(ধারাবাহিক)
হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে,
خياركم الذين اذا رئوا ذكر الله.
অর্থঃ “তোমাদের মাঝে তাঁরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি যাঁদের জিয়ারতে বা সাক্ষাতে আল্লাহ্ পাক-এর কথা স্মরণ হয়ে যায়। (মেশকাত শরীফ)
যেহেতু তাঁরা সর্বদাই আল্লাহ্ পাক-এর ধ্যান-খেয়ালে মশগুল থাকেন। ফলে তাঁদের নূরানী সান্নিধ্যে আসা মাত্রই আল্লাহ্ পাক-এর কথা স্মরণ হয়ে যায় এবং ঈমানের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই সব মহান ওলীআল্লাহ্গণের প্রশংসায় সূরা আ’রাফে আল্লাহ্ পাক বলেন,
ان رحمت الله قريب من المحسنين.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর রহমত (করুণা) সূফী লোকদের নিকটবর্তী।”
মূলতঃ আল্লাহ্ পাক-এর খাছ রহ্মতের ফল্গুধারায় অবগাহন করতে করতে তাদের দেহ মোবারকও অমর আত্মার গুণে গুণান্বিত হয়ে অমর হয়ে যায়। ফলে ইন্তেকালের পরও তাদের দ্বারা ফয়যিয়াব হওয়া যায়। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
ادفنوا موتاكم وسط قوم صالحين فان الميت يتأذى من جار السوء كما يتأذى الحى.
অর্থঃ- “আপন মৃতজনদেরকে নেককারদের মাঝে সমাধিস্থ কর, কেননা দুষ্ট প্রতিবেশী দ্বারা মৃতেরা কষ্ট পায়, যেমন জীবিতরা অসৎ প্রতিবেশী কর্তৃক বেদনাহত হয়।” (ফতওয়ায়ে আযীযী)
এমনকি জান্নাতীদেরকে জান্নাতে প্রবেশাধিকার প্রদানের পূর্বে আল্লাহ্ পাকও বলবেন,
فادخلى فى عبادى.
অর্থঃ- “আমার খাস মুখলেছ বান্দাদের (বন্ধুদের) দলে (সান্নিধ্যে) প্রবেশ কর। অতঃপর তাঁদের সাথে, وادخلى جنتى. আমার জান্নাতে প্রবেশ কর। (কারণ তোমাদের কাছে জান্নাতও প্রকৃত আনন্দবিহীন মনে হবে আমার ও তোমাদের ঐ প্রিয় ও মনের মানুষদের সান্নিধ্য ব্যতীত।” (সূরা ফাজ্র-২৯/৩০)
কেউ বড় পীর, হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহীউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জীলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করলো, হুজুর! আমার এই অন্তরদৃষ্টিহীনতা আর কতদিন থাকবে? হযরত গাউসুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যে পর্যন্ত তুমি কোন কামেল পীর সাহেবের শরণাপন্ন না হবে, তাঁর গৃহের চৌকাঠকে নিজের বালিশ না বানাবে এবং তাঁর নির্দেশ অনুসারে কঠোর সাধনায় লিপ্ত না হবে, সে পর্যন্ত তুমি অন্তরদৃষ্টি লাভ করতে পারবেনা। (তায্কিরাতুল আউলিয়া)
আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেছেন, واتبع سبيل من اناب الى.
অর্থঃ- “যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ কর।” (সূরা লুকমান/১৫)
অনেকে কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে বলছে যে, নেক আমলের ওসীলাই মুক্তির জন্য যথেষ্ট, অন্য কারো সঙ্গলাভের ও উসীলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গভীরভাবে ফিকির করলে বুঝা যাবে যে, (১) আমলসমূহের কথা তো اتقوا الله -এর মধ্যে এসে গেছে। অতঃপর وكونوا مع الصادقين দ্বারা অতিরিক্ত কিছু অর্থাৎ বুযুর্গের সাহচর্য ও উসীলা বুঝানো হয়েছে।
(২) আমলই যদি একমাত্র উসীলা হয়, তাহলে মুসলমানদের শিশু সন্তান, পাগল মুসলমান এবং ঐ নবমুসলিম যারা ঈমান এনেই মারা গেছে তাদের তো কোন আমল নেই, তাদের উসীলা কে হবে? (৩) যদি আমলগুলোই উসীলা হয়, তাহলে শয়তানের কাছে অসংখ্য আমল ছিল। এসব আমল তার জন্য উসীলা হলোনা কেন?
(৪) যদি উসীলা দ্বারা আমলকেই বুঝানো হয়, তবুও আমলসমূহ নবী ও ওলীদের উসীলায় অর্জিত হয়, ফলে ঐ মহান সত্তাগণই তাহলে উসীলা হয়ে গেলেন এবং উসীলার উসীলাই মূল উসীলা হয়ে থাকে।
এছাড়া হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে যে, বেহেশ্ত শুন্য থেকে যাবে। তখন তা পূর্ণ করার জন্য একটি নতুন দল সৃষ্টি করা হবে। বলুন, ঐ নব সৃষ্ট জীব কোন আমল করেছে? মোটকথা আমল ছাড়াও বেহেশ্ত লাভ হতে পারে, কিন্তু উসীলা ব্যতীত বেহেশ্ত কখনো নসীব হতে পারেনা। (অসমাপ্ত)
তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল
তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল