মূল- হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তর- মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “একবার জিয়াউদ্দীন নামক মশহুর দার্শনিক ব্যক্তির নিকট থেকে আমি শ্রবণ করেছি, সে বললো, একদা আমি হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট গেলাম। আমার দৌঁড় জাহেরী বিদ্যার বাইরে ছিল না বিধায় শায়খের সামনে অন্তরে আমার এ ধারণা জন্মাল, হায়! শায়খ যদি আমাকে ইল্মে জাহেরর বহির্ভূত কোন প্রশ্ন করে বসেন তবে আমি কি জবাব দিব? যেই না মাত্র ধারণা করা ওমনি শায়খ জিজ্ঞেস করলেন, তানকীহ্ মুনাত্ব কাকে বলে? আহলে তাছাউফ পন্থীগণ তানকীহ্ মুনাত্ব-এর অর্থ ওজ্দ ও হালকে বুঝে থাকেন। যেহেতু প্রশ্নটি তার ইল্ম মোতাবিক ছিল তাই শায়খের প্রশ্ন শুনে তিনি খুশী হলেন এবং এর ভাল ও মন্দ দিকগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে দিলেন। হযরত বাবা ফরিদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি ৫৯ বছর অতিক্রম করার পর ৫ই মুর্হরম ৬৬৫ হিজরী সালে ইহধাম ত্যাগ করেন।
হেকায়েত ঃ ৫ই মুর্হরম তারিখের রাত্রিতে হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি খুব বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এশার নামায জামায়াতের সহিত আদায় করার পর তিনি বেহুশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর যখন হুশ ফিরে এলো তখন উপস্থিত মুরীদগণকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি এশার নামায আদায় করেছি?” তাঁরা বললো, “জী হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “ক্ষতি কি, আরেকবার আদায় করে নেই।” অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার এশার নামায আদায় করলেন। তারপর পুনরায় বেহুঁশ হয়ে গেলেন। যখন জ্ঞান ফিরে এলো, তিনি সামনে উপস্থিত লোকদের পূর্বের মত একই প্রশ্ন করলেন। তারা বললো, আপনি এর আগেও দু’বার এশার নামায আদায় করেছেন। তিনি বললেন, আরো একবার আদায় করে নেই পরে না জানি কি হয়। এভাবে তিনি তিন বার এশার নামায আদায় করলেন এবং নামাযের পর “ইয়া হাইয়্যূ, ইয়া ক্বাইয়ূম” বলতে বলতে তাঁর মাওলার নিকট চলে গেলেন। হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর অন্যান্য “মালফুজাত” যা সুলতানুল মাশায়েখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি লিপিবব্ধ করেছেন। যাতে বলা হয়েছে, ৪টি জিনিষের ব্যাপারে সাত শত মাশায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহিমকে সুওয়াল করা হলে তাঁরা প্রত্যেকবারই একটি উত্তর প্রদান করেছেন। (১) গুণাহ্র কাজ ছেড়ে দেয়াই হচ্ছে, অধিক বুদ্ধিমানের কাজ, (২) যে ব্যক্তি কোন কাজ ও বিষয়ে কোনরূপ অহংকার করে না সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক জ্ঞানী।
কানায়াত বা অল্পে তুষ্ট ব্যক্তিই সর্বাপেক্ষা অধিক ধনী। পক্ষান্তরে অল্পে অতুষ্ট ব্যক্তিই সর্বাপেক্ষা অধিক দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ। আরো লিখা আছে, আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে কোন বান্দা কিছু চাইলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন না।
আরো বর্ণিত আছে যে, “আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে কোন সুওয়ালকারী (কিছু) আরজু করলে আল্লাহ্ পাক তাকে (খালি হাতে) ফিরিয়ে দেন না।”
তিনি আরো বলেন, কিছু হওয়ার জন্য চিন্তা নেই এবং না হওয়ার জন্যও আফসুস নেই। আশা এবং নিরাশার মধ্যে থাকাই হচ্ছে, প্রকৃত খোদা প্রেমিকদের উন্নতির আলামত।
মানুষের কথার কারণে নিজের পরিশ্রম ছেড়ে দেয়া সমীচিন নয়। হযরত শায়খ জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কথা দিলের মধ্যে আছর করে। এ জন্য প্রত্যেক কথার শুরু এবং শেষ ফল কি তা ভাল করে পরীক্ষা করো। যদি সে কথা ও কাজ আল্লাহ্ পাক-এর জন্য হয় তবে তা কর, অন্যথায় চুপ থাক। দরবেশ যখন কোন নতুন কাপড় পরিধান করে তখন সে এটা মনে করে যে, সে কাফনের কাপড়ই পরিধান করলো।
সরকারে দো আলম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি মানুষের দোষ থেকে দূরে রইলো সে নেক বখ্ত ও খোশ নসীবওয়ালা।”
সূফী কোন জিনিসকে মুর্কারা এবং খারাপ করে না বরং সে প্রত্যেক জিনিসকে ঘষে-মেজে, পাক-ছাফ, মুনাক্কার মতো করে রাখে। তুমি যদি বড় বুযুর্গ হওয়ার বাসনা রাখ তবে হাকিমদের থেকে জুদা থাক। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার