মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
একদা সুলতান আলাউদ্দীন খলজী মাহবুবে ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিকে পরীক্ষা করার জন্য একখানা পত্র লিখলেন। যার মধ্যে এই কথাগুলো লিখা ছিল- “হযরত শায়খ কাওনাইন, মাখদুম! আপনার উছীলায় মানুষের অধিকাংশ দুনিয়াবী ও দ্বীনি হাজত পূর্ণ হয় এবং আল্লাহ্ পাক আমাকে দুনিয়াবী সালতানাত দান করেছেন। এই জন্য সালতানাত পরিচালনার কার্যে আমি আপনার উপর উপদেশদাতা, সংশোধনকারী ও পরামর্শদাতার ভার সোপর্দ করতে চাই। আর আপনি সেইভাবে (কুরআন-হাদীস মোতাবিক) মুলুকিয়াত পরিচালনা করার নিদের্শ প্রদান করবেন। যেভাবে রাজ্যের, আমার ও প্রজাবৃন্দের ভালাই হয়।” সুলতান আলাউদ্দীন খলজী এই ফরমান তাঁর শাহজাদা খিযির খার মাধ্যমে হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দরবারে পাঠান। আর এই খিযির খাঁ হচ্ছেন মাহবুবে ইলাহী হযরত সুলতানুল আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ। হযরত খিযির খাঁ যখন পত্রখানা হযরত মাহবুবে ইলাহীকে দিলেন তখন তিনি সেই পত্র পাঠ করে হাজিরানে মজলিসের সকলকে লক্ষ্য করে বললেন, “আসো আমরা সকলে মিলে সূরা ফাতিহা পাঠ করি।” তারপর বললেন, “রাজা-বাদশাদের সাথে ফকীর-দরবেশদের কি সম্পর্ক? আমি ফকীর মানুষ। শহরের এক নির্জন কোনে থেকে বাদশাহ ও মুসলমানদের জন্য দোয়া করছি। এরপরও যদি এই শহরে থাকার কারণে আমাকে কোন কিছু বলা হয় তাহলে আমি শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবো। কেননা আল্লাহ্ পাক-এর যমীন খুবই প্রশস্ত ও বিস্তৃত।” সুলতান আলাউদ্দিন খলজীর কাছে যখন মাহবুবে ইলাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এই উত্তর পৌঁছলো তখন তিনি অত্যাধিক আনন্দিত ও খুশি হলেন এবং হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর একান্ত ভক্ত ও মহব্বতকারী হয়ে গেলেন। এরপরও পূনরায় সুলতান আলাউদ্দিন খলজী সংবাদ পাঠালেন, “যদি হযরতের ইজাযত মিলে তবে দরবারে একবার হাযির হবার এরাদা রাখি।”হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জবাব এই বলে পাঠালেন যে, “আসার জরুরত নেই। আমি আপনার জন্য এখান হতে দোয়া করছি। কেননা অদৃশ্য বা অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা অধিক কার্যকরী ও তা’ছীর করে।” এরপরও বাদশাহ তার সাক্ষাত লাভের জন্য নিয়ত করলেন। তখন মাহবুবে ইলাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “ফকীরের হুজরার দু’টি দরজা। যদি রাজ্যের সুলতান উক্ত হুজরার এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন তবে আমি অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে যাব।” বর্ণিত আছে যে, মাহবুবে সুবহানী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি সামা শ্রবন করার জন্য (শর্ত হিসেবে) যতগুলো গুণাবলী শুনেছি, তার মধ্যে সবচাইতে যোগ্য, উন্নত ও অধিক প্রশংসিত চরিত্রের অধিকারী (শায়খে কবীর, এখানে শায়খে কবীর বলতে হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বুঝানো হয়েছে।) শায়খে কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহিকে পেলাম।” অর্থাৎ তারঁ মাঝে সামা শ্রবণ করার সকল গুণাবলী বিদ্যমান রয়েছে। একদা পীর ছাহেব ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দুনিয়াবী জিন্দেগীতে তাঁর (তা’লিমের) ভরপুর মজলিসে এক ব্যক্তিকে এই শের পড়তে শুনেছি। অর্থাৎ “দুনিয়ার জিন্দেগীতে এমন ভাবে মশগুল হয়োনা- খোদা না করুন যার দরুন দুনিয়াবী বদ তাছিরের কারণে শেষ পর্যন্ত তোমাকে তাকলীফ, কষ্টে নিপতিত হতে হয়। আজ আমার হযরত পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উত্তম ও প্রশংসিত চরিত্র, আখলাকের এবং (আমার প্রতি) তাঁর মেহেরবানীর কথা স্মরণে আসে। দৈহিক সৌন্দর্য্যরে দিক থেকে তিনি ছিলেন এক অনুপম সৌন্দর্য্যরে অধিকারী।” এরকম কিছু বলার পরই হযরত মাহবুবে সুবহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর চোখে (পীর ছাহেবের মহব্বতে) পানি এসে গেল। অতঃপর আবার বললেন, “কিছু দিন পরেই আমার পীর ছাহেব ক্বিবলা আল্লাহ্ পাক-এর নিকট তার জান সোপর্দ করে দিলেন।” (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার