(ধারাবাহিক)
ঐসব জ্ঞান ওলামায়ে “ছু”দের স্মরণে আল্লামা ইকবাল কত উত্তম বলেছেন, “ধর্ম শুধু কিতাবসমূহে তালাশ করোনা। কিতাবসমূহ দ্বারা শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জিত হয়। আর দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা অর্জিত হয় কামিল ব্যক্তির কৃপা দৃষ্টিতে। নিজের শরীরকে কিমা করে নাও, এভাবে যে কোন কামিল ব্যক্তির খানকা শরীফে চুমো দাও।”
যদি কুরআন শরীফের অনুবাদ পড়ে নিলেই দ্বীন অর্জিত হতো, তাহলে আবু জেহেল, আবু লাহাব, ইবলিস ও গিরিশ চন্দ্র সেন প্রথম শ্রেণীর ঈমানদার হতো। কারণ তারা অনুবাদ জানতো। শুধু নবীয়ে করীম, রউফুর রহীম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে ফয়েজ বা আত্মিক আকর্ষণ হাছিল না করায় তারা ধ্বংস হয়েছে।
নবী আলাইহিমুস্ সালামগণ পাক-পবিত্র, চির মা’ছূম হওয়া সত্ত্বেও উম্মতকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ পাক-এর মহান দরবারে নেককারদের সঙ্গলাভের জন্য কিরূপ দুয়া করেছেন দেখুন, হযরত ইউসুফ আলাইহিস্ সালাম-এর দু’য়া-
انت ولى فى الدنيا والاخرة توفنى مسلما والحقنى بالصالحين.
অর্থঃ- “আয় বারে খোদা! আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে নেককারদের সাথে মিলিত করুন।” (সূরা ইউসুফ/১০১)
হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম-এরপবিত্র উচ্চারণ-
وادخلنى برحمتك فى عبادك الصالحين.
অর্থঃ- “ইয়া মাওলা! আমাকে নিজ অনুগ্রহে আপনার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করুন। (সূরা নমল/১৯)
হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম-এর প্রাণঢালা আকুতি- رب هب لى حكما والحقنى بالصالحين.
অর্থঃ- “ইয়া রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভূক্ত করুন।” (সূরা শুআ’রা/৮৩)
ওলীকুল শিরমণি হযরত শায়খ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “ইয়া মা’বুদ! হযরত ফাতিমা রদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা-এর আওলাদগণের উসীলায় আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ ঈমানের সাথে হোক। তিনি আরো বলেন, “শুনেছি যে, ক্বিয়ামত দিবসে পূণ্যবানদের উসীলায় পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা গুণাহ্গারদের মাফ করে দিবেন।”
একজন ওলীআল্লাহ্ বলেন, প্রথম শ্রেণীর বগী হয়েও যদি ইঞ্জিনের সাথে সংযুক্ত না থাকে, তাহলে তা বেকার-মূল্যহীন। আর যদি তৃতীয় শ্রেণীর বগী বা মালগাড়ীও হয় আর ইঞ্জিন তথা পাওয়ারের সাথে লেগে থাকে, তাহলে তার মূল্য অনেক বেশী এবং ঐ বগী তার গন্তব্য স্থানে পৌঁছে যাবে। ঠিক তেমনি নামাজী, গাজী, হাজী যাই হোক না কেন নবী আলাইহিমুস্ সালাম-এর কদম মোবারক-এর সাথে প্রণয়ের তারে আবদ্ধ না হলে সে মরদুদ। যেমন, ইবলিস। সে হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর দামান মোবারক ত্যাগ করার কারণে কাফির হয়ে চির জাহান্নামী হয়েছে। আর আকরামা ইবনে আবূ জেহেল-এর সৌভাগ্য দেখুন, তিনি নবীয়ে দু’জাহান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দামান মোবারক ধরে দুনিয়াতেই ‘রদিয়াল্লাহু আনহু’ হয়ে গেলেন আর আখেরাতে যা পাবেন তাও দুনিয়াবাসী দেখবে বৈকি! অন্য কথায়, সঙ্গ লাভই ইসলাম তথা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই হলেন ইসলাম। এবং তাঁর মুহব্বত ও সুন্নতের অনুসরণেই উম্মত হওয়া যায়। এমনকি জান্নাতও নসীব হয়। তবে সঙ্গলাভের তিনটি উপায় আছে। যথা- (১) দৈহিক, (২) মানসিক ও (৩) আত্মিক।
দরবেশদের মজলিসে বসা দৈহিক হাজিরী, তাঁদেরকে মুহব্বত করা আন্তরিক বা মানসিক সঙ্গ লাভ এবং তাঁদের আক্বীদা-আমল অনুসরণ করাকে আত্মীক বা রূহানী নিসবত বলে। এই তিনটি একত্রে লাভ হলেতো সোনায় সোহাগা। অন্যথায় দ্বিতীয় তৃতীয় অর্থাৎ আন্তরিক ও আত্মীক সঙ্গ ব্যতীত দৈহিক সাহচার্যের কোনই মূল্য নেই। আবূ জেহেল দৈহিকভাবে নিকটে আর ওয়ায়েসাল র্কণী রহমতুল্লাহি আলাইহি দূরে ছিলেন। কিন্তু ক্বলবী মোয়ামেলা বা সম্পর্ক ছিল বিপরীত। ফলে আবূ জেহেল মরদুদ আর ওয়ায়েসাল র্কণী রহমতুল্লাহি আলাইহি মাহবুব হয়েছেন।
মোটকথা, সত্যবাদীদের সাথে থাক বা তাঁদের সঙ্গী হও। এই ভাবে যে, আপন হৃদয় তাঁকে দিয়ে দাও। যেভাবে হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাত মোবারকে তুলে দিয়েছিলেন এবং কামিয়াব হয়েছিলেন।
তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল
তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল