মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩৯তম পর্ব)

সংখ্যা: ৩০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩.নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬.মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯.ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪.প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা

এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে র্ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮.নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০.শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) ২২.হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪.হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়ত উনার নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২২০তম সংখ্যা-চলমান), ৩৪. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৩৮-চলমান), ৩৫. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৪-২৮৬), ৩৬. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৫-চলমান), পেশ করার পাশাপাশি-

৩৭তম সম্মানিত ফতওয়া

মুবারক হিসেবে

‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক’ পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ

থেকে দলীল:

পূর্ব প্রকাশিতের পর

(৫)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইবনে খতাল ও তার দুই দাসীকে হত্যা করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

اَنَّ رَجُلًا كَانَ يَسُبُّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ مَنْ يَّكْفِيْـنِـىْ عَدُوِّىْ فَـقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَا فَـبَـعَثَهُ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَتَـلَهٗ

 ‘এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করতো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের মধ্যে কে আছেন যিনি আমার দুশমনকে হত্যা করতে পারবেন? তখন সাইফুল্লাহিল মাসলূল (মহান আল্লাহ পাক উনার উন্মুক্ত তরবারী মুবারক) হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি আরয করলেন, আমি আছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে প্রেরণ করেন। অতঃপর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি (তার নিকট গিয়ে) তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন’।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)

(৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ اَعْمٰى كَانَتْ لَهٗ اُمُّ وَلَدٍ تَشْتُمُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَـقَعُ فِـيْهِ فَـيَـنْـهَاهَا فَلَا تَـنْـتَهِىْ وَيَـزْجُرُهَا فَلَا تَـنْـزَجِرُ قَالَ فَـلَمَّا كَانَتْ ذَاتَ لَـيْـلَةٍ جَعَلَتْ تَـقَعُ فِـى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَشْتُمُهٗ فَاَخَذَ الْمِغْوَلَ فَـوَضَعَهٗ فِـىْ بَطْنِهَا وَاتَّكَاَ عَلَـيْـهَا فَـقَتَـلَهَا فَـوَقَعَ بَـيْـنَ رِجْلَـيْـهَا طِفْلٌ فَـلَطَّخَتْ مَا هُنَاكَ بِالدَّمِ فَـلَمَّا اَصْبَحَ ذُكِـرَ ذٰلِكَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَمَعَ النَّاسَ فَـقَالَ اَنْشُدُ اللهَ رَجُلًا فَـعَلَ مَا فَـعَلَ لِـىْ عَلَيْهِ حَقٌّ اِلَّا قَامَ فَـقَامَ الْاَعْمٰى يَــتَخَطَّى النَّاسَ وَهُوَ يَـتَـزَلْـزَلُ حَتّٰـى قَـعَدَ بَـيْـنَ يَدَىِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا صَاحِبُـهَا كَانَتْ تَشْتُمُكَ وَتَـقَعُ فِـيْكَ فَاَنْـهَاهَا فَلَا تَـنْـتَهِىْ وَاَزْجُرُهَا فَلَا تَـنْـزَجِرُ وَلِـىْ مِنْـهَا اِبْـنَانِ مِثْلُ اللُّؤْلُؤَتَـيْـنِ وَكَانَتْ بِـىْ رَفِـيْـقَةً فَـلَمَّا كَانَ الْـبَارِحَةَ جَعَلَتْ تَشْتُمُكَ وَتَـقَعُ فِـيْكَ فَاَخَذْتُ الْمِغْوَلَ فَـوَضَعْـتُهٗ فِـىْ بَطْنِهَا وَاتَّـكَاْتُ عَلَـيْـهَا حَتّٰـى قَـتَـلْـتُـهَا فَـقَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلَا اِشْهَدُوْا اَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই একজন দৃষ্টিহীন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার একটি ‘উম্মু ওয়ালাদ’ ক্রীতদাসী ছিলো। ঐ ক্রীতদাসীটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিতো এবং উনার সম্পর্কে মন্দ কথা বলতো। ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সে বিরত হতো না। তিনি তাকে ধমক দিতেন, গম্ভিরভাবে সতর্ক করতেন; কিন্তু তাতেও সে বিরত হতো না। এক রাতে সে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিতে শুরু করলো এবং উনার সম্পর্কে মন্দ কথা বলতে লাগলো, তখন ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে তাতে চাপ দিয়ে তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিলেন। তার দু’ পায়ের মাঝখানে একটি শিশু পতিত হয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো। ভোরবেলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘটনাটি অবহিত হয়ে লোকজনকে সমবেত করে ইরশাদ মুবারক করেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম করে বলছি- যে ব্যক্তি এই কাজ করেছেন, তিনি যেন দাঁড়ান কারণ উনার উপর আমার কর্তৃত্ব রয়েছে। এই কথা মুবারক শুনে ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মানুষের ভিড় ঠেলে কাঁপতে কাঁপতে সামনে অগ্রসর হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে এসে বসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি সেই নিহত দাসীর মনিব। সে আপনাকে গালাগালি করতো এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলতো। আমি নিষেধ করতাম; কিন্তু সে বিরত হতো না। আমি তাকে ধমক দিতাম; কিন্তু সে তাতেও বিরত হতো না। তার গর্ভজাত মুক্তার মতো আমার দুইজন ছেলে রয়েছেন, আর সে আমার খুব প্রিয় ছিলো। গত রাতে সে আপনাকে গালাগালি শুরু করে এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলে। আমি তখন একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে স্থাপন করে তাতে চাপ দিয়ে তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اَلَا اِشْهَدُوْا اَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ

 ‘সাবধান! আপনারা সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই ঐ দাসীর রক্তের কোনো বিনিময় নেই। অর্থাৎ ঐ দাসীর শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সেটাই তাকে এই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি দিয়েছেন। (কাজেই, এজন্য এই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে কোনো রক্তপণ দিতে হবে না। তিনি যা করেছেন সঠিকই করেছেন। এজন্য উনাকে কোনো রকম দোষারোপ করা তো যাবেই না; বরং উক্ত আমলের জন্য উনার প্রশংসা করতে হবে।)” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, দারাকুত্বনী ৪/১১৭, আল মু’জামুল কাবীর ১০/৪৫, আল আহাদীছুল মুখতারাহ্ লিল মাক্বদিসী ১২/১৫৭, মা‘আলিমুস সুনান ৩/২৯৫, সুবুলুস সালাম ৩/২৬৬, নাইলুল আওত্বার ৭/২২৩, আল বাদরুত তামাম ৮/৫১৩, আহকামু আহলিয যিম্মাহ্ ৩/১৪০২, ইমতাউল আসমা’ ১৪/৩৭১-৩৭২, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৯/২১২, তাফসীরে কুরতুবী ৮/৮৩-৮৪, যখীরতুল উক্ববা ৩২/২০ ইত্যাদি)

আবূ দাঊদ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘বাযলুল মাজহূদে’ বলা হয়েছে,

اَلَا اِشْهَدُوْا اَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ اَىْ سَاقِطٌ

অর্থ: “সাবধান! আপনারা সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই ঐ দাসীর রক্তের কোনো বিনিময় নেই। অর্থাৎ তার রক্তের কোনো প্রতিশোধ বা ক্বিছাছ নেই; এটা হালাল গণ্য হয়েছে।” (বাযলূল মাজহূদ ১২/৪২৬)

(৭)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُـؤْمِنُـوْنَ حَتّٰـى يُـحَكِّمُوْكَ فِـيْمَا شَجَرَ بَـيْـنَـهُمْ ثُـمَّ لَا يَـجِدُوْا فِـىْۤ اَنْـفُسِهِمْ حَرَجًا مِـمَّا قَضَـيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِـيْمًا

অর্থ: “আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তারা কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের সমস্ত বিষয়ে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। (এবং আপনার ফয়সালা সম্পর্কে) তাদের অন্তরে কোনোরূপ সংকীর্ণতা অনুভব করবে না। অতঃপর তারা আপনার ফয়সালাকে বিনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মানার মতো মেনে না নিবে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৫)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযূল সম্পর্কে বলা হয়- এক ব্যক্তির নাম ছিল বিশর। সে মুসলমান দাবি করতো, হাক্বীক্বত সে ছিল মুনাফিক্ব। এই মুনাফিক্ব বিশরের সাথে এক ইহুদীর গণ্ডগোল হয়ে যায়। যখন গণ্ডগোল হয়ে গেলো, তখন মুনাফিক্ব বিশরকে ইহুদী বললো, ‘হে বিশর! এটার বিচার বা ফয়সালা করতে হবে।’ কে বিচার করবেন? ইহুদী বললো, ‘তোমাদের যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, যিনি আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করবেন।’ মুনাফিক্ব বিশর মনে মনে চিন্তা করলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি বিচার করেন, উনি তো হক্ব বিচার করবেন, যেহেতু বিশর না হক্ব, ইহুদীর পক্ষে রায় চলে যাবে। তখন মুনাফিক্ব বিশর বললো যে, কেন; তোমাদের যে বিচারক- কা’ব ইবনে আশরাফ অথবা আবূ রফে ইহুদী রয়েছে, তাদের কাছে চলো বিচারের জন্য। কিন্তু ইহুদী ব্যক্তি জানতো যে, কা’ব ইবনে আশরাফ অথবা আবূ রফে যদি বিচার করে, তাহলে তারা মুনাফিক্বী করবে, হেরফের করবে, তারা ঘুষ খেয়ে পক্ষপাতিত্ব করবে। কারণ, পূর্বেও তারা এমন অনেক করেছে যার নযীর রয়েছে। তখন সেই ইহুদী অস্বীকার করে বললো- ‘না; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করবেন।’ সেই ইহুদী এই কথা বলে মুনাফিক্ব বিশরকে বুঝিয়ে নিয়ে গেল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। বিচার হয়ে গেল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করলেন। রায় পড়লো ইহুদীর পক্ষে আর মুনাফিক্ব বিশরের বিরুদ্ধে। মুনাফিক্ব বিশর সেখানে তা বাহ্যিকভাবে মেনে নিলেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দরবার শরীফ থেকে বের হয়ে বললো- ‘বিচারটা আমার মনপুতঃ হয়নি।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! ইহুদী বললো, ‘হে বিশর! তুমি বলো কি? তোমাদের যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, যিনি আল আমীন উনার বিচার তোমার মনপুতঃ হয়নি? তাহলে তুমি কার বিচার মানবে?’ সেই যামানায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিচার করতেন। মুনাফিক্ব বিশর সে মনে করলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খুব জালালী তবীয়ত মুবারক। উনার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

اَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ

‘অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কাফিরদের প্রতি কঠোর।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)

তিনি হয়তো আমার পক্ষেই রায় দিবেন এবং ইহুদী কাফির তার বিপক্ষে রায় দিবেন। মুনাফিক্ব বিশর সে ইহুদীকে নিয়ে গেল সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার কাছে বিচারের জন্য। ইহুদী খুব চতুর ছিলো। তাই, সে বিষয়টা বুঝতে পেরে যাওয়া মাত্রই বললো, ‘হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! এই বিশর আমাকে নিয়ে এসেছে আপনার কাছে বিচারের জন্য; অথচ আমরা এই মাত্র সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দরবার শরীফ থেকে আসলাম। তিনি নিজে বিচার করে দিয়েছেন। রায় আমার পক্ষে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশর সেই বিচার মানতে নারাজ। সেজন্য সে আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছে পুনরায় বিচার করার জন্য।’ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একথা শুনে বললেন, ‘ঠিক আছে। তোমরা বসো, আমি তোমাদের বিচার করবো। উনি ঘরে প্রবেশ করলেন, ঘরে প্রবেশ করে সবচেয়ে ধারালো একটা তরবারী নিয়ে আসলেন। তরবারী এনে মুনাফিক্ব বিশরকে এক কোপে দু’ভাগ করে দিলেন। মুনাফিক্ব বিশরের দেহ থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে গেলো এবং বিকট আওয়াজ হলো। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘এটাই তোর বিচার। কারণ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই বিচার করেছেন, সেটা তুই মানিসনি। তোর একমাত্র শরঈ শাস্তি ও বিচার হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।’

অন্য বর্ণনায় রয়েছেন,

فَضَرَبَ بِهِ الْمُنَافِقَ حَتّٰى بَـرُدَ وَقَالَ هٰكَذَا اَقْضِىْ بَـيْنَ مَنْ لَـمْ يَـرْضَ بِقَضَاءِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَرَبَ الْـيَـهُوْدِىُّ

“তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তরবারী দ্বারা মুনাফিক্ব বিশরকে আঘাত করেন, সে মারা যায়। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফয়সালা মুবারক যারা মানে না, তাদের বিচার আমি এভাবেই করে থাকি। সুবহানাল্লাহ! তখন ইহুদীটি পালিয়ে যায়।”

যখন উনি মুনাফিক্ব বিশরকে হত্যা করে ফেললেন, তখন মুনাফিক্ব বিশরের আত্মীয়-স্বজন যারা ছিলো তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গিয়ে বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে আপনি বিচারের দায়িত্ব দিয়েছেন। উনি একজন মুসলমানকে হত্যা করে ফেলেছেন।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘এটা কি করে সম্ভব? সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তো খাছ ব্যক্তিত্ব মুবারক-

لَوْ كَانَ بَـعْدِىْ نَبِـىُّ لَكَانَ حَضْرَتْ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: “আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নবী হতেন।” সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, উনার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। ঠিক আছে; উনাকে ডাকা হোক।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে আনা হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি নাকি একজন মুসলমানকে হত্যা করেছেন?’ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মূলত, আমি কোনো মুসলমানকে হত্যা করিনি; বরং একজন মুনাফিক্বকে শরঈ বিচার অনুযায়ী তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি। সে মুনাফিক্ব ছিলো। কারণ, আপনি যেই বিচার মুবারক করেছিলেন, সেই বিচার মুবারক সে মানেনি। সেজন্য আমি তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি।’ তখন বিশরের আত্মীয়রা বললো, ‘সে যে মুনাফিক্ব ছিলো তার সাক্ষী কোথায়?’ তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! ইসলামে সাক্ষী ছাড়া কোনো কথা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি চুপ করে রইলেন। সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজে সাক্ষী হয়ে সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে জানিয়ে দিলেন-

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُـؤْمِنُـوْنَ حَتّٰـى يُـحَكِّمُوْكَ فِـيْمَا شَجَرَ بَـيْـنَـهُمْ ثُـمَّ لَا يَـجِدُوْا فِـىۤ اَنْـفُسِهِمْ حَرَجًا مِـمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِـيْمًا

অর্থ: “আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তারা কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের সমস্ত বিষয়ে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। (এবং আপনার ফয়সালা সম্পর্কে) তাদের অন্তরে কোনোরূপ সংকীর্ণতা অনুভব করবে না। অতঃপর তারা আপনার ফয়সালাকে বিনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মানার মতো মেনে না নিবে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৫)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যারা শত্রুতা করবে অথবা যারা উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়সালা। সম্মানিত খিলাফত মুবারক ক্বায়েম থাকলে তা অবশ্যই জারী করতে হবে।

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (শেষ পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪১)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬৬তম পর্ব)