কাদিয়ানী

সংখ্যা: ৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

কাদিয়ানী রদ! (১)

(পঞ্চম ভাগ)

          (মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরতুল আল্লামা মাওলানা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।

(ধারাবাহিক)

          সৎবচনের হাশিয়া’ ১৬৪ পৃষ্ঠাঃ-

 উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

‘‘হাঁ, শাত দেশে হজরত ইছা (আঃ) -এর কবরের পূজা হইতেছে এবং নির্দিষ্ট তারিখ সমূহে সন সন সহস্র সহস্র খৃষ্টান সেই কবরের নিকট সমবেত হইয়া থাকেন।’’

‘রাজে হকিকত’ ৯ পৃষ্ঠা:

 উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

‘‘হজরত মছিহ আলাইহিস্ সালাম ক্রুশের ঘটনা হইতে উদ্ধার পাইয়া নিশ্চয় হিন্দুস্তানে যাত্রা করিয়াছিলেন, নেপাল হইয়া শেষে তিব্বত পর্য্যন্ত পৌঁছিয়াছিলেন, তৎপরে কাশ্মীরে কিছুদিন অবস্থিতি করিয়াছিলেন, অবশেষে ১২০ বৎসর বয়সে শ্রীনগরে এন্তেকাল করিয়াছিলেন এবং ‘খানইয়ার’ নামক পল্লীতে মদফূন হইয়াছিলেন।’’

‘এতমামোল-হুজ্জাৎ’ ২০ পৃষ্ঠা:

وقبره فى بلدة القدس والى الان موجود وهنالك كنيسة وهى اكبر الكنائس من كنائس النصارى وداخلها قبر عيسى عليه السلام.

‘‘তাঁহার (হজরত ইছার) কবর বয়তোল-মোকাদ্দছে হইয়াছিল, এখনও তথায় উহা বর্ত্তমান আছে, তথায় একটী গির্জ্জা ঘর আছে, উহা খ্রীষ্টানদিগের শ্রেষ্ঠতম গির্জ্জা ঘর, উহার মধ্যে ইছা আলাইহিস্ সালাম-এর কবর আছে।’’

          মির্জ্জা ছাহেবের চারিটী ভিন্ন ভিন্ন মতের মধ্যে কোনটী সত্য? হজরত ইছা আলাইহিস্ সালাম-এর কবর কি চারিস্থানে হইয়াছে? এইরূপ ভিন্ন ভিন্ন মত কি এলহামি কথা হইতে পারে? ইহা মস্তিষ্কের বিকার নহে কি?

(৫) শিখ সম্প্রদায়ের গুরু নানক ছাহেবের লম্বা পিরহান সম্বন্ধে মতান্তর ঃ-

          শিখ সম্প্রদায়ের প্রথম গুরু নানক ছিলেন, শিখদিগের তাঁহার স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ একটী লম্বা পিরহান আছে, উহাতে কলেমায়-তাইয়েবা, কলেমায়-শাহাদত, বিছমিল্লাহে, ছুরা ফাতেহা, ছুরা এখলাছ, আয়তল-কুরছি ইত্যাদি কোর-আনের কতকগুলি আয়ত অঙ্কিত আছে। (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক

কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)

অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক

(ধারাবাহিক)

৪নং সূরার ৯৪ নং আয়াত

يايها الذين امنوا اذا ضربتم فى سبيل الله فتبينوا.

অর্থঃ- “হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন আল্লাহ্ পাক-এর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে তুমি মুসলমান নও। তোমরা পার্থিব জীবনের অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহ্ পাক-এর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরাও তো এমনি ছিলে পূর্বে’ অতঃপর আল্লাহ্ পাক তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক তোমাদের কাজ-কর্মের খবর রাখেন।”

          মিঃ মুজিবুর রহমানের সুওয়ালের জাওয়াব এই আয়াত শরীফেই আছে, فتبينوا (সত্যাসত্য যাচাই বা অনুসন্ধান) শব্দটি মুসলমানের মত প্রকাশ বা বলা যে এক আল্লাহ্ পাক ব্যতীত আর আল্লাহ্ নাই বা আযান দেয়া বা মসজিদের মত স্থানে ইবাদত করাকে মুসলমানই অনুমান করা কিন্তু এটা খন্ডনীয়, তার অর্থ যদি খন্ডনীয় প্রমাণ থাকে তবে তাকে মু’মিন বা মুসলমান বলা যাবে না।

          প্রফেসর তাহির আল কাদরী আস্থার সাথে উল্লেখ করেন, আল্লাহ্ পাক-এর কিতাবে নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাত এর উপর পার্থক্য বর্ণনা করেছেন, তিনি সূরা ২৫, ৪১, ৫, ৩৫, ৫৯, ৩৪, ৫৭, ৩২ এর ১, ৩৪, ১০০, ২২, ২০, ৪, ১০ এবং ১৮ নং আয়াত শরীফের উল্লেখ করেন। মুসলিম এবং মু’মিনদের সংজ্ঞা তাঁদের গুণসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।

          যেমন এটা অবাস্তব যে দুবৃত্তকে ন্যায়পরায়ণ বলা বা খারাপকে ভাল বলা, তেমনি কাফিরকে মুসলমান এবং মু’মিন বলা যাবে না। একটি সুবিদিত হাদীস হল, “যদি কোন মুসলমানকে কাফির বলা হয়, এবং তিনি যদি কাফির না হন, তবে কাফির ফতওয়া মিথ্যারোপকারীর উপরই বর্তাবে।” একজন অবিশ্বাসীকে কেন বিশ্বাসী বা মুসলমান বলা হবে? কোন কারণ নাই। যুক্তিটি সমালোচনার উর্ধ্বে।

          মিঃ মুজিবুর রহমান স্বীকার করে যে, আযান মুসলমানদের শেয়ার (চিহ্ন), কিন্তু যুক্তি দেখায় যে এটা কাদিয়ানীদেরও শেয়ার (চিহ্ন)। যেহেতু একই শেয়ার (চিহ্ন) উভয়ের মাঝে বিদ্যমান, বিষয়টি সূরা-৫ এবং ৩ যথাক্রমে ২নং এবং ৬৩ নং আয়াত শরীফ দ্বারা মীমাংসা যোগ্য। তা নিম্নরূপ-

সূরা ৫, আয়াত শরীফ ২,

يايها الذين امنوا لاتحلوا شعائر الله ولا الشهر الحرام ولا الهدى ……………..

অর্থঃ- “হে মু’মিনগণ! হালাল মনে করোনা আল্লাহ্ পাক-এর নিদর্শন সমূহ এবং সম্মানিত মাস সমূহকে এবং হেরেমে কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট জন্তুকে এবং ঐসব জন্তুকে, যাদের গলায় কক্তাভরণ রয়েছে এবং ঐসব লোককে যারা সম্মানিত গৃহাভিমূখে যাচ্ছে, যারা স্বীয় পালনকর্তার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। যখন তোমরা এহরাম থেকে বের হয়ে আস, তখন শিকার কর। যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করে ছিল, সেই সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকাজ ও খোদা ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। গুণাহ্ ও সীমা লঙ্খনের কাজে একে অন্যের সহযোগীতা করো না। আল্লাহ্ পাককে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক কঠোর শাস্তিদাতা।”

সূরা-৩, আয়াত শরীফ-৬৪,

قل ياهل الكتاب تعالوا الى كلمة سواء ……..

অর্থঃ- “বলুন, হে আহ্লে কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস, যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান যে আমরা আল্লাহ্ পাক ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবো না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করবো না এবং একমাত্র আল্লাহ্ পাককে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাবোনা। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে; তাহলে বলে দিন যে, সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।”  ইহা বলা যেতে পারে যে,

تعالوا الى كلمة سواء بيننا وبينكم.

শব্দগুলির অনুবাদে পিকথল বলেছেন, “আপনি আমাদের সাথে একটি সমঝোতায় আসুন।” (সূরা/ ৩, আয়াত- ৬৪)

          কিন্তু এই অনুবাদটি ঠিক নয়, যেহেতু এই আয়াত শরীফে কোন সমঝোতার কথা বলা হয়নি। উল্লেখ করা হয়েছে এরূপ কিছু যা আয়াত শরীফে আছে। মৌলানা ফতেহ মুহম্মদের উর্দু অনুবাদ যদিও সমালোচনার অতীত ইহা উপরোক্ত অনুবাদে প্রতিফলিত হয়েছে। (অসমাপ্ত)

কাদিয়ানী রদ

কাদিয়ানী রদ! (১)

কাদিয়ানী রদ!

(কাদিয়ানী রদ!)

কাদিয়ানী রদ! (১)