তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম

সংখ্যা: ৮৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব, হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা

(ধারাবাহিক)

          উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুলুক্বিন আযীম হিসেবে কেবল নিজের মাঝেই সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্র মহিমা প্রকাশ করেননি বরং তিনি গোটা উম্মাহ্র প্রতি মহৎ চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার জন্য সর্বোতরূপে আহ্বান করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, সর্বোপরি নির্দেশ দিয়েছেন যা খুলুক্বিন আযীম হিসেবে তাঁর পূর্ণ সার্থকতা প্রকাশ করে।

          হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,

عن ابى الدرداء رضى الله عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال ما من شيئى اثقل فى مزان المؤمن يوم القيامة من حسن الخلق وان الله يبغض الفاحش البذى.

অর্থঃ- “সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “ক্বিয়ামতের দিন মু’মিন বান্দার আমল নামায় সচ্চরিত্রের চাইতে অধিকতর ভারী আর কোন আমলই হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ্ পাক অশ্লীলভাষী ও নিরর্থক বাক্য ব্যয়কারী বাচালকে ঘৃণা করেন।” (তিরমীযী শরীফ)

وعن ابى هريرة رضى الله عنه قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اكثر ما يدخل الناس الجنة قال تقوى الله وحسن الخلق وسئل عن اشر ما يدخل الناس النار فقال الفم والفرج.

অর্থঃ- “সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস (গুণ) অধিক পরিমাণ লোকদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেন, তাক্বওয়া বা আল্লাহ্ভীতি ও উত্তম চরিত্র। তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস অধিক পরিমাণ লোকদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান।” হাদীস শরীফখানা হাসান ও সহীহ্। (তিরমীযী শরীফ)

وعن عائشة رضى الله عنها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان المؤمن ليدرك بحسن خلقه درجة الصائم القائم.

অর্থঃ- “সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মু’মিন ব্যক্তি অবশ্যই তার সুন্দর স্বভাব ও উত্তম চরিত্র দ্বারা দিনে রোজা পালনকারী ও রাত জেগে ইবাদতকারীর মর্যাদা হাছিল করতে পারে।” (আবূ দাউদ শরীফ)

          আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন,

خذ العفو وامر بالعرف واعرض عن الجهلين.

অর্থঃ- “ক্ষমাশীলতা অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দান কর এবং মূর্খ লোকদের এড়িয়ে চলো।” (সূরা আ’রাফ/১৯৯)

          আল্লাহ্ পাক আরো এরশাদ করেন,

ولاتستوى الحسنة ولا السيئة ادفع بالتى هى احسن فاذا الذى بينك وبينه عداوة كانه ولى حميم ومايلقاها الا الذين صبروا وما يلقها الا ذو حظ عظيم.

অর্থঃ- “ভালো ও মন্দ বরাবর নয়। তুমি ভাল দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করো। ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে তোমার পরম বন্ধুর মতো। আর এহেন সুফল তার ভাগ্যেই জোটে, যে ধৈয্য ও সহনশীলতার অধিকারী এবং যে বিরাট সৌভাগ্যশালী।” (সূরা হা-মী-ম সিজদাহ্/৩৪-৩৫)

   (অসমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন:       খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

তাফসীরুল কুরআন : ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত