ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (২০)

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

মু’মিন আর ফাসিক সমান নয়

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, উনার আয়াত শরীফ স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরও যারা মুখ ফিরিয়ে নিবে তারাই সর্বাধিক যালিম হিসেবে সাব্যস্ত হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না। অর্থাৎ যালিমরা হিদায়েত লাভ করতে পারে না। নাউযুবিল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ উনার ৩নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,

وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَـتَـرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِيْنَ مِمَّا فِيْهِ وَيَـقُوْلُوْنَ يَا وَيْـلَتَـنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيْـرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ، وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا

আপনি তাদেরকে দেখবেন, আমলনামায় যা লিখা রয়েছে সে কারণে তারা ভীত থাকবে, খুব ভয়ের মধ্যে থাকবে। তারা বলবে, হায় আফসোস! এটা এমন কিতাব বা আমলনামা যার মধ্যে গুণে গুণে ছোট-বড় সমস্ত আমলই লিখে রাখা হয়েছে। কোনোটাই বাদ দেয়া হয়নি। তারা যা আমল করেছে সবই উপস্থিত পাবে। আপনার রব তিনি কারো প্রতি অবিচার করেন না। অর্থাৎ ইনসাফ করেন।

কিরামান কাতিবিন ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা একজন নেক আমল লিখেন, আরেকজন বদ আমল লিখেন। বান্দা যা আমল করবে, মৃত্যুর পর তার আমলনামা তার সামনে রাখা হবে। এখন মানুষ সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে বলতে পারে; কিন্তু মৃত্যুর পর সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে বলার কোনো শক্তি থাকবে না। দুনিয়াতে যা আমল করেছে, ভালো-মন্দ সবই উপস্থিত পাবে। এই যে লিখে রাখা হচ্ছে এটা কিন্তু অবিচার না, এটাই ইনসাফ। মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত বিষয় নাযিল করে জানিয়ে দিয়েছেন কোন আমল করা যাবে আর কোন আমল করা যাবে না। সবই জানিয়ে দিয়েছেন। তারপর যারা হুকুম অমান্য করবে তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি কারো প্রতি যুলুম করেন না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ উনার ৫৩ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَرَأَى الْمُجْرِمُوْنَ النَّارَ فَظَنُّـوْا أَنَّـهُمْ مُوَاقِعُوْهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْـهَا مَصْرِفًا

যখন পাপীরা আগুন দেখবে তখন তারা বুঝতে পারবে, তাদের বিশ্বাস হবে যে তারা আগুনে পতিত হচ্ছে। ঐ আগুন থেকে বাঁচার কোনো পথ পাবে না।

তাই সময় থাকতে আমাদেরকে বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা যুমার শরীফ উনার ৫২ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَأَنِيْـبُـوْا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوْا لَهُ مِنْ قَـبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُـنْصَرُوْنَ

আর তোমরা তোমাদের রব উনার দিকে রুজু হও এবং শাস্তি আসার পূর্বেই উনার প্রতি আত্মসমর্পণ করো অর্থাৎ উনার হুকুম আহকাম মেনে নাও। তারপর (যখন আযাব এসে যাবে তখন) তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবেনা।

কিভাবে মহান রব উনার প্রতি রুজু হতে হবে সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা যুমার শরীফ উনার ৫৫ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاتَّبِعُوْا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَـبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَـغْتَةً وَأَنْـتُمْ لَا تَشْعُرُونَ

হঠাৎ আযাব আসার পূর্বেই তোমাদের রব উনার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা (কুরআন শরীফ) নাযিল করা হয়েছে তা উত্তমভাবে অনুসরণ করো। (যখন আযাব চলে আসবে তখন) তোমরা টেরও পাবে না।

পরবর্তীতে কেউ যাতে বলতে না পারে যে, ‘আয় আল্লাহ পাক! আমরা জানতাম না’ এজন্য তিনি এই বিষয়গুলো জানিয়ে দিয়েছেন। পরকালে পাপীদের কিরূপ কঠিন অবস্থা হবে সে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ উনার ৪৯-৫১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَتَـرَى الْمُجْرِمِيْنَ يَـوْمَئِذٍ مُّقَرَّنِيْنَ فِي الْأَصْفَادِ. سَرَابِيْـلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ وَتَـغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ. لِيَجْزِيَ اللهُ كُلَّ نَـفْسٍ مَّا كَسَبَتْ إِنَّ اللهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

আর আপনি পাপীদেরকে দেখবেন সেদিন তারা (ক্বিয়ামতের দিন) শিকলে আবদ্ধ থাকবে। তাদের পোশাক হবে আলকাতরার। আগুন তাদের চেহারা আচ্ছন্ন করবে বা ঢেকে ফেলবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার আমলের প্রতিফল দেয়ার জন্য এরূপ করেছেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

যারা দুনিয়াতে নফসের অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের কোনো আরজি সেদিন গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ উনার ৪৪-৪৫ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার  মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

وَأَنْذِرِ النَّاسَ يَـوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَـيَـقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوْا رَبَّـنَا أَجِرْنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ تُجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَـتَّبِعِ الرُّسُلَ أَوَلَمْ تَكُوْنُـوْا أَقْسَمْتُمْ مِّنْ قَـبْلُ مَا لَكُمْ مِنْ زَوَالٍ. وَسَكَنْـتُمْ فِي مَسَاكِنِ الَّذِينَ ظَلَمُوْا أَنْـفُسَهُمْ وَتَـبَـيَّنَ لَكُمْ كَيْفَ فَـعَلْنَا بِهِمْ وَضَرَبْـنَا لَكُمُ الْأَمْثَالَ

আপনি মানুষকে ঐদিন সম্পর্কে সতর্ক করুন যেদিন তাদের কাছে আযাব আসবে। অতঃপর যালিমরা (যারা নফসের প্রতি যুলুম করেছে তারা) বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সামান্য সময়ের জন্য অবকাশ দিন। আমরা আপনার ডাকে সাড়া দিবো এবং রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণ করবো। (তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন) তোমরা কি ইতিপূর্বে কসম করে বলোনি তোমাদের কোনো বিলুপ্তি নেই, ধ্বংস নেই? যারা নফসের প্রতি যুলুম করেছে তোমরা তো তাদের বাসস্থানেই বসবাস করেছিলে। তোমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে আমি তাদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছি এবং তোমাদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করেছি।

অর্থাৎ পূর্ববর্তীরা যে তাদের নফসের প্রতি যুলুম করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের বিষয়গুলো জানিয়ে দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তোমরা সতর্ক হওনি। এখন এসমস্ত কথা কোনো কাজে আসবে না।

কাজেই দুনিয়ায় থাকতেই তওবা ইস্তেগফার করে আমলগুলো শুদ্ধ করতে হবে। ভুল-ত্রুটি হতে পারে তবে যতবার ভুল হবে ততবার তওবা করে নিবে। একটা বাচ্চা যখন হাঁটা শিখে সে বারবার পড়ে যায়। তাই বলে সে হাঁটা বন্ধ করে দেয় না, বন্ধ করে দিলে সে আর হাঁটা শিখতে পারবে না। তেমনিভাবে ভুলত্রুটি হয়ে গেলে তওবা ইস্তেগফার করবে, যত ভুল হবে তত বেশি তওবা ইস্তেগফার করবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করবেন। কিন্তু তওবা না করে ভুলের মধ্যেই থেকে গেলে ক্ষমা পাওয়া যাবে না। (অসমাপ্ত)

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৯)

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৮)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৭) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সত্যের মাপকাঠি

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৬)

ছহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনাহযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (১৫)