তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন

সংখ্যা: ৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা

কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা এটা প্রমাণিত যে, “আল্লাহ্ পাক-এর অলীগণের কারামত সত্য।”

          আর এ কথা মনে রাখা আবশ্যক যে, এক হিসেবে আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণ ব্যতীত হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, ছিদ্দীক, শহীদ সবাই আউলিয়া-ই-কিরামের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং তাদের দ্বারা যে বুযুর্গী জাহির হয় তাও কারামতেরই অন্তর্ভূক্ত।

আল্লাহ্ পাক বলেন,

لا تقولوا لمن يقتل فى سبيل الله اموات بل احياء ولكن لا تشعرون.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক-এর পথে যারা নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলোনা; তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারনা।” (সূরা বাক্বারা/ ১৫৪)

তাশরীহঃ এই আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়েছে বদর যুদ্ধের শহীদগণের সম্পর্কে। বদর যুদ্ধে শহীদগণের মধ্যে ছয়জন ছিলেন মুহাজির আর আটজন ছিলেন আনছার। তাঁদের সম্বন্ধে লোকজন বলাবলি করতো, হায়! অমুক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো। দুনিয়ার নেয়ামত তার হাতছাড়া হয়ে গেল ইত্যাদি। তাদের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য আল্লাহ্ পাক উল্লিখিত আয়াত শরীফ নাযিল করে বললেন, “তারা মৃত নয় বরং জীবিত।” শহীদগণকে জীবিত বলার তাৎপর্য এই যে, আল্লাহ্ পাক তাঁদের রূহ সমূহকে শরীর বিশিষ্ট মানুষের মতোই শক্তি দান করেছেন। তাঁরা আকাশ, পৃথিবী, বেহেশ্ত সকল স্থানে পরিভ্রমণ করতে সক্ষম। বন্ধুর সাহায্য, শত্রুর ধ্বংস সাধনও তাঁদের ক্ষমতাভূক্ত। আর তারা তো এমন মর্যাদার অধিকারী যে, মাটি তাঁদের দেহ ও কাফন নষ্ট করতে পারে না।

          বাগবী বলেছেন, “বদর যুদ্ধের শহীদগণের রূহসমূহ প্রতি রাতে আরশের নিচে সেজদাবনত হয়। ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাঁরা এ রকমই করতে থাকবেন।” অন্য হাদীস শরীফে এসেছে, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “শাহাদত লাভের পর শহীদদেরকে আল্লাহ্ পাক অনিন্দ্য সুন্দর দেহ দান করেন। নির্দেশ দেয়া হয়, এই দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করো। রূহ তখন সেই সুন্দর শরীরে প্রবেশ করে, অনুভব করে এ যেনো তাঁর আগেরই শরীর। তাঁরা যখন বলেন ও উপলব্ধি করেন, মানুষ আমাদের কথা শুনছে ও দেখছে, তখন বেহেশ্তের হুর এসে তাঁদেরকে নিয়ে যায়।” ইবনে মান্দা মুরসাল হিসেবে এই হাদীস শরীফ খানা বর্ণনা করেছেন। মুসলিম শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “শহীদগণের রূহ সবুজ পাখি হয়ে যায়। পাখিরা জান্নাতে যত্রতত্র উড়ে বেড়ায়। আবার কখনো আরশের নিম্নে ঝুলন্ত ঝাড়বাতিতে বসে বিশ্রাম নেয়।” এই অনন্য সাধারণ জীবন লাভ কেবল শহীদগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নবীগণও এরকম জীবনের অধিকারী। তাঁদের জীবন মুবারক পার্থিব জীবনের মতোই প্রভাবশালী। রসূলূল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য অনন্য মর্যাদা অধিকতর শক্তিশালী। তাই তাঁর ইন্তিকালের পর তার পবিত্র সহধর্মীনিগণের পুনঃবিবাহ নিষিদ্ধ। শহীদগণের স্ত্রীদের প্রতি এরকম নিষেধাজ্ঞা নেই। আবার ছিদ্দীকগণের মর্যাদা শহীদগণেরও উর্ধ্বে।

          হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, কামালতে নুবুওওয়াত উত্তরাধিকার সূত্রে চলে আসছে। যাঁরা কামালতে নুবুওওয়াতের সৌভাগ্যে সৌভাগ্য মন্ডিত, শরীয়তের পরিভাষায় তাঁরাই ছিদ্দীক। তাঁরা আল্লাহ্ পাক-এর পক্ষ থেকে অনশ্বর জীবন প্রাপ্ত। স্মর্তব্য যে, ছিদ্দীকগণের মর্যাদা শহীদের চেয়েও অধিক। এবং তাদের দ্বারাও অসংখ্য কারামত তথা বুযুর্গী জাহির হয়ে থাকে।

          নিম্নোক্ত হাদীস শরীফের দ্বারা এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও ছলেহ্গণের দেহ মুবারক মাটি নষ্ট করতে পারে না। হযরত আউস বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেছেন, “আল্লাহ্ পাক নবীগণের দেহ মুবারক মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।” হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে এই হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজা। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট এ বিষয়টি পৌঁছেছে যে, “আমি এ কথা জানতে পেরেছি, হযরত আমর বিন জামুহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  ও হযরত আব্দুর রহমান ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মাজার শরীফ বন্যার তোড়ে ধ্বসে পড়েছিলো। তাঁরা দু’জনেই ছিলেন ওহুদ যুদ্ধের শহীদ। তাঁরা দু’জনেই একই কবরে সমাধিস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের কবর উন্মোচিত হলে দেখা গেল, তাঁদের শরীর ও কাফন সতেজ এবং স্বচ্ছ। মনে হচ্ছিলো, যেনো গতকালই তাঁদেরকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। অথচ তাঁরা সমাধিস্থ হয়েছিলেন ছিচল্লিশ বছর আগে।”

তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন

তাফসীরুল কুরআন: রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাফসীরুল কুরআন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আমাদের মত মানুষ নন’

তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর