-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
অসুস্থ ব্যক্তি বসে নামায আদায় করলে রোযা রাখতে সক্ষম হয় কিন্তু দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে গেলে রোযা ভঙ্গ করতে হয়, এক্ষেত্রে বসে বসে নামায আদায় করতে হবে তবুও রোযা ভঙ্গ করা যাবেনা।
কোন অসুস্থ ব্যক্তি যদি আশঙ্কা করে যে, নামাযের ওয়াক্ত হলে আমার অসুস্থতা বৃদ্ধি হবে এবং নামায আদায় করতে পারবনা, এই ধারণায় ওয়াক্তের পূর্বেই নামায আদায় করলে নামায আদায় হবেনা।
অসুস্থ ব্যক্তি নামাযের কোন এক রোকন আদায় করতে গেলে ওযু ভঙ্গ হয় এরূপ আশঙ্কা হলে ঐ রোকন আদায় না করে নামায আদায় করতে হবে।
অসুস্থ অবস্থার ফওত বা অনাদায়ী নামায সুস্থ অবস্থায় আদায় করলে সুস্থ ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে ক্বিয়াম, রুকু, সিজ্দা ইত্যাদি করে আদায় করতে হবে। আবার সুস্থ অবস্থার ফওত নামায অসুস্থ অবস্থায় আদায় করলে বসে বা ইশারায় যেভাবে পারে সেভাবেই আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে।
জুমুয়ার দিন অসুস্থ ব্যক্তির এরূপ বিলম্ব করে নামায আদায় করা মুস্তাহাব যেন ইমামের জুমুয়ার ফরয নামায শেষ হয়ে যায়। অন্যথায় ছহীহ্ মতে তার নামায মাকরূহ হবে।
অসুস্থ ব্যক্তি ক্বিবলা জানা সত্ত্বেও যদি ক্বিবলার দিকে ফিরতে না পারে অথবা এমন কোন লোক নেই যে, তাকে ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে দিবে, তবে যেদিকে পারে সেদিকে ফিরে নামায আদায় করতে হবে। ঐ নামায পুনরায় দোহ্রাতে হবেনা। আর যদি নিকটে কোন লোক থাকে তাহলে ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তাকে বলতে হবে। না বলে ক্বিবলার বিপরীত দিকে নামায আদায় করলে নামায ছহীহ্ হবেনা। এরূপ নাপাক বিছানায় থেকে অথবা নাপাক কাপড় পরিধান করে বিছানা ও কাপড় পরিবর্তন করতে অক্ষম হয়ে নিকটবর্তী লোকের নিকট বিছানা ও কাপড় পরিবর্তনের কথা না বলে নাপাক বিছানায় অথবা নাপাক কাপড়ে নামায আদায় করলে নামায ছহীহ্ হবেনা।
অসুস্থ ব্যক্তির অসুস্থতার কারণে রাক্য়াত ও সিজ্দা সম্বন্ধে সন্দেহ হলে নামায দোহরাতে হবেনা।
যদি কোন মেয়ে লোকের নামাযের ওয়াক্তে সন্তান প্রসবের আসন্নকাল উপস্থিত হয় তবে ওযু করে নামায আদায় করতে হবে। ওযু করতে অক্ষম হলে তাইয়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হবে। যদি সন্তানের মাথা বের হয় তবে মাটিতে গর্ত কেটে তাতে সন্তানের মাথা রেখে রুকু সিজ্দাসহ নামায আদায় করতে হবে। যদি তাতেও অক্ষম হয় তবে ইশারায় নামায আদায় করতে হবে।
নামায আদায় করতে অক্ষম অবস্থায় যদি অসুস্থ ব্যক্তির ইন্তিকাল হয় তবে যতদিন অক্ষম অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে ততদিনের নামাযের ফিদিয়া দিতে হবেনা।
কোন হিংস্র প্রাণীর গর্জনে বা মানুষের উচ্চ হাকে বা চিৎকারে বেহুশ হয়ে ছয় ওয়াক্তের পর হুশ হলে তার ক্বাযা আদায় করতে হবেনা। আর যদি শরাব, ভাং, গাঁজা ইত্যাদি নেশার জিনিস সেবন করে বেহুশ হয় তবে যত ওয়াক্তই বেহুশ অবস্থায় থাকুক না কেন, সমস্ত নামাযেরই ক্বাযা আদায় করতে হবে। অনুরূপ নিদ্রার কারণে বেহুশ থাকলেও নামায ক্বাযা আদায় করতে হবে।
যদি কারোও কপালে ঘা থাকার কারণে সিজ্দা করতে না পারে তাহলে নাকের দ্বারা সিজদা করে নামায আদায় করতে হবে। নাক যমীনে না লাগিয়ে ইশারায় নামায আদায় করলে নামায জায়েয হবেনা।
যদি দু’হাত কনুই পর্যন্ত বা দু’পা টাখনু পর্যন্ত কাটা থাকে অথবা কপালে ঘা থাকে তবে এমতাবস্থায় বিনা ওযু ও তাইয়াম্মুমে নামায আদায় করলে সুস্থ হওয়ার পর ঐ নামায পুনরায় দোহ্রাতে হবেনা। এক্ষেত্রে নিকটে লোক থাকলে বাকি স্থানসমূহ ধৌত বা তাইয়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হবে। লোক না পেলে পারলে মুখমন্ডল ওযুর নিয়তে পানির মধ্যে ডুবিয়ে নামায আদায় করতে হবে। তাও না পারলে বিনা ওযুতে নামায আদায় করতে হবে।
যদি কেউ পানির মধ্যে পতিত হয় আর এমতাবস্থায় নামাযের ওয়াক্তও শেষ হতে থাকে তবে আমলে কাছীর না হয় এমনভাবে ইশরায় নামায আদায় করতে পারলে আদায় করে নিতে হবে।
অসুস্থ ব্যক্তি নামায আদায় করার সময় অনিচ্ছা সত্বে আহ্, উহ্ ইত্যাদি শব্দ করলে এ অবস্থায়ই তার নামায আদায় হয়ে যাবে। অসুস্থতার কারণে বোবা লোকের ন্যায় মুখ বন্ধ থাকলেও বোবার ন্যায় ওষ্ঠদ্বয় সঞ্চালন করে একদিন এক রাত পর্যন্ত ঐরূপভাবে নামায আদায় করে থাকলে ও পরে ভাল হয়ে গেলে ঐ নামায ক্বাযা করতে হবেনা।
ফিক্বহুস্ সুনান যানবাহনে নামায আদায়ের বয়ান
ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান
ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান