-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক-এর নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করোনা।” (সূরা তওবা/৩৬) অর্থাৎ এ পবিত্র মাসগুলোর যথাযথ হক্ব আদায় না করে, ইবাদত-বন্দেগীতে গাফিল থেকে নিজেদের ক্ষতি সাধন করো না।”
হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম আবু বকর জাস্সাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তার বিশ্ব খ্যাত, আহকাম সমৃদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ “আহকামুল কুরআনে” উল্লেখ করেছেন, “হারাম মাসগুলোর এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে, এতে ইবাদত-বন্দেগী করা হলে বাকী মাসগুলোতেও ইবাদত-বন্দেগী করার তাওফিক ও সাহস লাভ হয়। অনুরূপ কেউ এ মাসগুলোতে পাপ কার্য থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলে বছরের বাকী মাসগুলোতেও পাপাচার থেকে দূরে থাকা সহজসাধ্য হয়। সুতরাং এ সুযোগের সদ্ব্যবহার থেকে বিরত থাকা হবে অপুরণীয় ক্ষতি।” (তাফসীরে মাআ’রিফুল কুরআন)
কাজেই হারাম বা পবিত্র মাসগুলোর পরিচিতি লাভ করা, মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য আবশ্যক। কেননা মহান আল্লাহ্ পাক উম্মতে মুহম্মদীর প্রতি অত্যন্ত দয়া পরবশ হয়ে তাদের জন্য এমন কতগুলো স্থান, সময়, দিন ও মাসকে মনোনীত করেছেন; যে সময়ের ইবাদতে আত্মনিয়োগ পরম প্রত্যাশিত সন্তুষ্টি-রেজামন্দি দানের সু-সংবাদ ঘোষিত হয়েছে। যা উম্মতে মুহম্মদীর প্রতি প্রদত্ত খাছ নিয়ামত ও তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, শাফিউল মুজনিবীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ثلاث متواليات ذوالقعدة وذوالحجة والمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان.
অর্থঃ- “(হারাম মাসের) তিনটি হচ্ছে, ধারাবাহিক। যিলক্বদ, যিলহজ্ব, মুর্হরম ও মুযার গোত্রের রজব মাস যা জুমাদাল উখ্রার ও শা’বান মাসের মধ্যবর্তী।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, শুয়াবুল ঈমান ও তাফসীরে দুররে মানসুুর ৩য় জিঃ ২৩৪ পৃষ্ঠা)
হারাম মাসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুর্হরম মাস। হাদীস শরীফের পরিভাষায় এ মাসকে সাইয়্যিদ বা সকল মাসের সরদার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরিফ বিল্লাহ্, মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমদ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “মু’মিন কে মাহে ওয়া সাল” কিতাবের ১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন,
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
অর্থঃ- “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন যে, মুহররম মাস হচ্ছে সমস্ত মাসের সরদার।” (দায়লামী শরীফ, মাসাবাতা বিস্ সুন্নাহ্)
মুহররম আরবী বৎসরের প্রথম মাস। রহমত, বরকত ও ছাকীনা দ্বারা সমৃদ্ধ। এ মাসের ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে পরবর্তী মাসগুলোতে ইবাদত-বন্দেগীর শক্তি ও তাওফিক অর্জিত হয়। সমস্ত মাসের রহমত, বরকত, ছাকীনা সম্ভারের অধিকারী হওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি- রেজামন্দি হাছিল সহজসাধ্য হয়। এ সমস্ত খাছ দিন ও সময়গুলো আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্যশীল, একান্ত মনোনীত ও নির্বাচিত বান্দা তথা আউলিয়া-ই-কিরামগণের লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়না। তাঁরা তার সওগাত লাভের প্রত্যাশায় সদা ইনতেজার বা প্রস্তুত থাকেন।
উল্লেখ্য, আল্লাহ্ পাক-এর বিশেষ রহ্মত, বরকত ও ছাকীনার ফল্গুধারা বুকে ধারণ করে মুসলিম মিল্লাতের দ্বারে ঘূর্ণায়মান হারাম মাসের মধ্যে অন্যতম মুর্হরম মাস। পবিত্র মুর্হরম মাস তার মধ্যস্থিত নিয়ামতের খাজিনা নিয়ে আমাদের দ্বারে সমাগত। কাজেই সকলের উচিত এ মাসের মর্যাদা-মর্তবার প্রতি গভীর দৃষ্টি রাখা। যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করতঃ আমলের কোশেশ করা এবং গুণাহ্র কার্য হতে বিরত থেকে সম্মান প্রদর্শন করা।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
اكرموا المحرم من اكرم المحرم اكرمه الله بالجنة ونجاه من النار.
অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা মুর্হরম মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুর্হরম মাসকে সম্মান করবে আল্লাহ্ পাক তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।”
মুহররম মাসের শ্রেষ্ঠতম দিনটি হচ্ছে আশুরা
আরবী আশরা শব্দ হতে আশুরা শব্দটি উদ্ভূত। অর্থাৎ মুর্হরম মাসের দশম দিনটি আশুরা হিসেবে পরিচিত। এ আশুরাকে ঘিরে নানাবিধ বরকতময় ঘটনার অবতারণা হয়েছে। আশেকে রসূল, আরিফ বিল্লাহ্, রঈসুল মুহাদ্দিসীন, আল্লামা হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব “মা ছাবাতা বিস্সুন্নাহ্”-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন মুর্হরমের দশ তারিখেই সৃষ্টির শুরু করেন এবং মুর্হরমের দশ তারিখে অর্থাৎ আশুরার দিন শুক্রবারেই ক্বিয়ামত সংঘঠিত হবে।
হাদীস শরীফে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, “তোমরা মুর্হরম মাসকে সম্মান করবে, কেননা এই মাসের দশ তারিখে অনেক কান্নাকাটি, অনেক রোনাজারী ও অনেক ফরিয়াদের পর আল্লাহ্ পাক হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর দু’য়া কবুল করেন। এ দিনেই আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন হযরত ইদ্রীস আলাইহিস্ সালামকে আকাশে তুলে নেন। এ দিনেই হযরত নূহ্ আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর সঙ্গী- সাথী যাঁরা ছিলেন, আল্লাহ্ পাক তাঁদেরকে মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দেন। আল্লাহ্ পাক এ দিনেই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে কথা বলেন এবং তাঁর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেন। এ দিনেই বনী ইস্রাঈল সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ্ পাক লোহিত সাগরের উপর দিয়ে রাস্তা করে দেন যার উপর দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর সম্প্রদায় পার হয়ে যান আর ফেরাউন তার দলবলসহ উক্ত সাগরে ডুবে মারা যায়। আল্লাহ্ পাক এ দিনেই হযরত ইউনুস আলাইহিস্ সালামকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন এবং হযরত আইয়ূব আলাইহিস্ সালামকে দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থতা দান করেন। দীর্ঘ দিন বিচ্ছেদের পর হযরত ইউসূফ আলাইহিস্ সালামকে তাঁর পিতা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস্ সালাম-এর কাছে ফিরিয়ে দেন। এ দিনেই আল্লাহ্ পাক হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম-এর দু’য়া কবুল করেন এবং হযরত সুলায়মান আলাইহিস্ সালামকে তাঁর রাজত্ব ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ্ পাক এ দিনেই হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামকে আসমানে তুলে নেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদার প্রকাশ ঘটান। আরো অসংখ্য অগণিত স্মৃতি বিজড়িত এ আশুরার দিন। কাজেই এর মর্যাদা-মর্তবা, তাৎপর্য, সম্মান কতটুকু তা নিম্নলিখিত আমলসমূহ হতে সহজেই উপলব্ধি করা যায়।
আশুরা’র রোযার ফযীলত
মহান আল্লাহ্ পাক-এর রহমত, বরকত ও ছাকীনা এবং মাগফিরাত-ক্ষমা সম্বলিত মুর্হরম মাসের অন্যতম আমল হচ্ছে আশুরার রোযা। রমদ্বান শরীফের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে আশুরার রোযাই ফরয ছিল। কাজেই রমদ্বান শরীফের রোযার পরই হচ্ছে এ রোযার স্থান।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
افضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم.
অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “রমদ্বান শরীফের রোযার পর আল্লাহ্ পাক-এর মাস মুর্হরমের রোযাই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, তিরমিযী শরীফ ও রিয়াদুস্ সালেহীন)
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি এসে আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রমদ্বান মাসের পর আর কোন্ মাসের রোযা রাখতে নির্দেশ দেন? তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
ان كنت صائما بعد شهر رمضان فصم المحرم فانه شهر الله فيه يوم تاب الله فيه على قوم ويتوب فيه على قوم اخرين.
অর্থঃ- “যদি তুমি রমদ্বান মাসের পর আরো রোযা রাখতে চাও তবে মুর্হরম মাসে রোযা রাখ। কেননা এটা আল্লাহ্ পাক-এর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ্ পাক এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন এবং তিনি অপর এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করবেন।” (তিরমিযী শরীফ, আহমদ)
এ হাদীস শরীফ মোয়াফেক শাইখুল আলম, আরিফ বিল্লাহ্, আশেকে রসূল, আল্লামা হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে কোন কঠিন গুণাহ্গার ব্যক্তি যদি আশুরার দিন তওবা করে তাহলে আল্লাহ্ পাক অবশ্যই তার তওবা কবুল করবেন।” (মা ছাবাতা বিস্সুন্নাহ্, মু’মিন কে মাহে ওয়া সাল)
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صام يوم عاشوراء وامر بصيامه.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিন রোযা রেখেছেন এবং ঐ দিন সকলকে রোযা রাখার হুকুম দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, রিয়াদুস্ সালেহীন) হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে,
سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام يوم عشوراء فقال يكفر السنة الماضية.
অর্থঃ- “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশুরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা বিগত দিনের গুণাহর কাফ্ফারা স্বরূপ।” (মুসলিম শরীফ, রিয়াদুস্ সালেহীন)
উল্লেখ্য, অন্যান্য মাসের একটি রোযা রাখতে কোন অসুবিধা নেই; কিন্তু আশুরার রোযা একটি রাখা মাকরূহ। কেননা ইহুদীরা আশুরার দিনে রোযা রেখে থাকে। আর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
হাদীস শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ليس منا من تشبه بغيرنا لاتشبهوا باليهود ولا بالنصارى.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। কাজেই তোমরা ইহুদী এবং নাসারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯৯ পৃষ্ঠা)
কাজেই আশুরা উপলক্ষ্যে কমপক্ষে দু’টি রোযা রাখতে হবে, ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ। তবে ৯ ও ১০ তারিখ রোযা রাখাই উত্তম।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
عن ابن عباس قال حين صام رسول الله صلى الله عليه وسلم عشوراء وامر بصيامه قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انه يوم يعظمه اليهود والنصارى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لئن بقيت الى فابل لاصومن التاسع.
অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। তখন ছাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ দিনকে ইয়াহুদী ও নাছারারা সম্মান করে। তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদি আমি আগামী বৎসর পর্যন্ত বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই নবম তারিখেও রোযা রাখবো।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ১৭৮ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান)
ইফতারের ফযীলত
আশুরার রোযার ইফতারীর ফযীলত সম্পর্কে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
من فطر فيه صائما فكانما افطر عنده جميع امة محمد صلى الله عليه وسلم.
অর্থঃ “আশুরার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেন সমস্ত উম্মতি মুহম্মদীকে ইফতার করালো।”
আশুরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানো
হাদীস শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
عن عبد الله بن مسعود ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আশুরার দিন তার পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়াবে-পরাবে আল্লাহ্ পাক সারা বৎসর তাকে স্বচ্ছলতা দান করবেন। (তিবরানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা-ছাবাতা-বিস্সুন্নাহ্, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল, আ’মালী ইত্যাদি)
আশুরার দিন চোখে সুরমা দেয়ার ফযীলত
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আশুরার দিন মেশ্ক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা। (মাকাসিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মাছাবাতা বিস্সুন্নাহ্)
আশুরা উপলক্ষ্যে গোসলের ফযীলত
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
من اغتسل فيه عقى ولم يمرض الا مرض الموت وامن من الكسل والتعليل.
অর্থঃ- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে আল্লাহ্ পাক তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”
আশুরার দিন গরীবদেরকে
খাদ্য দানের ফযীলত
মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমদ ছাহেব তাঁর “মু’মিন কে মাহে ওয়া সাল” কিতাবের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
অর্থঃ- “আশুরার দিন যে ব্যক্তি আহ্লে বাইতের গরীব-মিসকীনগণকে পেট ভরে খাদ্য খাওয়াবে সে ব্যক্তি বিদ্যুৎ বেগে পুলছিরাত পার হবে।” (সুবহানাল্লাহ্)
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعمه الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل.
অর্থঃ- “আশুরার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে এবং কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে আল্লাহ্ পাক তাকে জান্নাতের দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং “সালসাবীল” ঝর্ণা থেকে পানিয় (শরবত) পান করাবেন।”
আহলু বাইতগণের আলোচনা
মুর্হরম মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হচ্ছে আহ্লে বাইত তথা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মুবারক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা। কেননা যার আলোচনা যত বেশী করা হয় তার মুহব্বত ততই বৃদ্ধি পায়। আর আহ্লে বাইতগণের প্রতি গভীর মুহব্বত-ভালবাসা, পরকালীন মুক্তি এবং আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টির কারণ। রহমত, বরকত ও ছাকীনা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে দু’য়া করেন যে,
اللهم انى احبهما فاحبهما واحب من يحبهما.
অর্থঃ- “হে আল্লাহ্ পাক! আমি তাঁদেরকে (হাসান ও হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমাকে ভালবাসি। আপনিও তাঁদেরকে ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাঁদেরকে ভালবাসবে তাকেও আপনি ভালবাসুন, মুহব্বত করুন।” (তিমমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫৭০)
সাথে সাথে এ শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা যে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইয়াযীদের কুখ্যাত বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন কিন্তু তবুও অসত্যকে মেনে নেননি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।
আল্লাহ্ পাক আমাদের সবাইকে মুর্হরমুল হারাম মাসের রহমত, বরকত ও অফুরন্ত ছাকীনার অধিকারী করুন এবং হক মতে ও পথে দায়েম-কায়েম থাকার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ-সম্মানিত রবীউছ ছানী শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা