তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِىْ الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَـلْيَـفْرَحُوْا هُوَ خَيْـرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ

(পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭, ৫৮)

তাফসীর: উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যমীনে পাঠানোর উদ্দেশ্য এবং যমীনবাসীর কর্তব্য সম্পর্কে বিশেষভাবে বর্ণনা করেছেন। আর উক্ত পুরো বিষয়টি যামনার সুমহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পবিত্র রাজারবাগ শরীফের মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি প্রকাশ করেছেন যে, উম্মতের কামিয়াবী হাছিলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আমল মুবারক দুটি। (এক) যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আমল মুবারক অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ। (দুই) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল মুবারক অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক।

প্রকাশ থাকে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে উনার উম্মতকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন। কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান এনে কায়িনাতবাসী তথা উম্মত মু’মিন-মুসলমান হবে এবং উনাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করবে, উনার পরিপূর্ণরূপে আনুগত্য বা অনুসরণ করবে, যথাসাধ্য খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিবে, যথাযথ সম্মান মুবারক করবে এবং দায়িমীভাবে ছানা-ছিফত মুবারক করবে। আর এটাই মূলত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ উনার ৮ ও ৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّاۤ أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرًا .لِتُـؤْمِنُـوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُـعَزِّرُوْهُ وَتُـوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّأَصِيْلًا

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি স্বাক্ষ্যদাতা বা হাযির-নাযির হিসেবে, সুসংবাদ দানকারী হিসেবে এবং সতর্ককারী হিসেবে। যাতে (বান্দা-বান্দী ও উম্মত) তোমরা ঈমান আনতে পারো মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। অতএব উনার তোমরা খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দাও এবং উনাকে সম্মান মুবারক করো এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অথার্ৎ সবসময়।

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবসময় বা দায়িমীভাবে ছানা-ছিফত মুবারক করার জন্য উনার প্রতি পবিত্র ছলাত মুবারক-সালাম মুবারক পেশ করতে হবে অথার্ৎ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে হবে। পাশাপাশি উনার সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে।

সুতরাং কেউ নামায পড়ুক, যাকাত আদায় করুক, রোযা রাখুক, হজ্জ পালন করুক, কুরবানী করুক, টুপি পরিধান করুক, পাগড়ী পরিধান করুক, রুমাল পরিধান করুক, কোর্তা পরিধান করুক, লুঙ্গি পরিধান করুক, খাবার গ্রহণ করুক, পানীয় গ্রহণ করুক, শয়ন করুক, চলা-ফেরা করুক, বিবাহ-শাদী করুক ইত্যাদি যে কোন বিষয়ে আমল করতে হলে তাকে অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে অথার্ৎ উনাকে আনুগত্য বা অনুসরণ করে করতে হবে। উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করলেই সে মহান আল্লাহ পাক উনার মহব্বত, ক্ষমা, অনুগ্রহ ও নিয়ামত মুবারক লাভে ধন্য হবে। সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন: বাহ্যিক ইবাদত কোন হক্কানী-রব্বানী, আল্লাহ্ ওয়ালা, পীর-দরবেশের সাথে ক্বালবী নিস্বত ক্বায়েম ব্যতীত মকবুল হওয়া সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন : বাহ্যিক ইবাদত কোন হক্কানী-রব্বানী, আল্লাহ্ ওয়ালা, পীর-দরবেশের সাথে ক্বালবী নিস্বত ক্বায়েম ব্যতীত মকবুল হওয়া সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম