-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব, হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা
(ধারাবাহিক)
হেকায়েতঃ একদা তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান যিন্নুরাইন রদিয়াল্লাহু আনহু অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে কোন গলি পথ দিয়ে গমন করছিলেন। ঘটনাক্রমে এক ব্যক্তি উপর হতে তাঁর মস্তকে ছাই নিক্ষেপ করে। তিনি তৎক্ষনাৎ অশ্ব হতে নেমে আল্লাহ্ পাক-এর কৃতজ্ঞতাসূচক সিজদা করে ছাইগুলো ঝেড়ে ফেলে চলে যেতে থাকেন। তা দেখে দর্শকগণ তাঁকে বললেন, “হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি ছাই নিক্ষেপকারীকে যথোচিত শাস্তি প্রদান না করে কি জন্য চলে যাচ্ছেন?” প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন,“যে ব্যক্তি আগুনের যোগ্য, তার প্রতি ছাই নিক্ষেপ করাতে আর কি অপরাধ হতে পারে?” তিনি বিদ্রোহীগণ কর্তৃক চল্লিশ দিন পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকার পর ৩৫ হিজরীর ১৩ই জিলহজ্ব শহীদ হন।
হেকায়েতঃ একদা আসাদুল্লাহ্ হযরত আলী রদিয়াল্লাহু আনহু জনৈক ইহুদীকে মল্লযুদ্ধে ধরাশায়ী করে তরবারী দ্বারা তাকে হত্যা করতে উদ্যত হন। এতে সে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি থুথু নিক্ষেপ করে। খলীফা তাকে তৎক্ষনাৎ ছেড়ে দিলেন। ইহুদী আশ্চর্যান্বিত হয়ে খলীফাকে তার ছেড়ে দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “তোমাকে হত্যা করে শরীয়তের আদেশ প্রতিপালন করতে উদ্যত হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে থুথু দেয়ার কারণে আমার অন্তরে ক্রোধ ও প্রতিহিংসার ভাব জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। সুতরাং তোমাকে হত্যা করলে যদি আল্লাহ্ পাক আমাকে আমার ব্যক্তিগত ক্রোধ ও প্রতিহিংসার জন্য হত্যাপরাধে দায়ী করেন এই ভয়েই আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি।” ইহুদী হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর এই মহান উদারতা ও বিচার-বুদ্ধিতে সন্তুষ্ট হয়ে তৎক্ষনাৎ ইসলাম গ্রহণ করলো।
হেকায়েতঃ মুজতাহিদ ফিদ্ দ্বীন, হাকিমুল হাদীস, সিরাজুল উম্মাহ, ইমামুল আইম্মা, হযরত ইমাম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন এক লোকের কাছে কিছু টাকা পেতেন। তিনি যখন তার কাছে টাকা ফেরৎ চাইতেন, তখন সে প্রতিদিনই পরিশোধ করার শপথ করতো। পরে একদিন সে সাত দিনের সময় চাইলে তিনি তাকে সময় দিলেন। সে এক সপ্তাহের জন্য কোন কাজ সমাধা করতে শাম দেশে চলে গেল। কিন্তু ফিরে এলো এক বছর পরে। তিনি আবার তাকে তাগাদা দিলেন। সে আবার সাত দিনের সময় চাইলো। তিনি এবারও তাকে সময় দিলেন, কিন্তু পূর্বের ন্যায় এবারও সে অন্য কোথাও চলে গেল এবং এক বছর পর ফিরে এলো। এমনিভাবে হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে সাতবার সময় দিলেন এবং সাত বারই অন্যত্র গিয়ে এক বছর পর দেশে ফিরে আসতো। কিন্তু এজন্য ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি কখনও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেননি। শেষবার যখন সে ফিরে এলো তখন ঐ ব্যক্তি বলতে লাগলো, “আপনার মাযহাব-এর আদর্শ দেখে আমার দুঃখ হয় যে, এতো পরিচ্ছন্ন আদর্শ দেখেও মানুষ তা গ্রহণ করে না?” পরে সে আবেদন করলো, “হযরত! আপনি আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করুন।” হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে ইসলামে দীক্ষা দিলেন।
বলা বাহুল্য যে, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ পাক মানুষকে দু’টো পদার্থ সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে একটি দেহ, অপরটি রূহ বা আত্মা। দেহকে আমরা চর্ম চক্ষুর দ্বারা দেখতে পাই। কিন্তু রূহ বা আত্মাকে চক্ষুর দ্বারা দেখতে পাই না। অন্তর চক্ষু দ্বারা তা উপলব্ধি করতে হয়। এই দু’টি অবস্থা ভেদে সুশ্রী এবং কুৎসিত হয়ে থাকে। দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো সুন্দর ও সুষ্ঠ হলে একে সুন্দর গঠন “হুসনে খাল্ক্ব” বলা হয়। আর আত্মার আভ্যন্তরীন গুণাবলী সুন্দর হলে তাকে সৎ স্বভাব ও উন্নত চরিত্র “হুস্নে খুলক্ব” বলা হয়। ইতোপূর্বে যেসব মহান চরিত্রবান ব্যক্তিদের উত্তম চরিত্রাদর্শের আলোচনা করা হয়েছে মূলতঃ সেই মহান চরিত্র তারা নেক্কারদের সাহচর্যের মাধ্যমে লাভ করেছিলেন। আল্লাহ্ওয়ালাদের সোহ্বত বা সংসর্গ ছাড়া চরিত্রবান হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত
তাফসীরুল কুরআন : ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত
তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত