খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবেক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড

সংখ্যা: ৮৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

কাদিয়ানী রদ! (১)

(পঞ্চম ভাগ)

          (মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফোক্বাহা, রইছুল মোহাদ্দিসীন, তাজুল মোফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।

(ধারাবাহিক)

এজালায়-আওহাম, ১৩১ পৃষ্ঠাঃ-

উর্দু কম্পোজ করতে হবে

“জানা উচিত যে, মছিহর নাজিল হওয়ার আক্বিদা এমন কোন আক্বিদা নহে- যাহা আমাদের ইমানের অংশ কিম্বা দীনের কোন রোকন হইতে পারে, বরং শত শত ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে একটি ভবিষ্যদ্বাণী-যাহার প্রকৃত ইছলামের সহিত কোনও প্রকার সম্বন্ধ নাই।”

যেরূপ কোন নূতন দোকানদার প্রথমতঃ নরম নরম কথা বলিয়া খরিদারদিগের মন আকর্ষণ করিয়া থাকে, যখন দোকানের উন্নতি হয়, এবং খরিদারগণের সংখ্যা অধিক হয়, তখন তাহার মেজাজ গরম হইয়া পড়ে। মিজ্জা ছাহেব প্রথম প্রথম উপরোক্ত প্রকার নরম সুরে কথা বলিয়াছিলেন, কিন্তু যখন তাহার মুরিদগণের সংখ্যা বেশি হইয়াছিল, তখন তিনি কিরূপ কঠিন মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছিলেন, তাহা নি¤œলিখিত কথাগুলিতে বেশ বুঝিতে পারিবেন।

তিনি ‘মে’য়ারোল-আখইয়ার’-এর ৮ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেনঃ

উর্দু কম্পোজ করতে হবে

“যে ব্যক্তি তোমার (মির্জ্জা গোলাম আহমদ ছাহেবের) পয়রবি না করে এবং মুরিদগণের অন্তর্ভুক্ত না হয় ও তোমার বিরুদ্ধাচরণ করিতে থাকিবে, সে খোদা ও রাছুলের নাফরমান ও জাহান্নামি হইবে।”

মির্জ্জা ছাহেব লাহোরের আঞ্জুমানে হেমাএতোল-ইছলামের আলেমগণ উনাকে লক্ষ্য করিয়া একটি লম্বা বক্তৃতা দিয়াছিলেন- যাহার সারমর্ম্ব এই যে, তোমরা আমাকে এনকার করিতেছে, এই হেতু প্লেগ হইতে নিরাপদে থাকা সম্বন্ধে তোমাদের দোয়া কবুল হইবে না, কেননা তোমাদের সম্পর্কে খোদা বলিয়াছেন:

وما دعاء الكافرين الا فى ضلال.

“কাফিরদিগের দোয়া নিস্ফলতার মধ্যেই থাকিবে।” দাফেয়োল-বালা ১০/১১ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়ত মুতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক

কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)

অনুবাদক- আলহাজ্জ মুহম্মদ হাবিবুল হক

(ধারাবাহিক)

সংশ্লিষ্ট আয়াত শরীফসমূহ উল্লেখ করা হলো (সূরা ৯ আয়াত নং- ১০০, সূরা ৪৮ আয়াত নং- ১৮, ৫৮, আয়াত নং- ২২)

সূরা- ৯, আয়াত-১০০

والسبقون الاولون من المهجرين والانصار والذين اتبعوهم باحسان رضى الله عنهم ورضوا عنه واعدلهم جنت تجرى تحتها الانهر خلدين فيها ابدا ذلك الفوز العظيم.

অর্থ: “আর যাঁরা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মধ্যে পুরাতন এবং যারা উনাদের অনুসরণ করেছেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং উনারাও উনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর উনাদের জন্য তৈরি রেখেছেন বাগান, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত ঝরণাসমূহ। সেখানে উনারা থাকবেন চিরকাল। এটাই মহান কৃতকার্যতা।”

সূরা ৪৮, আয়াত নং- ১৮

لقد رضى الله عن المؤمنين اذ يبايعونك تحت الشجرة فعلم مافى قلوبهم فانزل السكينة عليهم واثابهم فتحا قريبا.

অর্থ: যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন যখন উনারা গাছের নীচে আপনার কাছে শপথ করলেন। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অবগত ছিলেন যা উনাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি উনাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং উনাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।”

সূরা-৫৮, আয়াত নং-২২

لا تجدقوما يؤمنون بالله واليوم الاخر يوادون من حاد الله ورسوله ولو كانوا اباءهم او ابناءهم او اخوانهم اوعشيرتهم اولئك كتب فى قلوبهم الايمان وايدهم بروح منه ويدخلهم جنت تجرى من تحتها الانهر خلدين فيها رضى الله عنهم ورضوا عنه اولئك حزب الله الا ان حزب الله هم المفلحون.

অর্থ: “যাঁরা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও পরকালে বিশ্বাস করে, উনাদেরকে আপনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না। যদিও উনারা উনাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জাতি-গোষ্ঠী হয়। উনাদের অন্তরে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং উনাদেরকে শক্তিশালী করেছেন উনার অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি উনাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। উনারা তথায় চিরকাল থাকবেন। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট। উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার দল। জেনে রাখুন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দলই সফলকাম।

এই সকল আয়াত শরীফ থেকে ইহা পরিস্কার বুঝা যায় যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সুসংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং বিশ্বাসীদের জন্য। অভিব্যক্তি “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম” কোন অমুসলিমদের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, যার প্রতি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট নয়। এই সুসংবাদে খারিজী ও কাফিরদের কোন অধিকার নাই। তাদের জন্য সংবাদ তারা জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামে থাকবে। এই পরিস্থিতিতে ইহা সম্ভব নয় যে, কোন একটি নীতি উদ্ভাবন করা যায় যাতে খারিজীরা ও ঐ লক্বব ব্যবহার করতে পারে। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন অবিশ্বাসীকে ক্ষমা করবেননা যদিও মুসলমানরা উনাদেরকে ক্ষমার জন্য দোয়া করে। সূরা-৯, আয়াত নং- ৮০, সূরা-৬৩, আয়াত- ৬ এবং সূরা-৯ আয়াত নং- ১১৪ দেখা যেতে পারে এবং নিম্নে উল্লেখ করা হল।” (অসমাপ্ত)

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী