(বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)
ইমামুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম উনার শান মুবারকে সুসংবাদ (৬)
ইমাম হযরত মুসাদ্দাদ ইবনে আব্দির রহমান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি একবার রুকনে ইয়ামানী ও মাকাম ইবরাহীম উনার মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, একজন বুযুর্গ ব্যক্তি এসে আমাকে বলছেন, আপনি এ স্থানে ঘুমিয়ে আছেন? অথচ এটা এমন স্থান যেখানে দোয়া করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তা অবশ্যই কবুল করে নেন। আমি খুব তাড়াতাড়ি ঘুম হতে উঠে গুরুত্ব এবং আদব সহকারে মুসলমানগণের জন্য দোয়া করতে লাগলাম। দোয়া করতে করতেই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। তখন স্বপ্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক আমার নসীব হলো।
আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!! কুফার অধিবাসী হযরত নু’মান রহমাতুল্লাহি আলাইহি নামক লোকটি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন? আমি কী উনার থেকে দ্বীনি ইলম অর্জন করব? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, উনার থেকে ইলম অর্জন করুন এবং সে অনুযায়ী আমল করুন। কেননা তিনি অনেক ভাল লোক।
আমি যখন ঘুম হতে উঠলাম, তখন ফজরের আযান হয়ে গেল। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! ইতোপূর্বে ইমাম আ’যম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে আমি সবচেয়ে খারাপ লোক মনে করতাম। নাঊযুবিল্লাহ! উনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতাম। এ কারণে এখন আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (আত্ তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ Ñ১/৪৬)
ইমাম তকীউদ্দীন ইবনে আব্দিল কাদীর আত্ তামীমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে অনেক সুসংবাদের বর্ণনা দিয়েছেন। পবিশেষে একথাও উল্লেখ করেছেন যে, ইমামুল মুহাদ্দিছীন ইমাম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার শান মুবারকে ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিমগণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে এমন অনেক সুসংবাদ রয়েছে। তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ছহীহ সমঝ দান করবেন, তার জন্য এ সামান্য পরিমাণ সুসংবাদই যথেষ্ট। (আত্ তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ ১/৪৬)
ইমামুল মুহাদ্দিছীন ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে অসদাচরণকারী ব্যক্তি ছোট্ট শিয়া
সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত
যে সকল ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার দাবি করে অথচ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরোধিতা করে, উনাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং উনাদের মুবারক শানের খিলাফ কথা বলে, বেয়াদবি করে তাদেরকে বড় শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়। আর যারা ইমামুল মুহাদ্দিছীন ইমাম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার মুকাল্লিদ কিংবা অনুসরণীয় ইমাম মুজতাহিদগণের বিরোধিতা করে এবং উনাদের মুবারক শানে বেয়াদবি করে তাদেরকে বলা হয় ছোট্ট শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্বয়ং লা-মাযহাবীদের কাছে বরেণ্য ব্যক্তিত্ব- নযীর হুসাইন দেহলভীও এমনি বলেছে। সে সম্মানিত দ্বীন ইসলামের ইমাম-মুজতাহিদগণের সাথে বেয়াদবিমূলক আচরণকারীদেরকে ছোট্ট শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভক্ত বলেছে। (ইমাম আযম আবূ হানীফা কা মুহাদ্দিসানা মাকাম- ৫২ পৃষ্টা)
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৭৭
সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
নছীহত মুবারক (৪)
৮. সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একদিন আমি ফখরুল আরিফীন, তাজুল আশিকীন, মাহবূবে রহমান খাজা হযরত উসমান হারূনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমত মুবারকে উপস্থিত ছিলাম। একব্যক্তি উনার পবিত্র দরবার শরীফে আসলেন। নিবেদন করলেন, হুযূর বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আমি অনেক ইলিম হাছিল করেছি। পবিত্র মারিফাত মুহব্বত হাছিলের জন্য অনেক রিয়াদ্বত-মাশাক্কাতও করেছি। কোন উদ্দেশ্য হাছিল হয়নি। আমি মনজিলে মাকছূদে পৌঁছতে পারিনি।
সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান হারূনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে ব্যক্তি! তোমাকে শুধু একটি বিষয়ের উপর আমল করতে হবে। তাহলে তুমি যেমন আলিম হবে তেমনি যাহিদ ও শাহিদ হতে পারবে। যাহিদ ও শাহিদ হতে পারবে।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
حُبُّ الدُّنْـيَا رَأْسُ كُلُّ خَطِيْـئَةٌ وَتَـرْكُ الدُّنْـيَا رَأْسُ كُلِّ اِطَاعَةٌ ـ
অর্থ: দুনিয়ার মুহব্বত সকল পাপের মূল। আর দুনিয়ার মুহব্বত তরক করা ইবাদতের মূল। (বায়হাকী শরীফ)
যদি তুমি পবিত্র হাদীস শরীফ খানার উপর আমল করতঃ ইস্তিকামাত (অবিচল) থাকতে পারো তাহলে তোমার আর কোন ইলিম হাছিলের প্রয়োজন নেই।
জেনে রেখ! ইলিম হাছিল করা সহজ কিন্তু ইলিম অনুযায়ী আমল করা কঠিন। মনে রেখ! তরক বা পরিত্যাগ যতক্ষণ পর্যন্ত হাছিল না হবে সে পর্যন্ত মুহব্বতের দরজা বা স্তর কামিল বা পূর্ণ হবেনা। আর মুহব্বত তখনই অর্জিত হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার হিদায়েত দান করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হিদায়েত ব্যতিত মাকছুদ হাছিল হতে পারেনা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يَّـهْدِ اللهُ فَـهُوَ الْـمُهْتَدٌ ـ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত দান করেন সেই হিদায়েত লাভ করে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭)
কাজেই সকলের উচিত মহান আল্লাহ পাক উনাকেই ধারণ করতঃ ইস্তিকামাত বা অটল থাকা। নিজের মূল্যবান সময়কে দুনিয়াবী খাহেশাত (অবৈধ কামনা-বাসনা) পূর্ণ করার জন্য নষ্ট না করা। বরং সময়কে গণিমত বা মূল্যবান মনে করে যিকির-ফিকির ইবাদত-বন্দেগীতে অতিবাহিত করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّـنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَـقَامُوا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থ: যারা বলেন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার রব তা’য়ালা। অতঃপর এই আকিদা বা বিশ্বাসের উপর ইস্তিকামাত বা অটল থাকে তাদের কোন ভয় নেই আর তাদের কোন চিন্তা- পেরেশানও থাকবেনা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহকাফ শরীফ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-৪৬
ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯২