কাদিয়ানী রদ! (১)
(পঞ্চম ভাগ)
(মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরতুল আল্লামা মাওলানা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।
(ধারাবাহিক)
‘সৎবচন’, ৬৭ পৃষ্ঠা:
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘আমরা বাবা (নানক) ছাহেবের কারামত এই স্থলে মান্য করিও কবুল করি যে, তিনি উক্ত লম্বা পিরাহান গায়েরব হইতে প্রাপ্ত হইয়াছিলেস এবং আল্লাহ্ তায়ালার কুদরতে উহাতে কোন-আন শরিফ অঙ্কিত হইয়াছিল।’’
ইহার বিপরীতে তিনি নজুলোল-মছিহ কেতাবের ২০৫ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন:
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘সেই জামানায় ইছলামে লম্বা পিরাহান রাখা ফকিরদিগের এক প্রকার নিয়ম ছিল, এক্ষেত্রে ইহা অতি সত্য কথা যে, বাবা নানকের মুছলমান মুর্শিদ তাঁহাকে এই লম্বা পিরাহান দিয়াছিলেন।’’
আরও উক্ত পৃষ্ঠা:
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘হাঁ, ইহা হইতে পারে, ‘জম্মাসাক্ষিও’তে লিখিত আছে যে, যেহেতু বাবা (নানক) ছাহেব নেক মানুষ ছিলেন, এইহেতু তিনি খোদার পক্ষ হইতে এলহাম প্রাপ্ত হইয়া এই লম্বা পিরাহান প্রস্তুত করিয়াছিলেন।’’
মির্জ্জা ছাহেবের উক্ত পিরাহান সম্বন্ধে তিন প্রকার মত সমস্তই সত্য কিনা? (অসমাপ্ত)
অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক
(ধারাবাহিক)
মিঃ মুজিবুর রহমান যুক্তি দেন যে কাদিয়ানী এবং মুসলমানদের মধ্যে যা ভাল এবং উভয়ে বিদ্যমান তাতে কোন প্রতিবন্ধকতা করা উচিত নয়, যেহেতু ইহা উভয়ের মধ্যে কালিমাতিন স-য়াইন (كلمت)। কালিমাতিন-স-য়াইন এর ব্যাখ্যার জন্য তিনি মাদারিক-উত-তানযীল এর ভলিউম- ১ পৃষ্ঠা ২২ -এর উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে যে কালিমতিন স-য়াইন (كلمت سواء) এর অর্থ এরূপ কিছু যা আপনার ও আমাদের মধ্যে বিদ্যমান এবং যাহার কোন বিরোধ তাওরাত, বাইবেল ও কুরআন নাই। কালিমা অর্থ আল্লাহ্ ছাড়া আমাদের আর কারো উপাসনা করা উচিত নয়। ইবনে কাসীর (রঃ) বলেছেন যে কালিমাতিন স-য়াইন অর্থ আল্লাহ্ পাক-এর ইবাদত করা এবং ইহাই ছিল সকল নবী (আঃ)দের আহবান। (তাফসীর ইবনে কাসীর (রঃ) উর্দু ভলিউম-১ পৃষ্ঠা- ৭৬)
সূয়ুতী (রঃ)-এর আদ্ দুরুল মানসুর (ভলিউম- ২, পৃষ্ঠা-৪০) কিতাবে কালিমাতিন স-য়াইন অর্থ বলেছেন, “আল্লাহ্ পাক ছাড়া কোন প্রভু নাই।” মুফতী মুহম্মদ শফি বলেছেন কালিমাতিন স-য়াইনে সকলের যোগ দান করা উচিত। ইহা হইতেই মিঃ মুজিবুর রহমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে ইহা কোন শাস্তি মূলক অপরাধ হতে পারেনা। ৪১ নং সূরার ৩৩ নং আয়াত শরীফে বলা হয়েছে।
“যে আল্লাহ্ পাক-এর দিকে দাওয়াত দেয়। সৎকাজ করে এবং বলে আমি একজন আজ্ঞাবহ, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?”
এই আয়াত শরীফ নাযিলের কারণ সম্বন্ধে আল ক্বলবী (রঃ) বলেছেন যখন মুয়াজ্জিন নামাজের জন্য আহবানে আযানের বাক্যগুলি বলতেন এবং মুসলমানগণ তাঁদের নামায কায়েমে দাঁড়াতেন এবং ইহুদীরা মুয়াজ্জিনকে ব্যঙ্গ করতে থাকতো এবং মুয়াজ্জিন সম্বন্ধে অপমানজনক ভাষা উচ্চারণ করত। সুতরাং এই আয়াত শরীফে আযানকে (احسن قول) সর্বোৎকৃষ্ট উচ্চারণ বা সবচেয়ে মধুর উচ্চারণ বলা হয়েছে (কুরতুবি, ভলিউম-৬, পৃষ্ঠা- ২২৪ এবং ২২৫)
ইতিমধ্যে এটা দেখা গেছে যে, অমুসলিমদের আযান (উপসনার আহ্বান) ঐ আযানের মত নং এবং ফলস্বরূপ এতে সবচেয়ে মধুর উচ্চারণের অভিব্যক্তি প্রয়োগ করা যায়না।
উপরোক্ত আয়াত শরীফে মু’মিন বা মুসলমান-এর যথাযথ সংজ্ঞা বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে, আযান হলো (احسن قول) সবচেয়ে মধুর উচ্চারণ তখনই যখন কোন মুসলমান উহা উচ্চারণ করেন। যেহেতু এর গুণ নির্ভর করে আহ্বানকারীর উপযুক্ত প্রক্রিয়া এবং মুসলমান হিসেবে তাঁর আস্থার উপর।
সূরা ৫ এর ২য় আয়াত শরীফ নাযীল হওয়ার কারণ সম্বন্ধে কোর্টে একটি মত বিরোধ ছিল। প্রশ্নটি ছিল উহাতে আল্লাহ্ পাক-এর চিহ্নের যে উল্লেখ করা হয়েছে উহা কি বহু ঈশ্বারবাদীদের বর্ণনানুযায়ী না ইহা মুসলমানদের মতানুযায়ী। মিঃ মুজিবুর রহমান, আল্লাহ্ পাক-এর চিহ্ন হিসেবে যে বহু ঈশ্বরবাদীদের বর্ণনানুযায়ী তার সমর্থনে তাফসীরকারকদের ভাষ্য থেকে কিছু নজির উল্লেখ করেন কিন্তু ডঃ রিয়াজুল হাসান জ্বিলানী (সরকার পক্ষের ব্যরিষ্টার) এ ব্যাপারে অন্যান্য তাফসীরকারকদের মতটি আস্থাসহকারে গ্রহণ করেন। বর্তমান সুপ্রীম কোর্টের শরীয়ত বেঞ্চের বিচারক পীর মুহম্মদ কারাম শাহ্ তার বহুল প্রচারিত তাফসীর “জিয়াউল কুরআনে” মিঃ মুজিবুর রহমানের এ মতের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
কিছূ মতামত আছে যে, এ আয়াত শরীফে রদ করা হয়েছে। মিঃ মুজিবুর রহমান যুক্তি দেখান যে, আয়াত শরীফের অংশ
لاتحلوا شعائر الله
কখনোই রদ করা হয়নি।
এ মত বিরোধে যাওয়ারও কোন প্রয়োজন নেই। যদি আয়াত শরীফটি হজ্বের সময় মীনাতে কুরবানীর জন্য পশু নিয়ে যাওয়া অমুসলিমদের বৈশিষ্ট্য বা চিহ্নের সাথে সামঞ্জশ্যপূর্ণ হয় তার জন্য একটি ভিন্ন আদেশ জারী করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
সূরা ৯, আয়াত শরীফ-২৮,
يايها الذين امنوا انما المشركون نجس فلايقربوا المسجد الحرام بعد عامهم هذا وان خفتم عيلة فسوف يغنيكم الله من فضله ان شاء ان الله عليه حكيم.
অর্থঃ- “হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দরিদ্রের আশংকা করা তবে আল্লাহ্ পাক ইচ্ছা করলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাব মুক্ত করে দিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (অসমাপ্ত)