তাফসীরুল কুরআন  তাছাউফপন্থী উনারাই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদ উনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়-২

সংখ্যা: ১০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিয, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা।

 (ধারাবাহিক)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার নির্দেশনা প্রকাশ্য, গোপন দু’দিকের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত। দু’টি দিকই হিসাবের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ নফ্সের সাথে সাথে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মের হিসাবও নেয়া হবে এবং নফ্সের প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ ও কঠিন। কারণ, মূল ত্রুটি তো তারই। তার সিদ্ধান্তেই সাধিত হয়েছে দেহের পাপাচার। নফ্স ও ক্বালবের পরিশুদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর পাপের কাজ হয় খুবই কম।

মূলত এ ধরণের বাতিনী পাপের হিসাবের কথাই বলা হয়েছে এখানে। আর ক্বালবের পবিত্রতার উপর শারীরিক পবিত্রতা যে নির্ভরশীল তা তো পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাই প্রমাণিত। মূলত যাঁদেরকে হাদীছ শরীফে ফুক্বারা ও মু’মিনীন নামে অভিহিত করা হয়েছে তারাই ছূফী। কারণ উনারা মহান আল্লাহ্ উনাকে প্রাপ্তির উদ্দেশ্যেই নিজের অস্তিত্বকে মহান আল্লাহ্ পাক উনার ইচ্ছার অনুকূলে ফানা করে দেন। ফলে কু-প্রবৃত্তির পীড়া ও গোপনে পাপ উনাদের ছেড়ে চলে যায়। উনারাই কামিল বা পূর্ণ মানুষ।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পেয়ারা রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সত্তর হাজার উম্মতের বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের কথা বলার পর আরো বলেছেন, “ওই লোকদের প্রত্যেকের সাথে থাকা আরো সত্তর হাজার করে লোক।” অর্থাৎ উনারাই হলেন- আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও মুর্শীদ ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহিম। উনাদের প্রত্যেকের সঙ্গে যে সত্তর হাজার মানব থাকবেন উনারা হলেন যথাক্রমে ছিদ্দীক্বীন, উলামায়ে রাসিখীন এবং ছলিহীন।

বলা বাহুল্য যে, তাওয়াক্কুল বা মহান আল্লাহ্ পাক উনার প্রতি নির্ভরতা কামিল ছূফীদের আভ্যন্তরীন বৈশিষ্ট্য। আর উনাদের গভীর রাতের যিক্রুল্লাহ্ ও ইবাদত বাহ্যিক নিদর্শন স্বরূপ।

বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন বুঝলেন যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি নফ্সের ভুলের (ওয়াস্ ওয়াসার)ও হিসাব গ্রহণ করবেন। তখন উনারা কেউ কেউ নফ্সের কুমন্ত্রনার সাথে মাঝে মধ্যে নিজেদের সম্পৃক্ত দেখতে পেয়ে পেরেশান হয়ে পড়েন। দয়ার সাগর, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন উনাদেরকে তাছলীম, রিদা এবং তাওয়াক্কুলের উপায় বলে দিলেন। বস্তুতঃ নফ্সে মুত্মায়িন্নাহ্র বৈশিষ্ট্য এরকমই হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি পরবর্তী পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা উনাদের ঈমান উনার সত্যতা, নিয়তের বিশুদ্ধতা, নফ্সের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ভূয়সী প্রশংসা করে উনাদের তাপিত অন্তরে স্বান্তনা দান করলেন। মোটকথা, অপবিত্র নফ্স পবিত্র ও বিশুদ্ধ করা ঈমান উনার দাবী। কারণ, জাহির ও বাতিন সমান না হওয়া মুনাফিকের চিহ্ন।

 গাউসুল আ’যম, হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “মুসলমান চার শ্রেণীর।

(১) যাঁর যাহির ও বাতিন উভয়টি পরিশুদ্ধ, তিনি নায়িবে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,

(২) যার যাহির পরিশুদ্ধ কিন্তু বাতিন অপরিশুদ্ধ, সে চরম ফাসিক,

(৩) যার বাতিন পরিশুদ্ধ কিন্তু যাহির অপরিশুদ্ধ, সে নাকিছ (অপূর্ণ) এবং

(৪) যার যাহির ও বাতিন উভয়টি অপরিশুদ্ধ, সে বরবাদ। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তাকে হিফাযত করলে সে হিফাযত হবে।”

ইসলামী শরীয়ত উনার আমলকারী এবং বাতিনী তরীক্বত সম্বন্ধে অজ্ঞ ব্যক্তি চরম ফাসিক। যাহিরী আমল ব্যতীত বাতিনের শুদ্ধির আশা করা বাতুলতা মাত্র। যাহির ও বাতিন এমনই সম্পর্কযুক্ত যে, তাকে কোন মতেই পৃথক করা সম্ভবপর নয়। কারণ  لا اله الا الله হাক্বীক্বত مـحمد رسول الله    শরীয়ত। এর কোন অংশ মুবারক বাদ দিয়ে মু’মিন হতে পারেনা। আর নফ্সের দোষ-ক্রটি ফানা না হওয়া পর্যন্ত যাহির ও বাতিন কখনোই এক হবেনা, তবে নফ্সের দোষ-ক্রটি ফানা হবে কামিল মু’মিন উনার ফিরাসাত বা অন্তর দৃষ্টির মাধ্যমেই। যেমনটি, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে,

اتقوا فراسة المؤمن فاته ينظربنور الله.

অর্থ : “মুহাক্কিক, কামিল মু’মিন উনার অন্তর দৃষ্টিকে ভয় কর।” কারণ উনারা মহান আল্লাহ্ পাক উনার প্রদত্ত নূর বা জ্যোতি দ্বারা দেখেন। কবি বলেন,

توحید کی مے پیالے سے ننے نظرور سے پلانی جانی سے.

অর্থ : “তাওহীদ উনার ইশক্বী মদীরা পান পাত্র দ্বারা নয়; বরং (অন্তর) দৃষ্টি দ্বারা পান করানো হয়।”  আর হযরত ফরীদুদ্দীন আত্তার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

حب دروشاں کلید جنت است دشمن ایشادرا سز ائے اعنت است.

অর্থ : “দরবেশ উনাদের প্রতি ভালবাসা হলো জান্নাতের চাবি। আর উনাদের প্রতি শত্রুতার শাস্তি হলো লা’নত বা অভিশাপ।”  (সমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন:       খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

তাফসীরুল কুরআন : ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত