(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)
“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতিপয় সুওয়াল-জাওয়াব
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
সুওয়াল-১৯
নদী রক্ষার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?
জাওয়াব:
(দ্বিতীয় অংশ)
‘মুখতাছারুল কুদূরী’ কিতাবের ১৩৮ পৃষ্ঠার ৭ নং হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে,
قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ يُـوْسُفَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَمُحَمَّدٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هُوَ عِبَارَةٌ عَنْ حَبْسِ الْعَـيْـنِ عَلـٰى حُكْمِ مِلْكِ اللهِ تَـعَالـٰى عَلـٰى وَجْهٍ تَصِلُ الْـمَـنْـفَعَةُ اِلَـى الْعِـبَادِ فَـيَـزُوْلُ مِلْكُ الْوَقْفِ عَنْهُ اِلَـى اللهِ تَـعَالـٰى فَـيَـلْزَمُ وَلَايُـبَاعُ وَلَايَـرْهَنُ وَلَايُـوَارِثُ
অর্থ: “হযরত আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং ইমাম হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের মতে ওয়াক্ফ বলতে বোঝায়- কোনো নির্দিষ্ট সম্পদের মূল সত্তাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানার হুকুমের অধীনে স্থায়ীভাবে আবদ্ধ করে দেওয়া, এমনভাবে যে সেই সম্পদের উপকার নিয়মিত ও অব্যাহতভাবে বান্দাদের কাছে পেঁৗছতে থাকে। অতঃপর যখন কোনো সম্পদ শরয়ীভাবে ওয়াক্ফ হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তখনই উক্ত সম্পদের মালিকানা ওয়াক্ফকারীর নিকট থেকে সম্পূর্ণরূপে রহিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে সেই ওয়াক্ফ শরয়ীভাবে লাযিম (বাধ্যতামূলক ও অপরিবর্তনীয়) হয়ে যায়; অতএব, তা বাতিল করা বা প্রত্যাহার করা জায়েয নেই। সুতরাং, উক্ত ওয়াক্ফকৃত সম্পদ বিক্রয় করা জায়েয নেই, বন্ধক রাখা জায়েয নেই এবং উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টন করাও জায়েয নেই।”
‘ঈনায়া’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,
وَعِنْدَهُـمَا هُوَ حَبْسُ الْعَـيْـنِ عَلـٰى حُكْمِ مِلْكِ اللهِ تَـعَالـٰى فَـيَـزُوْلُ مِلْكُ الَوَاقِفِ عَنْهُ اِلَـى اللهِ تَـعَالـٰى عَلـٰى وَجْهٍ تَـعُوْدُ الْـمَـنْـفَعَةُ اِلَـى الْعِبَادِ فَـيَـلْزَمُ وَلَايُـبَاعُ وَلَايُـوْرَثُ
অর্থ: “(হযরত আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং ইমাম হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ) উনাদের মতে ওয়াক্ফ বলতে বোঝায়- কোনো নির্দিষ্ট সম্পদের মূল সত্তাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানার হুকুমের অধীনে স্থায়ীভাবে আবদ্ধ করে দেওয়া, এমনভাবে যে সেই সম্পদের উপকার নিয়মিত ও অব্যাহতভাবে বান্দাদের কাছে পেঁৗছতে থাকে। অতঃপর যখন কোনো সম্পদ শরয়ীভাবে ওয়াক্ফ হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তখনই উক্ত সম্পদের মালিকানা ওয়াক্ফকারীর নিকট থেকে সম্পূর্ণরূপে রহিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে সেই ওয়াক্ফ শরয়ীভাবে লাযিম (বাধ্যতামূলক ও অপরিবর্তনীয়) হয়ে যায়; অতএব, তা বাতিল করা বা প্রত্যাহার করা জায়েয নেই। সুতরাং, উক্ত ওয়াক্ফকৃত সম্পদ বিক্রয় করা জায়েয নেই এবং উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টন করাও জায়েয নেই।”
‘ফতওয়ায়ে আলমগীরী’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ৩৫০ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,
وَعِنْدَهُـمَا حَبْسُ الْعَـيْـنِ عَلـٰى حُكْمِ مِلْكِ اللهِ تَـعَالـٰى عَلـٰى وَجْهٍ تَـعُوْدُ مَنْـفَعَـتُهٗ اِلَـى العِبَادِ فَـيَـلْـزَمُ وَلَا يُـبَاعُ وَلَا يُـوْهَبُ وَلَايُـوْرَثُ.كَذَا فِـى الـهِدَايَةِ وَفِـى الْعُيُـوْنِ وَالْـيَـتِـيْمَةِ اَنَّ الْفَتْـوٰى عَلـٰى قَـوْلِـهِمَا
