-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা
ওলী আল্লাহ্র পরিচয় হলো- যিনি সদা-সর্বদা আল্লাহ্ পাক-এর মতে মত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে পথ তথা কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও সহীহ্ ক্বিয়াসের উপর দায়েম-কায়েম- তিনিই ওলীআল্লাহ্। যেহেতু ওলীআল্লাহ্ অর্থ আল্লাহ্ পাক-এর বন্ধু। তাই আল্লাহ্ পাক তাঁর ওলীকে যাবতীয় পাপ এবং হীনতা হতে নিরাপদে রাখেন। যেমন পয়গম্বর আলাইহিমুস্ সালামগণ মা’ছুম বা নিষ্পাপ থাকেন তদ্রুপ যিনি পাপ হতে মাহফুয বা নিরাপদ তিনিই ওলীআল্লাহ্ হতে পারেন।
বলাবাহুল্য যে, ওলীআল্লাহ্গণ প্রসিদ্ধি লাভ করেন, অপরিচিত থাকেননা। তবে আল্লাহ্ পাক-এর মহান বাণী সূরা আ’রাফের ৫৬নং আয়াত শরীফ
ان رحمة الله قريب من المحسنين.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর রহমত মুহসীন আল্লাহ্ ওয়ালা গণের নিকটে।”
এর মেছদাক হওয়ার তথা আল্লাহ্ পাক-এর রহমতের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে যেই প্রসিদ্ধি লাভে বিপদ-বিড়ম্বনার আশংকা থাকে তা থেকে তারা নিরাপদে থাকেন। আল্লাহ্ পাক তাঁর ওলীদেরকে তাঁর বন্ধুত্ব এবং বেলায়েতের জন্য মনোনীত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে,
الله يجتبى اليه من يشاء.
অর্থাৎ আর আল্লাহ্ পাক যাকে ইচ্ছা তার নিজের ওলী বা বন্ধুরূপে মনোনীত করেন।” (সূরা শুরা/১৩)
মূলতঃ তাঁরাই আল্লাহ্ পাক-এর গ্রহণযোগ্য বান্দা। বিভিন্ন প্রকার কারামত দ্বারা আল্লাহ্ পাক তাঁদের সম্মানিত করেছেন। স্বাভাবিক বালা-মুসীবত হতে নিরাপদ রেখে নাফসানী খাহেশাত হতে মুক্ত রেখেছেন। “ওলীআল্লাহ্ পূর্বেও ছিলেন এখনো আছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবেন।”
বলাবাহুল্য যে, ওলী আল্লাহ্গণের বরকতেই আকাশ হতে বৃষ্টি নামে, কবরের আযাব মাফ হয়ে যায়। তাঁদের বরকতেই জমিনে ফসল জন্মে এবং তাঁদের দোয়ার বরকতে মুসলমান কাফেরদের উপর জয়লাভ করে। শাইখুল মাশায়িখ, কাশিফুল মুকাশিফাই হযরত শায়খ আহ্মদ কবীর রেফায়ী আল হুসাইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত “আল বুনিয়ানুল মুশাইয়্যিদ” কিতাবে উল্লেখ করেছেন, “যে ব্যক্তি নফ্স ও শয়তান এবং দুনিয়া ও স্বীয় বাসনা-কামনা হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। স্বীয় চেহারা ও অন্তরকে আল্লাহ্ অভিমুখী করে রেখেছেন এবং দুনিয়া ও আখিরাত হতে নির্লিপ্ত। একমাত্র আল্লাহ্ পাক ব্যতীত কোন কিছুরই অন্বেষণকারী নহেন, জেনে রাখ, তিনিই ওলী। তাঁর সোহবত দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা কর্তব্য। কারণ যে যে প্রকার লোকের সাথে উঠা-বসা করে আল্লাহ্ পাক তার অন্তরে সে জিনিস বৃদ্ধি করে দেন। ১.শিশুদের সাথে উঠা-বসা করলে দিলে খেল-তামাশার উদ্রেক হয়। ২. মেয়েলোকদের সাথে উঠা-বসা করলে দিলে কামভাব পয়দা হয়। ৩. ধনীদের সাথে উঠা-বসা করলে অন্তরে দুনিয়ার লোভ বৃদ্ধি পায়। ৪. দুনিয়াদারদের সাথে উঠা-বসা করলে দিল মুর্দা হয়ে যায়। ৫. শাসকদের সাথে উঠা-বসা করলে অন্তরে অহঙ্কার পয়দা হয়। ৬. বিদয়াতীদের সাথে উঠা-বসা করলে দিলে সুক্ষ্ম-সমঝ নষ্ট হয়ে যায়। ৭. পাপীদের সাথে উঠা-বসা করলে পাপের প্রতি আগ্রহ এবং তওবার প্রতি অনাগ্রহ জন্মে। ৮. নেককারদের সাথে উঠা-বসা করলে নেক কাজের প্রতি আগ্রহ জন্মে। ৯. আলেমদের সাথে উঠা-বসা করলে অন্তরে ইল্ম ও সতর্কতা বৃদ্ধি পায়। ১০. হাকীম বা অভিজ্ঞ লোকের সাথে উঠা-বসা করলে জ্ঞানের গভীরতা বৃদ্ধি পায়। ১১. অলী-আল্লাহ্ গণের সাথে উঠা-বসা করলে আল্লাহ্ পাক-এর মহব্ববত-মারিফাত লাভের আকাঙ্খা জন্মে।
স্মর্তব্য যে, কুরআন শরীফে মুত্তাকীকেই ওলীআল্লাহ্ বলা হয়েছে। আর আহমাদ, বায়হাকী, মিশকাত ইত্যাদি হাদীস শরীফের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,
خيار عبد الله الذين اذا رئو ذكر الله وشرار عباد الله المشائون بالنميمة المفرقون بين الاحبة الباغون البراء العنت.
অর্থ: “তারাই আল্লাহ্ পাক-এর উত্তম বান্দা, যাঁদের দেখলে আল্লাহ্ পাক-এর স্মরণ হয় (অন্য বর্ণনায় যাদের কথা শুনলে ওহীর জ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং যাদের আমল দেখলে আখিরাতের আমল করতে মন চায়)। পক্ষান্তরে তারাই আল্লাহ্ পাক-এর নিকৃষ্ট বান্দা। যারা চোগলখোরী করে বেড়ায়। বন্ধুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং পূতঃ-পবিত্র লোকদের প্রতি অপবাদ আনতে প্রয়াস পায়।
আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে ওলী আল্লাহ্গণের হাক্বীক্বী ফযীলত ও মর্যাদা-মর্তবা উপলব্ধি করার এবং খালিছভাবে তাদের ছোহবত লাভ করতঃ মুহব্বত ও আনুগত্য করার তাওফিক দিন। (আমিন)
তাফসীরুল কুরআন : ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত
তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন
তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন
তাফসীরুল কুরআন: রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম