মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الْمَالُ وَالْبَـنُـوْنَ زِيْـنَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْـيَا ۖ وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْـرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَـوَابًا وَّخَيْـرٌ أَمَلًا
অর্থ: মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পার্থিব জগতের সৌন্দর্য তথা সোভা বর্ধনকারী। তবে স্থায়ী নেক আমল তথা নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান ছওয়াব প্রাপ্তি ও আশা পোষণের দিক থেকে আপনার মহান রব তায়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উত্তম। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৬)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ اِنْـقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ اِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ اَوْ عِلْمٍ يُـنْـتَـفَعُ بِهِ اَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهٗ
অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মানুষ মারা গেলে আমলের সমস্ত ধারা বা রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটা ধারা জারী থাকে।
১। ছদকায়ে জারিয়াহ- অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, কিতাবাদি, পত্র-পত্রিকা, মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, লঙ্গরখানা, রাস্তা-ঘাট, পুল-সেতু ইত্যাদি জনকল্যানমূলক কাজ।
২। এমন ইলিম যা দ্বারা ফায়দা লাভ করা যায় অর্থাৎ ইলমে তাছাওউফের সিলসিলা।
৩। নেককার, আল্লাহওয়ালা সন্তান, যারা পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে।
উল্লেখ্য যে, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন পরহেগার, নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান থাকলে অন্য দুটি নেক কাজের রাস্তাও আপসে আপ জারি থাকে। কারণ নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান তিনি নিজে ইলিম শিক্ষা করেন এবং শিক্ষা দেন। ছদকায়ে জারিয়ার রাস্তা জারি রাখেন। মসজিদ-মাদরাসা, ইয়াতীমখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন।
কাজেই নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান যে “বাক্বিয়াতুছ ছালিহা” এর অন্তর্ভুক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রত্যেক বাবা মায়ের উচিত নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান প্রার্থনা করা। আর তার জন্যই শুরু থেকে সর্বাত্মক কোশেশ করা। কারণ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা-বিশ্বাস হচ্ছে, কেউ যদি কোন কাজ সুসম্পন্ন করার নিয়ত করতঃ কোশেশ চেষ্টা করে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তার জন্য সেই কাজটি সহজ করে দেন। পক্ষান্তরে যারা গাইরুল্লাহ তথা দুনিয়ার নাম-ধাম, খ্যাতি-প্রতিপত্তি তালাশ করে সন্তান প্রতিপালন করে পরবর্তীকালে সেই সন্তানই তার দুঃখ কষ্ট ও অশান্তির কারণ হয়। নাউযুবিল্লাহ! আর আখিরাতে জাহান্নামের পথ প্রসারিত হয় । নাউযুবিল্লাহ!
যে সকল বাবা-মা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি রেযামন্দি হাছিলের জন্য সন্তানকে লালন-পালন করেন সেই সকল বাবা-মা উনারাই আল্লাহওয়ালা আল্লাহওয়ালী অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পরম বন্ধু।