কাদিয়ানী রদ!

সংখ্যা: ৯০তম সংখ্যা | বিভাগ:

(পঞ্চম ভাগ)

          (মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।

(ধারাবাহিক)

          অদ্য ১৩ শত বৎসরের অধিক হইতে যে কোর-আন, তওহিদ ও রেছালাত নাযাতের একমাত্র অবলম্বন বলিয়া প্রায় সমস্ত মুছলমান সমাজ কর্ত্তৃক স্বীকৃত হইয়া আসিতেছে, তাহা মির্জ্জা ছাহেব ও তাহার বাতীল মতগুলি মান্য না করিলে, বাতিল হইয়া যাইতেছে, ইহা আশ্চর্য্যজনক কথা নহে কি?

          মূলকথা, মির্জ্জা ছাহেবের উভয় মতের মধ্যে আছমান ও জমিনের প্রভেদ আছে।

(৩) নবুয়াত শেষ হওয়া সম্বন্ধে মতভেদ।

‘তবলিগে-রেছালাত ২/২০ পৃষ্ঠাঃ-

 উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

‘আমি খাতেমোল-মোরছালিনের পরে অন্য কোন রেছালাত ও নবুয়তের দাবিকারীকে মিথ্যাবাদী ও কাফির জানি, রেছালাতের অহি হজরত আদম ছফিউল্লাহ্ হইতে আরম্ভ হইয়াছিল এবং হজরত মোহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর শেষ হইয়া গিয়াছে।’

‘আছমানি-ফয়ছলা, ৩ পৃষ্ঠাঃ-

 উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

          ‘আর আমি নবুয়াতের দাবিকারী নহি, বরং এইরূপ দাবিকারীকে ইছলামের গন্ডি হইতে খারিজ ধারণা করি।’

‘হামামাতোল-বোশরা, ৯৬ পৃষ্ঠাঃ-

وما كان لى ان ادعى النبوة واخرج من الاسلام والحق بقوم كافرين.

‘‘আমার পক্ষে কোন্ সময় জায়েয হইবে যে, নবুয়াতের দাবি করিয়া ইছলাম হইতে খারিজ হইয়া কাফিরদিগের দলভুক্ত হই?’’  (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক

কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)

অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক

(ধারাবাহিক)

          মির্জা সাহেব বেশী বিশদ ও স্পষ্টরূপে নির্দিষ্ট করেছে। সে বলেছে, আমার উপস্থিতি তার ব্যক্তিত্বের (ماروجودى وجوره) প্রকাশ। যে আমার উম্মায় প্রবেশ করবে সে পবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অন্তর্ভূক্ত হবে।

(খুবা-ই-ইলহামিয়া/২৫৮,২৫৯)

          সত্যতা অস্বীকার করা অর্ডিনেন্সটি এ প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ ন্যায্য।

          পরবর্তী প্রশ্ন হলো, আযানের নিষেধাজ্ঞা আরোপ। অধ্যাদেশটি অমুসলিমদের উপর নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ আযানের ফরমূলায় কাদিয়ানীদের মানুষকে নামাযে ডাকা। আযান শব্দের অর্থ ডাকা। মুয়াজ্জিন ঐ ব্যক্তি, যে ডাকে। এই আভিধানিক অর্থগুলি সূরা ৭, আয়াত ৪৪, সূরা ১২, আয়াত ৭০ এবং সূরা ২২, আয়াত ২৭ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

          পবিত্র কুরআন শরীফে বলা হয়েছে,

قالوا نعم فاذن مؤذن بينهم ان …

অর্থঃ- “একজন ঘোষণা করবে, আল্লাহ্ পাক-এর অভিসম্পাত জালিমদের উপর।” (সূরা ৭, আয়াত শরীফ ৪৪)

সূরা ১২, আয়াত ৭০ঃ

ثم اذن مؤذن ايتها العير انكم لسرقون.

অর্থঃ- “একজন ঘোষক ডেকে বললো, হে উষ্ট্রারাহীরা, তোমরা অবশ্যই চোর।”

সূরা ২২, আয়াত ২৭ঃ

واذن فى الناس بالجح ياتوك رجالا وعلى كل ضامر ياتين من كل فج عميق.

অর্থঃ- “এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের ঘোষণা করুন। তারা আপনার নিকট পায়ে হেঁটে, কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আসবে।”

          এ তিনটি আয়াত শরীফে আযান (اذن) শব্দটি ডাকার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য সরবরাহের জন্য ডাকা হয়েছে। মুয়াজ্জিনের শব্দটি আহবানকারীর অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এইগুলোই আযান ও মুয়াজ্জিন অভিধানিক অর্থ।

          সূরা ৬২ এর ৯নং আয়াত শরীফে (نودى للصلوة) (যখন নামাযে ডাকা হয়) নামাযের জন্য আহবান করাকে আযান হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই কারণে এই শব্দগুলোর অনুবাদ এ রকম করা হয়েছে, “যখন আযান দেয়া হয়।”

আয়াত শরীফ এবং অনুবাদ নিম্নরূপ- সূরা ৬২, আয়াত ৯ঃ

يايها الذين امنوا اذانودى للصلوة من يوم الجمعة فاسعوا الى ذكر الله وذروا البيع ذالكم خيرلكم ان كنتم تعلمون.

অর্থঃ- “হে বিশ্বাসীগণ! জুমুয়ার দিনে যখন আযান দেয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহ্ পাক-এর স্মরণের পানে সাড়া দাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। যদি তোমরা বুঝ, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম।”

          হিজরতের পূর্বে আযানের ধারণা প্রকাশ পায়নি। হিজরতের পর জামায়াতে শরীক হওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে লোকদের আহবান করা হত। (الصلوة جامعة) অর্থ বুঝানো হত জামায়াত শুরু হতে যাচ্ছে। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে আহবানের নির্দেশের গুরুত্ব প্রকাশ করেন। তিন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম,  হযরত আবূ বকর ছিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু স্বপ্নে আযানের পদ্ধতি অবগত হন। তিনজনের স্বপ্নের মধ্যে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা-এর স্বপ্নই অধিক উল্লিখিত। তাঁদের স্বপ্নের কথা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আব্দুল্লাহ্ বিন যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঐ রাতেই জানান। কিন্তু হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ভোরে জানান। ঐ দিন থেকেই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আযান দিয়ে মানুষদের নামাযের জন্য আহবানের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (الصلوة خير من النوم) (ঘুম অপেক্ষা নামায উত্তম) যোগ করেন এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমোদন করেন। (আল জামিউল আহকামুল কুরআন, কুরতুবী ভলিউম ৬, পৃষ্ঠা ২২৫) (অসমাপ্ত)

কাদিয়ানী রদ!

খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবেক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!