অর্থ: “(হযরত আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ) উনাদের মতে- ওয়াক্ফ বলতে বোঝায়- কোনো নির্দিষ্ট সম্পদের মূল সত্তাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানার হুকুমের অধীনে আবদ্ধ করে দেওয়া, এমনভাবে যে সেই সম্পদের উপকার বান্দাদের দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়। এর ফলে উক্ত ওয়াক্ফ শরয়ীভাবে লাযিম (বাধ্যতামূলক ও অপরিবর্তনীয়) হয়ে যায়। অতএব, উক্ত ওয়াক্ফকৃত সম্পদ বিক্রয় করা জায়েয নেই, দান করা জায়েয নেই এবং উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টন করাও জায়েয নেই। এভাবেই ‘আল হিদায়া’, ‘আল উয়ূন’ ও ‘আল ইয়াতিমা’ কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর উক্ত কিতাবসমূহে এ কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ফতওয়া সাব্যস্ত হবে ছাহিবাইন (হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং ইমাম হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ) উনাদের ক্বওল শরীফ অনুযায়ী।”
‘ফতহুল ক্বাদীর’ কিতাবের ৫ম খণ্ডের ৪২১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,
وَالْـخُرُوْجُ عَنْ مِلْكِهٖ وَقَـوْلُهُ كَالْـمَسْجِدِ نَظِيْـرٌ مَا خَرَجَ عَنِ الْـمِلْكِ بِالْاِجْمَاعِ
অর্থ: “ওয়াক্ফ করার মাধ্যমে উক্ত সম্পদ ওয়াক্ফকারীর ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে পবিত্র মসজিদ উনাদের উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। কারণ, পবিত্র মসজিদ এমন এক ওয়াক্ফ, যা সর্বসম্মত ইজমা অনুযায়ী মানুষের মালিকানা থেকে বের হয়ে যায়। অতএব, পবিত্র মসজিদ ওয়াক্ফ হওয়ার পর তা আর কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকে না; বরং তা শরয়ীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানার হুকুমের অধীনে গণ্য হয়।”
‘ঈনায়া’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,
بِـخُرُوْجِ الْوَقْفِ عَنْ مِلْكِ الوَاقِفِ اِذَا صَحَّ الْوَقْفُ قَـوْلُـهُمَا
অর্থ: “(হযরত আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ) উনাদের মতে- যখন কোনো ওয়াক্ফ শারঈভাবে ছহীহ্ সাব্যস্ত হয়, তখন সেই ওয়াক্ফকৃত সম্পদ ওয়াক্ফকারীর মালিকানা থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়।”
‘ফতহুল ক্বাদীর’ কিতাবের ৫ম খণ্ডের ৪২০ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,
فَـقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ تَصَدَّق بِاَصْلِهِ لَايُـبَاعُ وَلَايُـوْهَبُ وَلَايُـوْرَثُ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মূল জমিটিকে এমনভাবে ছদক্বা করুন, যা কখনোই বিক্রি করা যাবে না, হিবা (অর্থাৎ দান) করা যাবে না এবং মীরাছ রূপে বণ্টন করাও যাবে না।”
‘মুখতাছারুল কুদূরী’ কিতাবের ১৩৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,
وَاِذَا صَحَّ الْوَقْفُ لَـمْ يَـجُزْ بَـيْـعُهٗ وَلَاتَـمْلِـيْكُهٗ
অর্থ: “আর ওয়াক্ফ যখন ছহীহ্ হয়ে যায়, তখন ওয়াক্ফকৃত সম্পদ বিক্রয় করা জায়িয নেই এবং কাউকে মালিক বানানোও জায়িয নেই।”
‘ফতহুল ক্বাদীর’ কিতাবের ৫ম খণ্ডের ৪৩২ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,
وَاِذَا صَحَّ الْوَقْفُ خَرُجَ عَنْ مِلْكِ الْوَاقِفِ ثُـمَّ قَـوْلُهٗ (لَـمْ يَـجُزْ بَـيْـعُهٗ وَلَاتَـمْلِـيْكُهٗ) هُوَ بِـاِجْـمَاعِ الْفُقَهَاءِ
অর্থ: “আর ‘ফতহুল ক্বাদীর’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে- যখন কোনো ওয়াক্ফ শারঈভাবে ছহীহ্ সাব্যস্ত হয়, তখন সেই ওয়াক্ফকৃত সম্পদ ওয়াক্ফকারীর মালিকানা থেকে বের হয়ে যায়। অতঃপর উনার এই উক্তি- ‘উক্ত ওয়াক্ফকৃত সম্পদ বিক্রয় করা জায়েয নেই এবং কাউকে মালিক বানানোও জায়েয নেই’- এটি সমস্ত হযরত ফুকাহায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সর্বসম্মত ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত।”
‘দুরারুল হুক্কাম’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছেন,
قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ يُـوْسُفَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هُوَ مَسْجِدٌ اَبَدًا اِلـٰى قِـيَامِ السَّاعَةِ لَا يَـعُوْدُ مِيْـرَاثًا وَلَا يَـجُوْزُ نَـقْلُهٗ وَنَـقْلُ مَالِهٖ اِلـٰى مَسْجِدٍ اٰخَرَ سَوَاءٌ كَانُـوْا يُصَلُّوْنَ فِـيْهِ اَوْ لَا وَهُوَ الْفَـتْـوٰى
অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র মসজিদ মুবারক ক্বিয়ামত পর্যন্ত সর্বদা পবিত্র মসজিদ মুবারক হিসেবেই থাকবেন। তা কখনো উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পদে পরিণত হবে না। আর উক্ত পবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করা জায়েয নেই এবং উনার সম্পদ অন্য কোনো পবিত্র মসজিদ মুবারক-এ স্থানান্তর করাও জায়েয নেই- লোকজন সেখানে নামায পড়ুক অথবা না পড়–ক। এটাই হচ্ছে ফতওয়া।” সুবহানাল্লাহ! (দুরারুল হুক্কাম ২/১৩৫)
উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহর ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে এটাই প্রমাণিত হলো যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- নদী রক্ষার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা সম্পূর্ণরূপে হারাম, নাজায়িয ও কাট্টা কুফরী এবং চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা, কোনো সম্পত্তি বা জায়গা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জন্য ওয়াক্ফ করার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক কর্তৃপক্ষ সে জায়গাতে নামায আদায় করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করে এবং আযান দিয়ে নামায আদায় করে ফেললেই উক্ত জায়গা হাক্বীক্বীভাবে ওয়াক্ফকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হিসেবে গণ্য হয়। আর এই ওয়াক্ফকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে আযান-ইক্বামত দিয়ে নামায আদায় করলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হস্তান্তর সাব্যস্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় চলে যান অর্থাৎ উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি। কাজেই, জিন-ইনসান বা সৃষ্টির জন্য নদী রক্ষার্থে বা যে কোনো অজুহাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা সম্পূর্ণরূপে হারাম, নাজায়িয ও কাট্টা কুফরী এবং চির জাহান্নামী ওয়ার কারণ। কেননা, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَنْ اَظْـلَمُ مِـمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ يُّـذْكَـرَ فِـيْـهَا اسْـمُهٗ وَسَعٰى فِـىْ خَرَابِـهَا اُولٰٓـئِكَ مَا كَانَ لَـهُمْ اَنْ يَّدْخُلُوْهَا اِلَّا خَآئِفِـيْـنَ لَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا خِزْىٌ وَّلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
অর্থ: “ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে? যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার যিকির মুবারক করতে, উনার সম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে বিরাণ করতে চেষ্টা করে। (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে বা বন্ধ করে রাখে, হক্ব আদায় করে না তা’যীম-তাকরীম করে না) তাদের জন্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অর্থাৎ খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা ব্যতীত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে প্রবেশ করা জায়িয নেই। তাদের জন্য রয়েছে ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৪)
এই সম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে জালালাইন শরীফ ও তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
لَا اَحَدَ اَظْـلَمُ مِـمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَـرَ فِـيْـهَا اسْـمُهٗ
অর্থ: “ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় যালিম আর নেই, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করতে, উনার সম্মানিত নাম মুবারক স্মরণ করতে বাধা দেয়।” (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ বিরাণ করে বন্ধ করে রাখে, হক্ব আদায় করে না, তা’যীম তাকরীম করে না।) (তাফসীরে জালালাইন ১/২৪, তাফসীরে মাযহারী ১/১১৬)
‘তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ, তাফসীরে খাযিন শরীফ ও তাফসীরে বাগবী শরীফ’ উনার মধ্যে وَمَنْ اَظْـلَمُ “ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে?” এই অংশের ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে, وَمَنْ اَكْفَرُ “ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় কাফির আর কে? অর্থাৎ ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করতে, উনার সম্মানিত নাম মুবারক স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় বা বিরাণ করতে চেষ্টা করে।” (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বন্ধ করে রাখে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গে বা ভাঙ্গার কোশেশ করে অর্থাৎ হক্ব আদায় করে না, তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করে না।) না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে সমরকন্দী ১/৮৬, তাফসীরে খাযিন ১/৭২, তাফসীরে বাগবী ১/১৫৭)
উক্ত সম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর ‘তাফসীরে আহমাদী’ কিতাব উনার ১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,
اِنَّـهَا تَدُلُّ عَلـٰى اَنَّ هَدْمَ الْمسَاجِدِ وَتَـخْرِيْــبَـهَا مَـمْنُـوْعٌ وَكَذَا الْمَنْعُ عَنِ الصَّلـٰوةِ وَالْعِبَادَةِ وَاِنْ كَانَ مَـمْلُوْكًا لِلْمَانِعِ
অর্থ: “উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা বুঝা যায় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ধ্বংস করা বা বিরাণ করা নিষিদ্ধ। অনুরূপ এতে নামায ও ইবাদত করতে নিষেধ করাও হারাম, যদিও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকটি নিষেধকারীর অধীনে থাকে।”
যারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ বিরাণ বা ধ্বংস করবে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লামা কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
لَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا خِزْىٌ قَـتْلٌ وَسَبْـىٌ وَّذِلَّةٌ بِضَرْبِ الْـجِزْيَةِ وَّلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ. اَلنَّارُ الْـمُؤَبَّدَةُ بِكُفْرِهِمْ وَظُـلْمِهِمْ
অর্থ: “তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার যমীনে লাঞ্ছনা। (অর্থাৎ) কতল (হত্যা, মৃত্যুদণ্ড), বন্দিত্ব (জেল-হাজত) এবং জিযিয়া কর প্রদানের অবমাননা। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (অর্থাৎ পরকালে) তাদের জন্য রয়েছে তাদের কুফরী ও যুলুমের কারণে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ১/১১৬)
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন
কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া