৮৫৯-৮৬০]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “(হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর কাছে সাদা পোশাক অধিক পছন্দনীয় ছিল। যদিও পাগড়ী কালো রংয়ের থাকত। তবে কোন কোন সময় তিনি সাদা পাগড়ীও বেঁধে নিতেন।” (সিয়ারুছ্ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ৭ম জিঃ ১৯৩ পৃষ্ঠা, তাযকিরাতুল হুফ্ফায ১ম জিঃ ১০২ ও ১০৩ পৃষ্ঠা)

[৮৬১-৮৬২]

عن عبد الواحد ابن أيمن قال رأيت على ابن الحنفية عمامة سوداء. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৬. طبقات ابن سعد ج৫ ص৮৪)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত মুহম্মদ ইবনে হানাফিয়াহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৬ পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতু ইবনে সা’দ ৫ম জিঃ ৮৪ পৃষ্ঠা)

[৮৬৩-৮৬৪]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “(হযরত আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি) কালো রংয়ের পাগড়ী মাথায় বাঁধতেন।” (সিয়ারুছ্ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ৭ম জিঃ ৪৩ পৃষ্ঠা, ত্ববাকাতু ইবনে সা’দ ৬ষ্ঠ জিঃ ৫৯ পৃষ্ঠা)

[৮৬৫-৮৬৬]

وكان محمد رحمة الله عليه يعتم بالعمامة السوداء. (تبيين الحقائق ج৬ ص২২৯. الحجة التامة فى لبس العمامة ص২৪)

অর্থঃ- “হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি কালো রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন।” (তাবয়ীনুল্ হাক্বাইক্ব ৬ষ্ঠ জিঃ ২২৯ পৃষ্ঠা, আল্ হুজ্জাতুত্ তাম্মাহ্ ফী লুবসিল ইমামাহ্ ২৪ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সাদা, সবুজ ও কালো এই তিন রংয়ের পাগড়ী পরিধান করা যথাক্রমে সুন্নতে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে মালাইকাহ্ (ফেরেশতা) আলাইহিমুস্ সালাম, সুন্নতে ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, সুন্নতে আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। কেননা, তাঁরা সকলেই উক্ত তিন রং যেমন সাদা, সবুজ ও কালো রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন বা করেছিলেন।

লাল, কুসুম, হলুদ ও যা’ফরানী

রংয়ের ইমামাহ্ বা পাগড়ীর আহকাম

          লাল, কুসুম, হলুদ ও যা’ফরানী রংয়ের পোশাক যেমন কুর্তা , লুুঙ্গি, চাঁদর, রুমাল ও ইমামাহ্ বা পাগড়ী ইত্যাদি পরিধান করা জায়েয নেই। বরং মাকরুহ তাহরীমী-এর অন্তর্ভূক্ত।

          লাল ও কুসুম রংয়ের কাপড় সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে,

[৮৬৭-৮৭০]

عن عبد الله بن عمرو بن العاص اخبره قال رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم على ثوبين معصفرين فقال ان هذه من ثياب الكفار فلا تلبسها. (مسلم شريف ج২. ص১৯৩. مسلم بشرح النووى. شرح الابى والسنوسى. فتح الملهم ج৪ ص১১৩)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদা হযরত রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পরিধানে দুটি কুসুম রংয়ের কাপড় দেখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, এ রংয়ের কাপড় কাফিরদের হয়ে থাকে। তাই ইহা পরিধান করনা।” (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ১৯৩ পৃষ্ঠা, মুসীলম বিশরহিন্ নববী, শরহুল উবাই ওয়াস্ সিনূসী, ফতহুল মুলহিম ৪র্থ জিঃ ১১৩ পৃষ্ঠা)

অত্র হাদীসের ব্যাখ্যায় কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে,

[৮৭১-৮৭৩]

والحديث نص على منع الثوب المعصفر للرجال والمختار عند الخنفية كراهته تحريما للرجال دون النساء كما فى الدر المنتاره৫: ৩৫১ واشعة اللمعات ৩: ২৯৬. والمشهور عن الشافعى اباحته. وكذلك نقل النووى عن ابى حنيفة، ولكن المختار عند الحنفية الكراهة كما ذكرنا. (فتح الملهم ج৪ ص১১৩)

অর্থঃ- “অত্র হাদীস শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কুসুম রংয়ের কাপড় পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ। হানাফীদের নিকট গ্রহণযোগ্য মত হল পুরুষের জন্য উক্ত রংয়ের কাপড় মাকরূহ তাহরীমী, তবে মহিলাদের জন্য নয়। যেমন, দুররুল্ মুখতার ৫ম জিঃ ৩৫১ পৃষ্ঠা, আশয়াতুল্ লুময়াত ৩য় জিঃ ২৯৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে।

          হযরত ইমাম শাফিঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি -এর নিকট প্রসিদ্ধ মত হল উহা মুবাহ্ অর্থাৎ জায়েয। অনুরূপভাবে ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে নকল করেছেন। তবে হানাফীদের নিকটে গ্রহণযোগ্য মত হলো- কুসুম রংয়ের কাপড় মাকরূহ্ তাহরীমী। যেমন আমরা বর্ণনা করেছি।” (ফতহুল মুলহিম ৪র্থ জিঃ ১১৩ পৃষ্ঠা, আশয়াতুল্ লুময়াত ৩য় জিঃ ২৯৬ পৃষ্ঠা, দুররুল্ মুখতার ৫ম জিঃ ৩৫১ পৃষ্ঠা)

[৮৭৪-৮৭৭]

عن عبد الله بن عمرو قال مر على النبى صلى الله عليه وسلم رجل عليه ثوبان احمران فسلم عليه فلم يرد عليه النبى صلى الله عليه وسلم. (ابو داؤد شريف ج২ ص২০৮. بذل المجهود ج৬ ص৪৯. عون المعبود ج৪ ص৯২ شرح ابى داؤد لبدر الدين العينى)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি দুটি লাল কাপড় পরিহিত অবস্থায় নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাঁকে সালাম করলো। কিন্তু নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সালামের জওয়াব দেননি।” (আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ ২০৮ পৃষ্ঠা, বযলুল মাজহুদ ৬ষ্ঠ জিঃ ৪৯ পৃষ্ঠা, আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯২ পৃষ্ঠা, শরহু আবী দাউদ লি বদরিদ্দীন আইনী)

অত্র হাদীসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে,

[৮৭৮]

احتج بهذا الحديث القائلون بكراهة لبس الاحمر. (عون المعبود ج৪ ص৯২)

অর্থঃ- “এই হাদীস থেকে দলীল নেয়া হয় যে, লাল পোশাক মাকরূহ্ তাহরীমী।” (আউনুল মা’বুদ ৪র্থ জিঃ ৯২ পৃষ্ঠা)

[৮৭৯]

والمختار من المذهب ان الكراهة. (حاشية ابى داؤد ج২ ص২০৮)

অর্থঃ- “হানাাফী মাযহাব মতে গ্রহণযোগ্য মত হল নিশ্চয়ই লাল পোশাক মাকরূহ তাহরীমী।” (হাশিয়ায়ে আবু দাউদ ২য় জিঃ ২০৮ পৃষ্ঠা)

সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, লাল ও কুসুম রংয়ের পাগড়ী বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ তাহরীমী।

হলুদ ও যা’ফরানী রংয়ের পোশাক সম্পর্কে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,

[৮৮০-৮৮৯]

عن انس رضى الله عنه قال نهى النبى صلى الله عليه وسلم ان يتزعفر الرجل. (بخارى شريف ج২ ص২২ ص২২. ارشاد السادى ج৮ ص৪৪২. شرح الكرمانى ج২১ ص৯০. تيسير البادى ج৭ ص৫৭১. مسلم شريف ج২ ص১৯৮. مسلم بشرح النووى. شرح الابى والسنوسى. فتح الملهم ج৪ ص১৪৭)

অর্থঃ- “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদেরকে যা’ফরানী রংয়ের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ ৮৬৯ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ম জিঃ ৩০৪ পৃষ্ঠা, উমদাতুলক্বারী ২২তম জিঃ ২২ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ ৪৪৬ পৃষ্ঠা, শরহুল কিরমানী ২১ জিঃ ৯০ পৃষ্ঠা, তাইসীরুল বারী ৭ম জিঃ ৫৭১ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ১৯৮ পৃষ্ঠা, মুসলিম বিশরহিন্ নববী, শরহুল উবাই ওয়াস্ সিনূসী, ফতহুল মুলহিম ৪র্থ জিঃ ১৪৭ পৃষ্ঠা)

উপরোক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয় যে,

[৮৯০]

وكره لبس المعصفر والمزعفر والاحمر والاصفر للرجال لايكره للنساء. (درالمختار ج৫ ص২৫২)

অর্থঃ- “কুসুম, যা’ফরানী, লাল এবং হলুদ রংয়ের পোশাক পুরুষদের জন্য পরিধান করা মাকরূহ তাহরীমী, তবে মহিলাদের জন্য মাকরূহ তাহরীমী নয়।” (দুররুল মুখতার ৫ম জিঃ ২৫২ পৃষ্ঠা)

[৮৯১-৮৯৩]

          তাছাড়াও, ‘বুখারী শরীফের’ كتاب اللباس এর মধ্যে باب একটি (বাব) এর নাম করণ করা হয়েছে-

باب النهى عن التزعفر للرجال-

অর্থঃ- “পুরুষদের জন্য যা’ফরানী রং নিষিদ্ধ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ।

‘তিরমিযী শরীফে’ বাব নেয়া হয়েছে,

 باب ماجاء فى كراهية التزعفر ……. للرجال.

অর্থঃ- “পুরুষদের জন্য যা’ফরানী রং মাকরূহ তাহরীমী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ।

‘মুসলিম শরীফের’ كتاب اللباس এ বাব নেয়া হয়েছে,

باب نهى الرجل عن التزعفر.

অর্থঃ- “যা’ফরানী রং পুরুষদের জন্য নিষেধ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ।”

          অতএব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এ বিষয়টি প্রমাণ করতে পারি যে, যা’ফরানী ও হলুদ রং-এর পোশাক পুরুষদের জন্য মাকরূহ তাহরীমীর অন্তর্ভূক্ত।

          মোটকথা হল, ইমামাহ্ বা পাগড়ী যেহেতু পোশাকের মধ্যে মাথায় পরিধানের জন্য বিশেষ একখানা সুন্নতী পোশাক। তাই অন্যান্য পোশাকের মত ইমামাহ্ বা পাগড়ী লাল, হলুদ, কুসুম ও যা’ফরানী রংয়ের পরিধান করা জায়েয নাই। কেননা তা মাকরূহ তাহরীমী-এর অন্তর্ভূক্ত। আর ইহাই হচ্ছে প্রাধান্য প্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য মত।

হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইমামাহ বা পাগড়ী মুবারকের দৈর্ঘ্য

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ী ছিল তিন ধরনের। যথা- (১) তিনহাত, (২) সাত হাত ও (৩) বার হাত লম্বা। তিনহাত পাগড়ী সাধারণতঃ ঘরের ভিতরে, সাত হাত পাগড়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে এবং সাধারণভাবে বার হাত পাগড়ী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন- জুমুয়ার দিনে ও দুই ঈদে পরিধান করতেন। আর নিম্নে বিশ্ব বিখ্যাত, বিশ্বসমাদৃত, সর্বজনমান্য কিতাব সমূহ থেকে এ সম্পর্কিত দলীল-আদিল্লা উল্লেখ করা হলো-

[৮৯৪]

قال الشيخ شمس الدين الجزرى: تبتعت قدر عمامة النبى صلى الله عليه وسلم فتبين من كلام الشيخ محى الدين النووى انها كانت على انحاء ثلاثة اذرع وسبعة واثنتى عشر من الذراع الشرعى وهو النصف من ذرعنا وتلك الاخيرة كانت للعيدين. (فيض البارى ج৪ ص৩৪৫)

অর্থঃ- “হযরত শায়খ শামসুদ্দীন জাযরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর পরিমাপ সম্পর্কে অনেক অনুসন্ধান করলাম। অতঃপর তা হযরত শায়খ মুহিউদ্দীন নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর অভিমত থেকে জানতে পারলাম যে, নিশ্চয়ই নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর পরিমাপ ছিল (১) তিন হাত, (২) সাত হাত ও (৩) বার হাত। যা শরয়ী গজ হিসেবে ছিল। আর তা হচ্ছে আমাদের প্রচলিত গজ এর অর্ধেক অর্থাৎ এক হাত পরিমান। উল্লেখিত বার হাত পাগড়ী তিনি ঈদের নামাযে ব্যবহার করতেন। (ফাইদুল বারী ৪র্থ জিঃ ৩৭৫ পৃষ্ঠা)

[৮৯৫]

وكان عمامة النبى صلى الله عليه وسلم فى عامة الاحيان ثلاثة اذرع شرعية وفى الصلوة الخمس سبعة اذرع وفى الجمع والاعياد وحين الوفود اثنى عشر ذراعا. (انوار المحمود ج২ ص৪৪২)

অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অধিকাংশ সময়ের(ঘরের ভিতরে) ব্যবহৃত পাগড়ী ছিল তিন হাত দীর্ঘ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ব্যবহৃত পাগড়ী ছিল সাত হাত। আর জুমুয়া, ঈদের দিন এবং কোন দেশের প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাতের সময় ব্যবহার করতেন বার হাত পাগড়ী।” (আনওয়ারুল মাহমূদ ২য় জিঃ ৪৪২ পৃষ্ঠা)

[৮৮৬-৮৯৬]

وكان عمامته صلى الله عليه وسلم فى اكثر الاحيان ثلاثة اذرع شرعية وفى الصلاة الخمس سبعة اذرع. (عرف الشاذى ج১ ص৪.২. الطبرانى. انوار المحمود ج২ ص৪৪২)

অর্থঃ- “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অধিকাংশ সময়ে (ঘরের ভিতরে) ব্যবহৃত পাগড়ী ছিল তিন হাত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ব্যবহার করতেন সাত হাত পাগড়ী।” (উরফুশ শাজী ১ম জিঃ ৩০৪ পৃষ্ঠা, তাবারানী, আন্ ওয়ারুল মাহমূদ ২য় জিঃ ৪৪২ পৃষ্ঠা)

[৮৯৯-৯০৭]

وفى المرقاة قال الجزرى فى تصحيح المصابيح قدتتبعت الكتب وتطلبت من السير والتواريخ لاقف على قدر عمامة النبى صلى الله عليه وسلم عمامة قصيرة وعمامة طويلة وان القصيرة كانت سبعة اذرع والطويلة اثنى عشر ذراعا ذكره القارى وقال وظاهر كلام المدخل ان عمامة كانت سبعة اذرع مطلقا من غير تقييد بالقصير والطويل. (عون المعبود ج৪ ص৯৬. تصحيح المصابيح. المدخل. تحفة الاحوذى ج৫ ص৪১৪. التعليق الصبيح ج৪ ص৩৪৯. مرقاة ج৮ ص২৫০. جمع الوسائل ج১ ص২০৭. خصائل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৯১. اخلاق النبى صلى الله عليه وسلم ص১৮১)

অর্থঃ- “মিশকাত শরীফের শরাহ মিরকাত শরীফে আছে; হযরত ইমাম জাযরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “তাছহীহুল মাছাবীহ্” গ্রন্থে লিখেছেন যে, আমি অনেক দিন পর্যন্ত অনুসন্ধান করেছি এবং অসংখ্য সীরত গ্রন্থ ও ইতিহাস এর কিতাব তালাশ করেছি। কিন্তু কোথাও নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর পরিমাপ সম্পর্কে আলোচনা পাই নাই। পরিশেষে এক প্রখ্যাত আলিম আমাকে জানালেন যে, তিনি ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এ সম্পর্কিত একটি উক্তি পেয়েছেন। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম-এর ছোট ও দীর্ঘ (লম্বা) উভয় প্রকার পাগড়ী ছিল। ছোট পাগড়ী ছিল সাত হাত ও লম্বা পাগড়ী ছিল বার হাত দীর্ঘ। হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উহা উল্লেখ করেছেন। হযরত ইমাম জাযরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং “মাদখাল” গ্রন্থের ভাষ্য মতেঃ নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ী সাধারণত সাত হাত ছিল। যা অতিরিক্ত লম্বা ও ছোট ছিল না।” (আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯৬ পৃষ্ঠা, তাছহীহুল মাছাবীহ, আল মাদখাল, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১৪ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লকিুছ ছবীহ্ ৪র্থ জিঃ ৩৮৯ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৮ম জিঃ ২৫০ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ২০৭ পৃষ্ঠা, খছাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৯১ পৃষ্ঠা, আখলাকুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৮১ পৃষ্ঠা)

[৯০৮-৯১১]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর পরিমাপ সম্পর্কে আল্লামা ইমাম জাযরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ……….. নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দু’প্রকার পাগড়ী ছিল। প্রথম প্রকার ছোট, যা সাত হাত ছিল। দ্বিতীয় প্রকার লম্বা, যা বার হাত ছিল।” (দরসে মিশকাত ৩য় জিঃ ১৫৫ পৃষ্ঠা, আশয়াতুল লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৮৩ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লীকুছ্ ছবীহ ৪র্থ জিঃ ৩৮৯ পৃষ্ঠা, তানযীমুল আশতাত ৪র্থ জিঃ ১৬৭ পৃষ্ঠা)

[৯১২-৯১৩]

طبرانى كى ايك روايت مير سات ذراع ائى هى. (خصائل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৯১. طبرانى شريف)

অর্থঃ- “তাবারানী শরীফ” এর এক বর্ণনা মতে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ী ছিল সাত হাত লম্বা।” (খছাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৯১ পৃষ্ঠা, তাবারানী শরীফ)

[৯১৪]

انحضرت صلى الله عليه وسلم كاعمامة تقريبا سات كزكا هوتا تها. (شمائل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৪১১)

অর্থঃ- “হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ী মুবারক সাত হাত লম্বা ছিল।” (শামাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪১১ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ীর পরিমাপ বা দৈর্ঘ্য ছিল- তিন হাত। সাত হাত  এবং বার হাতদ্দ অর্থাৎ তিনি ঘরে থাকা অবস্থায় তিন হাত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে বা অন্যান্য সময় সাত ও জুমুয়া, ঈদ বা বিশেষ বিশেষ সময় বার হাত পাগড়ী মুবারক ব্যবহার করতেন। অতএব, পাগড়ী তিন হাত, সাত হাত এবং বার হাত হওয়াই খাছ সুন্নত।

হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের প্রস্থ

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইমামাহ্ বা পাগড়ীর দৈর্ঘ্য ছিল তিন, সাত ও বার হাত। আর প্রস্থ ছিল এক হাত, দেড় হাত এবং দুই হাত। নিম্নে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর প্রস্থ সম্পর্কে দলীল-আদিল্লাহ্ পেশ করা হলো-

[৯১৫]

وما وقع للطبرانى فى طولها انه نحو سبعة اذرع ولغيره انه نقل عن عاشة انه سبعة فى عرض ذراع. (شمائل بشرح المناوى ج১ ص২০৯)

অর্থঃ- “হযরত ইমাম তাবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে পাগড়ীর দৈর্ঘ্য হল “নিশ্চয়ই উহা সাত হাত হবে। ইহা ছাড়াও তিনি হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে নকল করে বলেন যে, নিশ্চয়ই নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ী একগজ প্রস্ত বিশিষ্ট কাপড় সাত হাত দীর্ঘ ছিল। অর্থাৎ দৈর্ঘ্য ছিল সাত হাত, আর প্রস্থ ছিল এক হাত।” (শামাইল বিশ্রহিল্ মানাবী ১ম জিঃ ২০৯ পৃষ্ঠা)

[৯১৬]

وما وقع للطبرانى من ان طولها نحو سبعة اذرع ولغيره ان طولها نحو سبعة اذرع فى عرض ذراع. (المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية ص৯৯)

অর্থঃ- “হযরত ইমাম তাবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে পাগড়ীর দৈর্ঘ্য হল সাত হাত। ইহা ছাড়াও অন্য মতে, নিশ্চয়ই নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর দৈর্ঘ্য ছিল সাত হাত, একগজ প্রস্থ বিশিষ্ট কাপড়ের মধ্যে।” (আল মাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়া আলাশ্ শামাইলিল মুহম্মদিয়া ৯৯ পৃষ্ঠা)

[৯১৭]

          হযরত ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ী এত বড়ও ছিল না, যা মাথায় বহন করতে কষ্টকর হয় এবং এত ছোটও ছিল না যা মাথাকে শীতাতপ হতে রক্ষা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।

          আমরা হযরত ইবনুল কাইয়্যিম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণিত নীতিটি সম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গত বলে মনে করি। এই নীতি অনুসারে এই কথা বলা অন্যায় হবে না যে, পাগড়ীর কাপড় যদি মাঝারি ধরণের মোটা হয় এবং উহার পরিসর (প্রস্থ) মাঝারি ধরণের অর্থাৎ প্রায় দেড় হাত হয় তাহলে পাগড়ীর দৈর্ঘ্য ৬ বা ৭ হাত হলেই ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণিত উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে। (শামাইলুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৩৫ পৃষ্ঠা)

          উল্লেখ্য, কোন কোন বর্ণনায় পাগড়ীর প্রস্থতা ছিল অর্ধ হাত বা এক বিঘত।

ইমামাহ্ বা পাগড়ীর

‘শামলা’-এর পরিমাপ

          ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ‘শামলা’-এর পরিমাপ হচ্ছে- নিম্নে চার আঙ্গুল আর উর্দ্ধে এক হাত পরিমান। তবে উত্তম হল একহাত প্রলম্বিত হওয়া। নিম্নে পাগড়ীর ‘শামলা’-এর পরিমাপ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হলো-

পাগড়ীর ‘শামলা’

এক হাত হওয়ার প্রমাণ

          ইমামাহ্ বা পাগড়ী বাধার পর পাগড়ীর যে অংশ পিছনে পিটের উপর ঝুলে থাকে তাকেই “শামলা” বলে। ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ‘শামলা’ একহাত প্রলম্বিত হওয়া খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে মালাইকা, সুন্নতে ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এবং সুন্নতে আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। কেননা তাঁরা সকলেই পাগড়ী বেঁধে একহাত শামলা রেখেছেন। যার দলীলসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো-

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাগড়ীর শামলা একহাত রাখতেন

[৯১৮-৯২৯]

قال السيوطى فى الحاوى للفتاوى: وأما مقدار العمامة الشريفة قلم يثبت فى حديث وقد روى البيهقى فى شعب الايمان عن ابن سلام بن عبد الله بن سلام قال: سألت ابن عمر كيف كان انبى صلى الله عليه وسلم يعتم؟ قال كان يدير العمامة على رأسه ويغر زها من وراءه ويرسل لها ذوابة بن كتفيه، وهذا يدل على انها عدة اذرع. (تحفة الاحوذى ج৫ ص৪১৪. نيل الاوطار للشوكانى ج২. ص১১৩. الحاوى. الفتاوى. شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৭৪)

অর্থঃ- “হযরত ইমাম সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি  তাঁর “হাবীলিল ফতওয়া” কিতাবে লিখেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ী মুবারকের পরিমাপ(দৈর্ঘ্য-প্রস্থ) সম্পর্কে হাদীস শরীফে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘শুয়াবুল ঈমান’ কিতাবে হযরত ইবনে সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে পাগড়ী বাঁধতেন? তিনি উত্তরে বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাগড়ীর একটি প্রান্ত মাথা মুবারকে পেঁচাতেন এবং তারই শেষ প্রান্ত পিছনে উপরে গুঁজে দিতেন। আর পাগড়ীর শামলা উভয় কাঁধের মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখতেন। এই হাদীস শরীফটি প্রমাণ করে যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাগড়ীর শামলা ছিল একহাত পরিমান। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১৪ পৃষ্ঠা, নাইলুল আউতার লিশ শাওকানী ২য় জিঃ ১১৩ পৃষ্ঠা, আল্ হাবী লিল ফতওয়া, শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৪ পৃষ্ঠা। অনুরূপ উমদাতুল্ ক্বারী ২১ জিঃ ৩০৮ পৃষ্ঠা, ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ ৪২৮ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম জিঃ ২০৬ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৮ম জিঃ ২৪৯ পৃষ্ঠা, আত্ তা’লীকুছ ছবীহ ৪র্থ জিঃ ৩৮৮ পৃষ্ঠা, আয্ যুরকানী ৬ষ্ঠ জিঃ ২৭৬ পৃষ্ঠা, আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ্ ১৩৪ পৃষ্ঠা, মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৫ম জিঃ ১২০ পৃষ্ঠা ইত্যাদি কিতাবেও উল্লেখ আছে।

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণও পাগড়ীর শামলা একহাত পরিমাণ ঝুলাতেন

[৯৩০]

عن ابى العنبس عمروبن مروان عن ابيه قال رأيت على على رضى الله عنه عمامة قد ارخى طرفها من خلفه نحوا من ذراع. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৯)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল আম্বাস আমর ইবনে মারওয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে পাগড়ী পরিহিত দেখেছি। যার প্রান্ত বা শামলা তাঁর পিছনে (পিঠের উপর) এক হাত পরিমাণ প্রলম্বিত ছিল।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৯ পৃষ্ঠা)

[৯৩১-৯৩২]

حدثنا سلمة بن وردان قال: رايت على انس عمامة سوداء على غير قلنسوة وقد ارخاها من خلفه نحوا من ذراع. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৫. طبقات ابن سعد ج১-৭ ص১১)

অর্থঃ- “হযরত সালামাহ্ ইবনে ওয়ারদান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে টুপি ছাড়া কালো রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতে দেখেছি।) (তবে পরবর্তীতে তিনি টুপির উপর পাগড়ী পরিধান করেছেন। তিনি তাঁর পাগড়ীর শামলা পিছনে (পিঠের উপর) এক হাত পরিমান ঝুলন্ত রাখতেন।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৫ পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতু ইবনে সা’দ ১ম ও ৭ম জিঃ ১১ পৃষ্ঠা)

[৯৩৩-৯৩৭]

قد اخرخ ابن ابى شيبة ان عبد الله بن الزبير كان يعتم بعمامة سوداء قد ارخاها من خلفه نحوا من ذراع. (عون المعبود ج৫ ص৯৬. مرقاة ج৩ ص২৬৮. شمائل النبى صلى الله عليه وسلم ص২৩৬. نيل الاوطار شرح منتقى الا خبار ج২ ص১১৩. تحفة الاحوزى ج৫ ص৪১২)

অর্থঃ- “ইবনে আবী শাইবাহ্ বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই  হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কালো পাগড়ী পরিধান করে উহার শামলা পিছনে (পিঠের উপর) একহাত পরিমাণ ঝুলাতেন।” (আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯৬ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৩য় জিঃ২৬৮ পৃষ্ঠা, শামাইলুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৩৬ পৃষ্ঠা, নাইলুল আউতার শরহে মুনতাক্বাল আখবার ২য় জিঃ ১১৩ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৪১৩ পৃষ্ঠা)

পাগড়ীর শামলা নিম্নে চার আঙ্গুল

থেকে এক বিঘত হওয়ার প্রমাণ

[৯৩৮-৯৪১]

روى سعدبن سعيد عن رشدين قال رأيت عبد الله بن الزبير يعتم بعمامة سوداء ويرخيها شبرا اواقل من شبر. (عون المعبود ج৪ ص৯৬. تحفة الاحوذى ج৫ ص৪১৩. مرقاة ج৩ ص২৬৮. نيل الاوطار شرح منتقى الاخبار ج২ ص১১৩)

অর্থঃ- “হযরত সা’দ ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত রশিদীন রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি যে, তিনি উহার শামলা অর্ধহাত অথবা অর্ধহাতের থেকে একটু কম ঝুলিয়ে ছিলেন।” (আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯৬ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১৩ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৩য় জিঃ ২৬৮ পৃষ্ঠা, নাইলুল আউতার শরহে মুনতাকাল আখবার ২য় জিঃ ১১৩ পৃষ্ঠা)

[৯৪২]

مقدار العذبة اربعة اصابع واكثرها ذراع وحسبا الى نصف الظهر. (حاشية الشمائل الترمذى ص৮)

অর্থঃ- “পাগড়ীর শামলার (নিম্ন) পরিমাণ চার আঙ্গুল আর অধিক পরিমান একহাত এবং উহা ঝুলাতে হবে পিঠের অর্ধাংশ পর্যন্ত।” (হাশিয়ায়ে শামাইলুত তিরমিযী ৮ পৃষ্ঠা)

[৯৪৩]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “ইমামাহ্ বা পাগড়ীর শামলার নিম্ন পরিমাণ চার আঙ্গুল আর সর্বোচ্চ পরিমাপ একহাত।” (তানযীমুল আশতাত ৪র্থ জিঃ ১৬৭ পৃষ্ঠা)

[৯৪৪-৯৪৫]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “পাগড়ীর শামলার (নিম্ন) পরিমাপ চার আঙ্গুল আর উর্ধ্ব মাপ একহাত। আর এর চেয়ে অতিরিক্ত করা বিদয়াতের অন্তর্ভূক্ত।” (মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫৩৪ পৃষ্ঠা, আশয়াতুল্ লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৪৫ পৃষ্ঠা)

পাগড়ীর ‘শামলা’ চার আঙ্গুল বা একহাতের চেয়ে কম-বেশী হওয়ার হুকুম

          পাগড়ী পরিধান করে এর শামলা ঝুলিয়ে রাখা খাছ সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। তবে পাগড়ীর শামলা অবশ্যই কম পক্ষে চার আঙ্গুল আর উর্দ্ধে এক হাত পরিমান লম্বা হতে হবে। কারণ পাগড়ীর শামলা এক হাতের চেয়েও অধিক লম্বা হওয়া সুন্নত পরিপন্থি বা মাকরূহ। এ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ আছে যে,

          [৯৪৬]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “পাগড়ীর শামলার নিম্ন পরিমান চার আঙ্গুল আর সর্বোচ্চ পরিমান এক হাত। এক হাতের চেয়ে বেশী পিঠের মাঝামাঝির নিচে লটকানো কে “ইসবাল” বলা হয়। এতে ফখর এসে থাকে তাই তা হারাম তবে ফখর না হলে মাকরূহ হবে।” (তানযীমুল্ আশতাত ৪থৃ জিঃ ১৬৭ পৃষ্ঠা)

          [৯৪৭]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “পাগড়ীর শামলার নিম্ন পরিমাণ চার আঙ্গুল এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ এক হাত। আর এর থেকে অতিরিক্ত লম্বা করা বিদয়াতের অন্তর্ভূক্ত।” (মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫৩৪ পৃষ্ঠা)

[৯৪৮]

          আলিমগণের মত এই যে, পাগড়ীর প্রান্ত (শামলা) চারি আঙ্গুল থেকে একহাত পর্যন্ত ঝুলানো চলবে। (শামাইলুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৩৬ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত বিশদ আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণীত হল যে, ইমামাহ্ বা পাগড়ীর শামলা, (১) একহাত, (২) অর্ধহাত, (৩) চারআঙ্গুল ও (৪) নিছফে যুহর অর্থাৎ অর্ধপিঠ পর্যন্ত ঝুলানো খাছ সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। একহাত পরিমানে ঝুলানো হচ্ছে সর্বোত্তম।

ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ‘শামলা’ ঝুলানোর স্থান

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমামাহ্ বা পাগড়ী বেঁধে উহার শামলা কখনো ডানদিকে সামনে আবার কখনো দু’কাঁধের মাঝা-মাঝি অর্থাৎ পিঠের উপর ঝুলিয়ে রাখতেন। তবে অধিকাংশ সময় উভয় কাঁধের মাঝে অর্থাৎ পিঠের উপর ঝুলাতেন। এজন্য, উভয় কাঁধের মাঝে পাগড়ীর শামলা ঝুলানো আফযল বা সর্বোত্তম। যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,

[৯৪৯-৯৫০]

استحباب ارخاء طرف العمامة بين الكتفين. عون المعبود ح৪ ص৯০. تحفة الاحوذى ج৫ ص৪১১)

অর্থঃ- “দু’কাঁধের মাঝা-মাঝি স্থানে পাগড়ীর শামলা, ঝুলানো মুস্তাহাব সুন্নত।” (আউনুল মা’বূদ ৪র্থ জিঃ ৯৫ পৃষ্ঠা, তুহফাতুল্ আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১১ পৃষ্ঠা)

[৯৫১]

سنتها ان تكون لها ذوابة يسدلهابين كتفيه ويجعلها بعضهم على صدره وعادة اهل المشرق كلهم ان تكون مسدلة بين الكتفين. (عارضة الاحوذى ج৭ ص২৪৩. ص২৪৪)

অর্থঃ- “পাগড়ী পরিধানের সুন্নত হল তার শামলা উভয় কাঁধের মাঝে ঝুলিয়ে রাখা। কেউ কেউ উহা বক্ষদেশের উপর ঝুলিয়ে রাখে। তবে আহ্লে মাশরিক গণের অভ্যাস ছিল তাঁরা পাগড়ীর শামলা দু’কাঁধের মাঝখানে ঝুলাতেন।” (আরিদ্বাতুল আহওয়াযী ৭ম জিঃ ২৪৩ ও ২৪৪ পৃষ্ঠা)

[৯৫২]

ارسال ذنب العمامة بين كتفيه وهكذا فى غيره من كتب الحنفية. (اشعة اللمعات ج৩ ص৫৪৫)

অর্থঃ- “ইমামাহ্ বা পাগড়ীর কিনারা (শামলা) দু’কাঁধের মাঝখানে ঝুলাতে হয়। অনুরূপভাবে হানাফীগণের অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত আছে। (আশয়াতুল্ লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৪৫ পৃষ্ঠা)

          বিশেষভাবে জ্ঞাতব্য যে, পাগড়ীর শামলা পিছনে পিঠের উপর ঝুলানোই আফযল বা উত্তম। যা মুস্তাহাব সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার, তাহল, পাগড়ীর শামলা সামনে  বাম দিকে ঝুলানো বিদয়াত। যেমন, কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,

[৯৫৩]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “পাগড়ীর শামলা বাম দিকে সামনে ঝুলিয়ে রাখা বিদয়াত।” (মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫৩৪ পৃষ্ঠা)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’কাঁধের মাঝে তথা পিছনে পিঠের উপর শামলা ঝুলাতেন

[৯৫৪-৯৭১]

عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كان النبى صلى الله عليه وسلم اذا اعتم سدل عمامته بين كتفيه. (ترمذى الجلد الاول ص২০৭- تحفة الاحوذى المجلد الخامس ص৪১১- عارضة الاحوذى الجزء السابع ص২৪৩- شمائل الترمذى ص৯- جمع الوسائل الجزء الاول ص২০৬- المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية ص১০১- شمائل بشرح المناوى الجلد الاول ص২০৪ خصائل نبوى صلى الله عليه وسلم ص৯৩- مشكوة ص৩৭৪- مرقاة الجلد التامن ص২৪৯- شرح الطيبى الجلد الثامن ص২১৬- التعليق الصبيح الجزء الرابع ص৩৮৮- اشعة اللمعات الجلد الثالث ص৫৪৪- مظاهر حق جلد سوم ص৫৩৪- فتح البارى الجلد العاشر ص২৭৩- فتح البارى الجلد الحادى والعشرون ص৩০৭- ارشاد السارى الجلد الثامن ص৪২৮- نيل الاوطار الجلد الثانى ص১১১)

অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পাগড়ী মুবারক পরতেন তখন তাঁর পাগড়ীর শামলা উভয় কাঁধের মাঝে ঝুলিয়ে রাখতেন।” (তিরমিযী ১ম জিঃ ২০৭ পৃষ্ঠা, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১১ পৃষ্ঠা, আরিদাতুল আহ্ওয়াযী ৭ম খন্ড ২৪৩ পৃষ্ঠা, শামাইলুত্ তিরমিযী ৯ পৃষ্ঠা, জামউল ওয়াসাইল ১ম খন্ড ২০৬ পৃষ্ঠা, আল মাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়া আলাশ্ শামাইলি মুহম্মদিয়া ১০১পৃষ্ঠা, শামাইলু বি শরহিল মানাবী ১ম জিঃ ২০৪ পৃষ্ঠা, খছাইলে নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৯৩ পৃষ্ঠা, মিশকাত ৩৭৪ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৮ম জিঃ ২৪৯ পৃষ্ঠা, শরহুত্ তীবী ৮ম জিঃ ২১৬ পৃষ্ঠা, আত্-তালীকুছ ্ছবীহ্ ৪র্থ খন্ড ৩৮৮ পৃষ্ঠা, আশয়াতুল লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৪৪ পৃষ্ঠা, মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫৩৪ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১০ জিঃ ২৭৩ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ২১জিঃ ৩০৭ পৃষ্ঠা,  ইরশাদুস্ সারী ৮ম জিঃ, ৪২৮ পৃষ্ঠা, নাইলুল আউতার ২য় জিঃ ১১১ পৃষ্ঠা)

শামলা পিছনে ঝুলানোর ব্যাপারে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ

[৯৭২-৯৮৯]

عن عبادة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عليكم بالعمائم فانها سيماء الملائكة وارخوها خلف ظهوركم. (مشكوة شريف ص৩৭৭- مرقاة ج৮ ص২৬৫- شرح الطيبى ج৮ ص২২৮- التعليق الصبيح ج৪ ص৩৯৫- اشعة اللمعات ج৩ ص৫৫৬- مظاهر حق ج৩ ص৫৪৩- مرأة المناجيح- تحفة الاحوذى ج৫ ص৪১৪- شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৭৬- فيض القدير ج৪ ص৪৫৪- المعجم الكبير ج১২ ص২৯৩- جامع المسانيد والسنن ج২৯ ص৩৮৩- اللباس والزينة ص১২৭ مجمع الزوائد ج৫ ص১২০- الكبير ج১২ ص৩৮৩- الميزان ج৪ ص৩৯৬- الضعيفة ج২ ص১১৯- كشف الخفاء ومزيل الالباس ج২ ص৬৭)

অর্থঃ- “হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের জন্য পাগড়ী পরিধান আবশ্যক। কেননা তা ফেরশ্তাগণের নিদর্শণ স্বরূপ। আর উহার (পাগড়ীর) শামলা তোমাদের পিছনে পিঠের উপর ছেড়ে দাও।” (মিশকাত শরীফ ৩৭৭ পৃষ্ঠা, মিরকাত ৮ম জিঃ ২৬৫ পৃষ্ঠা, শরহুত্ ত্বীবী ৮ম জিঃ ২২৮ পৃষ্ঠা, আত্ তালীকুছ ছবীহ ৪র্থ জিঃ ৩৯৫ পৃষ্ঠা, আশয়াতুল্ লুময়াত ৩য় জিঃ ৫৫৬ পৃষ্ঠা, মুযাহিরে হক্ব ৩য় জিঃ ৫৪৩ পৃষ্ঠা, মিরয়াতুল মানাজীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম জিঃ ৪১৪ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান লিল্ বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৬ পৃষ্ঠা, ফাইদ্বুল ক্বদীর ৪র্থ জিঃ ৪৫৪ পৃষ্ঠা, আল মু’জামুল কবীর ১২ জিঃ ২৯৩ পৃষ্ঠা, জামিউল্ মাসানীদি ওয়াস্ সুনান ২৯ জিঃ ৩৮৩ পৃষ্ঠ্,া আল্ লিবাসু ওয়ায্ যীনাহ্ ১২৭ পৃষ্ঠা, মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৫ম জিঃ ১২০ পৃষ্ঠা, আল কবীর ১২ জিঃ ৩৮৩ পৃষ্ঠা, আল মীযান ৪র্থ জিঃ ৩৯৬ পৃষ্ঠা, আদ্ দ্বঈফাহ ২য় জিঃ ১১৯ পৃষ্ঠা, কাশফুল খফা ওয়া মুযীলুল ইলবাস ২য় জিঃ ৬৭ পৃষ্ঠা)

          উপরল্লিখিত অসংখ্য নির্ভরযোগ্য দলীল-আদিল্লাহর মাধ্যমে অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইমামাহ বা পাগড়ীর শামলা উভয় কাঁধের মাঝামাঝি তথা পিছনে পিঠের উপর ঝুলানো খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তর্ভূক্ত।

সমস্ত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালামগণ দু’কাঁধের মাঝে তথা পিছনে পিঠের উপর ইমামাহ্ বা পাগড়ীর শামলা ঝুলান

[৯৯০-৯৯৬]

روى عن على بن ابى طالب وابن عباس وغيرهما ان الملائكة اعتمت بعمائم بيض قد ارسلوها بين اكتافهم. (تفسير القرطبى ج২ ص১৯৬. تفسير الخازن ج১ ص২৮০. تفسير ابى السعود ج২ ص৮১. تفسير ابن اثير ج১ ص২০১. حاشية محى الدين شيخ زاده على تفسير البيضاوى ج১ ص৬৬৯. تفسير الجلالين ص৬০. تفسير المظهرى ج২ ص১৩৩)

অর্থঃ- “হযরত আলী ইবনে আবু ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও অন্যান্যগণের থেকে বর্ণিত আছে- নিঃসন্দেহে ফেরেশ্তাগণ ‘সাদা পাগড়ী’ পরিধান করেন, যার শামলা তাঁরা দু’কাঁধের মধ্যবর্তীস্থানে ঝুলিয়ে রাখেন।” (তাফসীরুল্ কুরতুবী ২য় জিঃ ১৯৬ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল্ খাযিন ১ম জিঃ ২৮০ পৃষ্ঠা, তাফসীরু আবী সাউদ ২য় জিঃ ৮১ পৃষ্ঠা, তাফসীরু ইবনে কাসীর ১ম জিঃ ২০১ পৃষ্ঠা, হাশিয়াতু মুহিউদ্দীন শায়খ যাদাহ্ আলা তাফসীরিল্ বাইযাভী ১ম জিঃ ৬৬৯ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল্ জালালাইন ৬০ পৃষ্ঠা, তাফসীরুল মাযহারী ২য় জিঃ ১৩৩ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত অসংখ্য দলীল-আদিল্লাহ্র মাধ্যমে অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইমামাহ্ বা পাগড়ীর শামলা পিছনে দু’কাঁধের মাঝখানে তথা পিঠের উপর ঝুলানো সুন্নতে মালাইকা-এর ও অন্তর্ভূক্ত।

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ ইমামাহ্ বা পাগড়ীর শামলা উভয় কাঁধ তথা  পিছনে পিঠের উপর ঝুলাতেন

[৯৯৭]

قال عبيد الله اخبرنا اشياخنا أنهم رأوا اصحاب النبى صلى الله عليه وسلم يعتمون ويرخونها بين اكتافهم. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৩৯)

অর্থঃ- “হযরত উবাইদুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে আমার শায়খ বা উস্তাদগণ বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তাঁরা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে যত জনেরই সাক্ষাত লাভ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই পাগড়ী পরিধান করতে দেখেছেন। আর তাঁরা পাগড়ীর শামলা তাঁদের দু’কাঁধের মাঝামাঝি ঝুলিয়ে রাখতেন।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৩৯ পৃষ্ঠা)

[৯৯৮]

عن السائب بن يزيد قال: رايت عمربن الخطاب يوم عيد معتما قدارخى عمامته من خلفه. (شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৫৪)

অর্থঃ- “হযরত সাইব ইবনে ইয়াযীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিনে হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে পাগড়ী পরিহিত অবস্থায়  দেখেছি যে, তাঁর পাগড়ীর শামলা পিছনে (পিঠের উপর) প্রলম্বিত ছিল।” (শুয়াবুল ঈমান লিল্ বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৪ পৃষ্ঠা)

[৯৯৯]

قال اسماعيل وحدثنى محمد بن يوسف عن. (ابى رزين) قال: شهدت على بن ابى طالب يوم عيد معتما قدارخى عمامته من خلفه والناس مثل ذلك. (شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৭৪)

অর্থঃ- “হযরত ইসমাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন, হযরত মুহম্মদ ইবনে ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি (হযরত আবু রযীন রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেন। হযরত আবু রযীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে ঈদের দিনে পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর পাগড়ীর শামলা তাঁর পিছনে (পিঠের উপর) ঝুলছিল। (রাবী বলেন) এবং অন্যান্য মানুষগণ (মুসলমানগণ)ও অনুরূপভাবে পাগড়ী বেঁধেছিলেন।” (শুয়াবুল ঈমান লিল্ বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৪ পৃষ্ঠা)

[১০০১-১০০২]

قال نالع رأيت عبد الله يسدل عمامته من خلفه. (شعب الايمان للبيهقى ج৫ ص১৭৪- عمدة القارى ج২১ ص৩০৭)

অর্থঃ- “হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে দেখেছি, তিনি পাগড়ীর শামলা পিছনে (পিঠের উপর) ঝুলাতেন।” (শুয়াবুল ঈমান লিল্ বাইহাক্বী ৫ম জিঃ ১৭৪ পৃষ্ঠা, উমদাতুল ক্বারী ২১ জিঃ ৩০৭ পৃষ্ঠা)

          উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, পাগড়ীর শামলা পিছনে দু’কাঁধের উপর তথা পিঠের উপর ঝুলানো সুন্নতে ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম।

হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ ইমামাহ্ বা পাগড়ীর শামলা দু’কাঁধের মাঝামাঝি বা পিছনে পিঠের উপর ঝুলাতেন

          আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম,  সকলেই ইমামাহ্ বা পাগড়ী বাঁধার পর শামলা পিছনে পিঠের উপর তথা দু’কাঁধের মাঝামাঝি ঝুলাতেন। নিম্নে কিছু সংখ্যক আইলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের শামলা সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

[১০০২-১০০৩]

حدثنا عبيد الله بن عمر عن سالم والقاسم كان يرخيان عمائمهم بين اكتافهم. (مصنف ابن ابى شيبة ج৮ ص২৪০- طبقات ابن سعد ج৫ ص১৪৩-১৪৬)

অর্থঃ- “হযরত উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত সালিম ও ক্বাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহিমা থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা (হযরত সালিম ও ক্বাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহিমা) দু’জন তাঁদের পাগড়ীর শামলা উভয় কাঁধের মাঝখানে ঝুলাতেন।” (মুছান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ্ ৮ম জিঃ ২৪০ পৃষ্ঠা, ত্ববাকাতু ইবনে সা’দ ৫ম জিঃ ১৪৩ ও ১৪৬ পৃষ্ঠা)

[১০০৪-১০০৫]

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “হযরত আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ রহমতুলাহি আলাইহি কালো রংয়ের পাগড়ী মাথায় বাঁধতেন। এর শামলা পিছনে (দু’কাঁধের মধ্যবর্তীস্থানে ঝুলে থাকতো।” (সিয়ারুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ৭ম জিঃ ৪৩ পৃষ্ঠা, ত্ববাকাতু ইবনে সা’দ ৬ষ্ঠ জিঃ ৫৯ পৃষ্ঠা)

[১০০৬-১০০৭]

قال اشهب كان مالك اذا اعتم جعل منها تحت ذقنه- وسدل طرفيها بين كتفيه. (غذاء الالباب ج২ ص২৪৩- سيرة امام مالك رحمة الله عليه)

অর্থঃ- “হযরত আশহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন পাগড়ী বাঁধতেন, তখন পাগড়ীর একাংশ থুতনীর নিচে চাপ দিয়ে ধরতেন। অতঃপর পাগড়ীর দুই প্রান্ত বা শামলা উভয় কাঁধের মাঝামাঝি ঝুলাতেন।” (গিযাউল্ আলবাব ২য় জিঃ ২৪৩ পৃষ্ঠা, সীরতে ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি)

[১০০৮-১০০৯]

“হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর লিবাস (পোশাক) পূর্ণ সুন্নত মোতাবিক ছিল এবং তিনি পাগড়ী পরিধান করতেন। যার শামলা দু’কাঁধের মাঝামাঝি ঝুঁলিয়ে দিতেন।” (জাওয়াহিরে মুজাদ্দিদিয়া ৫২ পৃষ্ঠা, বিপ্লবী মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি)

          সুতরাং অকাট্যভাবে প্রমাণীত হলো যে, ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ‘শামলা’ উভয় কাঁধের মাঝখানে তথা পিছনে পিঠের উপর ঝুলানো সুন্নতে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে মালাইকা আলাইহিমুস্ সালাম, সুন্নতে ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এবং সুন্নতে আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর অন্তর্ভূক্ত।

(অসমাপ্ত)

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৮৩