খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিষয়গুলো মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় হচ্ছেন মহাপবিত্র মহাসম্মানিত মু’জিযা শরীফ অর্থাৎ ই’জায শরীফ। ই’জায শরীফ অর্থাৎ মু’জিযা শরীফ ব্যতীত তো সৃষ্টি জগৎ অক্ষম। আর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়গুলিকেও ‘পবিত্র ই’জায শরীফ’ বলা হয়।
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দয়া দান ইহসান মুবারক অর্থাৎ উনাদের মহাপবিত্র ই’জায শরীফ’ উনার মাধ্যমেই আসমান-জমিন নিরাপত্তা লাভ করছে, রহমত-বরকত-সাকিনা লাভ করছে। মহাপবিত্র ই’জায শরীফ’ ব্যতীত এক মুহুর্তও কায়িনাত স্থায়ী হবে না।
মহাসম্মানিত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহাপবিত্র মহাসম্মানিত, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। উনারই আখাছছুল খাছ বিশেষ শান মুবারক সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ।
(১৭) ১৪৩৯ হিজরী শরীফ ৬ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, বাদ আসর চট্টগ্রামের এক পীরভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে বসা ছিলেন। তিনি চিন্তা করছিলেন, আসন্ন ৭ই রবীউল আউওয়াল শরীফে অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে কী হাদিয়া করা যায়। সেই সময় পীর ভাইয়ের ব্যবসায়িক নানান সমস্যা চলছিল। আর যেহেতু আক্বল-সমঝের অভাব, ইছলাহ প্রাপ্ত না; তাই তিনি কী হাদিয়া করবেন এই নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি মনে করলেন, “উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তো গোলামের হাদিয়ার মুহতাজ নন, তাই তিনি যাকে তাওফীক দিবেন, কবুল করবেন, যার উপর দয়া মুবারক করবেন সে ব্যক্তিই কেবল উনার নুরুদ দারাজাত মুবারকে (কুদম মুবারক) হাদিয়া পেশ করতে সক্ষম হবে।” এরপর তিনি মুবারক ছোহবত শেষে বের হয়ে আসলেন এবং ভাবতে লাগলেন, তিনি যতটুকু হাদিয়া দেয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন, তাই দিবেন কিনা…ইত্যাদি নানান চিন্তা। চিন্তার এক পর্যায়ে তিনি এক অভূতপূর্ব আওয়াজ মুবারক শুনতে পেলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত পীর ভাইকে বলছেন, “তুমি যা চিন্তা করেছ, তাই হাদিয়া কর। তাহলে আমিও তোমাকে দান করব। অর্থাৎ আমি তোমাকে নিয়ামত দান করব।” সুবহানাল্লাহ!
এই ঘটনার পরে উক্ত পীর ভাই উনার নিকট দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্ট হল যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সবকিছু দেখেন, জানেন এবং শুনেন। উনাদেরই হাক্বীক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সমস্ত নিয়ামতরাজির মালিকা, সমস্ত নিয়ামত বন্টনকারী, তিনি সর্বদা সবকিছু দেখেন, জানেন এবং শুনেন। কখনো কখনো তিনি সেই শান মুবারক প্রকাশ করেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হাক্বীক্বীভাবে উনাকে জানার এবং হাক্বীক্বী শান-মান বুঝার তৌফিক আমাদেরকে দান করেন। (আমীন)