মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৮৩

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”- পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

মাযহাব বিদ্বেষী বাতিল ফিরক্বা লা- মাযহাবীদের গোমরাহীসমূহের

গোমরাহীমূলক বক্তব্য- ২

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের আরেকটি গোমরাহীমূলক বক্তব্য হলো- “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ক্বিয়াস করতে পারলে, আমরা পারবো না কেন?”

জাওয়াব: তাদের উক্ত গোমলাহীমূলক বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, ক্বিয়াস বা ইজতিহাদ যার-তার কাজ নয়; এর জন্য যোগ্যতা আবশ্যক] যারা সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে মাসায়েল বের করতে পারেন অর্থাৎ যারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ গবেষণা করে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম, উনাদেরকে পরিভাষায় ‘মুজতাহিদ’ বলা হয়। আর উনাদের এই কাজকে ‘ইজতিহাদ’ বলা হয়। অনেকে অজ্ঞতা বশতঃ এই ধারণা করে বসে যে, যে কেউ ক্বিয়াস বা ইজতিহাদ করতে পারে। এর জন্য কোন ধরণের যোগ্যতা বা শর্ত নেই। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ক্বিয়াস করতে পারলে, আমরা করতে পারবো না কেন?

অথচ বাস্তবতা হলো- ক্বিয়াস বা ইজতিহাদ করা যার-তার কাজ নয়; বরং এর জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। এ শর্তগুলো পূরণ করা ছাড়া কারও জন্য ইজতিহাদের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার অর্থ হলো, অযু ছাড়া নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া। কেউ যদি অযু ছাড়া নামায পড়ে, তবে তার নামায হওয়া তো দূরের কথা, এ নামাযই তার ধ্বংসের কারণ হবে অর্থাৎ সে কাফির হবে। তদ্রুপ যোগ্যতা অর্জন না করে যে ব্যক্তি ইজতিহাদে লিপ্ত হবে, সে ব্যক্তি অনিবার্যরূপে ধ্বংস হবে। লা-মাযহাবীদের গুরু কাযী শাওকানী ইজতিহাদের যেসব শর্ত বর্ণনা করেছে, তা এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

প্রথম শর্ত: আরবী ভাষায় অগাধ ব্যুৎপত্তি। নাহু, ছরফ, বালাগাত শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের পাশাপাশি আরবী ভাষার রীতি-নীতি ও উপস্থাপন সম্পর্কেও গভীর জ্ঞান থাকা জরুরী। এই শর্তটি অপরিহার্য হওয়ার কারণ হলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ যা ইজতিহাদের মূল ভিত্তি তা আরবী ভাষায়।

দ্বিতীয় শর্ত: উলূমুল কুরআন শরীফ বিষয়ে পারদর্শিতা। বিশেষত: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের থেকে বর্ণিত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার তাফসীর, আসবাবে নুযূল ও নাসিখ মানসুখ সম্পর্কে ইলিম থাকা অপরিহার্য। এই শর্তটি অপরিহার্য হওয়ার কারণ হলো- উলূমুল কুরআন শরীফ বিষয়ে পারদর্শিতা না থাকলে দেখা যাবে, কোথাও মানসূখ বিধান মোতাবেক ফতওয়া দেয়া হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

তৃতীয় শর্ত : উলূমুল হাদীছ শরীফ বিষয়ে পারদর্শিতা। উলূমুল হাদীছ শরীফ উনার পরিভাষা ও ইলমু আসমায়ির রিজাল সম্পর্কে অবগতি এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া বিদ্যমান উপকরণাদির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মাসআলার যত হাদীছ শরীফ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ সম্ভব, তা পরিপূর্ণভাবে থাকাও ইজতিহাদের জন্য জরুরী। এই শর্তটি এজন্য অপরিহার্য যে, উলূমুল হাদীছ শরীফ বিষয়ে পারদর্শিতা না থাকলে দেখা যাবে, কোথাও জয়ীফ হাদীছ শরীফকে ইজতিহাদের ভিত্তি বানানো হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

চতুর্থ শর্ত : ইজমায়ী মাসয়ালা সম্পর্কে অবগত থাকা। অর্থাৎ যেসব মাসয়ালায় উম্মতের মুজতাহিদগণের ‘ইজমা’ রয়েছে তাও জানা থাকা জরুরী। কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফে যেসব মাসয়ালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে অথবা যেসব মাসআলায় মুজতাহিদগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; এ জাতীয় মাসায়েলে ইজতিহাদ চলে না। যদি এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকে তাহলে এ জাতীয় মাসায়েলেও ইজতিহাদ করা শুরু করে দিবে। নাউযুবিল্লাহ!

পঞ্চম শর্ত : ইজতিহাদের নিয়ম-পদ্ধতি অর্থাৎ উছূলে ফিকহ সম্পর্কে পারদর্শিতা। ইজতিহাদের সঙ্গে এ শাস্ত্রের গভীর সম্পর্ক থাকার কারণে ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইবনে খালদুন রহমতুল্লাহি আলাইহি এই শাস্ত্রের কথা বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন।

ষষ্ঠ শর্ত : ইজতিহাদ যেহেতু চিন্তা ও মেধার গভীর ব্যবহার, তাই মুজতাহিদকে উচ্চ পর্যায়ের মেধা ও সুক্ষ্ম চিন্তাশক্তির অধিকারী হতে হবে।

সপ্তম শর্ত: মুজতাহিদ উনাকে অবশ্যই ইলমে লাদুন্নীপ্রাপ্ত হতে হবে। যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَعَلَّمْنَاهُ مِنْ لَّدُنَّا عِلْمًا

অর্থাৎ আমি উনাকে আমার পক্ষ থেকে ইলমে লাদুন্নী দান করেছি। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ মুজতাহিদকে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের গভীর নিসবত মুবারক থাকতে হবে। নচেৎ তার ইজতিহাদ ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, সবার জন্য ইজতিহাদ করা জায়িয নেই। যাঁর মাঝে ইজতিহাদের সকল শর্তগুলো পাওয়া যাবে, কেবলমাত্র তিনিই ইজতিহাদ করতে পারবেন। কাজেই, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ইজতিহাদ করতে পারলে আমরা পারবো না কেন? একথা বলা সুস্পষ্ট গোমরাহী।

গোমরাহীমূলক বক্তব্য-৩

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের আরেকটি গোমরাহীমূলক বক্তব্য হলো- ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ বৈধ হওয়ার কথা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথাও উল্লেখ নেই। নাউযুবিল্লাহ!

জাওয়াব: বাতিল ফিরক্বা লা মাযহাবীরা ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ অস্বীকার করে। তারা মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোন জায়গায় ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে?

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে বলতে হয় যে, পবিত্র ক্বিয়াস ও পবিত্র ইজতিহাদ সম্মানিত শরীয়ত উনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ করার বৈধতা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফের বহু বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত ও অনুমোদিত। নিম্নে কয়েকটি দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করা হলো।

দলীল-১ : মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَاۤ أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا أَطِيْـعُوا اللّٰهَ وَأَطِيْـعُوا الرَّسُوْلَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ

অর্থাৎ হে ঈমানদাররা! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উলিল আমর [মুজতাহিদ ইমামগণ] উনাদের অনুসরণ করো। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)

ইমাম ফখরূদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাফসীরে কাবীরে [১০/১৪৩-১৪৭] লিখেছেন: এই আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো এবং উনার রসূল নূরে মুজাসাসম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো”-এর দ্বারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ এ দুটিকে শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর উলিল আমরের আনুগত্য করো”-এর দ্বারা উম্মতের ইজমাকে শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এর দ্বারা মুজতাহিদ ইমামগণ উনাদের ক্বিয়াস বা ইজতিহাদকে ইসলামী শরীয়তের দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই আয়াত শরীফে “উলিল আমর” দ্বারা মুজতাহিদ ইমামগণ উদ্দেশ্য। যার বিস্তারিত বর্ণনা পূর্ববর্তী সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরায় উল্লেখ করা হলো না।

লা-মাযহাবীদের গুরু নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান একথাটি স্বীকার করেছে। সে তার তাফসীর ফাতহুল বয়ান (২/৩০৮)-এর মধ্যে এ পবিত্র আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় লিখেছে-

اَلظَّاهِرُ اِنَّهٗ خِطَابٌ مُسْتَأْنَفٌ مُوَجَّهٌ لِلْمُجْتَهِدِيْنَ

অর্থাৎ একথা সুস্পষ্ট যে, এখানে মুজতাহিদ ইমামগণকে সম্বোধন করা হয়েছে।

দলীল-২ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুআয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ইয়ামেনের শাসকরূপে প্রেরণকালে জিজ্ঞেস করলেন,

بِمَا تَـقْضِيْ يَا مُعَاذُ؟ قَالَ بِكِتَابِ اللهِ. قَالَ فَإِنْ لَّـمْ تَجِدْ قَالَ: فَبِسُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ قَالَ: فَإِنْ لَّـمْ تَجِدْ قَالَ: أَجْتَهِدُ رَأْيِيْ قَالَ: اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ وَفَّقَ رَسُوْلَ رَسُولِ الله لِـمَا يُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُوْلُهٗ

অর্থ: হে মুআয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! কোন বিষয়ে যখন ফায়সালা করতে হবে তখন কিসের ভিত্তিতে ফায়সালা করবেন? জবাবে তিনি বললেন, কিতাবুল্লাহ উনার ভিত্তিতে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যদি কিতাবুল্লাহ উনার মধ্যে সমাধান না পান? হযরত মুআয বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তিনি বললেন, সুন্নাতে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা ফয়সালা করবো। যদি সুন্নাতে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেও না পান? তখন হযরত মুআয বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন-

أَجْتَهِدُ رَأْيِيْ

 যদি ফয়সালার মিমাংসা কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহতে না পাওয়া যায়, তাহলে আমি ইজতিহাদ করে ফায়াসলা করবো। হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার শোকর! যিনি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রেরিত প্রতিনিধিকে এমন ইলিম মুবারক দান করেছেন, যা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খুবই পছন্দনীয়। (তিরমিযী, ১/১৫০: আবূ দাউদ-৩৫৯৪; ২/৫০৫)

এই পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দুটি বিষয় প্রমাণিত হয়-

(১) ইজতিহাদ ও ক্বিয়াস নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত প্রিয় বিষয় ছিল। যার কারণে তিনি হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সীনা মুবারকে হাত মুবারক রেখেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার শোকরগুজারীর মাধ্যমে খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন। বুঝা গেলো যে, ইজতিহাদের সাথে রয়েছে মহান আল্লাহ তাআলা উনার অনুগ্রহ ও উলূমে নবুওওয়াত উনার ফায়িয-বরকত। সুবহানাল্লাহ!

(২) এমন অনেক বিষয় আছে, যার সমাধান সরাসরি অর্থাৎ প্রকাশ্যত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সুপ্ত আছে। অথচ সেই বিষয়সমূহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে প্রকাশ্যভাবেই রয়েছে। আবার অনেক বিষয় এমনও আছে, যার সমাধান পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অর্থাৎ উভয়ের মধ্যেই সুপ্তভাবে রয়েছে।

এমতাবস্থায় ইজতিহাদ করে বের করতে হবে। উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা এ দুটি বিষয় স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো।

কাজেই, পবিত্র ক্বিয়াস ও পবিত্র ইজতিহাদের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে অসংখ্য দলীল প্রমাণ রয়েছে। এখানে মাত্র দুটি উল্লেখ করা হলো। জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

গোমরাহীমূলক বক্তব্য-৪

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের আরেকটি গোমরাহীমূলক বক্তব্য হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ক্বিয়াস বা অনুমানের নিন্দা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ৩৬ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

إِنَّ الظَّنَّ لَا يُـغْنِي مِنَ الْـحَقِّ شَيْـئًا

অর্থ: কোন বিষয় হক বলে প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমান (ক্বিয়াস) যথেষ্ট নয়।

লা-মাযহাবীদের দাবি হচ্ছে: মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ক্বিয়াসের নিন্দা করেছেন। অতএব ক্বিয়াস বা অনুমান কী করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

জাওয়াব: এই পবিত্র আয়াত শরীফ প্রকৃতপক্ষে কাফির ও বাতিল ফিরক্বাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। এখানে শরঈ ক্বিয়াস উনার কথা বলা হয়নি বা ক্বিয়াস উনার অর্থেও নাযিল হয়নি বা ব্যবহৃত হয়নি।

কাজেই উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাকে পবিত্র ক্বিয়াস উনার বিরুদ্ধে দলীল হিসেবে পেশ করা চরম গোমরাহী বৈ কিছুই নয়।

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৫)