(৩৪তম ফতওয়া হিসেবে)
“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক= ১৬খানা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ= ৩০খানা
১. ক) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম:
সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন। তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৭৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পূর্বে পবিত্র ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত কুরাইশ বংশে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম) এবং উনার মহাসম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম।
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ২৫ বছর বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হন। অতঃপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ২ মাস ১০ দিন পূর্বে মহাসম্মানিত ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বরকতময় দীদারী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিত রওযা শরীফ ‘সম্মানিত আবওয়া শরীফ’ নামক স্থানে অবস্থিত। তিনি দ্বীনে হানীফ উনার উপর ছিলেন। তিনি দুনিয়ার যমীনে ২৫ বছর ৬ মাস অবস্থান মুবারক করেন।
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন। তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৭২ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ৫ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুল জুমু‘আহ্ শরীফ বা’দ ফজর সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত কুরাইশ গোত্র উনার বিশেষ শাখা সম্মানিত যুহরা গোত্রে মহাসম্মানিত মহপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত বার্রাহ আলাইহাস সালাম তিনি। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী দৃষ্টিতে মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১৮ বছর ৩ মাস ২৫ দিন।
তিনি ২৫ বছর বয়স মুবারক-এ সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার আবওয়া নামক স্থানে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফ) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) সকাল ৯-১০ টার দিকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বরকতময় দীদারী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৬ বছর। সম্মানিত আবওয়া শরীফ নামক স্থানেই উনার সম্মানিত রওযা শরীফ।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَـرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَـقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّـبُـوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَـيْتِ الرَّحْـمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খেদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ অর্থাৎ বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহ্তাজ এবং উনাদের সম্মানার্থে উনারা সম্মানিত এবং উনাদের প্রতিই উনারা দায়েমীভাবে রুজু। ফলে, উনারা সমস্ত কিছু থেকেই বেনিয়াজ এবং কায়িনাতের সকলেই উনাদের মুহ্তাজ। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উনারা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলিম উনার খনি মুবারক ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ অর্থাৎ বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! তাহলে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
আর সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে প্রথম স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। যা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! তবে এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি অতি বিস্ময়কর বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
كَانَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ اَحْسَنَ رَجُلٍ رُؤِىَ قَطُّ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৪১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
اَنَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ كَانَ يُـرٰى بَـيْـنَ عَـيْـنَـيْهِ نُـوْرُ النُّـبُـوَّةِ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৩৪)
তিনি এতো অধিক বেমেছাল বিস্ময়কর সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন যে, মহিলারা উনাকে দেখে উনার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তো এবং বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাদের আক্বল-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যেতো। তারা বেকারার পেরেশান হয়ে যেতো এবং উনাকে পাওয়ার জন্য, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য সর্বপ্রকার কৌশল অবলম্বন করতো।
এই জন্য তারা তাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু; এমনকি নিজের জীবন কুরবান করে দিতেও প্রস্তুত ছিলো। এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে,
سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِاَنَّهٗ كَانَ يَـتَلَاْلَاُ نُـوْرًا فِـىْ قُـرَيْشٍ وَّكَانَ اَجْـمَلَهُمْ فَشَغَفَتْ بِهٖ نِسَاؤُهُمْ وَكِدْنَ اَنْ تَذْهَلَ عُقُوْلُـهُنَّ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে মহাসম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বলজ্বল করতেন এবং তিনি ছিলেন সম্মানিত কুরাইশ অর্থাৎ সমগ্র কায়িনাতবাসীর মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! ফলে, সম্মানিত কুরাইশী মহিলাগণ উনারা উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ অত্যন্ত কঠিনভাবে গরক্ব ছিলেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে সম্মানিত কুরাইশী মহিলাগণ উনাদের আক্বল-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যেতো। উনারা বেকারার পেরেশান হয়ে যেতেন এবং উনাকে পাওয়ার জন্য, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতেন।” (শরহুয যারক্বানী ‘আলা মাওয়াহিব ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২)
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কতো বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে ‘মাদারেজুন নুবুওওয়াত শরীফ’ উনার বরাতে উল্লেখ রয়েছেন,
اِنَّهٗ لَمَّا كَانَ صِيْتُ حُسْنِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَجَـمَالِهٖ مُشْتَهِرًا وَّقِصَّةُ الذَّبْحِ وَالْفِدَاءِ صَارَ سَبَبُ زِيَادَةِ اشْتِهَارِهٖ فِـى الدَّرَجَةِ الْقُصْوٰى فَصَارَتْ نِسَاءُ الْقُرَيْشِ عَاشِقَاتٍ لِّـجَمَالـِهِ الْاَكْمَالِ وَطَالِـبَاتٍ لِّوِصَالِـهِ الْاَحْلـٰى حَتّٰـى كُنَّ يَـقُمْنَ عَلـٰى رَاْسِ سَبِيْـلِهٖ وَتَدْعُوْنَهٗ اِلـٰى اَنْـفُسِهِنَّ وَلٰكِنْ كَانَ يَـحْفَظُهُ اللهُ تَـعَالـٰى فِـىْ حِجَابِ الْعِفَّةِ وَالْعِصْمَةِ حِفْظًا
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, সর্বোত্তম গুণাবলী মুবারক এবং জামালিয়াত অর্থাৎ বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার সুখ্যাতি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ছিলো। উপরন্তু সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়ার ঘটনা মুবারক সারা দেশে প্রচার হয়ে উনাকে আরো বহুগুণে সুবিখ্যাত করে তুলেছিলো। তাই, সম্মানিত কুরাইশী মহিলাগণ উনারা উনার সম্মানিত পরিপূর্ণ সৌন্দর্য মুবারক-এ আশিকা হয়ে উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে উনার গন্তব্য পথের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং উনাকে নিজেদের দিকে আহ্বান জানাতেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক ও সম্মানিত ইছমত মুবারক উনাদের পর্দার আড়ালে সম্মানিত কুদরতী হিফাযত মুবারক-এ রেখে সম্মানিত ও পবিত্র থেকে পবিত্রতম অবস্থায় রেখেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আরবের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ সম্ভ্রান্তশীলা মহিলা উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অবলোকন করে আশিকাহ্ হয়ে উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হওয়ার জন্য বেকারার-পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং উনার নিকট সরাসরি এই ব্যাপারে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এই জন্য উনারা উনাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু; এমনকি নিজেদের জীবন কুরবান করে দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। উনারা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যখনই উনারা উনাকে দেখতেন, তখনই উনারা উনাদের প্রস্তাব পেশ করতেন, আরজি পেশ করতেন। ” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, সীরাতগ্রন্থগুলোতে এই বিষয়ে অনেক ঘটনা মুবারক উল্লেখ রয়েছেন। যেমন- ‘শারহুয যারক্বানী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,
قَالَ اَهْلُ السِّيَـرِ فَـلَقِىَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِـىْ زَمَنِهٖ مِنَ الـنِّـسَاءِ مَا لَقِىَ حَضْرَتْ يُـوْسُفُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِـىْ زَمَنِهٖ مِنِ امْرَاَةِ الْعَزِيْزِ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় মহিলা উনাদের কতৃর্ক তদ্রƒপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, যেরূপ পরিস্থির সম্মুখীন হয়েছিলেন হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় আযীযে মিছর উনার আহলিয়া অর্থাৎ হযরত যুলায়খা আলাইহাস সালাম উনার কতৃর্ক।” (শারহুয যারক্বানী ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে পাওয়ার জন্য তো শুধু একজন অর্থাৎ হযরত যুলায়খা আলাইহাস সালাম তিনি বেকারার পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি উনার সমস্ত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মহিলা বেকারার পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং উনারা উনাদের সমস্ত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এমনকি তৎকালীন তথাকথিত পরাশক্তি রোম-পারস্য শাসকদের পক্ষ থেকেও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাদের মেয়েদের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সৌন্দর্য মুবারক উনার সাথে অন্য কারো সৌন্দর্যের তুলনা হবে না। সুবহানাল্লাহ! তুলনা করাটা চরম আদবের খিলাফ হবে এবং কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ হবে। এখানে ঐ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানাই প্রযোজ্য, যেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ لَّا يُـقَاسُ بِنَا اَحَدٌ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববা ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)
আর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে প্রথম স্তর মুবারক-এ রয়েছেন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক এবং শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি।” সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
كَانَ سَيِّدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ اَحْسَنَ رَجُلٍ رُؤِىَ قَطُّ خَرَجَ يَـوْمًا عَلـٰى نِسَاءِ قُـرَيْشٍ مُّـجْتَمِعَاتٍ فَـقَالَتِ امْرَاَةٌ مِّنْـهُـنَّ اَيَّـتُكُنَّ تَـتَـزَوَّجُ بِـهٰذَا الْفَتٰـى فَـتَصْطَبُّ النُّـوْرَ الَّذِىْ بَـيْـنَ عَـيْـنَـيْهِ فاِنِّــىْ اَرٰى بَـيْـنَ عَـيْـنَـيْهِ نُـوْرًا وَفِـىْ رِوَايَةٍ وَكَانَ بَـيْـنَ عَـيْـنَـيْهِ نُـوْرٌ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। উনার মত এরূপ সুদর্শন পুরুষ (কায়িনাতে) কখনও দেখা যেতো না। সুবহানাল্লাহ! একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরাইশী মহিলা উনাদের একটি জমায়েতের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন উনাদের মধ্য হতে একজন মহিলা সবাইকে সম্বোধন করে বললেন, হে মহিলাগণ! আপনাদের মধ্যে কে আছেন, যিনি এই মহাসম্মানিত যুবক উনাকে মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করবেন? (আপনারা কি চান যে, এই মহাসম্মানিত যুবক তিনি আপনাদের কাউকে মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন?) অতঃপর উনার মহাসম্মানিত কপাল মুবারক উনার মধ্যে যেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক রয়েছেন, সেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনাকে ধারণ করবেন। কেননা, নিশ্চয়ই আমি উনার মহাসম্মানিত কপাল মুবারক-এ মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পাচ্ছি। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত কপাল মুবারক-এ তখন মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৩২৫, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ১/১৩৩, আবূ নাঈম, খছায়িছুল কুবরা ১/৭১, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ ৫/৩১৩ ইত্যাদি)
মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত কপাল মুবারক-এ দায়িমীভাবে ‘মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে দেখা যেতেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে এই ‘মহাসম্মানিত নূর মুবারক’ লাভ করার জন্য আরবের সকল সম্ভ্রান্তশীলা মহিলাগণ উনারা উনাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু; এমনকি নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ (শাদী মুবারক-এ) আবদ্ধ হওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। অসংখ্য মহিলাগণ উনারা ধন-সম্পদের দোহাই দিয়ে সরাসরি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।
কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া